০৩:১৬ পি.এম
স্বর্ণপদক লাভ করা ২৩ বছর বয়সী এক মেধাবী তরুণ বি.টেক বা ব্যাচেলর অব টেকনোলজিতে প্রথম শ্রেণিতে প্রথম হয়ে পেয়েছিলেন। কিন্তু এরপর অন্তত ৫০ বার চেষ্টা করেও তিনি একটি সরকারি চাকরি মেলাতে পারেননি। চরম হতাশার ফলে, শেষ পর্যন্ত আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছেন। এটি ঘটেছে ভারতের উত্তর প্রদেশের কানপুরে, তার নিজ বাড়িতে।
রোববার (১৯ জুলাই) টাইমস অব ইন্ডিয়া ও ভারতের একাধিক গণমাধ্যম এ ঘটনা সম্পর্কে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। পুলিশ জানায়, কানপুরের গোবিন্দ নগরের গুজাইনি এলাকায় তিনতলা বাড়ির একটি ঘর থেকে আনন্দের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনার সময় আনন্দের পরিবার বিহারে একজন আত্মীয়ের বিয়ের কথা পাকা করতে গিয়েছিল। বাড়ির গৃহকর্মী এসে দেখেন আনন্দের ঘরের দরজা ভিতর থেকে বন্ধ। দীর্ঘক্ষণ ডাকাডাকির পরও সাড়া না পেয়ে তিনি প্রতিবেশী ও পুলিশকে খবর দেন। পরে পুলিশ এসে দরজা ভেঙে আনন্দের মরদেহ এবং তার হাতে লেখা পাঁচ লাইনের একটি সুইসাইড নোট উদ্ধার করে।
চিরকুটে লেখা ছিল, 'দুঃখিত বাবা, আমি প্রায় ৫০ বার সরকারি চাকরির চেষ্টা করেও সফল হতে পারিনি। দয়া করে আমাকে ক্ষমা করে দিও।' কানপুর পুলিশ আনন্দের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায় এবং শনিবার (১৮ জুলাই) সন্ধ্যায় তার শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়েছে।
আরও পড়ুন: সুদানে স্বর্ণের খোঁজে শ্রমিকেরা জীবন ঝুঁকিতে, খনিতে প্রাণ হারাচ্ছেন
নিহত আনন্দের বাবা, রাজকুমার, একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী। তাদের মূল বাড়ি বিহারের বক্সার এলাকায়। রাজকুমার জানান, আনন্দ ২০২৪ সালে পিএসআইটি নামের একটি বেসরকারি ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ থেকে ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে বি.টেক পরীক্ষায় প্রথম স্থান অর্জন করেন। পুরো উত্তর প্রদেশ রাজ্যে তিনি তৃতীয় হন। গত বছরের ১৩ আগস্ট কলেজের সমাবর্তন অনুষ্ঠানে উত্তর প্রদেশের গভর্নর আনন্দীবেন প্যাটেলের কাছ থেকে স্বর্ণপদক গ্রহণ করেন আনন্দ।
পারিবারিক সূত্র জানায়, স্নাতক শেষ করার পর আনন্দ ভারতের পাওয়ার গ্রিডে শিক্ষানবিশি বা ইন্টার্নশিপ করেছিলেন। এরপর থেকেই তিনি প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে শুরু করেন। আনন্দের বাবা বলেন, 'ও রেল, এসএসসি, ব্যাংক ও শিক্ষা দপ্তরের একের পর এক নিয়োগ পরীক্ষায় বসেছিল। কিন্তু কোথাও চাকরি মেলেনি। এই কারণে গত কয়েক মাস ধরে ও প্রচণ্ড মানসিক চাপের মধ্যে ছিল।'
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন