প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকতে একটি বিরল প্রজাতির মৃত মাছ, যাকে ‘ইউনিকর্ন লেদারজ্যাকেট’ অথবা ‘ফাইলফিশ’ বলা হয়, সম্প্রতি ভেসে এসেছে। স্থানীয়ভাবে মাছটি ‘জ্যাকেট মাছ’ এবং কিছু কিছু অঞ্চলে ‘পটকা মাছ’ নামে পরিচিত।
রোববার, ১৯ জুলাই, শেষ বিকেলের সময় কুয়াকাটার চর গঙ্গামতী সৈকতে আব্দুল জলিল নামের একটি স্থানীয় ব্যক্তি মাছটি দেখতে পান। মাছটির খবর বেশ দ্রুত লোকমুখে ছড়িয়ে পড়ে, এতে স্থানীয় বাসিন্দাদের ও পর্যটকদের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহল তৈরি হয় এবং তারা অনেকেই মাছটি দেখতে সৈকতে ভিড় জমাতে শুরু করেন।
প্রত্যক্ষদর্শী আব্দুল জলিল জানান, বিকালের সময় মোটরসাইকেলে করে চর গঙ্গামতী এলাকায় যাওয়ার পথে তিনি সমুদ্রতীরে বালুর মধ্যে অদ্ভুত আকৃতির মৃত মাছটি পড়েও দেখেন। ধারণা করা হচ্ছে, আগের রাতের জোয়ারের পানিতে মাছটি সৈকতে ভেসে এসে আটকে পড়েছে।
স্থানীয় পর্যটন ও পরিবেশকর্মী কে এম বাচ্চু মন্তব্য করেছেন, সম্ভবত রাতের জোয়ারের পানিতে মাছটি উপকূলে ভেসে এসেছে। আমাদের এই এলাকায় এ ধরনের মাছ আগে কখনো দেখা যায়নি। পরিস্থিতি সত্যিই ব্যতিক্রমী এবং বিস্ময়কর।
বিশেষজ্ঞরা জানান, ফাইলফিশের শরীর বেশ চ্যাপটা এবং তার চামড়া খসখসে ও চামড়ার জ্যাকেটের মতো শক্ত। এজন্য এর নামকরণ ‘লেদারজ্যাকেট’ করা হয়েছে। এর বৈজ্ঞানিক নাম আলুটেরাস মোনোসেরাস। মাছটির মাথার ওপর একটি ছোট এবং পাতলা কাঁটা থাকে। এরা মূলত গভীর সমুদ্রে বাস করে এবং সমুদ্রের তলদেশের শৈবাল, স্পঞ্জ, জেলিফিশ, ছোট ক্রাস্টেশিয়ান, চিংড়ি, শামুক ও অন্যান্য অমেরুদণ্ডী প্রাণী খেয়ে জীবনধারণ করে।
ব্লু অ্যাকশন ফান্ডের অর্থায়নে চলা ডব্লিউসিএস ও ওয়ার্ল্ডফিশের সমন্বয়ে ‘সুস্থ সাগর’ প্রকল্পের গবেষণা সহকারী মো. বখতিয়ার রহমান জানিয়েছেন, এটি ইউনিকর্ন লেদারজ্যাকেট বা ফাইলফিশ। এটি মূলত গভীর সমুদ্রের মাছ হিসেবে পরিচিত। সামুদ্রিক পরিবেশগত পরিবর্তন, ঝড়, সমুদ্রের স্রোতের পরিবর্তন অথবা অসুস্থতার কারণে মাঝে মাঝে এই ধরনের মাছ মৃত অবস্থায় উপকূলে ভেসে আসতে পারে।
কলাপাড়া উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা অপু সাহা জানিয়েছেন, মাছটি ফাইলফিশ প্রজাতির বলে প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হওয়া গেছে। উপকূলে এমন বিরল সামুদ্রিক প্রাণী ভেসে আসলে তা সংরক্ষণ ও পরবর্তীতে গবেষণার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দ্রুত অবহিত করা অত্যন্ত জরুরি।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন