বুলবুল আহম্মেদ ( বুলু) বদলগাছী নওগাঁ প্রতিনিধি
১১:৪৩ পি.এম
নওগাঁর বদলগাছী উপজেলার আধাইপুর ইউনিয়নের উত্তর পারিচা গ্রামে পারিবারিক কলহের কারণে গলায় ফাঁস দিয়ে মোছাঃ বৃষ্টি পারভীন (২০) নামের এক গৃহবধূ আত্মহত্যা করেছেন। তিনি ওই গ্রামের মোঃ সুমন হোসেনের স্ত্রী।
স্থানীয় এবং পুলিশ সূত্রে জানা যায়, আজ মঙ্গলবার (০৪ আগস্ট) এর বিকেল ৫:০০ ঘটিকার দিকে শাশুড়ির সাথে গৃহবধূ বৃষ্টি পারভীন বিবাদে জড়িয়ে পড়েন। এই পারিবারিক কলহের ফলে সন্ধ্যা ৭:১০ ঘটিকার দিকে তিনি নিজের শয়নকক্ষে প্রবেশ করে ভেতর থেকে দরজা বন্ধ করে দেন। পরবর্তীতে তিনি ঘরের সিলিং ফ্যানের সাথে নিজের ওড়না পেঁচিয়ে গলায় ফাঁস দেন।
একপর্যায়ে প্রতিবেশীরা জানালা দিয়ে গৃহবধূ বৃষ্টি পারভীনকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান এবং চিৎকার শুরু করেন। সেই সাথে আশপাশের লোকজন ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন।
খবর পেয়ে বদলগাছী থানা পুলিশের পরিদর্শক (তদন্ত) এবং এসআই আনোয়ার সঙ্গীয় ফোর্সসহ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান। পুলিশ ঘটনার সময় নিহত গৃহবধূর ঘর থেকে ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে।
এ বিষয়ে বদলগাছী থানার পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, খবর পেয়ে পুলিশ এসে লাশ উদ্ধার করেছে। ঘটনাটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ উপজেলার হারামিয়া ইউনিয়নে মাদকের বিরুদ্ধে পরিচালিত মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে এক যুবককে ইয়াবাসহ তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত সন্দ্বীপ থানা পুলিশ এবং স্থানীয় জনগণের সহযোগিতায় হারামিয়া ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
এই মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেন সন্দ্বীপ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আমজাদ হোসেন।
অভিযানের সময় মো. মোশারেফ হোসেন (৩৫) নামে এক যুবককে ইয়াবাসহ আটক করা হয়। পরবর্তীতে জানা যায়, ইয়াবা ট্যাবলেট সংরক্ষণ ও সেবনের অপরাধে তাকে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়।
উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, মাদক নির্মূলে এ ধরনের মোবাইল কোর্ট এবং আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান ভবিষতেও অব্যাহত থাকবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
শরীয়তপুর সদর উপজেলার তুলাসার ইউনিয়নে মক্তবে পড়তে যাওয়া এক শিক্ষার্থীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে এনামুল হক (৪৬) নামের একজন মসজিদের ইমামকে পুলিশ আটক করেছে।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) সকাল সাড়ে ৬টার দিকে ইউনিয়নের বাইশরশি জামে মসজিদে এই ঘটনাটি ঘটে।
ঘটনার পর, শিশুটির মা বাদী হয়ে পালং মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত এনামুল হক প্রায় এক দশক ধরে শরীয়তপুর সদর উপজেলার তুলাসার ইউনিয়নের বাইশরশি জামে মসজিদে ইমাম হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি একসাথে রাজগঞ্জ ইসলামিয়া মাদরাসায় শিক্ষকতাও করেন।
মঙ্গলবার সকালে পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ুয়া এক ছাত্রী ও তার তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ুয়া ভাই মক্তবে গেলে, পাঠদানের এক পর্যায়ে ছোট ভাইকে পানি আনতে বাইরে পাঠানো হয়। এরপর ওই শিক্ষার্থীকে যৌন নিপীড়নের ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করেছে তার পরিবার। খবর পেয়ে স্থানীয়রা ইমামকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছেন।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর মা বলেছেন, সকালে তার মেয়ে ও ছেলে মক্তবে পড়তে গিয়েছিল। এক পর্যায়ে ছেলেকে বাইরে পাঠিয়ে মেয়ের সঙ্গে অশোভন আচরণ করা হয়। বিষয়টি জানতে পেরে তিনি অভিযুক্তের কাছে জানতে চাইলে অভিযুক্ত তা স্বীকার করেছিলেন বলে দাবি করেন। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দোষীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন তিনি।
অন্যদিকে অভিযুক্তের ছেলে এহসানুল হক কাউসার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, "আমার বাবাকে সবাই চেনে, তিনি একজন সৎ ও ভালো মানুষ।" ওই শিশু পড়া না পারায় তার বাবা তাকে সামান্য শাসন করেছিলেন। সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষ মিথ্যা অভিযোগ করেছে। তাকে পরিকল্পিতভাবে ফাঁসানো হয়েছে।
থানা হেফাজতে নেওয়ার সময় অভিযোগের বিষয়ে এনামুল হক জানিয়েছেন, তিনি সম্পূর্ণ নির্দোষ। একটি মহল উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাকে ফাঁসানোর চেষ্টা করছে। তিনি দাবি করেন, তিনি কোনো ধরনের অনৈতিক কাজ করেননি।
স্থানীয় মুসল্লি গফুর সরদার ও শামসুল হক মাদবর বলেন, দুই শিশু দুষ্টুমি করায় তাদের শাসন করা হয়েছিল। পরে বিষয়টিকে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করে ইমামের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে। তারা বলেন, "এনামুল হক দীর্ঘ ১০ বছর ধরে ওই মসজিদে দায়িত্ব পালন করছেন। তার বিরুদ্ধে আগে কখনো এমন কোনো অভিযোগ শোনা যায়নি। তাই নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের দাবি জানান।"
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে পালং মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ আলম বলেন, "ওই শিক্ষার্থীর মা থানায় যৌন নিপীড়নের লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন একজন ইমামের বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় ওই ইমামকে আটক করা হয়েছে। এখন অভিযোগটি তদন্ত করে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে নতুন ধারা বাংলাদেশ (এনডিবি) এবং এসডিএফ (রাষ্ট্রীয় সংলাপ ফোরাম) নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে দাবি করা হয়েছে, নতুন ধারা বাংলাদেশের ভাইস চেয়ারম্যান শান্তা ফারজানা এবং জুলাই যোদ্ধা ও এসডিএফের নেতা আ ন ম আয়াসসহ উভয়পক্ষের বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন।
আহতদের চিকিৎসা ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে দেওয়া হচ্ছে।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) সন্ধ্যায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে নতুন ধারা বাংলাদেশের উদ্যোগে গত ১ আগস্ট শান্তা ফারজানার ওপর হামলার প্রতিবাদে একটি বিক্ষোভ কর্মসূচি চলাকালে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় জুলাই যোদ্ধা আয়াসকে পেটানোর একটি ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে। ভাইরাল হওয়া ওই ভিডিওতে দেখা যায়, আয়াস ফ্লোরে উপুর হয়ে শুয়ে আছেন। আর সেফটি স্টিক দিয়ে তাকে আঘাত করছেন শান্তা ফারজানা।
এসডিএফের নেতাদের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, কর্মসূচিতে শান্তা ফারজানা যখন বক্তব্য দিচ্ছিলেন, তখন জুলাই যোদ্ধা ও বিএনপিকে নিয়ে আপত্তিকর ভাষায় মন্তব্য করেন। এর প্রতিবাদ জানাতে গেলে নতুন ধারা বাংলাদেশের নেতাকর্মীরা তাদের ওপর হামলা চালায়। এতে সংগঠনটির নেতা আ ন ম আয়াসসহ বেশ কয়েকজন আহত হন।
অন্যদিকে, নতুন ধারা বাংলাদেশের চেয়ারম্যান মেহেদি মোমিন অভিযোগ করেছেন, গত ১ আগস্ট শান্তা ফারজানার ওপর হামলার প্রতিবাদে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি চলছিল। এ সময় আ ন ম আয়াসের নেতৃত্বে একদল লোক এসে তাদের ওপর হামলা চালায়। তিনি আরও অভিযোগ করেন, ঘটনাস্থলে উপস্থিত কয়েকজন সাংবাদিকের মোবাইল ফোনও নিয়ে যাওয়া হয়। পরে উভয়পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। এতে শান্তা ফারজানাসহ তাদের দলের বেশ কয়েকজন নেতা আহত হন।
নতুন ধারা বাংলাদেশের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, আহতদের ঢামেক হাসপাতালে নেওয়ার পর শান্তা ফারজানাসহ তাদের কয়েকজন নেতাকর্মীকে হাসপাতালের ভেতরে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোনও বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এ ঘটনার বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর আনুষ্ঠানিক বক্তব্যও তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। উভয়পক্ষই পরস্পরের বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ তুলে।
এর আগে, গত ১ আগস্ট জুলাই যোদ্ধা আ ন ম আয়াসের নেতৃত্বে একদল লোক শান্তা ফারজানাকে আঘাত করার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছিল।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে পদ্মা নদীতে পরিচালিত এক অভিযানে নৌ পুলিশ পাঁচ হাজার মিটার নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল এবং ২০ সেট অবৈধ চায়না দুয়ারি জাল জব্দ করেছে। এই অভিযানে জব্দ করা জালগুলো পরে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার উপস্থিতিতে আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌপথসহ পদ্মা নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে দিনব্যাপী অভিযান পরিচালনা করে এসব অবৈধ জালগুলো জব্দ করা হয়। জব্দ করা জালগুলোর আনুমানিক বাজারমূল্য এক লাখ ১০ হাজার টাকা।
দৌলতদিয়া ঘাট নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ ত্রিনাথ সাহা এই বিষয়ে নিশ্চিত করে বলেন, ‘মৎস্যসম্পদ ও জলজ প্রাণী সুরক্ষায় নৌ পুলিশের অভিযান অব্যাহত থাকবে।’
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ