০৭:১৯ পি.এম
মাত্র ১০ দিনের ব্যবধানে আমেরিকার দুই বৃহত্তম গণতন্ত্রে ট্রাম্প-সমর্থিত পপুলিস্ট বা জনতাবাদী ডানপন্থীরা বড় ধরনের বিপর্যয়ের সম্মুখীন হয়েছে। ব্রাজিলে লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা প্রথম রাউন্ডে পিছিয়ে থেকেও দ্বিতীয় দফার নির্বাচনে সাবেক প্রেসিডেন্ট জাইর বলসোনারোর ছেলে ফ্লাভিওকে পরাজিত করেছেন। একই সময়ে, মার্কিন ভোটাররা কংগ্রেসের উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ ডেমোক্র্যাটদের হাতে তুলে দিয়েছেন এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের “মেক আমেরিকা গ্রেট এগেইন-মাগা” আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত প্রার্থীদের প্রত্যাখ্যান করেছেন।
এই ফলাফল বিশ্বজুড়ে ডানপন্থার দিকে ঝুঁকে পড়ার প্রবণতাকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে। এমন এক সময়ে যখন দ্রব্যমূল্য, কর্মসংস্থান এবং সরকারি পরিষেবা নিয়ে জনমনে তীব্র অসন্তোষ রয়েছে। এর আগে, সার্বিয়ার সাবেক ডানপন্থী প্রেসিডেন্ট আলেকসান্ডার ভুচিচ এবং হাঙ্গেরির সাবেক প্রধানমন্ত্রী ভিক্টর অরবানও পরাজয়ের সম্মুখীন হয়েছেন। ওয়াশিংটনভিত্তিক ‘ইনস্টিটিউট ফর পলিসি স্টাডিজ’-এর জন ফেফার মন্তব্য করেছেন, বর্তমানের সামাজিক মাধ্যমের দ্রুত পরিবর্তনশীল পরিবেশে ভোটাররা এমন প্রার্থীদেরকে ইতিবাচক সাড়া দিচ্ছেন, যারা “আমূল পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি” দেন।
ট্রাম্প ইউরোপের ডানপন্থী নেতাদের কড়া সমর্থন দিয়ে এসেছেন। তিনি মার-এ-লাগোতে অরবানকে আতিথ্য দিয়েছেন এবং আমেরিকার রক্ষণশীল গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে ইউরোপের জনতাবাদী দলগুলোর সম্পর্ক গড়ে তুলেছেন। তবে রিপাবলিকানদের পরাজয় এবং ইউরোপজুড়ে ট্রাম্পের ক্রমহ্রাসমান জনপ্রিয়তার কারণে অনেক কট্টর ডানপন্থী রাজনীতিবিদ এখন তাঁর কাছ থেকে দূরত্ব বজায় রাখছেন। জার্মানির ‘অল্টারনেটিভ ফর জার্মানি’ (এএফডি) পার্টির অ্যালিস ভাইডেল ইরান যুদ্ধের প্রসঙ্গ টেনে বলেছেন, “ট্রাম্প তাঁর ভোটারদের কাছে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে তিনি হস্তক্ষেপমূলক পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণ করবেন না। এই প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করার বিষয়টি এখন রিপাবলিকানদের জন্যই বুমেরাং হয়ে দাঁড়িয়েছে।”
আরও পড়ুন: দোষী সাব্যস্ত রাসেল ব্র্যান্ড
যদিও, ইউরোপের ফ্রান্সে মেরিন ল্য পেনের ‘ন্যাশনাল র্যালি’ এখনো প্রভাবশালী। অন্যদিকে জার্মানিতে ‘অল্টারনেটিভ ফর জার্মানি’ (এএফডি) বিশেষ করে পূর্বাঞ্চলে ঐতিহাসিক সাফল্য পেয়েছে। তবে, নভেম্বরের শেষ দিকে আগাম নির্বাচনের মুখোমুখি হওয়া স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো মন্তব্য করেছেন যে, মার্কিন নির্বাচনের ফলাফল প্রমাণ করে যে ডানপন্থী জোয়ারের গতি কমে আসছে। মঙ্গলবার সামাজিক মাধ্যমে তিনি লেখেন, “আমেরিকানরা এমন সব নীতি প্রত্যাখ্যান করেছে যা কেবল দারিদ্র্য বাড়ায়, ঘৃণা ছড়ায়, বৈষম্য তৈরি করে, জলবায়ু পরিবর্তনকে অস্বীকার করে এবং অভিজাতদের বিশেষ সুবিধা দেয়। ব্রাজিলে এমনটাই ঘটেছে, আমেরিকাতেও তা-ই হলো। আর খুব শীঘ্রই স্পেনেও এমনটাই ঘটবে।”
গত এপ্রিলে কানাডার লিবারেল নেতা মার্ক কার্নি ট্রাম্প-সমর্থিত কনজারভেটিভ নেতা পিয়ের পোয়ালেভরেকে পরাজিত করেন। বলিভিয়ার প্রেসিডেন্ট রদ্রিগো পাজ প্রায় ২০ বছরের শাসনের পর ভর্তুকি হ্রাস এবং জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির কারণে তীব্র প্রতিবাদের মুখে পড়েছেন। চিলির প্রেসিডেন্ট হোসে আন্তোনিও কাস্ত মার্চ মাসে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে তাঁর জনপ্রিয়তা প্রায় ৬০ শতাংশ থেকে ২৭ শতাংশে নেমে এসেছে। কার্নেগি এনডাউমেন্টের ফেলো অলিভার স্টুঙ্কেল বলেছেন, লাতিন আমেরিকার ডানপন্থার দিকে ঝুঁকে পড়ার প্রবণতা যতটা দৃঢ় মনে হয়েছিল, আসলে তার চেয়ে অনেক বেশি ভঙ্গুর। এর পেছনে রয়েছে অর্থনৈতিক দুর্বলতা এবং যৌন অপরাধে দ-িত ব্যক্তিদের আগেভাগে মুক্তি দেওয়ার মতো বিতর্কিত সিদ্ধান্ত।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন