প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
শনিবার (১৮ জুলাই) সকালে, তারা নদীতে নৌকা চলাচল বন্ধ করে কেরানীগঞ্জের কালীগঞ্জ গুদারাঘাট এলাকায় অবস্থান ধর্মঘট ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন।
এ সময় নৌকা মাঝিরা দ্রুত সিমসন ঘাট ফের চালুর পাশাপাশি সদরঘাট টার্মিনালের ৪ ও ৫ নম্বর পল্টন অপসারণের দাবি জানান। তাদের অভিযোগ, সিমসন ঘাট বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর থেকে যাত্রী পারাপার কমে গেছে। ঘাটটি সরিয়ে নেওয়ার কারণে কেরানীগঞ্জের গার্মেন্টস পল্লিতে পাইকারদের যাতায়াতও কমেছে। ফলে ব্যবসায়ীরা যেমন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন, তেমনি ক্ষতির মুখে পড়েছেন মাঝিরাও।
আন্দোলনরত মাঝিরা জানান, এই সিমসন ঘাটটি প্রায় ২০০ বছরের পুরনো এবং বুড়িগঙ্গা নদীতে খেয়া পারাপারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ঘাট। এই ঘাট ব্যবহারের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন এলাকার পাইকাররা সহজেই কেরানীগঞ্জের গার্মেন্টস পল্লিতে যাতায়াত করতেন। বর্তমানে যখন ঘাটটি বন্ধ রয়েছে, তখন তাদের ওয়াইজঘাট হয়ে ঘুরে আসতে হচ্ছে। অতিরিক্ত পথ অতিক্রম করতে হওয়ায় অনেক পাইকার আর আগ্রহী হচ্ছেন না।
একই সঙ্গে মাঝিদেরও এখন বেশি দূর নৌকা চালিয়ে যাত্রী পারাপার করতে হচ্ছে। এতে তাদের শ্রম ও সময় উভয়ই বেশি ব্যয় হচ্ছে।
দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা ঘাট মাঝি শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন কিসলু অভিযোগ করেন, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় তৎকালীন নৌপরিবহনমন্ত্রী শাহজাহান খান এবং বিআইডব্লিউটিএর কয়েকজন কর্মকর্তা সদরঘাটের লঞ্চ মালিকদের সঙ্গে অনৈতিক সমঝোতার মাধ্যমে একতরফাভাবে সিমসন ঘাট বন্ধ করে দেন। তার দাবি, এই সিদ্ধান্তের ফলস্বরূপ মাঝিদের জীবিকা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং স্থানীয় ব্যবসায়ীরাও আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০০৮ সালে তৎকালীন সরকারের সময়ে হঠাৎ করেই সিমসন ঘাট বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। সে সময় ব্যবসায়ী ও মাঝিদের আন্দোলনের মুখে ঘাটটি পুনরায় চালু করা হয়।
পরবর্তীতে ২০২০ সালে ফের বিআইডব্লিউটিএর কিছু কর্মকর্তার বিরুদ্ধে লঞ্চ মালিকদের সুবিধা দিতে ঘাটটি বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। সেখানে লঞ্চ রাখার জন্য পল্টন স্থাপন করা হয়। এর ফলে কালীগঞ্জ এলাকার ব্যবসা-বাণিজ্যে স্থবিরতা নেমে আসে এবং নদীতে মাঝিদের নৌকা পারাপারে যাত্রীও কমে যায় বলেও স্থানীয়রা জানান।
উল্লেখ্য, এর আগে গত বুধবার একই দাবিতে কেরানীগঞ্জ গার্মেন্টস পল্লির ব্যবসায়ীরাও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছিলেন। আন্দোলনকারীরা দ্রুত সিমসন ঘাট পুনরায় চালুর জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন