০৮:৫৭ পি.এম
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া রাজ্যে একটি বাড়ি ক্রয় করতে যে পরিমাণ অর্থ অগ্রীম বা ডাউন পেমেন্ট দিতে হয়, ঠিক সেই মূল্যেই ওয়েস্ট ভার্জিনিয়ার কিছু এলাকায় পুরো বাড়ি কেনা সম্ভব। তবে বাড়িটির অবস্থান, আকার ও অবস্থা অনুযায়ী দামের মধ্যে পরিবর্তন হতে পারে।
জিলোর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত ক্যালিফোর্নিয়ায় একটি বাড়ির গড় মূল্য রয়েছে ৭ লাখ ৭৫ হাজার ৫৪৯ ডলার। অন্যদিকে, মে মাসে রাজ্যটির মিডিয়ান বিক্রয়মূল্য ছিল ৭ লাখ ৫১ হাজার ৬৬৭ ডলার।
যদি কেউ ২০ শতাংশ ডাউন পেমেন্ট দিয়ে একটি বাড়ি কিনতে চান, তবে শুরুতেই দিতে হবে প্রায় ১ লাখ ৫৫ হাজার ১১০ ডলার। এই মূল্যের বাইরে হতে পারে ক্লোজিং কস্ট, হোম ইন্স্যুরেন্স, প্রপার্টি ট্যাক্স এবং মর্টগেজের অন্যান্য খরচ।
আরও পড়ুন: চোরাচালানের অভিযোগে দিলীপ আগরওয়ালার ৩ দিনের রিমান্ড চায় সিআইডি
এটি উল্লেখযোগ্য যে, ২০ শতাংশ ডাউন পেমেন্ট যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ি ক্রয়ের জন্য বাধ্যতামূলক নয়। ক্রেতার লোন প্রোগ্রাম, ক্রেডিট প্রোফাইল ও অন্যান্য শর্তের ভিত্তিতে, এর চেয়ে কম ডাউন পেমেন্টে বাড়ি কেনা সম্ভব। ২০ শতাংশ ডাউন পেমেন্ট দেওয়ার একটি সুবিধা হল, প্রচলিত অনেক মর্টগেজের প্রাইভেট মর্টগেজ ইন্স্যুরেন্স এড়িয়ে চলা সম্ভব।
ক্যালিফোর্নিয়া ও ওয়েস্ট ভার্জিনিয়ার মধ্যে দামের পার্থক্য অনেক বিশাল। জিলোর তথ্য অনুযায়ী, ওয়েস্ট ভার্জিনিয়ায় একটি বাড়ির গড় মূল্য প্রায় ১ লাখ ৮২ হাজার ৭০৪ ডলার। অর্থাৎ ক্যালিফোর্নিয়ার গড় বাড়ির মূল্য ছাড়ার পর ওয়েস্ট ভার্জিনিয়ার গড় দাম বাড়ির মূল্যের সঙ্গে পার্থক্য প্রায় ২৭ হাজার ৬০০ ডলার।
তবে ওয়েস্ট ভার্জিনিয়ার কিছু অঞ্চলে বাড়ির সাধারণ দাম এর চেয়েও কম। জুনে সাটন শহরে সাধারণ বাড়ির মূল্য ছিল ১ লাখ ৪২ হাজার ৮৮২ ডলার, ফ্ল্যাটউডসে ১ লাখ ৪৭ হাজার ৬৫৬ ডলার এবং গ্যাসাওয়েতে ১ লাখ ৩৬ হাজার ৪৬৬ ডলার। ফলে ক্যালিফোর্নিয়ার গড় বাড়ির ২০ শতাংশ ডাউন পেমেন্টের সমপরিমাণ অর্থে ওয়েস্ট ভার্জিনিয়ার কিছু জায়গায় পুরো বাড়ি কেনা সম্ভব হতে পারে।
তবে, ওয়েস্ট ভার্জিনিয়ার সব বাড়ি ১ লাখ ৫০ হাজার ডলারের মধ্যে পাওয়া যাবে এমন ধারণা সঠিক নয়। জিলোর মতে, ২০২৬ সালের মে মাসে রাজ্যটির মিডিয়ান বিক্রয়মূল্য ছিল ২ লাখ ২১ হাজার ১৬৭ ডলার এবং জুনে মিডিয়ান লিস্টিং প্রাইস ছিল ২ লাখ ৪৯ হাজার ৬০০ ডলার। তাই, একটি অর্থনৈতিকভাবে কমদামি বাড়ির উদাহরণকে পুরো রাজ্যের বাজারদর হিসেবে গণ্য করা ঠিক হবে না।
আরও পড়ুন: নেশার টাকা না পেয়ে মাকে জবাই করে হত্যা, উদ্দিন সরদার আটক
অন্যদিকে, ওয়েস্ট ভার্জিনিয়ার একটি সুবিধা হল এখানে প্রপার্টি ট্যাক্স তুলনামূলকভাবে কম। ট্যাক্স ফাউন্ডেশনের ২০২৬ সালের তথ্য অনুযায়ী, মালিকের নিজের বসবাসের বাড়ির মূল্যের ওপর রাজ্যটির কার্যকর প্রপার্টি ট্যাক্স রেট গড়ে প্রায় শূন্য দশমিক ৫১ শতাংশ।
বাজারে ক্রেতাদের জন্য বাড়ির সংখ্যা উল্লেখযোগ্য, জিলোর হিসাব অনুযায়ী, জুনের শেষে ওয়েস্ট ভার্জিনিয়ায় বিক্রির জন্য ৫ হাজার ১৯৮টি বাড়ি ছিল এবং ওই মাসে নতুন করে আরো ১ হাজার ৭৪৯টি বাড়ি বাজারে এসেছে। মে মাসে ৫৭ দশমিক ৮ শতাংশ বাড়ি লিস্টিং প্রাইসের নিচে বিক্রি হয়েছে।
কিন্তু ক্যালিফোর্নিয়া থেকে ওয়েস্ট ভার্জিনিয়ায় যাওয়ার সময় শুধুমাত্র বাড়ির দাম বিবেচনা করলেই চলবে না। চাকরির সুযোগ, আয়, স্কুল ডিস্ট্রিক্ট, স্বাস্থ্যসেবা, যাতায়াত, হোম ইন্স্যুরেন্স, বাড়ির রক্ষণাবেক্ষণ এবং ভবিষ্যতে বাড়িটি বিক্রির সম্ভাবনা হিসাব করা উচিত। বিশেষ করে কমদামি পুরোনো বাড়ির ক্ষেত্রে মেরামতের খরচ উল্লেখযোগ্য হতে পারে।
একই কারণে ক্যালিফোর্নিয়ায় মাসে ৩ হাজার ৫০০ ডলার এবং ওয়েস্ট ভার্জিনিয়ায় ৮০০ থেকে ৯০০ ডলার খরচ হওয়া এমন একটি তুলনা সবার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। মর্টগেজের পরিমাণ, ডাউন পেমেন্ট, সুদের হার, প্রপার্টি ট্যাক্স এবং ইন্স্যুরেন্সের ওপর মাসিক খরচ নির্ভর করে।
আরও পড়ুন: নগরকান্দায় ২০ নারীকে সেলাই প্রশিক্ষণ দিচ্ছে বসুন্ধরা শুভসংঘ, শেষে পাবেন মেশিন
এবং ক্যালিফোর্নিয়া ও নিউইয়র্ক থেকে “হাজার হাজার বাংলাদেশি পরিবার” ওয়েস্ট ভার্জিনিয়ায় চলে যাচ্ছে, এমন দাবির পক্ষে নির্ভরযোগ্য সরকারি পরিসংখ্যান পাওয়া যায় না। বরং ইউএস সেনসাস ব্যুরোর হিসাব অনুযায়ী, ২০২৪ সালের জুলাই থেকে ২০২৫ সালের জুলাই পর্যন্ত ওয়েস্ট ভার্জিনিয়ার মোট জনসংখ্যা কমেছে।
অতএব, বাড়ির দামের বিশাল ব্যবধান একটি বিষয় পরিষ্কার করে। ক্যালিফোর্নিয়ায় বাড়ির মালিক হতে যে অর্থ শুধু ডাউন পেমেন্টে চলে যেতে পারে, ওয়েস্ট ভার্জিনিয়ার কিছু শহর ও ছোট কমিউনিটিতে সেই বাজেটেই মর্টগেজ ছাড়া একটি বাড়ি কেনার সুযোগ পাওয়া যেতে পারে। তবে কোথায় বসবাস করবেন, সেই সিদ্ধান্তে বাড়ির দাম যতটা গুরুত্বপূর্ণ, চাকরি, জীবনযাত্রা ও দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক হিসাবও ঠিক ততটাই গুরুত্বপূর্ণ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন