০৪:০৩ পি.এম
একটি সিনেমা কখনো শুধুমাত্র একটি গল্প হয়ে থাকে না; সময়ের সাথে সাথে সেটি স্মৃতির অংশ হয়ে ওঠে। নাঈম ও শাবনাজের ‘চাঁদনী’ এমন একটি সিনেমা, যা তাদের চলচ্চিত্রজীবনের শুরু থেকে আজও দর্শকদের মনে বিশেষ স্থান দখল করে রেখেছে। নাঈম-শাবনাজ জুটির প্রথম এই সিনেমাটি ৩৫ বছর পূর্ণ করেছে। ১৯৯১ সালের ৪ অক্টোবর মুক্তি পেয়েছিল এহতেশাম পরিচালিত ছবিটি।
মুক্তির পর ‘চাঁদনী’ দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া সৃষ্টি করে। এরপর নাঈম ও শাবনাজ একসাথে আরো বেশ কয়েকটি সিনেমায় অভিনয় করে জনপ্রিয় জুটি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হন। ‘ফুল আর কাঁটা’, ‘জিদ’, ‘লাভ’, ‘দিল’ ও ‘টাকার অহংকার’সহ তাদের একাধিক সিনেমা দর্শকপ্রিয়তা অর্জন করে।
‘চাঁদনী’র শুরুটিও ছিল আকস্মিক। নাঈম জানান, খ্যাতিমান পরিচালক এহতেশামের সাথে তাদের পরিবারের পরিচয় ছিল। একদিন তাকে দেখার পর সিনেমায় অভিনয়ের প্রস্তাব দেন এহতেশাম। পরে শাবনাজের বাসায় গিয়ে তাকে নায়িকা হিসেবে নির্বাচন করেন তিনি। এভাবেই প্রথমবার জুটি বাঁধেন নাঈম ও শাবনাজ।
আরও পড়ুন: মা হারালেন ঢাকাই সিনেমার জনপ্রিয় নায়িকা পপি
শুটিং শুরুর আগেই সিনেমাটির গানগুলো রেকর্ড করা হয়েছিল। এরপর জমকালো আয়োজনে মহরত অনুষ্ঠিত হয়। নাঈমের চলচ্চিত্রে প্রথম শুটিংও ছিল ‘চাঁদনী’র জন্য। নাঈম বলেন, ‘মহরতের স্মৃতি ভুলব না। আজও চোখে ভাসে। প্রথম শুটিং করি বারিধারায়। দিনটি ছিল আমার জন্য স্মরণীয়।’
ঢাকার শুটিং শেষ করার পর সিনেমার দল সিলেটের জাফলংয়ে যায়। সেখানে বেশ কয়েক দিন দৃশ্যধারণ চলে। নাঈমের স্মৃতিতে সেই সময়ের জাফলংও আলাদা। তখন সেখানে বিদ্যুৎ সংযোগ ছিল না। তাই রাতে হ্যাজাক বাতি জ্বালিয়েই শুটিং করতে হতো। যে বাড়িতে তারা থাকতেন, সেখানে একটি পুকুর ছিল। সবাই সেখানে গোসল করলেও জোঁকের ভয়ে নাঈম পুকুরে নামতেন না।
সিনেমা মুক্তির আগের রাতটিও ছিল ভিন্ন রকম উত্তেজনায় ভরা। প্রথম সিনেমা হওয়ায় দলের সবাই শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি নিজের চোখে দেখতে চেয়েছিলেন। নাঈমসহ দলের সদস্যরা রাতে ঢাকার বিভিন্ন প্রেক্ষাগৃহে ঘুরে ব্যানার ও পোস্টার ঠিক আছে কি না, তা দেখতেন। রাতভর এই ব্যস্ততা চলার পর ভোরের দিকে তারা বাসায় ফিরতেন।
এদিকে সিনেমা মুক্তির আগে দলের আরেকটি অংশ সিলেটে গিয়ে হজরত শাহজালালের মাজার জিয়ারত করেছিল। প্রথম সিনেমা দর্শকের সামনে আসার আগে সবার মধ্যেই উৎকণ্ঠা ও প্রত্যাশা ছিল।
আরও পড়ুন: নেপালের নাট্যোৎসবে মঞ্চস্থ হবে বাংলাদেশের ‘এ ফাদার’স স্কাই’
তিন দশকের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও ‘চাঁদনী’র প্রতি দর্শকের ভালোবাসা কমেনি। নাঈম বলেন, ‘এখনো দর্শকরা সিনেমাটির কথা বলেন, মনে রেখেছেন—এটাই তার কাছে সবচেয়ে বড় পাওয়া।’
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন