মোঃ লোকমান হোসেন, খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি
১১:২২ পি.এম
খাগড়াছড়ির দীঘিনালায় মাদক সেবনের অভিযোগে এক যুবককে আটক করা হয়েছে এবং ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাকে ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (৩ আগস্ট) রাত সাড়ে ৮টায় উপজেলার মেরুং বাজার এলাকায় পরিচালিত অভিযানের সময় তাকে আটক করা হয়। পরে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালত মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর ৯(১)(গ) ধারায় এ দণ্ডাদেশ প্রদান করেন।
দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তি হলেন মো. শুভ। তিনি দীঘিনালা উপজেলার ছোট মেরুং এলাকার বাসিন্দা।
পুলিশের সূত্র অনুযায়ী, মাদকবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে মেরুং বাজার এলাকায় অভিযান পরিচালনার সময় মাদক সেবনরত অবস্থায় তাকে আটক করা হয়। এরপর দীঘিনালা থানা পুলিশের সহযোগিতায় ভ্রাম্যমাণ আদালতে হাজির করা হলে আদালত তাকে ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেন।
রায় কার্যকর হওয়ার পর দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে বিধি অনুযায়ী জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
দীঘিনালা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইকবাল বাহার চৌধুরী বলেন, মাদক নিয়ন্ত্রণে পুলিশের নিয়মিত অভিযান অব্যাহত রয়েছে। মাদক সেবন ও কারবার—উভয়ের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাঙামাটি শহরের কেন্দ্রীয় কবরস্থানে নতুন কবর দেওয়ার জায়গা দ্রুত সংকুচিত হয়ে আসছে বলে অভিযোগ স্থানীয় বাসিন্দা ও কবর খনন স্বেচ্ছাসেবকদের। সংক্ষিপ্তভাবে তাদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে প্রয়োজনীয় পরিকল্পনা, রক্ষণাবেক্ষণ ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন না হওয়ায় দাফন কার্যক্রম ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে। তারা দ্রুত কবরস্থান সম্প্রসারণের পাশাপাশি পূর্ব, দক্ষিণ ও পশ্চিম পাশে রিটেইনিং ওয়াল নির্মাণের প্রস্তাবও দিয়েছেন।
রিজার্ভ বাজার, পুলিশ লাইন, মাঝেরবস্তি ও তবলছড়ি এলাকার অধিকাংশ বাসিন্দা এই কেন্দ্রীয় কবরস্থানে তাদের স্বজনদের দাফন করেন বলে স্থানীয়দের ভাষ্য। কিন্তু বর্তমানে নতুন কবরের জন্য খালি জায়গা খুবই সীমিত হয়ে পড়েছে। ফলে প্রতিদিনই কবর খননে নানা বাস্তব সমস্যার মুখোমুখি হতে হচ্ছে বলে জানান স্বেচ্ছাসেবকেরা।
তবলছড়ির কবর খনন স্বেচ্ছাসেবকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে যে, নতুন কবর খননের সময় অনেক ক্ষেত্রেই পুরোনো কবরের পাশের অল্প জায়গা ব্যবহার করতে হচ্ছে। এতে কখনো কখনো কবরের স্থান নিয়ে স্বজনদের মধ্যেও মতপার্থক্য তৈরি হচ্ছে বলে তাদের দাবি।
একজন কবর খনন স্বেচ্ছাসেবক বলেন, “আগের তুলনায় এখন খালি জায়গা অনেক কম। তাই কবর খননের সময় বিভিন্ন ধরনের বাস্তব সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়।”
স্থানীয়দের অভিযোগ, কবরস্থানটি পৌরসভার আওতাধীন হলেও এর নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ ও তদারকি আরও জোরদার করা প্রয়োজন। বিশেষ করে ভবিষ্যৎ দাফনের চাহিদা বিবেচনায় নিয়ে এখনই সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া না হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হওয়ার আশঙ্কা প্রবল।
স্বেচ্ছাসেবকদের দাবি, পাকা ইট, সিমেন্ট ও টাইলস দিয়ে নির্মিত কবরের সংখ্যা বাড়তে থাকায় নতুন কবর দেওয়ার জন্য ব্যবহারযোগ্য খালি জায়গা দ্রুত কমে যাচ্ছে। ফলে বিদ্যমান জায়গার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করার পাশাপাশি পরিকল্পিতভাবে নতুন জায়গা তৈরির উদ্যোগ এখন খুবই জরুরি হয়ে পড়েছে।
বর্ষা মৌসুম নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে স্থানীয়দের। তাদের ভাষ্য অনুসারে, কবর খননের পর অবশিষ্ট মাটির একটি অংশ বৃষ্টির পানির সঙ্গে ধুয়ে কাপ্তাই হ্রদের দিকে চলে যায়। এতে কবরস্থানের ভূমির উচ্চতা ও ব্যবহারযোগ্য জায়গা ধীরে ধীরে প্রভাবিত হচ্ছে বলেই তারা মনে করেন।
এ পরিস্থিতি মোকাবিলায়, তবলছড়ির কবর খনন স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যরা কবরস্থানের পূর্ব, দক্ষিণ ও পশ্চিম পাশে রিটেইনিং ওয়াল নির্মাণের প্রস্তাব দিয়েছেন। তাদের মতে, রিটেইনিং ওয়াল নির্মাণ করালে মাটি ধুয়ে যাওয়া কমবে। পাশাপাশি, প্রয়োজন অনুযায়ী মাটি ভরাট করে ভবিষ্যতে অতিরিক্ত জায়গা তৈরির সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, অতীতেও কবরস্থান সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। দক্ষিণ পাশে জেলখানার সীমানা থেকে পূর্বদিকে মাটি ভরাটের একটি পরিকল্পনা থাকলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, ২০১৮ সালে তৎকালীন পৌর মেয়র আকবর হোসেন চৌধুরী ওই এলাকায় বাঁধ নির্মাণ ও মাটি ভরাটের উদ্যোগ নিয়েছিলেন। তবে, আগাম বর্ষণের কারণে সে কাজ সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি।
স্থানীয় সচেতন নাগরিকদের মতে, বিষয়টি কেবল একটি কবরস্থানের জায়গা সংকট নয়; এটি ভবিষ্যৎ নাগরিক সেবার সঙ্গেও সরাসরি সম্পৃক্ত। তাই রাঙামাটি পৌরসভা, পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড, জেলা পরিষদ ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সমন্বিত উদ্যোগে কবরস্থানের বর্তমান অবস্থা পর্যালোচনা করে দ্রুত কার্যকর পরিকল্পনা নেওয়া প্রয়োজন।
তাদের দাবি, যদি পরিকল্পিত সম্প্রসারণ, রিটেইনিং ওয়াল নির্মাণ, মাটি ভরাট এবং নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের উদ্যোগ এখনই নেওয়া যায়, তবে ভবিষ্যতে দাফনের জায়গা নিয়ে তৈরি হতে যাওয়া সংকট অনেকাংশে এড়ানো সম্ভব হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মাদকমুক্ত সমাজ গঠনের লক্ষ্যে, আল আমানাহ ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে আজ ঠাকুরগাঁও জেলার বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার ১ নম্বর পাড়িয়া ইউনিয়নের কার্তিকাপাড়া গ্রামের মধ্যে "মাদক ছাড়ো, নয়তো পাড়িয়া ইউনিয়ন ছাড়ো" লেখা সচেতনতামূলক ব্যানার টাঙানো হয়েছে।
আল আমানাহ ফাউন্ডেশনের আহ্বায়ক আব্দুল গফুর মন্তব্য করেন, "মাদকাসক্তির থাবায় পড়ে যুবকেরা শুধু নিজেদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ নষ্ট করছে না, পাশাপাশি তাদের পরিবারকেও নিঃস্ব করে ফেলছে। সুস্থ ও স্বাভাবিক সমাজ গড়ার ক্ষেত্রে মাদকাসক্তির ছোবল থেকে বেরিয়ে আসা ছাড়া এর বিকল্প কোনো পথ নেই। আসুন 'মাদককে না বলি, সুস্থ ও সুন্দর সমাজ গড়ি'। এজন্য আমাদের সকলের সর্বাত্মক সহযোগিতা ও সমর্থন একান্ত কাম্য।"
এছাড়া, আল আমানাহ ফাউন্ডেশনের সদস্য সচিব আবু হান্নান বলেন, "মাদক আমাদের সমাজ ও যুবসমাজের জন্য এক ভয়াবহ অভিশাপ। তাই সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে আমরা এই উদ্যোগ গ্রহণ করেছি। সকলের সহযোগিতায় ১ নম্বর পাড়িয়া ইউনিয়নকে আমরা মাদকমুক্ত ইউনিয়নে পরিণত করব ইনশাআল্লাহ।"
ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ভবিষ্যতেও মাদকের বিরুদ্ধে জনসচেতনতামূলক বিভিন্ন কর্মসূচি পরিচালনা করা হবে। একটি নিরাপদ, সুস্থ ও মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে স্থানীয় জনগণকে সাথে নিয়ে কাজ করা হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) প্রধান ফটকের দেয়ালে ছাত্রদল কর্তৃক রাজনৈতিক স্লোগান লেখার ঘটনা নিয়ে শিক্ষার্থীদের মাঝে আলোচনা এবং সমালোচনা সৃষ্টি হয়েছে। মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) সন্ধ্যার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের না দেয়ালে লাল রঙে ‘শিবির মুক্ত ক্যাম্পাস’ লেখা দেখা যায়। এ ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিন্ন ভিন্ন প্রতিক্রিয়া উঠে এসেছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মঙ্গলবার বিকেল ৪টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে রংপুর মহানগর ছাত্রদল, যুবদল এবং স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকর্মীরা অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন। এ সময় তারা বিভিন্ন স্লোগান দেন। পরে সন্ধ্যার দিকে প্রধান ফটকের দেয়ালে ‘শিবির মুক্ত ক্যাম্পাস’ লেখা দেখতে পান শিক্ষার্থীরা। দেয়াল লিখনের বিষয়টি দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান এবং সাবেক শিক্ষার্থীদের মধ্যে অনেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভ এবং অসন্তোষ প্রকাশ করে। তাদের মধ্যে অনেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের নান্দনিকতা এবং সৌন্দর্য অক্ষুণ্ন রাখার জন্য আহ্বান জানান। সাবেক শিক্ষার্থী রিশাদ নুর এক ফেসবুক পোস্টে লেখেন, “একটা গেট কত সংগ্রাম এবং কষ্ট করে পেয়েছে, সেটা এই ক্যাম্পাসের সাবেকরা জানে। কয়েকজনের কারণে গেটের এমন অবস্থা হলো। ক্যাম্পাস সবার, কোনো একটি রাজনৈতিক দলের নয়।” আরেক শিক্ষার্থী সোবুর খান লেখেন, “গেটের সৌন্দর্য নষ্ট করে রাজনীতি নয়, দ্রুত এসব লেখা মুছে ফেলা উচিত।” শিক্ষার্থী মেহেরাজ হোসাইন প্রশ্ন তুলে লেখেন, “শিক্ষাঙ্গন কি নিরাপদ?” অন্যদিকে, ফেসবুকের বিভিন্ন পোস্টের মন্তব্যে অনেক শিক্ষার্থী এবং সাবেক শিক্ষার্থী তাদের ক্ষোভ প্রকাশ করেন। এ ছাড়া আরও অনেক শিক্ষার্থী এবং সাবেক শিক্ষার্থী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের মতামত প্রকাশ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের নান্দনিকতা অক্ষুণ্ন রাখার আহ্বান করেছেন। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো: ফেরদৌস রহমান বলেন, আমাদের একটা তদন্ত কমিটি করে দেওয়া আছে, তদন্ত কমিটির প্রধান ফটকের লিখনের বিষয় যারা জড়িত আছেন তাদের বিষয়টি দেখবে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন থেকে প্রধান ফটকের মেরামতের জন্য ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নওগাঁর বদলগাছী উপজেলার আধাইপুর ইউনিয়নের উত্তর পারিচা গ্রামে পারিবারিক কলহের কারণে গলায় ফাঁস দিয়ে মোছাঃ বৃষ্টি পারভীন (২০) নামের এক গৃহবধূ আত্মহত্যা করেছেন। তিনি ওই গ্রামের মোঃ সুমন হোসেনের স্ত্রী।
স্থানীয় এবং পুলিশ সূত্রে জানা যায়, আজ মঙ্গলবার (০৪ আগস্ট) এর বিকেল ৫:০০ ঘটিকার দিকে শাশুড়ির সাথে গৃহবধূ বৃষ্টি পারভীন বিবাদে জড়িয়ে পড়েন। এই পারিবারিক কলহের ফলে সন্ধ্যা ৭:১০ ঘটিকার দিকে তিনি নিজের শয়নকক্ষে প্রবেশ করে ভেতর থেকে দরজা বন্ধ করে দেন। পরবর্তীতে তিনি ঘরের সিলিং ফ্যানের সাথে নিজের ওড়না পেঁচিয়ে গলায় ফাঁস দেন।
একপর্যায়ে প্রতিবেশীরা জানালা দিয়ে গৃহবধূ বৃষ্টি পারভীনকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান এবং চিৎকার শুরু করেন। সেই সাথে আশপাশের লোকজন ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন।
খবর পেয়ে বদলগাছী থানা পুলিশের পরিদর্শক (তদন্ত) এবং এসআই আনোয়ার সঙ্গীয় ফোর্সসহ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান। পুলিশ ঘটনার সময় নিহত গৃহবধূর ঘর থেকে ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে।
এ বিষয়ে বদলগাছী থানার পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, খবর পেয়ে পুলিশ এসে লাশ উদ্ধার করেছে। ঘটনাটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ