০১:২৩ এম
বাংলাদেশ ইউরোপের মাটিতে ইউরোপের কোনো দলের বিরুদ্ধে তাদের প্রথম ম্যাচটি খেলল। ঐতিহাসিক এই ম্যাচে সকল দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন তপু বর্মণ।
উনি একবার নয়, দুবার গোল করেছেন এই ডিফেন্ডার। শেষ পর্যন্ত তাঁর জোড়া গোলের সুবাদে থমাস ডুলির দল জয় লাভ করেছে।
শুক্রবার (৫ জুন) অনুষ্ঠিত ফিফা প্রীতি ম্যাচে বাংলাদেশকে আতিথেয়তা প্রদান করে সান মারিনো। স্তাদিও অলিম্পিকো সেরাভালে অনুষ্ঠিত ম্যাচে স্বাগতিক সান মারিনোকে ২-১ গোলে হারিয়েছে বাংলাদেশ।
আরও পড়ুন: ভারত নিউজিল্যান্ডকে ৪ উইকেটে হারিয়ে রোমাঞ্চকর জয় পেল
প্রথমার্ধে ১-১ গোলে সমতা থাকবার পর দ্বিতীয়ার্ধে আবারও গোল প্রচেষ্টা করেন তপু। তাঁর এই জোড়া গোলের বিপরীতে সান মারিনোর খেলার মাঠে এক গোল শোধ দেন নিকোলাস জাকোপেত্তি।
এই ম্যাচের মাধ্যমে বাংলাদেশের ডাগ আউটে দাঁড়াতে দেখা গেল জার্মান কোচ থমাস ডুলিকে। এই ম্যাচের শুরুর একাদশে সমিত সোম, ফাহামেদুল ইসলাম ও জায়ান আহমেদদের বসিয়ে রাখেন তিনি।
কিন্তু বিরতির পর একাধিক পরিবর্তন করে তিনি। আর তাঁর প্রথম নির্দেশনাতেই জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ার অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন।
এ দিন ম্যাচের ১৭তম মিনিটে বাংলাদেশ প্রথম বড় আক্রমণ করে। কিন্তু জামাল ভূঁইয়ার শট গতি হারায় প্রতিপক্ষ ডিফেন্ডারদের বাধার সম্মুখীন হয়ে। দুই মিনিট পর গোছালো আক্রমণে, ডান দিক থেকে মোরছালিনের ক্রসে তপু বর্মণের হেডে লিড অর্জন করে বাংলাদেশ।
আরও পড়ুন: অবকাঠামো উন্নয়নে গুণগত মান, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে : সড়ক পরিবহন প্রতিমন্ত্রী
ম্যাচের ৩১ মিনিটে সান মারিনো সমতায় ফিরে আসে। ডান দিক দিয়ে বেরার্দি বক্সে ঢুকে তপুকে কাটিয়ে কাটব্যাক দেন। বাংলাদেশি তিন জন ডিফেন্ডার বক্সে থাকা সত্ত্বেও কেউ ক্লিয়ার করতে পারেননি এবং সেখান থেকে লক্ষ্যভেদ করেন নিকোলাস জাকোপেত্তি।
৩৮ মিনিটে সাদ উদ্দিনের সামনে ছিল কেবল গোলকিপার। কিন্তু উনি গোলমুখে শট মেরে পোস্টের উপর দিয়ে মারেন।
বিরতির পর জামালকে তুলে নেওয়া হয় এবং মোরছালিনের জায়গায় সমিত সোম ও জায়ান আহমেদকে মাঠে নামান কোচ ডুলি। আর ইসা ফয়সালের পরিবর্তে মাঠে প্রবেশ করেন জায়ান।
৪৮ মিনিটে বাংলাদেশ এগিয়ে যেতে পারত। হামজার দারুণ এক পাস ধরে ডান দিক থেকে ক্রস দেন রফিকুল, কিন্তু গোলমুখের সামনে বল পা ছোঁয়াতে ব্যর্থ হন সোহেল রানা।
আরও পড়ুন: জামায়াত নিজেদের কর্মীদের ছাড়া একজন ফকিরকেও ভিক্ষা দেয় না: মীর শাহে আলম
তবে এই সময় বাংলাদেশ দারুণ পাসিং ফুটবলের প্রদর্শনী দেয়। ৫৩ মিনিটে আরেকটি গোছালো আক্রমণের শেষটা সুন্দরভাবে শেষ হয়নি। ডান দিক থেকে এবার সাদের ক্রসে ফাহিম লাফিয়ে উঠে শট নিল, কিন্তু গোলের লক্ষ্যভেদ করতে পারেননি। ৮ মিনিট পর কাপিচ্ছিয়োনির দারুণ ফ্রি কিক কর্নারের বিনিময়ে ক্লিয়ার করেন মিতুল।
খানিক পর বিশ্বনাথ ঘোষ ও ফাহিমেদুল ইসলামকে মাঠে নামান ডুলি। উঠেন ফাহিম ও রফিকুল। বদলি হিসেবে বিশ্বনাথ নিজেকে প্রমাণ করতে পারেননি। মাঠে দাড়ানোর কিছু পরই তিনি ভালো সুযোগ পেয়েছিলেন। কিন্তু তাঁর সামনে কেবল প্রতিপক্ষের গোলকিপার থাকলেও তিনি শটটি লক্ষ্যে রাখতে পারেননি।
এই প্রীতি ম্যাচে সাধারণত ৮ জন খেলোয়াড় পরিবর্তনের নিয়ম আছে। তবে দুই দলের সম্মতিতে মোট ১১টি পরিবর্তন করতে হয়। খেলার ৭৬ মিনিটে সোহেল রানা সিনিয়রকে তুলে কাজেম শাহ কিরমানিকে মাঠে নামানো হয়।
৮৬ মিনিটে তপুর দ্বিতীয় গোলের মাধ্যমে বাংলাদেশ আবার এগিয়ে যায়। বক্সের একটু সামনে থেকে হামজার ফ্রি কিক কেউ স্পর্শ করতে পারেনি। সেখান থেকে বিশ্বনাথের সাইড ভলিতে মাথা ছোঁয়ান তপু। গোলের পর তিনি জার্সি খুলে বুনো আনন্দে ফেটে পড়েন। গ্যালারিতে উপস্থিত বাংলাদেশি দর্শকরাও জয়ের আনন্দে উৎসব পালন করেন। এবং শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশ ২-১ গোলের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে।
আরও পড়ুন: অরুণাচল সীমান্তে চীনের নিয়ন্ত্রণে ভারতের 'অসহায়ত্ব', মোদি সরকার ব্যাকফুটে
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন