ঢাকা রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

যুক্তরাষ্ট্রের পারমাণবিক নৃশংসতার নিন্দা জানাল পেজেকশিয়ান


যুক্তরাষ্ট্রের পারমাণবিক নৃশংসতার নিন্দা জানাল পেজেকশিয়ান

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলা উত্তেজনার সময়ে হিরোশিমা ও নাগাসাকিতে যুক্তরাষ্ট্রের পারমাণবিক বোমা হামলাকে মানবতার বিরুদ্ধে অন্যতম বড় অপরাধ হিসেবে অভিহিত করে নিন্দা জানিয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। তিনি মন্তব্য করেন, সেই হামলার পেছনে যে মানসিকতা কাজ করেছিল, সেই একই মানসিকতার প্রতিফলন আজও বিভিন্ন দেশের বিরুদ্ধে ওয়াশিংটনের বর্তমান হুমকিতে দেখা যাচ্ছে।

জাপানের ওই দুটি শহরে যুক্তরাষ্ট্রের পারমাণবিক বোমা হামলার বার্ষিকী উপলক্ষে এক্সে দেওয়া পোস্টে পেজেশকিয়ান এ নিন্দা জানান। তিনি বলেন, যারা হিরোশিমা ও নাগাসাকির সেই ভয়াবহতাকে প্রত্যাখ্যান করেন, তাদের উচিত ওয়াশিংটনের সেই একই মানসিকতারও নিন্দা করা।

তিনি আরও মন্তব্য করেন, হিরোশিমা ও নাগাসাকিতে যুক্তরাষ্ট্রের পারমাণবিক বোমা হামলা মানবতার বিরুদ্ধে অন্যতম বড় অপরাধ। এমন একটি পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে যারা সেই ভয়াবহতাকে প্রত্যাখ্যান করেন, তাদের অবশ্যই ওয়াশিংটনের সেই একই মানসিকতার নিন্দা করতে হবে। তাদের এই মানসিকতা আজ বিভিন্ন জাতিকে নিশ্চিহ্ন করে দেওয়ার এবং বেসামরিক অবকাঠামো ধ্বংস করার হুমকি দিচ্ছে। তিনি এও বলেন, এমন ঘটনা যেন আর কখনো না ঘটে।

আরও পড়ুন: পাকিস্তানের বেলুচিস্তানে ভারত সমর্থিত আট সন্ত্রাসী নিহত

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শেষ পর্যায়ে ১৯৪৫ সালের ৬ আগস্ট যুক্তরাষ্ট্র হিরোশিমায় পারমাণবিক বোমা নিক্ষেপ করে। এর তিন দিন পর ৯ আগস্ট নাগাসাকিতে দ্বিতীয় পারমাণবিক বোমাটি ফেলা হয়। এই হামলায় ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ ও প্রাণহানি ঘটে। অনেক ভুক্তভোগী তাৎক্ষণিকভাবে প্রাণ হারান এবং অন্যরা পরবর্তী মাস ও বছরগুলোতে আঘাত ও তেজস্ক্রিয়তা-জনিত অসুস্থতায় মারা যান।

পারমাণবিক যুদ্ধের ভয়াবহ মানবিক পরিণতির কথা স্মরণ করিয়ে দিতে এবং পারমাণবিক অস্ত্রের ব্যবহার প্রতিরোধের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরতে বিশ্বজুড়ে হিরোশিমা ও নাগাসাকি বোমা হামলার বার্ষিকী পালন করা হয়।

সূত্র: তাসনিম নিউজ এজেন্সি।

আরও পড়ুন: জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবসে চালকদের দৃষ্টিশক্তি পরীক্ষা ও বিনা মূল্যে চশমা বিতরণ শুরু

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইরানে সরকার পরিবর্তনের লক্ষ্য ব্যর্থ, দুই শীর্ষ কর্মকর্তাকে সরাল মোসাদ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ৮ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৩:৩৬ পি.এম


ইরানে সরকার পরিবর্তনের লক্ষ্য ব্যর্থ, দুই শীর্ষ কর্মকর্তাকে সরাল মোসাদ

ইরানে সরকার পরিবর্তনের পরিকল্পনা ব্যর্থ হওয়ার পর মোসাদের দুই শীর্ষ কর্মকর্তাকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেছে দেশটির সংবাদমাধ্যম চ্যানেল ১২।

অপসারিত দুই কর্মকর্তা মোসাদের ইরান বিভাগ ও গোয়েন্দা অধিদপ্তরের প্রধান ছিলেন। তবে রিপোর্টে বলা হয়েছে, তাঁরা সংস্থার সঙ্গে যুক্ত থাকবেন।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, মোসাদের পরিচালক রোমান গোফম্যান এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এই সিদ্ধান্তের ফলে সংস্থার ভিতরে অসন্তোষ ও বিস্ময় দেখা দিয়েছে।

ইসরায়েলি দৈনিক হারেৎজ এক সূত্রের বরাতে বলেছে, রোমান গোফম্যান আগে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সামরিক সচিব থাকাকালীন ইরানে সরকার পরিবর্তনের পরিকল্পনার অন্যতম সমর্থক ছিলেন। ওই সূত্রের দাবি, পরিকল্পনা ব্যর্থ হওয়ার দায় থেকে নেতানিয়াহুকে দূরে রাখতেই দুই কর্মকর্তাকে অপসারিত করা হয়েছে।

এর আগে চলতি বছরের মার্চে দ্য নিউইয়র্ক টাইমস জানিয়েছিল, তৎকালীন মোসাদ প্রধান ডেভিড বার্নিয়া ইরানি সরকারের পতন ঘটানোর সম্ভাব্য পরিকল্পনা নিয়ে নেতানিয়াহু ও যুক্তরাষ্ট্রের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করেছিলেন। ওই পরিকল্পনায় কুর্দি বাহিনীর স্থল অভিযান এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ বিমান হামলার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত ছিল।

দীর্ঘকাল ধরেই ইরানের বর্তমান সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করা নেতানিয়াহুর অন্যতম কৌশলগত লক্ষ্য হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে। ইসরায়েল ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন সক্ষমতা ও আঞ্চলিক প্রক্সি গোষ্ঠীগুলোকে নিজেদের নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে দেখে।

গত ২ জুন মোসাদের পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব নেন রোমান গোফম্যান। তাঁর নিয়োগ নিয়েও শুরু থেকেই বিতর্ক ও সমালোচনা ছিল।

সূত্র: আন্দুলু

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ভূমিকম্প ঝুঁকি কমাতে ত্রুটিপূর্ণ ভবনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে: রাজউক চেয়ারম্যান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৮ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৩:৩৯ পি.এম


ভূমিকম্প ঝুঁকি কমাতে ত্রুটিপূর্ণ ভবনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে: রাজউক চেয়ারম্যান

ভূমিকম্পের ঝুঁকি কমাতে রাজধানীর ভবনগুলোর ত্রুটি নিয়ে ধাপে ধাপে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার রিয়াজুল ইসলাম।

তিনি আরও বলেন, ভূমিকম্পে ভবন ধসে পড়ার মূল কারণ শুধুমাত্র ভবনের উচ্চতা নয়, বরং ত্রুটিপূর্ণ নকশা, মাটির অবস্থা ও নির্মাণে অনিয়ম। তাই ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে অনুমোদিত নকশা, মাটি পরীক্ষা এবং প্রকৌশলগত মান নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি।

শনিবার সকালে রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের তোফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া মিলনায়তনে অ্যাসোসিয়েশন ইউটিলিটি রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (ডুরা) আয়োজিত ‘ভূমিকম্প ঝুঁকিতে দেশ: আমাদের করণীয়’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এ বক্তব্য রাখেন।

অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ প্রকৌশলী বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক মেহেদী হাসান আনসারী।

রাজউক চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার রিয়াজুল ইসলাম বলেন, রাজধানীতে অনেক সংখ্যক ভবন রয়েছে এবং এসব ভবনের ঝুঁকি একসঙ্গে নিরূপণ করা সম্ভব নয়। এজন্য ধাপে ধাপে র‌্যাপিড ভিজ্যুয়াল অ্যাসেসমেন্ট, প্রিলিমিনারি ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যাসেসমেন্ট এবং ডিটেইল ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যাসেসমেন্ট করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

তিনি জানান, ভূমিকম্প মোকাবিলায় রাজউকের সক্ষমতা বাড়াতে একটি গবেষণা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ভূমিকম্পের আগে ঝুঁকি নিরূপণ ও সচেতনতা তৈরির পাশাপাশি ভবিষ্যতে প্রয়োজনীয় গবেষণাও করার কাজ হবে।

ইঞ্জিনিয়ার রিয়াজুল ইসলাম উল্লেখ করেন, ভূমিকম্পের ঝুঁকি কমাতে শুধু রাজউককে দায়ী করলে হবে না। সিটি কর্পোরেশন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, ফায়ার সার্ভিসসহ সংশ্লিষ্ট সকল সংস্থাকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। একটি কার্যকর সিটি গভর্নমেন্ট ব্যবস্থা থাকলে নগর ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন কাজ আরও সহজ ও সমন্বিতভাবে করা সম্ভব বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

ভবন নির্মাণে অনিয়ম প্রসঙ্গে রাজউক চেয়ারম্যান বলেন, অনুমোদিত ছয়তলা ভবনকে নিয়মবহির্ভূতভাবে ১০তলা করা কিংবা নকশা পরিবর্তন করে নির্মাণের সুযোগ দেওয়া হবে না। এ ধরনের ভবনের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় কারিগরি ও আইনি যাচাই ছাড়া অনুমোদন দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই।

তিনি আরও বলেন, ভবনের নকশা প্রণয়নকারী স্থপতি ও প্রকৌশলীদেরও তাদের দায়িত্ব নিতে হবে। নকশায় স্বাক্ষর করার পাশাপাশি নির্মাণকাজের বাস্তবায়ন ও তদারকিতেও তাদের দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে হবে। অনিয়ম হলে তাদেরও আইনানুগ প্রদানের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

রাজউক চেয়ারম্যান জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, আপনারা নিয়মের মধ্যে আসুন। অনুমোদিত নকশা অনুযায়ী ভবন নির্মাণ করুন এবং অকুপেন্সি সার্টিফিকেট নিন।

গণমাধ্যমকে অনিয়মের তথ্য তুলে ধরার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সংবাদমাধ্যম থেকে পাওয়া অভিযোগ রাজউক যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করছে।

তিনি বলেন, রাজউকের দুর্বল উপস্থিতিকে শক্তিশালী উপস্থিতিতে পরিণত করাই তার লক্ষ্য। এজন্য ভবন নির্মাণে অনিয়ম, ঝুঁকিপূর্ণ স্থাপনা ও নগর ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন সমস্যা চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এই কাজ একদিনে সম্ভব নয়। শুরু করেছি, কতটুকু করতে পারবো জানি না; তবে আমরা চেষ্টা করছি।

ভূমিকম্পের মতো বড় দুর্যোগ মোকাবিলায় সরকার, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান, ভবন মালিক, প্রকৌশলী এবং সাধারণ মানুষ সবাইকে নিজেদের জায়গা থেকে দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

রিহ্যাবের ভাইস প্রেসিডেন্ট-১ আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ভবন নির্মাণের ঝুঁকি সম্পর্কে জনগণের মধ্যে জনসচেতনতা বাড়াতে গণমাধ্যমকে নিয়মিত ভূমিকা রাখতে হবে। প্রকৌশলী ও তদারকি সংস্থাগুলোকে ব্যক্তিস্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে সততা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করতে হবে।

তিনি বলেন, দেশের স্বার্থ ও জনগণের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে রাজউকসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে ডেভেলপারদের সহযোগিতা করতে হবে। অভিজ্ঞ প্রকৌশলীদের মাধ্যমে ভবনের নকশা ও নির্মাণ নিশ্চিত করা গেলে টেকসই ও নিরাপদ ভবন নির্মাণ সম্ভব।

ইনস্টিটিউট ফর প্ল্যানিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের (আইপিডি) নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক ড. আদিল মোহাম্মদ খান বলেন, ভূমিকম্পের ঝুঁকি শুধু ভবনের নকশা বা নির্মাণমানের ওপর নির্ভর করে না; ভবনটি কোথায় এবং কী ধরনের মাটির ওপর নির্মাণ করা হচ্ছে, সেটিও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দুর্বল ও জলাভূমি এলাকায় অপরিকল্পিত আবাসন প্রকল্প ভূমিকম্পের ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দেয়। দুর্বল মাটির ওপর ভবন নির্মাণ বন্ধে রাষ্ট্রীয় সংস্থাগুলোকে কঠোরভাবে আইন প্রয়োগ করতে হবে। রাজউকসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ভবনের নকশা ও নির্মাণ তদারকির পাশাপাশি নিয়ম ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে।

ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান সোহেল বলেন, ঢাকায় অনুমোদিত ভবনের অতিরিক্ত তলা নির্মাণের বিষয়টি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। রাজউকের অসাধু কর্মকর্তাদের যোগসাজশে কোথাও কোথাও ছয়তলা অনুমোদন নিয়ে ১০ তলা ভবন নির্মাণের অভিযোগ রয়েছে। এসব ভবন চিহ্নিত করে দ্রুত পরিদর্শনের জন্য রাজউক চেয়ারম্যানের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।

তিনি বলেন, ঢাকার প্রায় ছয় লাখ ভবনের মধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনগুলো চিহ্নিত করা জরুরি। শুধু ভূমিকম্পের সময় সচেতনতা নয়, সারা বছর গণমাধ্যমকে এ বিষয়ে জনসচেতনতামূলক সংবাদ প্রচার করতে হবে।

মাইনুল হাসান সোহেল আরও বলেন, আগাম প্রস্তুতি ও ঝুঁকিপূর্ণ ভবন চিহ্নিত করা গেলে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি এড়ানো সম্ভব। এজন্য রাজউক, গণমাধ্যম ও নাগরিকদের নিজ নিজ জায়গা থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি।

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপ-পরিচালক সালেহ উদ্দিন বলেন, ভূমিকম্প মোকাবিলায় কোনো একক সংস্থার পক্ষে কাজ করা সম্ভব নয়; সমন্বিতভাবে সব স্টেকহোল্ডারকে প্রস্তুতি নিতে হবে। এজন্য সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি নিয়মিত মহড়া ও প্রশিক্ষণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

তিনি জানান, ভূমিকম্পের পর উদ্ধার কার্যক্রম দ্রুত পরিচালনায় ফায়ার সার্ভিসের কিছু প্রস্তুতি রয়েছে। ঢাকার আশপাশের ৪১ ফায়ার স্টেশনকে এয়ারমার্ক করা হয়েছে এবং বিশেষ রেসপন্স টিমও প্রস্তুত রাখা হয়েছে। তবে এসব প্রস্তুতি যথেষ্ট নয় উল্লেখ করে তিনি সরকারি-বেসরকারি সব সংস্থাকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান।

সালেহ উদ্দিন আরও বলেন, ভূমিকম্পে মানুষ সরাসরি মারা যায় না, বরং ভবন ও স্থাপনা ধসে পড়েই প্রাণহানি ঘটে। তাই ভবন নির্মাণে বাংলাদেশ ন্যাশনাল বিল্ডিং কোড ও সংশ্লিষ্ট আইন মেনে চলার পাশাপাশি ফায়ার সেফটি নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি পরিবার, কমিউনিটি ও জাতীয় পর্যায়ে আগাম প্রস্তুতি নেওয়ার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

ডুরার সভাপতি শাহজাহান মোল্লা বলেন, ঢাকাসহ সারা দেশে ভূমিকম্পের ঝুঁকি নিয়ে সচেতনতা বাড়াতে গণমাধ্যমকে আরও সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে। সাম্প্রতিক ভূমিকম্পের পর রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় ঝুঁকি নিয়ে নতুন করে ভাবার প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে।

তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থা নিয়মিত ভূমিকম্পের ঝুঁকি ও প্রস্তুতি নিয়ে নানা তথ্য তুলে ধরছে। এসব তথ্যের আলোকে বর্তমান পরিস্থিতিতে আমাদের কী করণীয় এবং কীভাবে ঝুঁকি কমানো যায়, সে বিষয়ে জনসচেতনতা তৈরির প্রয়োজন রয়েছে।

শাহজাহান মোল্লা বলেন, গণমাধ্যমের মাধ্যমে সঠিক তথ্য তুলে ধরে সরকার ও রাজউকের নীতিনির্ধারণী কার্যক্রমে সহযোগিতা করা সম্ভব। এ লক্ষ্যেই ভূমিকম্পের ঝুঁকি ও করণীয় নিয়ে এ ধরনের আলোচনা আয়োজন করা হয়েছে।

তিনি অনুষ্ঠানে উপস্থিত অতিথি ও সাংবাদিকদের ধন্যবাদ জানিয়ে ভূমিকম্পের ঝুঁকি মোকাবিলায় সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে সঞ্চালনায় ছিলেন ডুরার সাধারণ সম্পাদক জহিরুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ডুরার প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক মিরাজ মাহবুব ইফতি এবং সিনিয়র সাংবাদিক রিপন তালুকদার প্রমুখ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ভারতীয় মাদক ও চোরাই পণ্যসহ কুষ্টিয়ায় যুবক গ্রেপ্তার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৮ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৩:৪১ পি.এম


ভারতীয় মাদক ও চোরাই পণ্যসহ কুষ্টিয়ায় যুবক গ্রেপ্তার

কুষ্টিয়া সীমান্তে পৃথক তিনটি অভিযান চালিয়ে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) প্রায় ৬ লাখ টাকার ভারতীয় মাদক ও চোরাচালানি পণ্য জব্দ করেছে। এ অভিযানের সময় আশিক মিয়া নামে একজন যুবককে আটক করা হয়েছে।

শনিবার দুপুরে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে কুষ্টিয়া ব্যাটালিয়নের (৪৭ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল রাশেদ কামাল রনি এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

বিজিবির পক্ষ থেকে জানানো হয়, সীমান্তে চোরাচালান ও মাদকদ্রব্যের অনুপ্রবেশ রোধে চলমান অভিযানের অংশ হিসেবে কাজিপুর, জামালপুর ও প্রাগপুর বিওপির বিভিন্ন এলাকায় পৃথক অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে ভারতীয় মদ, ফেয়ারডিল সিরাপ, ডেক্সামেথাসন ট্যাবলেট এবং পাতার বিড়িসহ বিভিন্ন পণ্য জব্দ করা হয়ে থাকে। জব্দ করা মালামালের আনুমানিক মূল্য ৫ লাখ ৯৬ হাজার ৮১৮ টাকা।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে যে, শুক্রবার বিকেল ৩টা ২৫ মিনিটের দিকে কুষ্টিয়া ব্যাটালিয়নের অধীনস্থ কাজিপুর বিওপির দায়িত্বপূর্ণ কাচারিপাড়া ফুটবল মাঠ এলাকায় অভিযান চালিয়ে আশিক মিয়া (২২) নামে এক যুবককে আটক করা হয়েছে। এ সময় তার কাছ থেকে একটি ভারতীয় মদের বোতল, একটি মোটরসাইকেল, একটি মোবাইল ফোন এবং নগদ ৫৩৮ টাকা জব্দ করা হয়।

এছাড়াও, শনিবার সকাল ৬টার সময় জামালপুরের জয়পুর মাঠপাড়া এলাকায় মালিকবিহীন অবস্থায় ৫০ বোতল ভারতীয় ফেয়ারডিল সিরাপ জব্দ করা হয়েছে। একই দিনে ভোর ৫টার সময় প্রাগপুর বিওপির দায়িত্বপূর্ণ প্রাগপুর কবরস্থান এলাকায় অভিযান চালিয়ে মালিকবিহীন অবস্থায় ১ হাজার পিস ভারতীয় ডেক্সামেথাসন ট্যাবলেট এবং ১৫৮ প্যাকেট পাতার বিড়ি জব্দ করা হয়েছে।

বিজিবি জানিয়েছে, সীমান্ত এলাকায় মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধের জন্য তাদের গোয়েন্দা নজরদারি এবং বিশেষ অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত রাখা হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সরকার ও জনগণের মধ্যে তথ্যের সেতুবন্ধনে পিআইডি’র ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ : তথ্য প্রতিমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শনিবার, ৮ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৩:৪৩ পি.এম


সরকার ও জনগণের মধ্যে তথ্যের সেতুবন্ধনে পিআইডি’র ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ : তথ্য প্রতিমন্ত্রী

তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী উল্লেখ করেন, সরকার ও জনগণের মধ্যে তথ্যের সেতুবন্ধন তৈরিতে তথ্য অধিদফতরের (পিআইডি) ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। 

তিনি জানান, জনগণের কাছে সরকারের বিভিন্ন কর্মকাণ্ড, উন্নয়ন ও সেবার তথ্য পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি দুর্যোগকালীন সময়ে জনসচেতনতা সৃষ্টি, জনগণকে প্রয়োজনীয় তথ্য প্রদান এবং সরকারের বিভিন্ন কর্মসূচি সম্পর্কে অবহিত করার ক্ষেত্রে এই প্রতিষ্ঠান সবসময় তৎপর রয়েছে।

আজ শনিবার চট্টগ্রামের আঞ্চলিক তথ্য অফিস পরিদর্শনকালে এর সম্মেলন কক্ষে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে একটি মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, পিআইডি’র কাজের পরিধি প্রত্যাশার চেয়েও অনেক বিস্তৃত। তবে, জনবল সংকটের কারণে অনেক ক্ষেত্রে কাজের ওপর চাপ সৃষ্টি হচ্ছে। তিনি জানান, পিআইডি’র জনবল সংকট নিরসনে দ্রুত কার্যকর একটি উদ্যোগ নেওয়া হবে। একই সাথে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অধীন বিভিন্ন দপ্তরের মধ্যে সমন্বয় বাড়িয়ে বিদ্যমান জনবল ও সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

তিনি আরও যোগ করেন, বাংলাদেশ টেলিভিশন, বাংলাদেশ বেতারসহ তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অধীন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাজের মধ্যে যেসব ক্ষেত্রে সমন্বয় ও সহযোগিতার সুযোগ রয়েছে, সেখানে পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে কাজের গতি বৃদ্ধি করা সম্ভব। বিশেষ করে চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বন্যা, ঘূর্ণিঝড়সহ প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় জনগণকে সচেতন ও অবহিত করতে সংশ্লিষ্ট সকল প্রতিষ্ঠানের সমন্বিতভাবে কাজ করা জরুরি। 

ইয়াসের খান চৌধুরী বলেন, সংবাদ প্রচার বা তথ্য সরবরাহের পাশাপাশি, দুর্যোগের সময় জনগণকে সচেতন করা এবং প্রয়োজনীয় নির্দেশনা পৌঁছে দেওয়াও তথ্য বিভাগের কার্যক্রমের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর মধ্যে আরো কার্যকর সমন্বয় গড়ে তোলা জরুরি।

পিআইডি’র কর্মকর্তাদের উদ্দেশে প্রতিমন্ত্রী বলেন, জনগণকে মানসম্মত সেবা দেওয়ার লক্ষ্যে চলমান কার্যক্রমগুলোকে আরও গতিশীল ও কার্যকর করতে হবে। সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবহার ও সর্বোচ্চ সেবা এবং তথ্যে জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে হবে।

মতবিনিময় সভায় আঞ্চলিক তথ্য অফিস, চট্টগ্রামের উপ প্রধান তথ্য অফিসার বাপ্পী চক্রবর্তী চট্টগ্রাম পিআইডির কার্যক্রম সম্পর্কে একটি তথ্যচিত্র উপস্থাপন করেন। এ সময় বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা এবং প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪১
জোহর ১১:৪৫
আসর ০৩:৫৩
মাগরিব ০৫:৩০
ইশা ০৬:৪১
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:৩০
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%