০৯:০৪ এম
আকাশের দিকে তাকালে অসংখ্য তারা দেখা যায়। কিন্তু সেখানকার বিশালত্বে অসংখ্য পাথুরে বস্তু ঘুরে বেড়াচ্ছে, যেগুলোর মধ্যে যে কোন একটি যদি পৃথিবীর দিকে ছুটে আসে, তাহলে বড় ধরনের বিপর্যয় ঘটার সম্ভাবনা রয়েছে। এই মহাজাগতিক বস্তুগুলোকে গ্রহাণু বলা হয়। প্রতिवৎসর ৩০ জুন পালিত হয় আন্তর্জাতিক গ্রহাণু দিবস, যার উদ্দেশ্য হলো গ্রহাণু সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে সচেতন করা, সম্ভাব্য ঝুঁকি জানানো এবং পৃথিবীকে সুরক্ষিত রাখতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার গুরুত্ব তুলে ধরা।
কেন ৩০ জুন এই দিবস হিসেবে নির্বাচিত? ১৯০৮ সালের ৩০ জুন রাশিয়ার সাইবেরিয়ার তুংগুস্কা অঞ্চলে একটি বিশাল মহাজাগতিক বস্তু বিস্ফোরিত হয়, যেটি ইতিহাসে পৃথিবীতে আঘাত হানা সবচেয়ে বড় গ্রহাণু-সম্পর্কিত ঘটনা। এই বিস্ফোরণের শক্তি প্রায় দুই হাজার বর্গকিলোমিটার এর দুর্গ প্রাকৃতিক সম্পদের সঙ্গে ৮ কোটির বেশি গাছ ধ্বংস করে ফেলেছিল। সেই ঘটনার স্মরণে দিনটি আন্তর্জাতিক গ্রহাণু দিবস হিসেবে পালন করা হয়।
গ্রহাণু কী? এটি হলো সূর্যকে কেন্দ্র করে ঘুরতে থাকা পাথুরে বা ধাতব মহাজাগতিক বস্তু। অধিকাংশ গ্রহাণু মঙ্গল ও বৃহস্পতির মাঝের গ্রহাণু বলয়ে অবস্থান করছে, কিন্তু কিছু গ্রহাণু এমন কক্ষপথে চলে আসে, যা পৃথিবীর কাছাকাছি পৌঁছে যায়। এই গ্রহাণুগুলোকে পৃথিবীর নিকটবর্তী গ্রহাণু বলা হয়।
আরও পড়ুন: ওয়াশিংটনে হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের স্মরণে সাগ্নিক সেনের বিশেষ সঙ্গীতানুষ্ঠান
সমস্ত গ্রহাণুই বিপজ্জনক নয়। যেহেতু বড় আকারের কোনও গ্রহাণু পৃথিবীতে আঘাত করলে তা ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ সৃষ্টির সম্ভাবনা নিয়ে আসে। বিজ্ঞানীদের মতে, গ্রহাণুর আঘাতের মাধ্যমে প্রায় ৬ কোটি ৬০ লাখ বছর আগে অধিকাংশ ডাইনোসর বিলুপ্ত হয়েছিল। এই ঘটনার ফলে পৃথিবীর জলবায়ু পরিবর্তিত হয়েছে এবং অনেক প্রাণী ও উদ্ভিদের অস্তিত্ব নিঃশেষ হয়ে যায়।
বর্তমানে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মহাকাশ সংস্থা নিয়মিতভাবে আকাশ পর্যবেক্ষণ করছে। তারা শক্তিশালী দূরবীন ও আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে পৃথিবীর কাছে আসা গ্রহাণুগুলো শনাক্ত করছে। গ্রহাণুগুলো ভবিষ্যতে পৃথিবীর জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে কি না সেটিও নিয়মিতভাবে বিশ্লেষণ করা হচ্ছে।
বিজ্ঞানীরা শুধু শনাক্ত করেই থেমে নেই; গ্রহাণুর গতিপথ পরিবর্তনের প্রযুক্তিও পরীক্ষাধীন রয়েছে। কয়েক বছর আগে একটি মহাকাশযানের সাহায্যে সফলভাবে একটি গ্রহাণুর গতিপথ সামান্য পরিবর্তন করে দেখানো হয়েছে, যা ভবিষ্যতে পৃথিবী রক্ষার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে সক্ষম হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বড় ধরনের গ্রহাণুর আঘাতের ঘটনা খুবই বিরল। তবে, আগাম প্রস্তুতি ও বৈজ্ঞানিক গবেষণা চালিয়ে যাওয়া অত্যন্ত জরুরি। মহাকাশ থেকে আগত যে কোন সম্ভাব্য হুমকি মোকাবেলার জন্য পরিকল্পনা রাখলে ক্ষয়ক্ষতি অনেকটা কমানো সম্ভব। আন্তর্জাতিক গ্রহাণু দিবস আমাদের মনে করিয়ে দেয়, মহাকাশ শুধু রহস্যের ভাণ্ডার নয়, পাশাপাশি সম্ভাব্য ঝুঁকির উৎসও বটে। তাই বিজ্ঞান, গবেষণা এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মাধ্যমে পৃথিবীকে নিরাপদ রাখতে সচেতনতা বাড়ানোর কোন বিকল্প নেই।
আরও পড়ুন: রাতে কোন ৩ খাবার গ্যাস্ট্রিক বাড়াতে পারে?
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন