ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

বন্যা পরিস্থিতি: দেশের ৬৪ জেলায় পৌঁছেছে ত্রাণ সহায়তা


বন্যা পরিস্থিতি: দেশের ৬৪ জেলায় পৌঁছেছে ত্রাণ সহায়তা

হঠাৎ বন্যা এবং অন্যান্য দুর্যোগ মোকাবেলায় সরকারের সব ধরনের প্রস্তুতি নেয়া আছে বলে জানান দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) বিকেলে সচিবালয়ে বাংলাদেশে দুর্যোগ মোকাবিলায় যুক্তরাজ্য সার্বিক সহযোগিতার বিষয় নিয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাজ্যের হাইকমিশনার সারাহ কুকের সঙ্গে এক চুক্তিস্বাক্ষর অনুষ্ঠান শেষে এসব কথা বলেন মন্ত্রী।

মন্ত্রী আরও জানান, দেশে বড় ধরনের বন্যার আশঙ্কা নেই। তিনি বলেন, দুর্যোগ মোকাবিলার প্রস্তুতির অংশ হিসেবে ৬৪ জেলায় ত্রাণ সহায়তা পাঠিয়েছে সরকার। এর মধ্যে তিন পার্বত্য জেলা ও কক্সবাজারসহ এই ৪ জেলায় ১০ লাখ টাকা ও ২০০ মেট্রিকটন করে চাল এবং বাকি ৬০ জেলায় ৫ লাখ টাকা ও ১০০ মেট্রিকটন করে চাল সহায়তা দেয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন: তারেক রহমান: জামায়াত-এনসিপি আমার রাষ্ট্রীয় সম্মান সহ্য করতে পারছে না

যুক্তরাজ্যের সঙ্গে চুক্তিস্বাক্ষর বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, দেশের সঙ্গে যখন দুর্যোগ ঘটে, তখন যাতে সরাসরি সাহায্য ও সহযোগিতা পাঠাতে পারে, সেজন্য বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যের মধ্যে এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে তারা ট্রেনিং, মেডিকেল সাপোর্টসহ কখনও কখনও অর্থনৈতিক সাহায্যও প্রদান করবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

টানা বর্ষণে সন্দ্বীপের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত, খালের বাঁধ অপসারণে মাঠে ইউএনও

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সন্দ্বীপ চট্টগ্রাম প্রতিনিধি

মঙ্গলবার, ৭ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৬:৪৪ পি.এম


টানা বর্ষণে সন্দ্বীপের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত, খালের বাঁধ অপসারণে মাঠে ইউএনও

টানা দুই দিনের ভারী বর্ষণে চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ উপজেলার বিস্তীর্ণ নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। উপজেলার অন্তত ১২টি ইউনিয়নের নিচু এলাকা পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় প্রায় ৩০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। বৃষ্টির পানিতে ডুবে গেছে বেশ কয়েকটি গ্রামীণ সড়ক, যার ফলে জনজীবনে চরম দুর্ভোগ নেমে এসেছে।

মঙ্গলবার সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার ১৫টি ইউনিয়নের মধ্যে হারামিয়া, বাউরিয়া, গাছুয়া, সন্তোষপুর, আমানউল্লাহ, দীর্ঘাপাড়া, মগধারা, মাইটভাঙ্গা ও মুছাপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় পানি প্রবেশ করেছে। লোকালয়ে পানি ঢুকে পড়ায় বাসিন্দাদের দুর্ভোগ বেড়েছে। টানা বৃষ্টিতে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন দিনমজুর ও খেটে খাওয়া শ্রমজীবী মানুষ।

এদিকে জলাবদ্ধতা নিরসনে আজ সকাল থেকে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে খালের বাঁধ ও অবৈধ জাল অপসারণ কার্যক্রম শুরু করেছে উপজেলা প্রশাসন। এই সময় প্লাবিত এলাকা পরিদর্শন করেন সন্দ্বীপের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আমজাদ হোসেন।

ইউএনও আমজাদ হোসেন জানান, মগধারা ও মুছাপুর ইউনিয়নের প্রায় ৯০ শতাংশ খালের বাঁধ ইতিমধ্যে অপসারণ করা হয়েছে। অবশিষ্ট বাঁধ অপসারণের কাজও চলমান রয়েছে। পাশাপাশি উপজেলার অন্যান্য ইউনিয়নের খালের বাঁধ ও অবৈধ জাল সরাতে সংশ্লিষ্ট প্যানেল চেয়ারম্যান, ইউপি প্রশাসনিক কর্মকর্তা এবং গ্রাম পুলিশকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

উপজেলা প্রশাসনের আশা, খালের কৃত্রিম প্রতিবন্ধকতা দ্রুত অপসারণ করা সম্ভব হলে লোকালয়ের জলাবদ্ধতা কমে আসবে এবং প্লাবিত এলাকার মানুষের দুর্ভোগও অনেকাংশে লাঘব হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

খাল খনন প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগে তদন্তের দাবি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৭ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৬:৪৪ পি.এম


খাল খনন প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগে তদন্তের দাবি

পঞ্চগড়ের আটোয়ারী উপজেলার বাকডোকরা খাল খনন প্রকল্পের অধীনে বর্তমানে কালভার্ট নির্মাণের কাজ চলমান রয়েছে। কিন্তু, সম্প্রতি এই প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, খননে দায়সারা ভাবে কাজ হচ্ছে, কালভার্ট নির্মাণে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করা হচ্ছে এবং শ্রমিকের পরিবর্তে চারা কাজে এসকেভেটর ব্যবহার করা হয়েছে।

এদিকে, এই অনিয়মের অভিযোগের পর কাজ দায়িত্বে থাকা কর্তৃপক্ষ কাজ বন্ধ রেখে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তদন্ত কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

তদন্তের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমান সরকারের বিশেষ উদ্যোগে দেশের বিভিন্ন স্থানে নদী-খালসহ জলাশয় খননের কাজ চলছে। এরই অংশ হিসেবে পঞ্চগড়ের আটোয়ারী উপজেলার আলোয়াখোয়া ইউনিয়নের বাকডোকরা খাল খননের উদ্যোগ উপজেলা প্রশাসন নিয়েছে। এ প্রকল্পের কাজ চলতি বছরের এপ্রিল মাসের শেষ দিকে শুরু হয়।

বাকডোকরা কুলাডাঙ্গী পুল থেকে পশ্চিমে আব্বাস আলীর জমি পর্যন্ত ৬০৫ মিটার দীর্ঘ খাল খনন, দুটি কালভার্ট নির্মাণ, পাইপ স্থাপন ও বৃক্ষরোপণের জন্য মোট বরাদ্দ ৫১ লাখ ৫৩ হাজার ৯৯৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

আটোয়ারী প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার তথ্য অনুযায়ী, খননে শ্রমিকদের মাধ্যমে ২৫ লাখ ৬২ হাজার ৮০০ টাকা, এসকেভেটর দিয়ে তিন লাখ ৫৬ হাজার টাকা, আরসিসি পাইপ বসাতে ছয় লাখ ৪৭ হাজার টাকা, কালভার্ট নির্মাণে ১০ লাখ ৫০ হাজার ৮৫০ টাকা, ঘাস লাগানোর জন্য ৭৬ হাজার ৩৮১ টাকা এবং বৃক্ষরোপণের জন্য চার লাখ ৬১ হাজার ৬০০ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু প্রকল্পের এসব তথ্যে গড়মিল দেখা গেছে। প্রকল্পের বরাদ্দে দুটি কালভার্টের জন্য ১৬ লাখ ৫৭ হাজার টাকা বরাদ্দ ঝূলা রয়েছে।

স্থানীয়দের দাবি, প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত স্থানে কোনো খাল না থাকলেও কাগজে-কলমে সেখানে খাল দেখানো হচ্ছে। যদিও খাল খননে শ্রমিক ব্যবহার করার কথা থাকলেও অধিকাংশ কাজ শুরুতেই এসকেভেটর দিয়ে সম্পন্ন করা হচ্ছে। পরে বেশ কিছু সময়ের জন্য শ্রমিক দিয়ে লোক দেখানো খননের কাজ করা হয়।

এদিকে প্রকল্পের শুরুতে একটি কালভার্ট নির্মাণের কথা ছিল, কিন্তু তার বদলে আরেকটি কালভার্ট জুড়ে দেওয়া হয়েছে। কালভার্ট নির্মাণে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের কারণে স্থানীয়দের মাঝে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

স্থানীয়রা উপজেলা প্রশাসনে অভিযোগ জানালে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রিপামনি দেবী কাজ বন্ধ করে তদন্তের নির্দেশ দেন।

এই বিষয়টি তদন্তে উপজেলা প্রকৌশলী মো. ফয়সালকে প্রধান করে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। এছাড়া, খাল খনন প্রকল্পের সাত সদস্যের কমিটিতে বিএনপি নেতা ও সমর্থকদের রাখা হয়েছে, কিন্তু তারাও জানেন না কীভাবে কাজ করা হচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দা মোস্তফা কামাল বলেন, ‘এই খাল খননে শুরু থেকেই অনিয়ম চলমান। কাজ সঠিকভাবে হচ্ছে না। কালভার্টের কার্যক্রম ইটের গুঁড়ো দিয়ে করা হচ্ছে। এভাবে কাজ করানোর কারণে কিছু মানুষের পকেটে টাকা ঢুকলেও সরকারের মহৎ উদ্দেশ্য ব্যাহত হচ্ছে। এ বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন।’

অন্য একজন বাসিন্দা কাজল জানান, ‘এখানে কোনো খাল ছিল না। ফলে প্রয়োজন নেই এমন জায়গায় খাল খনন করায় আমাদের ৯০ শতাংশ মানুষের ক্ষতিসাধিত হয়েছে। খননের মাটি আমাদের জমির ওপর ফেলা হচ্ছে।’

কমিটির সদস্য ময়না বেগম বলেন, ‘আমাকে না জানিয়ে কমিটিতে রাখা হয়েছে। কাজ হওয়ার কথা ছিল শ্রমিকদের মাধ্যমে, কিন্তু করা হচ্ছে ভেকু মেশিনের মাধ্যমে। শুনেছি ১১৯ জন শ্রমিকের তালিকা করা হয়েছে, যারা চেয়ারম্যান ও দলীয় লোকজন।’

প্রকল্পের সভাপতি ও আলোয়াখোয়া ইউনিয়নের সংরক্ষিত ইউপি সদস্য করুনা রানী পাল বলেন, ‘আমার মা অসুস্থ। আমি বগুড়ায় রয়েছি। আমি যেসব জায়গায় প্রয়োজন সাক্ষর দিয়ে এসেছি, বাকি সব কাজ চেয়ারম্যান করছেন। কোথায় কী কাজ হয়েছে, ভালো না মন্দ, আমি কিছুই জানি না।’

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা ফজলুল হক বলেছেন, ‘নিয়ম অনুযায়ী কাজ নিহত হচ্ছিল। কালভার্ট নির্মাণে এক ট্রলি নিম্নমানের ইটের খোয়া আনা হয়েছিল, পরে তা সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। শ্রমিকদের ৪৩ দিনের কাজ শেষ হয়েছে। তারা মজুরি পেয়ে গেছে। তবে তদন্তের কারণে এখন কাজ বন্ধ রয়েছে।’

আলোয়াখোয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোজাক্কারুল আলম অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘স্থানীয়দের সাথে পরামর্শ করেই খাল খনন কাজ করা হয়েছে।’

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রিপামনি দেবী জানান, ‘অনিয়মের অভিযোগ ওঠায় আমরা তদন্তের নির্দেশ দিয়েছি। তদন্ত প্রতিবেদন পেলেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

‘বাংলাদেশে ভারতের একচ্ছত্র আধিপত্যের দিন শেষ’

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৭ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৬:৪৬ পি.এম


‘বাংলাদেশে ভারতের একচ্ছত্র আধিপত্যের দিন শেষ’

২০২৪ সালের আগস্টে বিপ্লব-পরবর্তী বাংলাদেশে বড় ধরনের পরিবর্তনের পর আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে ঢাকার পররাষ্ট্রনীতিতে একটি নতুন মেরুকরণ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ভারত সরকারের সাথে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের টানাপোড়েন, চীনের প্রস্তাবিত অর্থনৈতিক করিডোর এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে করণীয় বাণিজ্য চুক্তি—সবকিছু মিলিয়ে বাংলাদেশ একটি জটিল, কিন্তু কৌশলগত কূটনীতির পথ অতিক্রম করছে। সম্প্রতি এখানে অনুষ্ঠিত একটি সাক্ষাৎকারে, ঢাকার সাবেক মার্কিন ডেপুটি চিফ অব মিশন জন এফ ড্যানিলোভিচ বাংলাদেশের বর্তমান ভূরাজনীতি, ভারতের সাথে আইনি জটিলতা এবং বৈশ্বিক পরাশক্তিগুলির সাথে ভারসাম্য বজায় রাখার চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা নিয়ে বিশদ বিশ্লেষণ করেছেন।

সাক্ষাৎকারে, শেখ হাসিনার ভারতে অবস্থান এবং ঢাকার পক্ষ থেকে তাকে ফেরত চাওয়ার আনুষ্ঠানিক আবেদনের বিষয়টি উঠে এসেছে। ড্যানিলোভিচের মন্তব্য অনুসারে, মানবতাবিরোধী অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হয়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত একজন সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে নয়াদিল্লি আশ্রয় দেওয়ার কারণে দুই দেশের মধ্যে একটি বৃহৎ মনস্তাত্ত্বিক দূরত্ব তৈরি হয়েছে। তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ ও ভারত ইতিহাস এবং ভূগোলের সূত্রে একে অপরের সাথে বাঁধা। কিন্তু বর্তমান বিএনপি সরকারের দ্বারা ভারতের সাথে সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি 'ধীরে কিন্তু সুনির্দিষ্ট' নীতি গ্রহণ করা হচ্ছে। বাংলাদেশে ভারতের একচ্ছত্র আধিপত্যের দিন এখন স্পষ্টতই শেষ হয়ে আসছে। শেখ হাসিনা এবং তার সহযোগীদের ভারতে অবস্থান দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি বড় অন্তরায় হিসেবে কাজ করছে, যা দুই দেশের সরকারই উপেক্ষা করতে পারবে না।

এছাড়া, তিনি উল্লেখ করেছেন যে, ভারতের আসাম ও পশ্চিমবঙ্গ নির্বাচনের আগে বাংলাদেশকে নিয়ে ছড়ানো বিভিন্ন অপপ্রচার ও 'মিসইনফরমেশন' ভারতীয় জনমতকে প্রভাবিত করেছে। বর্তমান প্রেক্ষাপটে এটি দুই দেশের সম্পর্ক স্বাভাবিক করার ক্ষেত্রে আরো একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বিস্তারিত আসছে...

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

টয়লেট ক্লিনার প্রয়োগে স্বামী হত্যার অভিযোগে নার্স স্ত্রী আটক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৭ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৬:৪৮ পি.এম


টয়লেট ক্লিনার প্রয়োগে স্বামী হত্যার অভিযোগে নার্স স্ত্রী আটক

ভারতের তেলেঙ্গানায় পরকীয়া প্রেমের পথে কাঁটা সরাতে স্বামীকে খুনের ঘটনা প্রকাশ পেয়েছে। প্রথমবারের চেষ্টায় ছাদ থেকে ফেলে দিয়ে মারতে না পারলেও, পরে স্বামীর শরীরে হাসপাতালের বিছানায় ইনজেকশনের মাধ্যমে টয়লেট ক্লিনার পুশ করে হত্যা করেন নার্স স্ত্রী। এই ঘটনায় তেলেঙ্গানার নিজামাবাদ জেলার ন্যালকাল গ্রামের পুলিশ প্রশাসনও স্তম্ভিত।

পুলিশ সূত্রে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, নিহত যুবকের নাম প্রশান্ত (৩৫)। তিনি দীর্ঘদিন গালফ দেশে কাজ করছিলেন এবং গত ২৭-২৮ জুন বাড়ি ফিরেছিলেন। বাড়িতে ফিরে তিনি স্ত্রীর সন্ধ্যার বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের কথা জানতে পারেন। এতে সন্ধ্যা এবং তাঁর প্রেমিক অনিল মিলে প্রশান্তকে খুন করার পরিকল্পনা করেন। এতে তারা ভেঙ্কট সাই ওরফে বান্টিকে যুক্ত করেন।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, বান্টি প্রথমে প্রশান্তকে ডেকে নিয়ে অতিরিক্ত মদ্যপান করান। প্রশান্ত মাতাল হয়ে পড়লে বান্টি তাঁকে বাড়ির ছাদে নিয়ে যান। সেখানে তাঁদের মধ্যে একটি বানোয়াট ঝগড়া বাঁধে। ঠিক সেই সময়ে স্ত্রী সন্ধ্যা উপস্থিত হন এবং বান্টি ও সন্ধ্যা সম্মিলিতভাবে প্রশান্তকে ছাদ থেকে নিচে ফেলে দেন।

গুরুতর আহত অবস্থায় প্রশান্ত অলৌকিকভাবে বেঁচে যান। তাঁকে প্রথমে সরকারি এবং পরবর্তীতে একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। স্বামী ছাদ থেকে পড়েও বেঁচে যাওয়ায় সভ্য হয়ে ওঠেন সন্ধ্যা। ৩০ জুন তিনি নিজের নার্সিং পেশার অভিজ্ঞতার ব্যবহারে গোপনে অপরাধ পরিকল্পনা করেন।

তদন্তকারী কর্মকর্তাদের জানান, যখন প্রশান্ত হাসপাতালে বিছানায় যন্ত্রণায় ছটফট করছিলেন, তখন তিনি হাতে স্যালাইনের ক্যানুলা লাগানো ছিলেন। সেই ক্যানুলার মাধ্যমেই সন্ধ্যা ঠাণ্ডা মাথায় স্বামীর শরীরে টয়লেট ক্লিনার এবং অন্যান্য বিষাক্ত রাসায়নিক ইনজেকশনের মাধ্যমে পুশ করে দেন। কিছুক্ষণের মধ্যেই শরীরের অঙ্গপ্রত্যঙ্গ বিকল হয়ে মৃত্যু ঘটে প্রশান্তের।

১ জুলাই প্রশান্তের মায়ের মধ্যে ছেলের আকস্মিক মৃত্যু নিয়ে সন্দেহ জন্ম দেয়। তিনি পুলিশে অভিযোগ দায়ের করেন। তদন্তকারীরা যখন বান্টিকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে শুরু করেন, তখন সত্য উদঘাটিত হয়।

বান্টি পুলিশের কাছে স্বীকারোক্তি দিয়েছিলেন, "আমাদের মধ্যে প্রথমে মারামারি হয়েছিল। তারপর ওর স্ত্রী আসে। আমরা দুজনে মিলে ওকে জোরে ধাক্কা দিয়ে ছাদ থেকে ফেলে দিই। পুরো পরিকল্পনাটা সন্ধ্যারই ছিল, ও আমাকে টাকাও দিয়েছিল।"

ঘটনার তদন্ত শেষে ৪ জুলাই পুলিশ অভিযুক্ত স্ত্রী সন্ধ্যা, তাঁর প্রেমিক অনিল এবং সহযোগী বান্টিকে গ্রেপ্তার করে। তাঁদের বিরুদ্ধে হত্যা ও ষড়যন্ত্রের মামলা দায়ের করা হয়। আদালত তিনজনকেই আদালত রিমান্ড মঞ্জুর করে বিচার বিভাগীয় হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%