মোঃ উজ্জ্বল মিয়া, নেত্রকোনা জেলা প্রতিনিধি
০৭:৩৫ পি.এম
নেত্রকোনার মোহনগঞ্জে চাঁদা না দেওয়ায় সবুজ মিয়া (৬০) নামে এক ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করার অভিযোগ উঠেছে। এ সময় তাঁর দোকান ভাঙচুর করে ক্যাশবাক্স থেকে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা লুট করে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় আব্দুল্লাহ আল সোহান (২৮) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে মোহনগঞ্জ পৌর শহরের খাদ্যগুদামের বিপরীতে অবস্থিত ‘পিংকী সাইকেল স্টোরে’ এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সোহান কয়েকজন সহযোগীকে নিয়ে দোকানে গিয়ে ব্যবসায়ী সবুজ মিয়ার কাছে ২০ হাজার টাকা দাবি করেন। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাঁকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয়। এতে তাঁর নাক কেটে গুরুতর জখম হয়। একপর্যায়ে তিনি অচেতন হয়ে পড়েন।
অভিযোগ রয়েছে, এ সময় হামলাকারীরা দোকানে ভাঙচুর চালিয়ে ক্যাশবাক্সে থাকা ব্যবসার ১ লাখ ২০ হাজার টাকা নিয়ে যায়। পরে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা এগিয়ে এলে হামলাকারীরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। আহত সবুজ মিয়াকে উদ্ধার করে মোহনগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সরকারি জায়গায় নির্মিত একটি ঘর মাসিক আট হাজার টাকা ভাড়ায় সবুজ মিয়ার কাছে দিয়েছিলেন সোহান। ভাড়ার টাকা ও বিভিন্ন সময়ে অতিরিক্ত টাকা দাবি করাকে কেন্দ্র করে তাঁদের মধ্যে বিরোধ চলছিল। এরই জেরে এ হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার রাতে আহত ব্যবসায়ীর ছোট ভাই মোহাম্মদ কমল মিয়া বাদী হয়ে মোহনগঞ্জ থানায় মামলা করেন। পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে রাতেই অভিযুক্ত সোহানকে গ্রেপ্তার করে।
গ্রেপ্তার আব্দুল্লাহ আল সোহান মোহনগঞ্জ উপজেলার বড়কাশিয়া গ্রামের মৃত নূর আহম্মদের ছেলে। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, তাঁর বিরুদ্ধে ধর্ষণ, ছিনতাই, মাদক ও মারামারিসহ বিভিন্ন অভিযোগে আগে থেকেই ১৫টি মামলা রয়েছে।
মোহনগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাফিজুল ইসলাম হারুন জানান, ব্যবসায়ীর ওপর হামলা ও টাকা লুটের ঘটনায় মামলা হয়েছে। মামলার পরপরই অভিযান চালিয়ে সোহানকে গ্রেপ্তার করা হয়। শুক্রবার দুপুরে তাঁকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ৬ নভেম্বর, ২০২৬ : প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মন্তব্য করেছেন যে, ১৯৭৫ সালের ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর সিপাহি-জনতার বিপ্লব বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল।
তিনি উল্লেখ করেন, ‘যারা বাংলাদেশকে তাঁবেদার রাষ্ট্রে পরিণত করার চেষ্টা করেছিল, জনগণের গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক অধিকার হরণ করে দেশে একদলীয় স্বৈরাচারী শাসন প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিল এবং দেশের সেনাবাহিনীর গৌরবকে ভূলুণ্ঠিত করতে চেয়েছিল, ৭ নভেম্বর দেশপ্রেমিক সিপাহি-জনতার ঐতিহাসিক বিপ্লবের মাধ্যমে তাদের পরাজয় ঘটেছিল।’
প্রধানমন্ত্রী এই বক্তব্যটি আগামীকাল ‘ঐতিহাসিক জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ উপলক্ষ্যে প্রদান করেন। তিনি দিবসটি উদযাপন উপলক্ষে জাতীয়ভাবে গৃহীত সকল কর্মসূচির সফলতা কামনা করেন।
বাণীতে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘৭ নভেম্বর সিপাহি-জনতা ঐক্যবদ্ধভাবে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে সকল ষড়যন্ত্র রুখে দিয়েছিল। দেশের ইতিহাসে এই দিনটি ছিল বাংলাদেশের শত্রু ও মিত্র চিহ্নিত করার দিন।’
তিনি বলেন, বাংলাদেশের জন্ম ও মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে দেশের প্রতিটি ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট নিয়ে আলোচনা করার সময় একটি প্রবাদবাক্য মনে রাখতে হবে—‘অতীত নিয়ে সবসময় পড়ে থাকলে এক চোখ অন্ধ, অতীতকে ভুলে গেলে দু’চোখই অন্ধ’। তাই ইতিহাসচর্চায় মশগুল থাকা যেমন সমীচীন নয়, তেমনি ভবিষ্যতের পথ রচনায় ইতিহাস থেকে শিক্ষা গ্রহণ না করাও একটি ঐতিহাসিক ভুল।
তারেক রহমান বলেন, ইতিহাস সাক্ষী, দীর্ঘ ষড়যন্ত্রের পথ ধরে ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর পরাজিত সেই অপশক্তি মহাজোটের নামে একত্রিত হয়ে দেশকে তাঁবেদার রাষ্ট্রে পরিণত করেছিল। বিডিআর পিলখানায় পরিকল্পিত সেনা হত্যাযজ্ঞ ঘটিয়ে সেনাবাহিনীর গৌরব ও মর্যাদা ভূলুণ্ঠিত করেছিল। জনগণের ভোটাধিকার ও গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক অধিকার কেড়ে নিয়ে দেশে ফ্যাসিবাদী শাসন কায়েম করেছিল। হাজারো শহিদের আত্মত্যাগ এবং বীর ছাত্র-জনতার রক্তক্ষয়ী গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে দীর্ঘ দেড় দশকের বেশি সময় পর অবশেষে দেশ ফ্যাসিবাদমুক্ত হয়েছে।
তিনি বলেন, ১৯৭১ সালের যুদ্ধ ছিল স্বাধীনতা অর্জনের, আর ২০২৪ সাল ছিল দেশ ও জনগণের স্বাধীনতা রক্ষার। ২০২৪ সালে যেভাবে সর্বস্তরের মানুষ দেশ ও জনগণের স্বাধীনতা রক্ষায় রাজপথে নেমে এসেছিল, ঠিক সেভাবেই ১৯৭৫ সালেও সিপাহি-জনতা ঐক্যবদ্ধভাবে রাজপথে নেমে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব বিরোধী সকল ষড়যন্ত্র রুখে দিয়েছিল।
ভবিষ্যতে যাতে কেউ দেশ ও জনগণের অধিকার হরণ করতে কিংবা দেশকে তাঁবেদার রাষ্ট্রে পরিণত করতে না পারে, সেটিই এবারের ৭ নভেম্বরের প্রধান অঙ্গীকার হওয়া উচিত বলে প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, এ অঙ্গীকার বাস্তবায়নে জাতীয় ঐক্য প্রয়োজন।
তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশের আর্থসামাজিক, ভৌগোলিক ও রাজনৈতিক বাস্তবতায় জাতীয় ঐক্য সমুন্নত রাখতে হলে ৭ নভেম্বরের সিপাহি-জনতার বিপ্লবের চেতনা মনে-প্রাণে ধারণ করতে হবে। ১৯৭১ সালের স্বাধীনতাযুদ্ধ, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর তাঁবেদার অপশক্তির বিরুদ্ধে সিপাহি-জনতার বিপ্লব, ১৯৯০ সালের স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন কিংবা ২০২৪ সালের ফ্যাসিবাদ বিরোধী গণঅভ্যুত্থান—ইতিহাসের বিভিন্ন সময়ে প্রতিটি বিপ্লব ও অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা ছিল একটাই। তা হলো, স্বাধীন বাংলাদেশে জনগণের সকল গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক অধিকার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে একটি স্বনির্ভর ও নিরাপদ কল্যাণমূলক রাষ্ট্র গঠন।
বাণীতে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব বিরোধী চক্রান্ত নস্যাৎ এবং জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষায় সংঘটিত ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের সিপাহি-জনতার বিপ্লবের এই ঐতিহাসিক দিনে দেশপ্রেমিক গণতন্ত্রকামী জনগণের দীপ্ত উচ্চারণ হোক—‘দিল্লি নয়, পিণ্ডি নয়, নয় অন্য কোনো দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’।
৭ নভেম্বরের বৈপ্লবিক চেতনা বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নির্মাণে প্রেরণা ও পাথেয় হয়ে উঠবে বলে প্রধানমন্ত্রী প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ফিলিস্তিনের গাজায় ইসরাইলি হামলার ফলে ৬ কোটি ১০ লাখ থেকে ৬ কোটি ৮০ লাখ টন ধ্বংসস্তূপ জমা হয়েছে বলে জানিয়েছে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ। এই ধ্বংসস্তূপের মধ্যে বিপজ্জনক বর্জ্য ও ক্যানসার সৃষ্টিকারী অ্যাসবেস্টস অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। ফলে উপত্যকাটিতে ভয়াবহ পরিবেশ ও মানবিক বিপর্যয়ের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
শুক্রবার (৬ নভেম্বর) আন্তর্জাতিক দিবস উপলক্ষে যুদ্ধ ও সশস্ত্র সংঘাতে পরিবেশের শোষণ রোধে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে এ বিষয়ে সতর্কবার্তা দেয় ফিলিস্তিনের পরিবেশ মান নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ।
বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, ইসরাইলি ধ্বংসযজ্ঞের কারণে গাজাজুড়ে ৬১ থেকে ৬৮ মিলিয়ন টন ধ্বংসস্তূপ জমেছে। এর মধ্যে প্রায় ৪০ লাখ টন বিপজ্জনক বর্জ্য এবং অন্তত ৫০ হাজার টন অ্যাসবেস্টস রয়েছে।
অ্যাসবেস্টস হলো এক ধরনের আঁশযুক্ত পদার্থ, যা ক্যানসার সৃষ্টি করতে পারে। অতীতে এটি নির্মাণ ও ভবনের তাপ নিরোধক উপকরণ হিসেবে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হতো।
কর্তৃপক্ষ আরও জানায়, ইসরাইলি হামলায় গাজার ৮২ শতাংশ কৃষিজমি, জলপাই ও অন্যান্য ফলের ৯৭ শতাংশ গাছ এবং পানি ও পয়োনিষ্কাশন অবকাঠামোর ৮৪ শতাংশ ধ্বংস হয়েছে।
পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থা ধ্বংস হয়ে যাওয়ার ফলে প্রতিদিন প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার ঘনমিটার অপরিশোধিত বর্জ্যপানি গাজার রাস্তাঘাট ও জলাধারে গিয়ে পড়ছে।
২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজায় ইসরাইলের যুদ্ধে ৭৪ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত এবং ১ লাখ ৭৫ হাজারের বেশি আহত হয়েছেন। পাশাপাশি উপত্যকাটির বেসামরিক অবকাঠামোর ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ হয়েছে।
সূত্র: টিআরটি ওয়ার্ল্ড
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার হ্নীলায় সশস্ত্র মানবপাচারকারীদের সঙ্গে যৌথ বাহিনীর গোলাগুলির সময় এক সেনাসদস্য নিহত হওয়ার ঘটনায় পাহাড়ে চলছে যৌথ বাহিনীর টহল অভিযান। তবে এ ঘটনায় এ পর্যন্ত কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দুর্গম পাহাড়ে তিনজনের অজ্ঞাত নামা লাশ পড়ে থাকার খবর পেয়েছে। তাদের লাশ উদ্ধারে চেষ্টা চালাচ্ছে পুলিশ।
শুক্রবার বিকালে হ্নীলা ইউনিয়নে নয়াপাড়া ও লেদা ক্যাম্পের পূর্বে পাহাড়ের ঝিরিতে ওই সব লাশের সন্ধান পায় পুলিশ।
টেকনাফ মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ সাইফুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, তারা ওই পাহাড়ে তিনজনের লাশ থাকার খবর পেয়েছেন। লাশ উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। যদি রাতে সম্ভব না হয়, তবে সকালে উদ্ধার করা হবে। ঘটনাস্থলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর টহল অব্যাহত রয়েছে।
টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম অনীক চৌধুরী বলেন, পাহাড়ে অবস্থানরত সশস্ত্র মানবপাচারকারীদের গ্রেপ্তারে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযান চলমান রয়েছে। অপরাধী যে-ই হোক পার পাওয়ার সুযোগ নেই।
আইএসপিআর জানিয়েছে, ৫ নভেম্বর টেকনাফের হ্নীলার গহীন পাহাড়ে প্রায় ১২০ জন রোহিঙ্গা ও বাঙালি নাগরিককে ১৫-১৬ জনের একটি সশস্ত্র মানবপাচারকারী দল জিম্মি করে রেখেছে বলে গোয়েন্দা সূত্রে জানা যায়।
এই তথ্যের ভিত্তিতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ১০ পদাতিক ডিভিশন, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও স্থানীয় পুলিশের সমন্বয়ে গঠিত একটি যৌথ আভিযানিক দল আনুমানিক বিকাল ৫টায় ঘটনাস্থলে পৌঁছায়।
এ সময় সশস্ত্র মানবপাচারকারীরা যৌথ বাহিনীর উপস্থিতি টের পেয়ে এলোপাতাড়ি গুলিবর্ষণ শুরু করলে উভয় পক্ষের মধ্যে গোলাগুলির ঘটনা ঘটে বলে আইএসপিআর জানিয়েছে।
গোলাগুলির একপর্যায়ে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সৈনিক মো. তিতাস শেখ (২৭) বাম কাঁধে গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হন এবং তার অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ ঘটে।
তাৎক্ষণিকভাবে তাকে উদ্ধার করে নিকটস্থ হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য রামুর সম্মিলিত সামরিক হাসপাতাল (সিএমএইচ) নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এমএইচ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বর্তমান সময়ে অনেক নারী নিজেদের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য পুরুষ বডিগার্ড বা নিরাপত্তাকর্মী নিয়োগ করেন। যদিও জীবনের সুরক্ষা ও আত্মরক্ষা মানুষের মৌলিক অধিকার, ইসলামি শরিয়তে নিরাপত্তার প্রকৃতি ও সীমা স্পষ্টভাবে নির্ধারিত হয়েছে।
বডিগার্ড নিয়োগের উদ্দেশ্যে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হলেও, একজন অনাত্মীয় (গাইরে মাহরাম) পুরুষ বডিগার্ডের দ্বারা নারীর শরীর স্পর্শ করা কতটুকু বৈধ, তা সঠিকভাবে জানা প্রত্যেক মুসলিমের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
ইসলামে, একজন নারীর জন্য যেকোনো অনাত্মীয় পুরুষকে 'গাইরে মাহরাম' হিসাবে বিবেচনা করা হয়। নিরাপত্তার কারণে কোনো পুরুষকে বডিগার্ড হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার অনুমতি থাকলেও, বডিগার্ড হওয়ার কারণে তিনি 'মাহরাম' বা রক্তের সম্পর্কের মধ্যে পড়েন না। শরিয়তের দৃষ্টিতে, তিনি সাধারণ পরপুরুষের মতোই গণ্য হবেন। তাই, পর্দা, দৃষ্টি সংযত রাখা এবং দৈহিক দূরত্বের সাধারণ বিধানগুলো বডিগার্ডের ক্ষেত্রেও সমানভাবে প্রযোজ্য।
নিরাপত্তার উদ্দেশ্যে নিযুক্ত হলেও, পুরুষ বডিগার্ডের দ্বারা নারীর শরীর স্পর্শ করা সাধারণ অবস্থায় সম্পূর্ণ হারাম এবং নিষিদ্ধ। রাসুলুল্লাহ (সা.) নির্দেশ দিয়েছেন যে, পরপুরুষের জন্য কোনো পরনারীর শরীর স্পর্শ করা মারাত্মক গুনাহ। রাসুলুল্লাহ (সা.) নিজে নারীদের কাছ থেকে বাইআত বা শপথ নেওয়ার গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তেও কোনো নারীর হাত স্পর্শ করেননি। তাই কেবল ‘পাহারা দেওয়া’ বা ‘বডিগার্ড হিসেবে নিয়োজিত থাকা’র অজুহাতে শরীরের স্পর্শকে বৈধ মনে করার সুযোগ ইসলামে নেই।
তবে ইসলাম একটি বাস্তবসম্মত জীবনব্যবস্থা। যদি কখনো এমন চরম জরুরি পরিস্থিতি বা আক্রমণ ঘটে যেখানে নারীর প্রাণনাশের বা অপহৃত হওয়ার প্রত্যক্ষ আশঙ্কা সৃষ্টি হয়, তখনই জীবন ও সম্ভ্রম রক্ষার্থে বডিগার্ড তাকে টেনে সরিয়ে নেওয়া বা রক্ষা করার উদ্দেশ্যে ন্যূনতম স্পর্শ করতে পারবেন। ইসলামি ফিকহের মূলনীতি অনুযায়ী, জরুরি অবস্থায় নিষিদ্ধ বিষয়কে সাময়িকভাবে শিথিল করা হয় (الضرورات تبيح المحظورات)। তবে আক্রমণ বা প্রাণনাশের প্রত্যক্ষ ঝুঁকি ছাড়া সাধারণ সময়ে চলাফেরা, গাড়িতে ওঠানামা বা ভিড় ঠেলে পথ চলার সময় পুরুষ বডিগার্ডের শরীর স্পর্শ করা নাজায়েজ।
নারীদের দৈনন্দিন নিরাপত্তা ও পর্দার বিধান দুটিকে একসাথে রক্ষা করার জন্য সবচেয়ে উত্তম ব্যবস্থা হলো নারী বডিগার্ড নিয়োগ করা। এতে করে যেকোনো শারীরিক সহায়তা বা তল্লাশির প্রয়োজন হলে কোনো ধর্মীয় বিধান লঙ্ঘিত হবে না। আর যদি পুরুষ বডিগার্ড রাখতেই হয়, তবে তাকে এমনভাবে দায়িত্ব পালন করতে হবে যেন দৈহিক স্পর্শ ছাড়াই এবং পর্দার মার্জিত দূরত্ব বজায় রেখে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারেন।
একজন নারী নিজের জীবনের নিরাপত্তার জন্য পুরুষ বডিগার্ড রাখতে পারেন, তবে বডিগার্ডের জন্য তার শরীর স্পর্শ করা ইসলামি বিধান অনুযায়ী বৈধ নয়। নিরাপত্তা পাওয়ার অধিকার যেমন সত্য, ঠিক তেমনি ধর্মীয় সীমানা ও নিজের সম্ভ্রম রক্ষা করাও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ। তাই নিয়ম মেনে ও স্পর্শ এড়িয়ে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা একজন সচেতন মুসলিম নারীর প্রধান দায়িত্ব।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ