ঢাকা মঙ্গলবার, ০৩ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৮ই কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২২শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ০৩ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ১৮ই কার্তিক, ১৪৩২বাং

মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে আওয়ামী লীগ ব্যবসা করেছে, এখন জুলাই চেতনা নিয়ে ব্যবসা করছে: ধর্মমন্ত্রী


মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে আওয়ামী লীগ ব্যবসা করেছে, এখন জুলাই চেতনা নিয়ে ব্যবসা করছে: ধর্মমন্ত্রী

ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ এমপি মন্তব্য করেছেন যে, বিএনপি মুক্তিযুদ্ধের চেতনা কিংবা জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানের চেতনাকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করে কোনো ব্যবসা করতে চান না।

তিনি উল্লেখ করেছেন, "আওয়ামী লীগ মুক্তিযুদ্ধকে পুঁজি করে ব্যবসা করেছে, এখন আরেকটি দল জুলাই চেতনাকে নিয়ে ব্যবসা করছে। আমরা কোনো চেতনা নিয়ে ব্যবসা করতে চাই না, বরং মুক্তিযোদ্ধা থেকে শুরু করে জুলাই আন্দোলনের সঙ্গে সম্পৃক্ত সবার যথাযথ সম্মান ও মর্যাদা নিশ্চিত করতে চাই।"

সোমবার দুপুরে কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সে নিজস্ব তহবিল থেকে মুক্তিযোদ্ধা ও অসচ্ছল সনাতন ধর্মাবলম্বীদের আর্থিক অনুদান বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

আরও পড়ুন: নিয়োগে দুর্নীতির অভিযোগে অধ্যক্ষ ও সভাপতির অপসারণ দাবি করে কলেজে বিক্ষোভ

ধর্মমন্ত্রী বলেন, "বর্তমান প্রধানমন্ত্রীও একজন মুক্তিযোদ্ধার সন্তান, একজন দেশপ্রেমিকের সন্তান। তাঁর জন্য আপনারা দোয়া করবেন।"

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে কায়কোবাদ বলেন, "আমি ও আমার পরিবার মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে অত্যন্ত কৃতজ্ঞ। চিকিৎসার জন্য তিনি আমাকে অনেক দিন সময় দিয়েছেন। তিনি এমন একজন মানুষ, যিনি সবসময় বাংলাদেশের গরিব, অসহায় ও সাধারণ মানুষের কথা চিন্তা করেন। তিনি ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ১৮ ঘণ্টাই কাজ করেন। দেশের মানুষের কল্যাণে তাঁর এই নিরলস প্রচেষ্টা সত্যিই প্রশংসনীয়।"

প্রধানমন্ত্রীর বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরে ধর্মমন্ত্রী বলেন, "সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা ২০০ শতাংশ বৃদ্ধি করা হয়েছে। এটি করেছেন জনগণের নেতা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি কৃষি কার্ড, ফ্যামিলি কার্ড, ইমাম-মুয়াজ্জিনসহ অন্যান্য ধর্মের ধর্মীয় গুরুদের সম্মানী, বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি ও প্রবাসী কার্ডের মতো বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। বিশেষ করে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ঐতিহাসিক খাল খনন কর্মসূচি তিনি নতুন করে হাতে নিয়ে বাস্তবায়নের কাজ শুরু করেছেন। পাশাপাশি প্রতিবন্ধীদের জন্য মাসিক তিন হাজার টাকা ভাতার ব্যবস্থাও করেছেন। মাত্র আট মাসে তিনি এতগুলো উদ্যোগ বাস্তবায়নের কাজ করেছেন। দেশের মানুষের উচিত তাঁর জন্য দোয়া করা।"

অনুদান বিতরণের বিষয়ে কায়কোবাদ বলেন, "আজ মুক্তিযোদ্ধা ভাইদের জন্য আমার নিজস্ব তহবিল থেকে পাঁচ লাখ টাকা এবং অসচ্ছল সনাতন ধর্মাবলম্বী হিন্দু ভাইদের জন্য আরও পাঁচ লাখ টাকা উপহার দিয়েছি। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এ অর্থ যথাযথভাবে উপকারভোগীদের মধ্যে বিতরণের ব্যবস্থা করবেন। আমি চাই, অসচ্ছল ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে সবাই যার যার সামর্থ্য অনুযায়ী দাঁড়াক।"

আরও পড়ুন: রাজধানীর আগারগাঁও মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে ককটেল বিস্ফোরণ, পুলিশ তদন্ত শুরু

বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীদের প্রশংসা করে ধর্মমন্ত্রী বলেন, "যারা বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিকে সফল করতে আন্তরিকভাবে কাজ করেছেন, তাঁদের সবাইকে ধন্যবাদ জানাই। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সবুজ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যেই ২৫ কোটি চারা রোপনের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন সেই উদ্যোগকে পূর্ণতা দান করতে আপনারা ভুমিকা রেখেছেন। এ কর্মসূচিতে যারা প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় হয়েছেন, তাঁদের উৎসাহিত করতে যথাক্রমে ১০ হাজার, সাত হাজার ও পাঁচ হাজার টাকা করে পুরস্কার দেওয়া হয়েছে। ভালো কাজের স্বীকৃতি দিলে মানুষ আরও বেশি উৎসাহিত হয়। আপনাদের ভালোবাসা ও সহযোগিতার জন্য আমি কৃতজ্ঞ।"

এ সময় সাংবাদিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, "সাংবাদিক ভাইয়েরা চাইলে মুরাদনগরের সব উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড তুলে ধরতে পারেন। বিশেষ করে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির বিষয়টি আপনারা গণমাধ্যমে তুলে ধরবেন। এলাকার উন্নয়ন, সম্ভাবনা ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ড মানুষের সামনে তুলে ধরতে সাংবাদিকদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।"

শিক্ষার মানোন্নয়নের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করে মন্ত্রী বলেন, "সারা বাংলাদেশের শিক্ষকরা আমাদের গুরু। আপনাদের হাতে-পায়ে ধরে অনুরোধ করছি, শিক্ষার মান বাড়াতে হবে। মুরাদনগরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর সাম্প্রতিক ফলাফল দেখে আমি অত্যন্ত কষ্ট পেয়েছি। এ ধরনের ফলাফল কোনোভাবেই প্রত্যাশিত নয়। শিক্ষার্থীদের ভালো ফলাফলের জন্য শিক্ষকদের আরও দায়িত্বশীল ও আন্তরিক হতে হবে।"

তিনি আরও বলেন, "কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ফলাফল পরপর দুই কিংবা তিনবার খারাপ হলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের এমপিও বাতিলের জন্য আমরা সুপারিশ করব। সরকার থেকে সুযোগ-সুবিধা গ্রহণ করবেন, কিন্তু শিক্ষার্থীদের ফলাফল ভালো হবে না, তা তো হতে পারে না। শিক্ষকদের দায়িত্ব শুধু পাঠদান করানো নয়, শিক্ষার্থীদের যোগ্য ও দক্ষ নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলাও তাঁদের দায়িত্ব। আমাদের ভাইয়েরা অনেক আশা নিয়ে তাঁদের সন্তানদের স্কুলে পাঠান। সেই প্রত্যাশার প্রতিফলন শিক্ষার্থীদের ফলাফলে থাকতে হবে।"

আরও পড়ুন: পাকিস্তান সফর শেষে আজ ঢাকায় আসছেন লিউ হাইশিং

নিজের মানবিক ও সামাজিক দায়বদ্ধতার কথা তুলে ধরে কায়কোবাদ বলেন, "আজ আমি একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গিয়েছি, যেখানে সমাজের সুবিধাবঞ্চিত পরিবারের শিশুরা পড়াশোনা করতে আসে। আমি তাদের পড়াশোনার প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা করার আশ্বাস দিয়েছি। কোনো শিশু যেন অর্থের অভাবে শিক্ষা থেকে বঞ্চিত না হয়, সে বিষয়ে আমাদের সবাইকে সচেতন থাকতে হবে।"

নিজেকে মন্ত্রী নয়, জনগণের সেবক হিসেবে দেখতে চান উল্লেখ করে তিনি আবেগাপ্লুত কণ্ঠে বলেন, "খাদেমকে মন্ত্রী বলবেন কেন? মন্ত্রী তো যেকোনো সময় চলে যাবে। কিন্তু কায়কোবাদ যতদিন বেঁচে আছে, ততদিন আপনাদের পাশে থাকবে। আমি আপনাদের খাদেম। আমাকে কামলা হিসেবে আপনাদের পাশে রাখবেন। আপনাদের এই খাদেম আপনাদের অনেক ভালোবাসে। আপনাদের প্রতি ভালোবাসার টানেই চিকিৎসকের পরামর্শ উপেক্ষা করে মুরাদনগরে চলে এসেছি। আপনারা আমার জন্য দোয়া করবেন। আমি যেন সুস্থ থেকে আজীবন আপনাদের পাশে থাকতে পারি এবং মানুষের সেবা করে যেতে পারি।"

অনুদান বিতরণ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, মুরাদনগর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভুমি) সাকিব হাসান, মুরাদনগর সার্কেল পুলিশ সুপার কামরুজ্জামান, মুরাদনগর থানার ওসি আনোয়ার হোসেন চৌধুরী, বাঙ্গরা থানার ওসি শফিউল আলম, মুরাদনগর উপজেলা বিএনপির আহবায়ক মহিউদ্দিন অঞ্জন, সদস্য সচিব মোল্লা মজিবুল হক, যুগ্ম আহবায়ক কামাল উদ্দিন ভুইয়া, আব্দুল আজিজ মোল্লা, নজরুল ইসলাম। উপজেলা যুবদলের আহবায়ক সোহেল সামাদ, যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক মাসুদ রানা, উপজেলা সেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক ফারক আহমেদ বাদশাহ, উপজেলা ছাত্রদলের আহবায়ক খাইরুল আহসান, সদস্য সচিব সুমন মাষ্টার সহ উপজেলা বিএনপির অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।

অনুষ্ঠানে স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা, সনাতন ধর্মাবলম্বী, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতাকর্মী, সরকারি কর্মকর্তা, শিক্ষক, সাংবাদিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন: দিশার সঙ্গে বিরোধের পর তাহসিফ টঙ্গীর মাঠে হেরোইন খুঁজতে যান

উল্লেখ্য যে, দিনের শুরুতেই ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ প্রতিবন্ধীদের জন্য প্রতিষ্ঠিত প্রতিভা বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিশু বিদ্যালয়ের ২য় বর্ষপূর্তি উদযাপনে অংশ নিয়ে শিশুদের সাথে কেক কাটেন এবং তাদের উৎসাহ দিতে নগদ অর্থ প্রদান করেন। ১ লক্ষ টাকা অনুদান দিয়ে ধর্মমন্ত্রী এ স্কুলকে এগিয়ে নিতে সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাশ দেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সীতাকুণ্ডে ব্যবসায়ীর ওপর হামলা ও গাছ কাটার অভিযোগ, মিথ্যা প্রোপাগান্ডার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সাকিব চৌধুরী তালাস বিডি

সোমবার, ২ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৫:৩৪ পি.এম


সীতাকুণ্ডে ব্যবসায়ীর ওপর হামলা ও গাছ কাটার অভিযোগ, মিথ্যা প্রোপাগান্ডার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার ভাটিয়ারী ইউনিয়ন এলাকায় চাঁদা না পেয়ে এক সফল ব্যবসায়ী ও নিরীহ ব্যক্তির ওপর সন্ত্রাসী হামলার অভিযোগ উঠেছে। শুধু তাই নয়, হামলাকারীরা ভুক্তভোগীর বাগানবাড়ির গাছপালা কেটে ক্ষতিসাধন এবং একটি ভুঁইফোড় অনলাইন মিডিয়ায় মিথ্যা ও ভিত্তিহীন সংবাদ প্রচার করে মানহানি করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে বলে সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী নূরুল আবছার।

আজ সোমবার ( নভেম্বর ২০২৬) সীতাকুণ্ড প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক লিখিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন সীতাকুণ্ড থানাধীন ভাটিয়ারী ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের মৃত মোহাম্মদ ইসমাইলের ছেলে এবং বিভিন্ন খাতের রাজস্ব আদায়কারী ব্যবসায়ী নূরুল আবছার।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে নূরুল আবছার জানান, এলাকার একটি চিহ্নিত দাঙ্গাবাজ ও চাঁদাবাজ চক্র দীর্ঘদিন ধরে তার কাছে ৮ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছে। চাঁদা না দেওয়ায় স্থানীয় ওই চক্রটি তার ক্ষতি করার বিভিন্ন ফন্দি আঁটতে থাকে।

ঘটনার বিবরণ দিয়ে তিনি জানান, গত ২০ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে তিনি তার বাগানবাড়িতে লেবারদের কাজের তদারকির জন্য যান। এর ২০ মিনিট পর প্রতিপক্ষ সুমন হাতে ধারালো কিরিচ নিয়ে তার ওপর চড়াও হয় এবং অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করে। একপর্যায়ে সুমন তাকে কোপ দিতে গেলে তিনি হাত চেপে ধরে আত্মরক্ষা করেন এবং এ সময় স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে সুমন পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় জীবন ও নিরাপত্তার স্বার্থে গত ২০ অক্টোবর ২০২৬ তারিখ রাতেই সীতাকুণ্ড মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন তিনি।

ভুক্তভোগী আরও অভিযোগ করেন, জিডি করার জেরে পরদিন ২১ অক্টোবর ২০২৬ তারিখ সকাল ১০টার দিকে সন্ত্রাসী সুমন ও তার সহযোগীরা তার বাগানের একটি বড় জাম গাছ এবং ১৮টি আম গাছ গোড়া থেকে কেটে ফেলে। যার আনুমানিক ক্ষতি ১ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা। এ সময় বাগানে গিয়ে তিনি গাছ কাটার দৃশ্য দেখার সময় সুমনের বোন ও সুমন নিজে তাকে ফের গালাগালি করে এবং একপর্যায়ে সুমন ধারালো দা নিয়ে এসে তাকে ধাক্কা দিয়ে মাটিতে ফেলে কোমরে উপর্যুপরি লাথি মারে। স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করে একটি প্রাইভেট হাসপাতালে ভর্তি করেন। হামলায় তার কোমড়ে গুরুতর আঘাত লাগে।

সংবাদ সম্মেলনে নূরুল আবছার ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "সন্ত্রাসী সুমন তার দাঙ্গাবাজির পাশাপাশি আমাকে জাতির কাছে হেয় প্রতিপন্ন করার জন্য গত ৩১ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে অজ্ঞাত ‘জাগ্রত চট্টগ্রাম (জেসি) টিভি’ নামক একটি অনলাইন মিডিয়ায় আমার বিরুদ্ধে সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন কাহিনীর সংবাদ প্রকাশ করে। আমার কণ্ঠ এডিট করে আমার ছবি ও মিথ্যা বক্তব্য প্রচার করা হয়েছে, যার বিন্দুমাত্র সত্যতা নেই। ওই অনলাইন পোর্টালের কোনো সাংবাদিক আমার সাথে যোগাযোগই করেনি।

তিনি আরও জানান, অভিযুক্তরা বিভিন্ন অপকর্মের কারণে ইতিমধ্যে এলাকাবাসী কর্তৃক একঘরে ও সমাজচ্যুত হয়ে রয়েছে।

এমন ন্যক্কারজনক হামলা, বাগান ভাঙচুর এবং অনলাইন মিডিয়ায় মিথ্যা সংবাদ প্রচারের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান ভুক্তভোগী নূরুল আবছার। পাশাপাশি, এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে দোষী সুমনের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়ে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন মহল ও সাংবাদিক সমাজের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রাজবাড়ীতে ২ তরুণকে অপহরণের পর ভারতে পাচারের অভিযোগে ২ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ২ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৫:৩৫ পি.এম


রাজবাড়ীতে ২ তরুণকে অপহরণের পর ভারতে পাচারের অভিযোগে ২ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

রাজবাড়ী জেলার পাংশা এলাকায় ২ তরুণকে অপহরণের পর ভারতে পাচারের অভিযোগে মো. রেজাউল মন্ডল (১৮) ও মো. শাহীদুল মিয়া (২৭) নামের দুই ব্যক্তিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। এছাড়াও, তাদেরকে ৫ লাখ টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং প্রত্যেককে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ১ লাখ টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও ছয় মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। মো. রেজাউল মন্ডল পাংশা উপজেলার ধুলিয়াট গ্রামের আদো মন্ডলের ছেলে এবং মো. শাহীদুল মিয়া একই গ্রামের মৃত আতর আলী মিয়ার ছেলে।

সোমবার দুপুরে রাজবাড়ী মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) মো. তহিদুল ইসলাম এই রায় ঘোষণা করেন। রায়ের সময় আসামিরা মো. রেজাউল মন্ডল ও মো. শাহীদুল মিয়া পলাতক ছিলেন।

মামলার সূত্রে জানা যায়, মো. একলাস উদ্দিন মালিথা মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইন, ২০১২-এর ৭ ও ১০(১) ধারায় আসামি মো. রেজাউল মন্ডলসহ অজ্ঞাত ৭-৮ জনের বিরুদ্ধে ২০১২ সালের ২৬ মে পাংশা থানায় মামলা দায়ের করেন। তিনি অভিযোগ করেন যে, তার পুত্র মো. ফারুক ওরফে মারুফ (১৬) পাংশা থানার বাগদুলী গ্রামে তার নানা মো. সাবিন ব্যাপারীর বাড়িতে লেখাপড়া করতেন। ২০১২ সালে এসএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর, ১০ মে রাত ১০টার সময় মো. রেজাউল মন্ডলসহ অজ্ঞাতনামারা মো. ফারুক ওরফে মারুফ এবং তার খালাতো ভাই মো. আজিজুল ইসলাম (১২) কে বেড়াতে নিয়ে যাওয়ার নামে অপহরণ করে। ১৭ দিন পরে মো. আজিজুল ইসলাম পাচারকারীদের হেফাজত থেকে পালিয়ে যশোর শহরের পালবাড়ীর মুক্তির মোড়ে এসে চায়ের দোকানদারের মোবাইল ফোন থেকে বাড়িতে ঘটনা জানান। এরপর মো. ফারুক ওরফে মারুফের বাবা মো. একলাস উদ্দিন মালিথা পাংশা থানায় মামলা দায়ের করেন।

মামলা দায়েরের পর তদন্তে প্রকাশ পায় যে, মো. রেজাউল মন্ডল ও মো. শাহীদুল মিয়া অজ্ঞাত পাচারকারীদের সাথে যোগসাজসে ভারতে বেড়াতে নিয়ে যাওয়ার নাম করে ১০ মে রাত ১০টার দিকে মো. ফারুক ওরফে মারুফ ও মো. আজিজুল ইসলামকে প্রথমে মোটরসাইকেলে করে পাংশা থানার আজিজ সরদার বাসস্ট্যান্ডে নিয়ে গিয়ে তাদেরকে অপরিচিত দুজন পাচারকারীর কাছে হস্তান্তর করে। সেখান থেকে ওই ২ জন অপরিচিত পাচারকারী মো. ফারুক ওরফে মারুফ ও মো. আজিজুল ইসলামকে একটি পিকআপে করে পোড়াদহ রেলওয়ে স্টেশনে নিয়ে যায়। ট্রেনে উঠিয়ে পানীয় জাতীয় কিছু পান করিয়ে তাদেরকে অজ্ঞান করে ফেলে। এরপর তারা ভারতে পাচারের উদ্দেশ্যে মো. ফারুক ওরফে মারুফ ও মো. আজিজুল ইসলামকে একটি অজ্ঞাত স্থানে আটকে রাখে। পাচারকারীরা সেখান থেকে প্রথমে মো. ফারুক ও মারুফকে ভারতে পাচার করে দেয়, যার আজ পর্যন্ত কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।

পাংশা থানার এসআই কামাল হোসেন ভূঁইয়া এ মামলাটি তদন্ত করেন। তদন্তে মো. রেজাউল মন্ডল ও মো. শাহীদুল মিয়ার বিরুদ্ধে মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইনে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।

পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) জাহিদ উদ্দিন মোল্লা জানান, মামলাটি প্রমাণের জন্য রাষ্ট্রপক্ষ থেকে ৮ জন সাক্ষীকে পরীক্ষা করা হয়। সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে প্রমাণিত হয় যে, মো. রেজাউল মন্ডল ও মো. শাহীদুল মিয়া মানব পাচারকারী দলের সক্রিয় সদস্য। তারা অজ্ঞাত পাচারকারীদের সাথে পরস্পর যোগসাজসে মো. ফারুক ওরফে মারুফ ও মো. আজিজুল ইসলামকে ভারতে পাচার করার উদ্দেশ্যে যশোর জেলার ভারতীয় সীমান্তে নিয়ে আটকে রাখে। পাবলিক প্রসিকিউটর জানান, অপর ভুক্তভোগী মো. আজিজুল ইসলাম কৌশলে পাচারকারীদের হেফাজত থেকে পালিয়ে আসেন এবং তিনি এ ট্রাইব্যুনালে আসামিদের বিরুদ্ধে ঘটনার বিবরণ দিয়ে সাক্ষ্য প্রদান করেন। মামলাটি সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় মো. রেজাউল মন্ডল ও মো. শাহীদুল মিয়াকে মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইন, ২০১২-এর ৭ ও ১০(১) ধারার অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইন, ২০১২-এর ৭ ধারার অপরাধে আসামি মো. রেজাউল মন্ডল ও মো. শাহীদুল মিয়াকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও ৫ লাখ টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং ১০(১) ধারার অপরাধে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ১ লাখ টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও ছয় মাসের সশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

হাবের দাবি, ২০২৭ সালে হজের কোটা ২০ হাজার বাড়ানো হোক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ২ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৫:৩৭ পি.এম


হাবের দাবি, ২০২৭ সালে হজের কোটা ২০ হাজার বাড়ানো হোক

বাংলাদেশের জন্য ২০২৭ সালের হজে নির্ধারিত কোটা আরও ২০ হাজার বাড়ানোর দাবি করেছে হজ এজেন্সিজ অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (হাব)।

সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নির্ধারিত কোটার বাইরে ২০ হাজারেরও বেশি হজযাত্রী অপেক্ষমাণ রয়েছেন। এই হজযাত্রীরা হজ পালনের জন্য মানসিক ও আর্থিকভাবে প্রস্তুত রয়েছেন। তাদের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সৌদি সরকারের কাছে অতিরিক্ত কোটা বরাদ্দের জন্য কূটনৈতিক তৎপরতা বৃদ্ধি করা প্রয়োজন।

সোমবার একটি সংবাদ সম্মেলনে হাবের সভাপতি সৈয়দ গোলাম সরওয়ার এবং মহাসচিব ফরিদ আহমেদ মজুমদার এই দাবি জানান।

সংবাদ সম্মেলনে ২০২৭ সালের হজ ব্যবস্থাপনার বর্তমান অবস্থা, বর্ধিত কোটা, সৌদি আরবে আটকে থাকা মেডিকেল ফির টাকা ফেরত এবং হজযাত্রীদের প্যাকেজের বাকি টাকা জমা দেওয়ার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।

এ সময় জানানো হয়, আগামী ১৫ মে ২০২৭ (চাঁদ দেখা সাপেক্ষে) পবিত্র হজ অনুষ্ঠিত হবে। সৌদি সরকার এ বছর বাংলাদেশের জন্য ৭৮ হাজার ৫০০ জনের কোটা নির্ধারণ করেছে। তবে বাংলাদেশের মূল হজ কোটা ১ লাখ ২৭ হাজার ১৯৮ জন। রাজনৈতিক অস্থিরতা ও অর্থনৈতিক সংকটের কারণে গত কয়েক বছরে হজযাত্রীর সংখ্যা হ্রাস পাওয়ায় সৌদি সরকার এই কোটা কমিয়ে দিয়েছে।

হাবের নেতারা বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপের কারণে এবার হজযাত্রীর সংখ্যা আশাতীতভাবে বেড়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোটা পূর্ণ হওয়ার পরেও ২০ হাজারের বেশি হজযাত্রী অপেক্ষমাণ রয়েছেন। তাদের মধ্যে অনেকের পরিবারের একাধিক সদস্য নিবন্ধন করতে পারলেও অন্যরা কোটার অভাবে অপেক্ষা করছেন। এ অবস্থায় অন্তত ২০ হাজার অতিরিক্ত কোটা বরাদ্দ দেওয়া জরুরি।

এ বিষয়ে ধর্মবিষয়ক মন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন (কায়কোবাদ) এমপির প্রতি সৌদি সরকারের সঙ্গে কূটনৈতিক যোগাযোগ আরও জোরদার করার আহ্বান জানিয়েছে হাব।

সংগঠনটির নেতারা জানান, সৌদি আরবের হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের সঙ্গে ধর্মমন্ত্রীর সুসম্পর্ক রয়েছে। তারা আশাবাদী যে, মন্ত্রী ব্যক্তিগতভাবে উদ্যোগ নিলে অপেক্ষমাণ হজযাত্রীদের সমস্যার সমাধান সম্ভব হবে। যদিও মন্ত্রী এ বিষয়ে আশ্বস্ত করেছেন, তবে অপেক্ষমাণ হজযাত্রীরা উৎকণ্ঠায় রয়েছেন।

সংবাদ সম্মেলনে হাব জানায়, চলতি বছর সৌদি সরকার কোনো পূর্বঘোষণা বা নোটিশ ছাড়াই মেডিকেল ফির নামে বাংলাদেশের হজ এজেন্সিগুলোর প্রায় ৩০ লাখ সৌদি রিয়াল আটকে রেখেছিল। বিষয়টি জানার পর হাব সংবাদ সম্মেলন করে অর্থ ফেরত পেতে সরকারের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করে। পরে ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগ ও সহযোগিতায় গতকাল আটকে রাখা ৩০ লাখ রিয়াল ফেরত পাওয়া গেছে।

হাব নেতারা এ জন্য প্রধানমন্ত্রী, ধর্মবিষয়ক মন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন (কায়কোবাদ), প্রতিমন্ত্রী মুহাম্মদ শামীম কায়সার লিংকন, ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মুন্সী আলাউদ্দিন আল আজাদসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তারা মন্ত্রণালয়ের কাছে পাওনা অবশিষ্ট অর্থও দ্রুত ফেরত দেওয়ার অনুরোধ জানান।

এছাড়া সৌদি আরবে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন, মক্কায় কাউন্সেলর (হজ) মো. কামরুল ইসলাম, কনসাল (হজ) মোহাম্মদ মাজহারুল ইসলাম, জেদ্দায় বাংলাদেশের কনসাল জেনারেল এবং হজ কার্যক্রমে নিয়োজিত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ধন্যবাদ জানানো হয়।

হজযাত্রীদের সেবায় সহযোগিতার জন্য সৌদি রাষ্ট্রদূত ড. আবদুল্লাহ জাফর এইচ. বিন আবিয়াহসহ সৌদি দূতাবাসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে সংগঠনটি।

সংবাদ সম্মেলনে হাব নেতারা জানান, ২০২৭ সালের হজে প্রাথমিকভাবে নিবন্ধিত যাত্রীদের প্যাকেজের সম্পূর্ণ টাকা আগামী ৭ ডিসেম্বর ২০২৬-এর মধ্যে পরিশোধ করতে হবে। এই সময়ের মধ্যে বাকি টাকা জমা দিয়ে চূড়ান্ত নিবন্ধন সম্পন্ন না করলে প্রাথমিক নিবন্ধন বাতিল বলে গণ্য হবে। এতে সংশ্লিষ্টদের আগামী বছরের হজযাত্রা অনিশ্চিত হয়ে পড়তে পারে।

সুতরাং, প্রাথমিক নিবন্ধন করা সব হজযাত্রীকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্যাকেজের বাকি টাকা জমা দিয়ে চূড়ান্ত নিবন্ধন সম্পন্ন করার অনুরোধ জানিয়েছে হাব।

সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির নেতারা বলেন, গণমাধ্যমের সহযোগিতায় হজ ব্যবস্থাপনা ক্রমেই সুশৃঙ্খল ও সফল হচ্ছে। ২০২৬ সালের হজ অতীতের যেকোনো বছরের তুলনায় সফলভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব হয়েছে। আগামী বছরও হজ কার্যক্রম সুষ্ঠু ও সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন করতে গণমাধ্যমের সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান তারা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মাইক টাইসনের ধর্ষণ মামলা নিয়ে নেটফ্লিক্সের প্রামাণ্যচিত্রে বিতর্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বিনোদন ডেস্ক

সোমবার, ২ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৫:৩৭ পি.এম


মাইক টাইসনের ধর্ষণ মামলা নিয়ে নেটফ্লিক্সের প্রামাণ্যচিত্রে বিতর্ক

মাইক টাইসন এক সময় বক্সিং রিংয়ে আতঙ্কের প্রতীক ছিলেন। মাত্র ২০ বছর বয়সে তিনি হেভিওয়েট বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হয়ে ইতিহাস সৃষ্টি করেছিলেন। তবে তাঁর খেলোয়াড়ি জীবনের সাফল্যের পাশাপাশি ব্যক্তিগত জীবনে নানা বিতর্ক, কারাবাস, মাদকাসক্তি এবং নির্যাতনের অভিযোগও তাঁকে বারবার আলোচনায় এনেছে। সম্প্রতি, নেটফ্লিক্সের চার পর্বের প্রামাণ্যচিত্র ‘টাইসন’ তাঁর জীবনের এসব অধ্যায় নিয়ে নতুন বিতর্কের সৃষ্টি করেছে।

১৩ অক্টোবর মুক্তি পাওয়া এই সিরিজটি দর্শকদের মধ্যে দ্রুত জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে। মুক্তির প্রথম সপ্তাহে এটি বিশ্বব্যাপী ৫১ লাখ ভিউ পায়। দ্বিতীয় সপ্তাহে ৩৮ লাখ ভিউ যুক্ত হওয়ায় দুই সপ্তাহে মোট দর্শকসংখ্যা ৮৯ লাখে পৌঁছায়। নেটফ্লিক্সের ইংরেজি ভাষার সিরিজের তালিকায় এই প্রামাণ্যচিত্রটি দুই সপ্তাহ ধরে চতুর্থ অবস্থানে ছিল।

সিরিজটিতে টাইসনের দারিদ্র্যপীড়িত শৈশব থেকে শুরু করে বিশ্বসেরা বক্সার হয়ে ওঠার গল্প তুলে ধরা হয়েছে। নিউইয়র্কের ব্রুকলিনে জন্মগ্রহণকারী টাইসন ছোটবেলা থেকেই নানা প্রতিকূলতার সম্মুখীন হন। অপরাধপ্রবণ পরিবেশে বেড়ে ওঠা এই কিশোরের জীবন বদলে দেন বক্সিং প্রশিক্ষক কাস ডি’আমাতো। তাঁর সহায়তায় টাইসন পেশাদার বক্সিংয়ে প্রবেশ করেন এবং অল্প বয়সেই বিশ্বজয়ের পথে এগিয়ে যান।

তবে সাফল্যের শীর্ষে পৌঁছানোর পরও বিতর্ক তাঁকে ছাড়েনি। ১৯৯০ সালে বস্টার ডগলাসের কাছে পরাজিত হওয়ার পর ১৯৯২ সালে ধর্ষণের মামলায় দোষী সাব্যস্ত হন টাইসন। এই কারণে তাঁকে তিন বছরের বেশি সময় কারাগারে কাটাতে হয়। যদিও তিনি বরাবরই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন। পরবর্তীতে ১৯৯৭ সালে ইভান্ডার হলিফিল্ডের কানে কামড় বসানোর ঘটনা তাঁর ক্যারিয়ারের অন্যতম কলঙ্কজনক অধ্যায় হয়ে দাঁড়ায়। সিরিজটিতে দাম্পত্য কলহ, অর্থনৈতিক বিপর্যয়, মাদকাসক্তি এবং ছোট মেয়ের অকালমৃত্যুর মতো ঘটনাও তুলে ধরা হয়েছে।

তবে টাইসনের জীবনের অন্ধকার দিকগুলো উপস্থাপনের পদ্ধতি নিয়ে সমালোচকদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আপত্তি উঠেছে। বিশেষ করে ধর্ষণের মামলার অভিযোগকারী ডিজিরি ওয়াশিংটন এবং টাইসনের সাবেক স্ত্রী রবিন গিভেন্সের বক্তব্য যথেষ্ট গুরুত্ব পায়নি বলে অভিযোগ করা হয়েছে। ওয়াশিংটন ও গিভেন্স কেউই নতুন সাক্ষাৎকার দেননি, ফলে তাঁদের অভিজ্ঞতার তুলনায় টাইসন এবং তাঁর ঘনিষ্ঠদের বক্তব্য বেশি স্থান পেয়েছে বলে মনে করছেন সমালোচকেরা।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ‘দ্য গার্ডিয়ান’-এর সমালোচকেরা প্রামাণ্যচিত্রটির নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁদের মতে, টাইসন নিজের অতীতের নানা ঘটনা নিয়ে কথা বললেও গুরুতর অভিযোগগুলোর দায় স্বীকারের ক্ষেত্রে তাঁর অবস্থান স্পষ্ট নয়। অন্যদিকে ‘দ্য টেলিগ্রাফ’ এবং ‘দ্য হলিউড রিপোর্টার’-এর মতো গণমাধ্যম সিরিজটির প্রশংসা করেছে। তাদের মতে, টাইসনের অস্থির এবং আবেগপ্রবণ ব্যক্তিত্ব পর্দায় আকর্ষণীয়ভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে।

সব মিলিয়ে ‘টাইসন’ শুধুমাত্র একজন কিংবদন্তি বক্সারের জীবনী নয়, বরং অতীতের অপরাধ, অনুশোচনা এবং আত্মপক্ষ সমর্থনের জটিল সম্পর্কও সামনে এনেছে। মানুষ কি সত্যিই নিজের অতীত থেকে বদলে যেতে পারে, নাকি সময়ের সঙ্গে শুধু নিজেকে উপস্থাপনের ধরন পাল্টায়? সিরিজটি দর্শকদের সামনে সেই প্রশ্নই রেখে গেছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২২শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৮
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪২
মাগরিব ০৫:১৮
ইশা ০৬:৩১
সূর্যোদয় : ০৬:০৫ সূর্যাস্ত : ০৫:১৮
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%