ঢাকা শুক্রবার, ১৬ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ৩১শে আশ্বিন, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ০৫ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শুক্রবার, ১৬ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ৩১শে আশ্বিন, ১৪৩২বাং

নিখোঁজের ২ দিন পর মেঘনা নদী থেকে স্কুলছাত্র দীপুর মরদেহ উদ্ধার


নিখোঁজের ২ দিন পর মেঘনা নদী থেকে স্কুলছাত্র দীপুর মরদেহ উদ্ধার

নরসিংদীর রায়পুরার মামাবাড়িতে বেড়াতে এসে মেঘনা নদীতে গোসল করতে নেমে নিখোঁজ হওয়ার পর দুই দিন পর দীপু সরকার (১৬) নামে এক শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। সোমবার (২০ জুলাই) সকালে, স্থানীয় সময় সকাল ৮টার দিকে উপজেলার মনিপুরা ঘাট সংলগ্ন একটি ইটভাটার পাশ থেকে ওই শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

মৃত দীপু উপজেলার চান্দেকান্দি ইউনিয়নের দাইরেরপাড় এলাকার বাসিন্দা হান্নান সরকারের ছেলে। তিনি স্থানীয় জ্ঞানগৃহ আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলেন।

পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দীপু তার মামাবাড়ি, যা উপজেলার হাইরমারা ইউনিয়নের মামুদপুর গ্রামে অবস্থিত সেখানে বেড়াতে এসেছিল। ঘটনার দিন, শনিবার (১৮ জুলাই) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে, সে তিন জন সমবয়সী কিশোরের সঙ্গে মনিপুরা ঘাটে মেঘনা নদীতে গোসল করতে নেমেছিল।

আরও পড়ুন: কাউখালীতে নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে শুরু হলো শারদীয় দুর্গোৎসব

একপর্যায়ে নদীর প্রবল স্রোতে তলিয়ে গিয়ে সে নিখোঁজ হয়ে যায়। এরপর, সঙ্গে থাকা অন্য কিশোররা ঘটনা জানালে স্থানীয় লোকজনকে জানায়। পরে ফায়ার সার্ভিসে খবর দেওয়া হয়। কিশোরগঞ্জের ভৈরব ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল বেলা ৩টা থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা পর্যন্ত উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করে।

দীর্ঘ সময় তল্লাশি চালানোর পরেও দীপুর সন্ধান না পাওয়ায় অভিযান সমাপ্ত ঘোষণা করে উদ্ধারকারীরা ফিরে যান।

এরপর, সোমবার সকালে স্থানীয় মৎস্যজীবীরা মনিপুরা ঘাট সংলগ্ন একটি ইটভাটার পাশে একটি মরদেহ ভাসতে দেখে, স্বজনদের খবর দেন। খবর পেয়ে, স্বজনরা ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি দীপু সরকারের বলে শনাক্ত করেন।

নিহত দীপু সরকারের বাবা হান্নান সরকার কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘এভাবে আমাদের ছেড়ে দীপু চলে যাবে, কখনো ভাবিনি। আমার ছেলেকে নিয়ে অনেক স্বপ্ন ছিল। কিন্তু একটি দুর্ঘটনায় আজ সব স্বপ্ন শেষ হয়ে গেল।’

আরও পড়ুন: দুর্গাপূজার নিরাপত্তায় শেরপুর-ময়মনসিংহ সীমান্তে ১২ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন,

রায়পুরা থানার ওসি মজিবুর রহমান জানিয়েছেন, দীপু সরকার নামের ওই শিক্ষার্থী মামার বাড়িতে বেড়াতে এসে মেঘনা নদীতে গোসল করতে নেমেই নিখোঁজ হয়ে যায়। নিখোঁজ হওয়ার দুই দিন পর সোমবার সকালে নদীর তীরে তার মরদেহ ভেসে ওঠে। খবর পেয়ে স্বজনরা ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি শনাক্ত করেন এবং পরে মরদেহটি বাড়িতে নিয়ে যান।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সৈকতে ভেসে উঠল বিরল ‘ইউনিকর্ন লেদারজ্যাকেট’ মাছ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ২০ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৩:২৫ পি.এম


সৈকতে ভেসে উঠল বিরল ‘ইউনিকর্ন লেদারজ্যাকেট’ মাছ

পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকতে একটি বিরল প্রজাতির মৃত মাছ, যাকে ‘ইউনিকর্ন লেদারজ্যাকেট’ অথবা ‘ফাইলফিশ’ বলা হয়, সম্প্রতি ভেসে এসেছে। স্থানীয়ভাবে মাছটি ‘জ্যাকেট মাছ’ এবং কিছু কিছু অঞ্চলে ‘পটকা মাছ’ নামে পরিচিত।

রোববার, ১৯ জুলাই, শেষ বিকেলের সময় কুয়াকাটার চর গঙ্গামতী সৈকতে আব্দুল জলিল নামের একটি স্থানীয় ব্যক্তি মাছটি দেখতে পান। মাছটির খবর বেশ দ্রুত লোকমুখে ছড়িয়ে পড়ে, এতে স্থানীয় বাসিন্দাদের ও পর্যটকদের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহল তৈরি হয় এবং তারা অনেকেই মাছটি দেখতে সৈকতে ভিড় জমাতে শুরু করেন।

প্রত্যক্ষদর্শী আব্দুল জলিল জানান, বিকালের সময় মোটরসাইকেলে করে চর গঙ্গামতী এলাকায় যাওয়ার পথে তিনি সমুদ্রতীরে বালুর মধ্যে অদ্ভুত আকৃতির মৃত মাছটি পড়েও দেখেন। ধারণা করা হচ্ছে, আগের রাতের জোয়ারের পানিতে মাছটি সৈকতে ভেসে এসে আটকে পড়েছে।

স্থানীয় পর্যটন ও পরিবেশকর্মী কে এম বাচ্চু মন্তব্য করেছেন, সম্ভবত রাতের জোয়ারের পানিতে মাছটি উপকূলে ভেসে এসেছে। আমাদের এই এলাকায় এ ধরনের মাছ আগে কখনো দেখা যায়নি। পরিস্থিতি সত্যিই ব্যতিক্রমী এবং বিস্ময়কর।

বিশেষজ্ঞরা জানান, ফাইলফিশের শরীর বেশ চ্যাপটা এবং তার চামড়া খসখসে ও চামড়ার জ্যাকেটের মতো শক্ত। এজন্য এর নামকরণ ‘লেদারজ্যাকেট’ করা হয়েছে। এর বৈজ্ঞানিক নাম আলুটেরাস মোনোসেরাস। মাছটির মাথার ওপর একটি ছোট এবং পাতলা কাঁটা থাকে। এরা মূলত গভীর সমুদ্রে বাস করে এবং সমুদ্রের তলদেশের শৈবাল, স্পঞ্জ, জেলিফিশ, ছোট ক্রাস্টেশিয়ান, চিংড়ি, শামুক ও অন্যান্য অমেরুদণ্ডী প্রাণী খেয়ে জীবনধারণ করে।

ব্লু অ্যাকশন ফান্ডের অর্থায়নে চলা ডব্লিউসিএস ও ওয়ার্ল্ডফিশের সমন্বয়ে ‘সুস্থ সাগর’ প্রকল্পের গবেষণা সহকারী মো. বখতিয়ার রহমান জানিয়েছেন, এটি ইউনিকর্ন লেদারজ্যাকেট বা ফাইলফিশ। এটি মূলত গভীর সমুদ্রের মাছ হিসেবে পরিচিত। সামুদ্রিক পরিবেশগত পরিবর্তন, ঝড়, সমুদ্রের স্রোতের পরিবর্তন অথবা অসুস্থতার কারণে মাঝে মাঝে এই ধরনের মাছ মৃত অবস্থায় উপকূলে ভেসে আসতে পারে।

কলাপাড়া উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা অপু সাহা জানিয়েছেন, মাছটি ফাইলফিশ প্রজাতির বলে প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হওয়া গেছে। উপকূলে এমন বিরল সামুদ্রিক প্রাণী ভেসে আসলে তা সংরক্ষণ ও পরবর্তীতে গবেষণার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দ্রুত অবহিত করা অত্যন্ত জরুরি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

হত্যাচেষ্টার মামলায় সাবেক এমপি জ্যাকব গ্রেপ্তার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

সোমবার, ২০ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৩:২৯ পি.এম


হত্যাচেষ্টার মামলায় সাবেক এমপি জ্যাকব গ্রেপ্তার

সাবেক সংসদ সদস্য মো. আব্দুল্লাহ আল ইসলাম জ্যাকবকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। এই ঘটনা ঘটেছে জুলাই আন্দোলনের সময়। রাজধানীর মিরপুর মডেল থানা এলাকায় মো. রিফাত হোসেনকে হত্যাচেষ্টার মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সোমবার (২০ জুলাই) পুলিশ আদালতের কাছে এই আবেদন জমা দেয়।

ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলামের আদালত আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এই আদেশ দেন। মামলা তদন্তকারী কর্মকর্তা মিরপুর মডেল থানার উপপরিদর্শক মো. আশরাফুৎদৌলা আসামিকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন। ওই আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনে আওয়ামীলীগের ক্যাডাররা হঠাৎ হামলা চালায় এবং এলোপাতাড়ি গুলিবর্ষণ করে।

এতে বাদী মো. রিফাত হোসেনের ডান পায়ের হাঁটুর ওপরে গুলি লাগে। আসামি আব্দুল্লাহ আল ইসলাম জ্যাকব ভোলা-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য এবং তিনি আওয়ামী লীগের সক্রিয় সদস্য।

মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে তাকে গ্রেপ্তার করা একান্ত প্রয়োজন। বিচারক তার গ্রেপ্তার হওয়ার বিষয়ে আদেশ প্রদান করেন। মামলার অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট, সকাল থেকে মো. রিফাত হোসেন মিরপুর-১০ নম্বর সেকশনে মিরপুর গার্লস আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের সামনে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে অংশ নেন।

দুপুর আনুমানিক ২টার দিকে আসামিদের নির্দেশে ৩০ থেকে ৪০ জন ব্যক্তি অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র, দেশীয় অস্ত্র ও লাঠিসোঁটা নিয়ে আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা চালায় এবং এলোপাতাড়ি গুলি চালানো হয়।

এতে মো. রিফাত হোসেনের ডান পায়ের হাঁটুর ওপরে গুলিবিদ্ধ হন। অভিযোগে আরো বলা হয়েছে, গুলিবিদ্ধ হয়ে মাটিতে পড়ে গেলে হামলাকারীরা রিফাতকে লাথি, কিল-ঘুষি ও দেশীয় অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে হত্যার চেষ্টা করা হয়। পরে আন্দোলনকারীরা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালে এবং তারপর কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে তিনি প্রায় এক মাস চিকিৎসাধীন ছিলেন এবং অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তার পা থেকে গুলি অপসারণ করা হয়।

এদিকে রাজধানীর ভাটারা থানার আরেকটি পৃথক হত্যাচেষ্টা মামলায়ও জ্যাকবকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেছেন পুলিশ। তবে ওই আবেদনের বিষয়ে আদালত আদেশ অপেক্ষমাণ রেখেছেন। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ১ অক্টোবর ঢাকার গুলশান এলাকা থেকে জ্যাকবকে গ্রেপ্তার করে ডিবি পুলিশ এবং তারপর থেকে তিনি কারাগারে রয়েছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ঢাবির সামাজিক ও জীববিজ্ঞান অনুষদে নতুন ভারপ্রাপ্ত ডিন নিয়োগ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ২০ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৩:৩১ পি.এম


ঢাবির সামাজিক ও জীববিজ্ঞান অনুষদে নতুন ভারপ্রাপ্ত ডিন নিয়োগ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) সামাজিক বিজ্ঞান ও জীববিজ্ঞান অনুষদে নতুন ভারপ্রাপ্ত ডিন নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। সোমবার (২০ জুলাই) বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার মুনশী শামস উদ্দিন আহম্মদ সই করা পৃথক দুটি বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই নিয়োগের আদেশ জারি করা হয়।

সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের নতুন ভারপ্রাপ্ত ডিন হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন পপুলেশন সায়েন্সেস বিভাগের অধ্যাপক মো. মেহেদী হাসান খান।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, এই অনুষদের বর্তমান ভারপ্রাপ্ত ডিন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মঈনুল ইসলামের ৯০ দিনের মেয়াদ ২০ জুলাই শেষ হচ্ছে। তাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বিশ্ববিদ্যালয় আদেশ, ১৯৭৩-এর ১ম সংবিধির ১৭(২) ধারা অনুযায়ী ২১ জুলাই থেকে অনধিক ৯০ দিন অথবা নির্বাচিত ডিন কাজে যোগদান না করা পর্যন্ত অধ্যাপক মেহেদী হাসান খানকে ভারপ্রাপ্ত ডিনের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে, জীববিজ্ঞান অনুষদের নতুন ভারপ্রাপ্ত ডিন হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আবদুল করিম।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, এই অনুষদের বর্তমান ভারপ্রাপ্ত ডিন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ নাজমুল আহসানের ৯০ দিনের মেয়াদ ২০ জুলাই শেষ হচ্ছে বিধায় উপাচার্য এই নিয়োগ দিয়েছেন। ২১ জুলাই থেকে অনধিক ৯০ দিন বা নির্বাচিত ডিন কাজে যোগদান না করা পর্যন্ত অধ্যাপক আবদুল করিম এই অনুষদের ভারপ্রাপ্ত ডিন হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইরানের চোরাবালিতে পা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, যার একমাত্র পরিণতি ধ্বংস!

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

এম এ সাঈদ

সোমবার, ২০ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৩:৩৩ পি.এম


ইরানের চোরাবালিতে পা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, যার একমাত্র পরিণতি ধ্বংস!

২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬—এই দিনটিকে অনেকেই মধ্যপ্রাচ্যের নতুন এক অগ্নিপর্বের সূচনা হিসেবে দেখছেন। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ সামরিক অভিযানের মাধ্যমে যে সংঘাতের সূচনা হয়েছিল, তা খুব দ্রুতই একটি সীমিত সামরিক অভিযানের গণ্ডি পেরিয়ে দীর্ঘস্থায়ী, ব্যয়বহুল এবং অনিশ্চিত সংঘাতে রূপ নেয়। যে যুদ্ধকে কয়েক দিনের শক্তি প্রদর্শনের মাধ্যমে শেষ করার হিসাব কষা হয়েছিল, সেই যুদ্ধই আজ যুক্তরাষ্ট্রের জন্য এক গভীর কৌশলগত চোরাবালিতে পরিণত হয়েছে।

কারণ যুদ্ধ বিরতি লংঘন করে সম্প্রতি আবারো ইরানে হামলার পরিপ্রেক্ষিতে ইরানের ভয়াবহ ও স্মরনকালের মরণঘাতি বিধ্বংসী হামলায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর সদস্যদের মৃত্যু, সর্বাধুনিক প্রযুক্তির অনেক যুদ্ধবিমান, কোটি কোটি ডলার মূল্যের ড্রোন, সামরিক স্থাপনা, মাঝ আকাশে যুদ্ধবিমানকে তেল সরবরাহকারী রিফুয়েলিং ট্যাংকার, এমনকি মধ্যপ্রাচ্যে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটিগুলোকে ধুলোয় মিশিয়ে দিয়ে ইরান প্রমাণ করছে - মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তাদের চোরাবালিতে পা দিয়েছে, যার পরিণতি -" যুক্তরাষ্ট্র যত বেশি শক্তি প্রয়োগ করবে ততই তারা ইরানের পাল্টা আরো বিধ্বংসী ও ভয়াবহ হামলায় ধ্বংস ছাড়া আর কিছুই দেখবে না"-এখান থেকে যত দ্রুত সরে যাওয়া যায় ততই যুক্তরাষ্ট্রের জন্য মঙ্গল।

ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়—মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরু করা সহজ, কিন্তু সেই যুদ্ধ থেকে সম্মান নিয়ে বেরিয়ে আসা অত্যন্ত কঠিন। ভিয়েতনাম, আফগানিস্তান ও ইরাক—প্রতিটি অধ্যায় একই শিক্ষা দেয়। কিন্তু মনে হচ্ছে, ওয়াশিংটন সেই ইতিহাস থেকে শিক্ষা নেওয়ার পরিবর্তে আবারও শক্তির অহংকারে এমন এক পথে হাঁটছে, যেখানে প্রতিটি পদক্ষেপ তাকে আরও গভীরে টেনে নিচ্ছে।

ইরানকে সামরিকভাবে দুর্বল করে দ্রুত আত্মসমর্পণে বাধ্য করার যে কৌশল নেওয়া হয়েছিল, বাস্তবতা তার সম্পূর্ণ বিপরীত চিত্র তুলে ধরেছে। ধারাবাহিক পাল্টা হামলা, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবহারের সক্ষমতা এবং দীর্ঘমেয়াদি প্রতিরোধের প্রস্তুতি—সব মিলিয়ে ইরান এমন একটি বার্তা দিয়েছে যে, এই যুদ্ধ আর একতরফা নয়। বরং প্রতিটি হামলার জবাবে পাল্টা আঘাতের নতুন সমীকরণ তৈরি হয়েছে।

বিশ্ব রাজনীতিতে যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরে নিজেকে এমন এক শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে, যার সামরিক উপস্থিতিই অনেক ক্ষেত্রে প্রতিপক্ষকে নতি স্বীকারে বাধ্য করে। কিন্তু বর্তমান সংঘাত সেই ধারণাকে কঠিন পরীক্ষার মুখে দাঁড় করিয়েছে। যখন একটি রাষ্ট্র ধারাবাহিকভাবে পাল্টা প্রতিরোধ গড়ে তুলতে সক্ষম হয় এবং সংঘাত দীর্ঘায়িত করতে পারে, তখন শুধু যুদ্ধক্ষেত্রেই নয়, আন্তর্জাতিক কূটনীতির টেবিলেও শক্তির ভারসাম্য বদলাতে শুরু করে।

আজ প্রশ্ন উঠছে—এই যুদ্ধের প্রকৃত লাভ কার? যুদ্ধ যত দীর্ঘ হচ্ছে, ততই বাড়ছে অর্থনৈতিক ব্যয়, জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ, আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতা এবং বৈশ্বিক রাজনৈতিক মেরুকরণ। যে সংঘাতকে দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনার পরিকল্পনা ছিল, সেটিই এখন বহুস্তরীয় কৌশলগত সংকটে রূপ নিয়েছে।

বিশ্বে পরাশক্তির মর্যাদা শুধু অস্ত্রের শক্তিতে প্রতিষ্ঠিত হয় না; তা নির্ভর করে সিদ্ধান্তের প্রজ্ঞা, কূটনৈতিক বিচক্ষণতা এবং সংঘাত নিয়ন্ত্রণের সক্ষমতার ওপর। যদি একটি যুদ্ধ ক্রমাগত দীর্ঘ হয়, ব্যয় বাড়তে থাকে এবং কাঙ্ক্ষিত রাজনৈতিক লক্ষ্য অর্জিত না হয়, তবে সেই যুদ্ধ শেষ পর্যন্ত সামরিক শক্তির নয়, কৌশলগত ব্যর্থতার প্রতীক হয়ে দাঁড়ায়।
এই সংঘাতের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো মানসিক যুদ্ধ। বহু দশক ধরে যুক্তরাষ্ট্রকে এমন এক অপ্রতিরোধ্য শক্তি হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে, যার সামরিক ক্ষমতা প্রশ্নাতীত। কিন্তু দীর্ঘায়িত প্রতিরোধ, পাল্টা আঘাত এবং সংঘাতের বিস্তার সেই ভাবমূর্তিকে নতুন করে মূল্যায়নের সুযোগ সৃষ্টি করেছে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে শক্তির ধারণা কখনো স্থির নয়; বাস্তবতার পরীক্ষায় তা প্রতিনিয়ত পরিবর্তিত হয়।

মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতি কখনো সরল সমীকরণে পরিচালিত হয় না। এখানে প্রতিটি হামলার প্রতিক্রিয়া আছে, প্রতিটি কৌশলের পাল্টা কৌশল আছে এবং প্রতিটি সামরিক সিদ্ধান্তের দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক মূল্য রয়েছে। এই বাস্তবতা উপেক্ষা করে কোনো শক্তিই স্থায়ী সাফল্য অর্জন করতে পারেনি।
যুদ্ধের ময়দানে বিজয়ের দাবি করা সহজ, কিন্তু ইতিহাস শেষ পর্যন্ত বিচার করে—কে কতটা মূল্য দিয়েছে এবং কী অর্জন করেছে। যদি সংঘাতের মূল্য ক্রমাগত বাড়তে থাকে, আন্তর্জাতিক প্রভাব কমতে থাকে এবং কৌশলগত লক্ষ্য অধরাই থেকে যায়, তবে সেই যুদ্ধ বিজয়ের নয়, আত্মক্ষয়ের ইতিহাস হয়ে ওঠে।

সময়ই বলে দেবে এই সংঘাতের চূড়ান্ত পরিণতি কী হবে। তবে একটি বিষয় স্পষ্ট—যে যুদ্ধকে সহজ ভেবেছিল অনেকেই, সেটি আজ মধ্যপ্রাচ্যের বালুকণার মতোই অনিশ্চিত, অস্থির এবং বিপজ্জনক। আর চোরাবালির সবচেয়ে নির্মম বৈশিষ্ট্য হলো—যত বেশি শক্তি প্রয়োগ করে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করা হয়, তত দ্রুতই আরও গভীরে তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয় যা যুক্তরাষ্ট্রের সাময়িক নীতি নির্ধারকেরা ইরানের গত কয়েকদিনে মহাপ্রলয়ের ধ্বংসলীলা ঘটানো হামলার মাধ্যমে টের পেয়েছে।

কাজেই যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যের সিংহ খ্যাত ইরানের এই চোরাবালি থেকে যত দ্রুতই সরে পড়তে পারে তত-ই বাঁচবে কিংবা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জন্য মঙ্গল হবে, অন্যথায় হয়তো ইরানই হবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ধ্বংসের তথা বিশ্ব পরাশক্তি হিসেবে বিশ্বে আধিপত্য বিস্তারকারী মার্কিন মোড়লগিরির চূড়ান্ত পতন - এমন কথা আজকের দিনে বলা মনে হয় অমূলক হবে না।
লেখকঃ সাংবাদিক, রাজনৈতিক ও সামরিক বিশ্লেষক ও কলামিস্ট। 

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৫ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪১
জোহর ১১:৪৫
আসর ০৩:৫৪
মাগরিব ০৫:৩২
ইশা ০৬:৪৩
সূর্যোদয় : ০৫:৫৬ সূর্যাস্ত : ০৫:৩২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%