১০:১৫ পি.এম
পটুয়াখালীতে, বিয়ের প্রলোভনে বিধবা নারীকে একাধিকবার ধর্ষণের পর ভয়ভীতি দেখিয়ে গর্ভপাত করানোর অভিযোগ উঠেছে সদর উপজেলা জামায়াতের যুব বিভাগের সাবেক সভাপতি এবং বর্তমান সদস্য মো. শহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে। এই ঘটনার পর একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। আজ বুধবার, মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. হুমায়ুন কবির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এই ঘটনার পর থেকেই ওই নেতা আত্মগোপনে রয়েছেন।
জানা গেছে, গত ২২ জুলাই, পটুয়াখালী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে ভুক্তভোগী এক সন্তানের জননী বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় শহিদুল ইসলামকে একমাত্র আসামি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে আদালত মামলাটি গ্রহণ করে পটুয়াখালী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেন।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, প্রায় সাত বছর আগে ওই নারীর স্বামী মারা যান। এরপর, তিনি একমাত্র সন্তানকে নিয়ে বাবার বাড়িতে বসবাস করছিলেন। সে সময়, শহিদুল ইসলাম তাঁকে বিয়ের প্রস্তাব দেন এবং তাঁর সন্তানকে দেখাশোনার আশ্বাস দেন।
আরও পড়ুন: কুয়াকাটায় অনুমোদনহীন নির্মাণের অভিযোগে ইস্তানবুল হোটেলের কাজ বন্ধ
গত ২৪ মার্চ, শহিদুল ইসলামের মাধ্যমে ওই নারীকে পটুয়াখালী শহরের শেরে বাংলা সড়কের তাঁর বোনের বাসায় নিয়ে গিয়ে একটি কক্ষে আটকে রেখে তাঁকে ধর্ষণ করা হয়। পরে ভয়ভীতি দেখিয়ে বিভিন্ন সময়ে একাধিকবার ধর্ষণের অভিযোগও মামলায় করা হয়েছে।
এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, এর ফলে ওই নারী অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েন। পরে গর্ভের সন্তান নষ্ট করার জন্য চাপ দেওয়ার পরও তিনি রাজি হননি। গত ১৮ মে, চিকিৎসকের কাছে নেওয়ার কথা বলে তাঁকে একটি ক্লিনিকে নিয়ে যায়। সেখানে ভয়ভীতি দেখিয়ে ওষুধ খাওয়ানোর পর, তিনি জ্ঞান ফিরে পেয়ে জানতে পারেন, তাঁর গর্ভের সন্তান নষ্ট হয়ে গেছে।
বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. হুমায়ুন কবির বলেছেন, "বিয়ের আশ্বাস দিয়ে ওই নারীকে শহরে এনে ভয়ভীতি দেখিয়ে একাধিকবার ধর্ষণ ও পরে গর্ভপাত করানোর অভিযোগে মামলাটি করা হয়েছে।" আদালত অভিযোগটি আমলে নিয়ে সদর থানার ওসিকে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।
এদিকে, পটুয়াখালী জেলা জামায়াতের আমির মো. নাজমুল আহসান জানিয়েছেন, "বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন, তাই এ নিয়ে মন্তব্য করা সমীচীন হবে না। তবে ইতিমধ্যে তার সদস্যপদ স্থগিত করা হয়েছে। আদালতে অভিযোগ প্রমাণিত হলে দলীয়ভাবে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
আরও পড়ুন: শেরপুরে বাস-সিএনজির সংঘর্ষে জুয়েল মিয়া নিহত, আহত ৪
পটুয়াখালী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি মো. মনিরুজ্জামান বলেছেন, "কোর্টের আদেশের কপি পাওয়ার পর আদালতের নির্দেশনার আলোকে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।" এদিকে, মামলা ও অভিযোগের বিষয়টি সম্পর্কে নানা ভাবে যোগাযোগের চেষ্টা করেও অভিযুক্ত যুব জামায়াত নেতা মো. শহিদুল ইসলামের বক্তব্য জানা যায়নি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন