ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

প্রধানমন্ত্রীকে কাছে পেয়ে আবেগাপ্লুত জুলাই শহীদের স্বজনেরা


প্রধানমন্ত্রীকে কাছে পেয়ে আবেগাপ্লুত জুলাই শহীদের স্বজনেরা

চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানে সন্তান হারানো মায়ের কান্না, বাবার দীর্ঘশ্বাস, ভাইয়ের আহাজারি এবং আহত যোদ্ধাদের বেদনায় আজ রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্র ভারী হয়ে ওঠে।

জুলাই জাতীয় সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সামনে শহীদ ও আহতদের পরিবারের সদস্যরা প্রতিটি হত্যাকাণ্ডের বিচার, আহতদের চিকিৎসা এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসনের দাবি জানান। ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা সরকারের দীর্ঘ ১৬ বছর শাসনের পতনের দুই বছর পর এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

জুলাই-২৪ শহীদ পরিবার সোসাইটি ও আমরা জুলাই যোদ্ধা কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই সম্মেলনে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা শহীদ ও আহত জুলাই যোদ্ধাদের পরিবারের সদস্যরা তাদের না-বলা কষ্ট, দীর্ঘদিনের অপেক্ষা এবং প্রত্যাশার কথা তুলে ধরেন। অনেকেই বক্তব্য দিতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন। চোখের জল আর দীর্ঘশ্বাসে ভারী হয়ে ওঠে পুরো মিলনায়তন।

আরও পড়ুন: সুইজারল্যান্ডের প্রতি বাংলাদেশে বিনিয়োগ ও বাণিজ্য সম্প্রসারণের আহ্বান রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুলের

শহীদ মিরাজ হোসেনের বাবা আব্দুল রব মিয়া কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘জুলাই এলেই চোখের পানির বাঁধ ভাঙে। ৫ আগস্ট আমার ছেলের বুক গুলিতে ঝাঁঝরা করে দিয়েছিল ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকারের পুলিশ। আমি এক হতভাগা বাবা এই অন্যায়ের বিচার চাই, প্রতিটি জুলাই যোদ্ধা হত্যার বিচার চাই।’

চট্টগ্রামের শহীদ ওয়াসিমের বাবা শফিউল আলম বলেন, ‘আমার ছেলে আর ফিরে আসবে না। কিন্তু আর কোনো বাবা-মায়ের কোল যেন খালি না হয়। এখন সরকারের কাছে দাবি, জুলাই যোদ্ধা যারা হাত-পা হারিয়েছে তাদের সহায়তা করুন। তারা যেনো কষ্টে না থাকে।’

আবু সাঈদের ভাই আবু হোসেন আবেগাপ্লুত কণ্ঠে বলেন, ‘আমার ভাই ফ্যাসিবাদী সরকারের বিরুদ্ধে লড়াই করে জীবন দিয়েছে। তার অনুপ্রেরণায় আরও অনেকে শহীদ হয়েছেন, কেউ পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন। অনেক পরিবার একমাত্র উপার্জনক্ষম সদস্যকে হারিয়ে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছে। তাদের পাশে সরকারের দাঁড়াতে হবে। আমার ভাই হত্যার দ্রুত বিচার চাই। পাশাপাশি সারা দেশে জুলাই যোদ্ধাদের স্মৃতি সংরক্ষণেরও দাবি করছি।’

শহীদ আব্দুল্লাহ বিন জাহিদের মা ফাতেমাতুজ জোহরা বলেন, ‘আমার বড় ছেলে জাহিদ মারা যাওয়ার পরে আমার ছোট ছেলের ক্যান্সার ধরা পড়ে। আমি অসহায় অবস্থায়, ওই সময় এমন কোনো দরজায় নেই যেখানে যাইনি, কিন্তু সহায়তা পাইনি। তবে ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর প্রত্যেকটি সদস্য আমাদের পাশে ছিলেন।’

আরও পড়ুন: ২০৩৪ সালের মধ্যে জিডিপি ১ ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়াবে প্রধানমন্ত্রীর আশা

তিনি বলেন, ‘বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান লন্ডন থেকে আমাদের খোঁজ নিয়েছেন, সহায়তা করেছেন। এখন বিএনপি সরকারের কাছে একটাই দাবি- সকল জুলাই যোদ্ধাদের হত্যার বিচার চাই। আমি যেভাবে বিএনপির কাছে সহায়তা পেয়েছি অন্য জুলাই শহীদ পরিবারের সদস্যরাও যেনো সহায়তা পায়। আমার সন্তানকে তো আর ফিরে পাবো না, তবে সবাই ওর জন্য দোয়া করবেন।’

শহীদ আলভীর বাবা আবুল হাসান বলেন, ‘আমার ছেলে আগস্টের ৪ তারিখ মিরপুরে মারা যায়। দুই বছর পার হলেও অন্তবর্তী সরকার বিচারের ব্যাপারে কোনো উদ্যোগ নেয়নি। বিচারের জন্য রাস্তায় আন্দোলন করেছি কিন্তু দৃশ্যমান কিছুই হয়নি। আমরা তখন আশায় বুক বেঁধে ছিলাম, তারেক রহমান দেশে ফিরবেন, ক্ষমতায় বসবেন আমাদের সন্তান হত্যার বিচার করবেন। আমরা আশা রাখি, তিনি আমাদের চোখের পানির মূল্য দেবেন।’

দুই পা হারানো জুলাই যোদ্ধা শাহীন মালু বলেন, ‘গত ১৭ বছর জিয়া পরিবার সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ দেশকে ভালো রাখতে হলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাথে থাকুন। শহীদ পরিবার যদি চান তবে তারেক রহমানকে সহায়তা করুন। এই দেশ তার কাছেই নিরাপদ। আজকে বুকটা ভরে যায়; দুইটা পা হারিয়েছি দু:খ নেই, তবে জুলাই যোদ্ধাদের হত্যার বিচার যেনো দেখতে পারি।’

আহত জুলাই যোদ্ধা মিল্লাত হোসেন বলেন, ‘আমি একজন আহত জুলাই যোদ্ধা। ফ্যাসিস্ট সরকারের পতনের দাবিতে নয়াপল্টন থেকে মিছিল নিয়ে প্রেসক্লাব যাওয়ার সময় আমি গুলিবিদ্ধ হই। প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়, কিন্তু কোনো হাসপাতালে চিকিৎসা পর্যন্ত পাইনি। প্রথমে আমার পরিবারকে বলা হয় আমি গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা গিয়েছি। এরপর থেকে আমার বাবা অসুস্থ হয়ে শয্যাশয়ী হয়, পরে মারা যান। আমরা শুধু জুলাই যোদ্ধা নই গত ১৭ বছরের যোদ্ধা। আমি সকল জুলাই যোদ্ধা হত্যার বিচার চাই।’

আরও পড়ুন: এস এম জিলানী: গুপ্ত ও ফ্যাসিস্টরা নতুন চক্রান্ত শুরু করেছে

আরেক আহত জুলাই যোদ্ধা সুজন মোল্লা বলেন, ‘লন্ডন থেকে তারেক রহমান একদফার ঘোষনা দিয়েছিলেন। এই জন্যই আন্দোলন করেছিলাম। এই একদফা বাস্তবায়ন হয়েছে বলেই স্বৈরাচার দেশ ছেড়ে পালিয়েছে। জুলাই শহীদ পরিবার থেকে শুরু করে দেশের মানুষ নিরাপদে বাস করছে। তবে আমাদের আক্ষেপ থেকেও গেছে। শহীদ যোদ্ধাদের হত্যার বিচার এখনো হয়নি। তবে রাষ্ট্রযন্ত্র আজ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাতে, তিনি চাইলেই পারবেন দ্রুত জুলাই হত্যাকান্ডের বিচার করতে। আমরা অপেক্ষায় থাকলাম।’

আহত আলামিন বলেন, ‘আমার একটা হাত নেই, ব্যাথায় মাঝেমধ্যে কাঁপতে থাকে। চিকিৎসা করতে পারিনা। আমার মতো আরও কতশত যোদ্ধা এমন হাত-পা হারিয়েছেন ঠিক নেই। আমি সরকারের কাছে দাবি করবো, আমার মতো হাত-পা হারানো যোদ্ধাদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করুন।’

জুলাই যোদ্ধা মেহেদী হাসান মিরাজ বলেন, শুধু মাত্র জাতীয়তাবাদী দলের সমর্থক হওয়ার কারণে পুলিশি নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে। জুলাই যোদ্ধা হিসেবেও তেমন কোনো সহায়তা পাইনি।

সম্মেলনের মূল প্রতিপাদ্য ছিল ‘সবার আগে বাংলাদেশ’। মঞ্চের ব্যানারে লেখা, ‘গর্বিত ইতিহাস, অদম্য চেতনা; ৪ জুলাইয়ের এই দিন হোক সবার অনুপ্রেরণা; যে আত্মত্যাগ ইতিহাসকে বদলে দিয়েছে।’

আরও পড়ুন: জয়-পুতুলসহ ৮ জনের আয়কর নথি জব্দের নির্দেশ আদালতের

সকাল সোয়া ১০টায় পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু হয়। পরে শহীদদের স্মরণে দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। জাতীয় সংগীত পরিবেশনের পাশাপাশি জুলাই আন্দোলনের ওপর একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়।

অনুষ্ঠানের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শহীদ পরিবারের সদস্যদের হাতে ‘জুলাই স্মৃতি স্মারক’ তুলে দেন। এ সময় শহীদ মিরাজের বাবা আব্দুল রব মিয়া, শহীদ সেলিমের ভাই উজ্জ্বল হোসেন, আহত জুলাই যোদ্ধা আল মিরাজ এবং জুলাই যোদ্ধা আমিনুল ইসলাম ঈমন প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে স্মারক গ্রহণ করেন। পরে উপস্থিত অন্য পরিবারগুলোর কাছেও স্মারক পৌঁছে দেওয়া হবে বলে জানানো হয়।

পরে শহীদ পরিবারের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাতেও একটি স্মৃতি স্মারক তুলে দেওয়া হয়।

জাতীয় সংসদের প্রধান হুইপ নুরুল ইসলাম মনির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে সরকারের মন্ত্রী, বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত ও হাইকমিশনার, সামরিক ও বেসামরিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং পেশাজীবী নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন: গোলাম মোস্তফা: ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর গণতন্ত্রের বিরুদ্ধে ফ্যাসিবাদের সূচনা

২০২৪ সালের জুলাই বাংলাদেশের ইতিহাসে এক রক্তাক্ত অধ্যায়। সরকারি চাকরিতে কোটা বাতিল ও সংস্কারের দাবিতে শুরু হওয়া ছাত্র আন্দোলন দ্রুত সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ে। রাজধানী থেকে জেলা-উপজেলা পর্যন্ত গড়ে ওঠে অভূতপূর্ব গণআন্দোলন। পরে তা সরকারবিরোধী গণঅভ্যুত্থানে রূপ নেয়। টানা ৩৬ দিনের আন্দোলনের পর ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন ১৬ বছরের আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটে এবং তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশ ত্যাগ করেন।

সরকারের প্রকাশিত গেজেট অনুযায়ী, জুলাই অভ্যুত্থানে শহীদের সংখ্যা ৮৩৪। তবে জাতিসংঘের তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১ জুলাই থেকে ১৫ আগস্টের মধ্যে সংঘটিত মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় ১ হাজার ৪০০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়ে থাকতে পারেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ফটিকছড়ি উত্তর’ নাম হলেও দক্ষিণে উপজেলা সদর স্থাপনের অভিযোগ, ৭ দিনের আল্টিমেটাম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সাকিব চৌধুরী চট্টগ্রাম

শনিবার, ৪ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৩:০৯ পি.এম


ফটিকছড়ি উত্তর’ নাম হলেও দক্ষিণে উপজেলা সদর স্থাপনের অভিযোগ, ৭ দিনের আল্টিমেটাম

চট্টগ্রামের নবগঠিত ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলার সদর দপ্তর উত্তরাঞ্চলের যৌক্তিক স্থানে না করে দক্ষিণাংশে স্থাপনের চেষ্টা চলছে—এমন অভিযোগ তুলে এর প্রতিবাদে ৭ দিনের আল্টিমেটাম দিয়েছে উত্তর ফটিকছড়ি সচেতন নাগরিক সমাজ। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এ বিষয়ে সুস্পষ্ট সিদ্ধান্ত না এলে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচির পাশাপাশি আরও কঠোর আন্দোলনের ঘোষণা দিয়েছেন স্থানীয়রা।
শনিবার সকালে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, উত্তর ফটিকছড়ির মানুষের দীর্ঘদিনের আন্দোলনের ফল হিসেবে নতুন উপজেলার অনুমোদন এসেছে। এজন্য তারা সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তবে উপজেলার সদর দপ্তর যদি উত্তরাঞ্চলের পরিবর্তে দক্ষিণাংশে স্থাপন করা হয়, তাহলে নতুন উপজেলা গঠনের মূল উদ্দেশ্যই ব্যাহত হবে।
লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, বর্তমান ফটিকছড়ি উপজেলা সদর থেকে দীর্ঘ দূরত্বের কারণে উত্তরাঞ্চলের মানুষ শিক্ষা, চিকিৎসা, প্রশাসনিক সেবা, ব্যবসা-বাণিজ্য, যোগাযোগ ও অবকাঠামোগত সুবিধা থেকে দীর্ঘদিন ধরে বঞ্চিত হয়ে আসছেন। এ বাস্তবতায় বাগানবাজার, দাঁতমারা, নারায়ণহাট ও ভূজপুর—এই চার ইউনিয়ন নিয়ে নতুন উপজেলা গঠনের দাবি ওঠে এবং এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসন গণশুনানিরও আয়োজন করে।
বক্তারা অভিযোগ করেন, গণশুনানির সুপারিশ উপেক্ষা করে পরবর্তীতে হারুয়ালছড়ি ও সুয়াবিল ইউনিয়নকে নতুন উপজেলার অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। অথচ এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট এলাকার বাসিন্দাদের মতামত নেওয়া হয়নি। এতে স্থানীয়দের মধ্যে অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে আরও অভিযোগ করা হয়, একটি স্বার্থান্বেষী মহল প্রশাসনিক প্রক্রিয়ায় প্রভাব বিস্তার করে ভূজপুরে উপজেলা সদর স্থাপনের চেষ্টা করছে। বক্তাদের দাবি, দূরত্ব, যোগাযোগ ব্যবস্থা, আয়তন ও রাজস্ব আয়ের দিক বিবেচনায় ভূজপুর উপজেলা সদর হওয়ার জন্য উপযুক্ত নয়। বর্তমানে ফটিকছড়ি উপজেলা সদর থেকে ভূজপুরের দূরত্ব প্রায় ৯ কিলোমিটার হলেও বাগানবাজার থেকে ভূজপুরের দূরত্ব প্রায় ৩৮ কিলোমিটার। ফলে ভূজপুরে সদর স্থাপন করা হলে উত্তরাঞ্চলের সাধারণ মানুষ প্রত্যাশিত প্রশাসনিক সুবিধা থেকে আবারও বঞ্চিত হবেন।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ফটিকছড়ি উপজেলার মোট আয়তন প্রায় ৭৭৩ বর্গকিলোমিটার, যার মধ্যে উত্তরাঞ্চলের আয়তন প্রায় ৩০১ বর্গকিলোমিটার। এ অঞ্চলে প্রায় আড়াই লাখ মানুষের বসবাস এবং সোয়া এক লাখের বেশি ভোটার রয়েছেন। এত বড় জনগোষ্ঠীর ন্যায্য দাবি উপেক্ষা করা সমীচীন হবে না বলে মন্তব্য করেন বক্তারা।

তারা আরও বলেন, উপজেলা পরিষদের পূর্ববর্তী সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সুয়াবিল ইউনিয়নকে ভূজপুর থানা এলাকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছিল। এমনকি অন্তর্বর্তী সরকারের প্রস্তাবিত খসড়াতেও ইউনিয়নটি উত্তর ফটিকছড়ি উপজেলার অন্তর্ভুক্ত ছিল না। পরে একটি মহলের প্রভাবে সেটি নতুন উপজেলার সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তারা।

সংবাদ সম্মেলন থেকে আগামী ৭ দিনের মধ্যে গণশুনানির সুপারিশ অনুযায়ী নারায়ণহাট ও দাঁতমারার মধ্যবর্তী যৌক্তিক স্থানে উত্তর ফটিকছড়ি উপজেলার সদর দপ্তর স্থাপনের বিষয়ে সরকারের সুস্পষ্ট সিদ্ধান্ত দাবি করা হয়। অন্যথায় শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক কর্মসূচি আরও জোরদার করার ঘোষণা দেন আন্দোলনকারীরা।
সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট ইউসুফ আলম মাসুদ, বিজিএমইএর সাবেক সহ-সভাপতি রকিবুল আলম চৌধুরী, উত্তর ফটিকছড়ি নাগরিক ফোরামের আহ্বায়ক ওসমান গণি মজুমদার, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি আব্দুল জব্বার, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা যুবদলের যুগ্ম সম্পাদক সাইফুদ্দিন সিদ্দিকী সোহেল, হেলথ ভিউ মেটারনিটি অ্যান্ড চাইল্ড হাসপাতালের পরিচালক অ্যাডভোকেট শাহাজাহান সিরাজ, খায়রুল খোমেনী, খালেদুল আনোয়ার, জহির রায়হানসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বিএনপি সরকার ক্ষমতায় থাকলে হিন্দুরা নিরাপদে বসবাস করবে: এমপি খোকন তালুকদার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শাওন বল মাদারীপুর প্রতিনিধি

শনিবার, ৪ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৩:১৭ পি.এম


বিএনপি সরকার ক্ষমতায় থাকলে হিন্দুরা নিরাপদে বসবাস করবে: এমপি খোকন তালুকদার

মাদারীপুরের ডাসার উপজেলার নবগ্রাম ইউনিয়নের উত্তরপাড়া সর্বজনীন শ্রী শ্রী কালী মন্দির ও রাধা গোবিন্দ মন্দিরে ২৪ প্রহরব্যাপী মহানাম যজ্ঞ ধর্মীয় উৎসাহ-উদ্দীপনা ও উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (৩ জুলাই) রাতে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে বিপুল সংখ্যক হিন্দু ধর্মাবলম্বী ও ভক্তদের উপস্থিতিতে মন্দির প্রাঙ্গণ হরিনামে মুখরিত হয়ে ওঠে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাদারীপুর-৩ (কালকিনি-ডাসার) আসনের সংসদ সদস্য এবং বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-গণশিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক আনিসুর রহমান খোকন তালুকদার। তিনি মন্দির পরিদর্শন করেন, উপস্থিত ভক্তদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন এবং আয়োজকদের শুভেচ্ছা জানান।

এ সময় বক্তব্যে এমপি খোকন তালুকদার বলেন, “বিএনপি সব ধর্মের মানুষের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান ও ধর্মীয় স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে। হিন্দু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা ও সাংবিধানিক অধিকার নিশ্চিত করতে দল অঙ্গীকারবদ্ধ। বিএনপি সরকার যতদিন ক্ষমতায় থাকবে, ততদিন বাংলাদেশে হিন্দু সম্প্রদায় নিরাপত্তা, মর্যাদা ও সমঅধিকার নিয়ে বসবাস করবে।”

স্থানীয় বাসিন্দা বাবু হরলাল বিশ্বাস বলেন, “এমপি খোকন তালুকদার সব সময় আমাদের সুখে-দুঃখে পাশে থাকেন। বিভিন্ন ধর্মীয় ও সামাজিক অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে তিনি আমাদের উৎসাহিত করেন। এজন্য আমরা তাঁর প্রতি আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞ।”

অনুষ্ঠানে স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী, সনাতন ধর্মাবলম্বী ভক্তবৃন্দ এবং এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান, নামসংকীর্তন ও প্রার্থনার মধ্য দিয়ে ২৪ প্রহরব্যাপী মহানাম যজ্ঞ সম্পন্ন হয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

চকবাজারের খাজামার্কেটে আগুন, নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের ৬ ইউনিট

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শনিবার, ৪ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৩:২২ পি.এম


চকবাজারের খাজামার্কেটে আগুন, নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের ৬ ইউনিট

রাজধানীর চকবাজারের খাজামার্কেটে অগ্নিকাণ্ডের একটি ঘটনা ঘটে। আগুনকে নিয়ন্ত্রণে আনতে ফায়ার সার্ভিসের ছয়টি ইউনিট সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। শনিবার (৪ জুলাই) দুপুর দেড়টার দিকে এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

ফায়ার সার্ভিস জানায়, দুপুর ১টা ৩৪ মিনিটে আগুনের খবর আসে। পঞ্চম তলা ভবনের তৃতীয় তলায় আগুনের সূত্রপাত ঘটে। কয়েক মিনিট পর, ফায়ার সার্ভিসের লালবাগ স্টেশনের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। পরে সিদ্দিক বাজার ফায়ার স্টেশনের আরো চারটি ইউনিট ঘটনাস্থলে প্রেরণ করা হয়।

তাৎক্ষণিকভাবে আগুন লাগার সঠিক কারণ এবং অগ্নিকার্যের ফলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ সম্বন্ধে কোনো নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া যায়নি। এছাড়া, এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। তবে ভবনের ভেতরে কেউ আটকা পড়ে আছেন কিনা, তা নিয়ে উদ্ধারকর্মীরা তদন্ত করছেন।

এছাড়া, গত ২৬ জুন দিবাগত রাত সোয়া ১টার দিকে রাজধানীর কাঁটাবনে আল বারাকা টাওয়ারে আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছিল। এই ঘটনায় দুইজন দগ্ধ হয়ে মারা যান।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ময়মনসিংহে বিভাগীয় স্টেডিয়াম ও বিকেএসপি স্থাপনের সম্ভ্যাব্য স্থান পরিদর্শন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৪ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৩:২৪ পি.এম


ময়মনসিংহে বিভাগীয় স্টেডিয়াম ও বিকেএসপি স্থাপনের সম্ভ্যাব্য স্থান পরিদর্শন

প্রধানমন্ত্রীর নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ময়মনসিংহে বিভাগীয় স্টেডিয়াম ও বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (বিকেএসপি) স্থাপনের সম্ভাব্য দু’টি স্থান পরিদর্শন করা হয়েছে। এই প্রত্যাশিত প্রতিষ্ঠানগুলো যদি স্থাপিত হয়, তবে ক্রীড়াঙ্গনের বৈপ্লবিক উন্নয়ন ঘটতে পারে, এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের জীবনমানের উন্নয়ন ঘটবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

আজ শনিবার, বেলা ১২টায়, নগরীর বাইপাস বাদেকল্পা এবং উজান বাড়েরা এলাকায় সম্ভাব্য স্থান দু’টি পরিদর্শন করা হয়েছে।

এ সময়, সম্ভাব্য স্থান দু’টির পারিপার্শ্বিক অবস্থা, যাতায়ত সুবিধা, ব্যয় সংকোচন নীতি, অনুন্নত এলাকার উন্নয়ন এবং ভূমি ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন দিক পর্যালোচনা করা হয়েছে, বলে জানিয়েছেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মো. আজিমুদ্দিন।

সদর আসনের সংসদ সদস্য আবু ওয়াহাব আকন্দ ওয়াহিদের নেতৃত্বে, এই পরিদর্শন দলে আরো উপস্থিত ছিলেন ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের (মসিক) প্রশাসক রুকুনোজ্জামান রোকন, ময়মনসিংহ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (মউক) চেয়ারম্যান মোতাহার হোসেন তালুকদার, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মো. আজিমুদ্দিন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আরিফুল ইসলাম, সহকারি কমিশনার (ভূমি) সৈয়দা তামান্না হুরায়রা ও জেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্য সচিব একেএম মাহাবুবুল আলম।

মউক চেয়ারম্যান মোতাহার হোসেন তালুকদার জানিয়েছেন, বাইপাস সড়কের ক্যান্টনমেন্ট গেইটের মাঝখানে উল্টোদিকে দুইটি স্থানে বিভাগীয় স্টেডিয়াম নির্মাণের এবং বিকেএসপি স্থাপনের প্রাথমিক পরিকল্পনা আছে। এক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীর ব্যয় সংকোচন নীতি অনুসরণ করাটা জরুরি, এই বিষয়টি মাথায় রেখেই কাজ চলমান রয়েছে।

বর্তমান সরকার ময়মনসিংহের উন্নয়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, বলেছেন মসিক প্রশাসক রুকুনোজ্জামান রোকন। তিনি বলেন, বিভাগীয় স্টেডিয়াম এবং বিকেএসপি ছাড়াও ময়মনসিংহে পার্ক ও নিরাময় কেন্দ্র স্থাপন করা হবে। এতে প্রতিষ্ঠানিক উন্নয়নের মাধ্যমে অনুন্নত এলাকার উন্নয়ন হবে এবং মানুষের জীবনমানেও ব্যাপক পরিবর্তন আসবে।

এ বিষয়ে সদর আসনের এমপি আবু ওয়াহাব আকন্দ ওয়াহিদ বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের মাধ্যমে ক্রিকেট ও ক্রীড়াঙ্গনের সুতিকাগার হিসেবে পরিচিত ময়মনসিংহের হারানো ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে বিভাগীয় স্টেডিয়াম ও বিকেএসপি স্থাপনের কাজ ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে। স্থান নির্বাচন শেষে দ্রুত এর দৃশ্যমান অগ্রগতি হবে।

তিনি আরো জানান, আন্তর্জাতিক মানের বিভাগীয় স্টেডিয়াম ও বিকেএসপি নির্মাণ হলে এই অঞ্চলের ক্রীড়াঙ্গনের প্রতিভা বিকাশের সুযোগ তৈরি হবে এবং জাতীয় পর্যায়ে খেলাধূলার নতুন দিগন্ত উন্মোচন হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%