১০:৩৩ এম
শেখ হাসিনার অধীনে শিক্ষিত বেকারত্বের হার বৃদ্ধি পেয়েছে, এই ধরনের মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর।
শনিবার (২৫ জুলাই) জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে পপুলেশন সায়েন্স বিভাগের উদ্যোগে আয়োজিত একটি সেমিনারে প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত থেকে তিনি এই মন্তব্য করেন।
প্রধান আলোচক হিসেবে ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, পতিত সরকার জনমিতিক বোঝা নিয়ে বাংলাদেশ থেকে পালিয়ে গেছে। জনমিতিক যেখানে সমৃদ্ধির কথা, সেখানে আমরা আজও জনমিতিক বোঝা সহ্য করছি। কর্মক্ষম মানুষের সংখ্যা ব্যাপক, কিন্তু নির্ভরশীল মানুষের সংখ্যা কমে গেছে। কিন্তু শিক্ষিত বেকারত্বের হার বেড়ে যাচ্ছে। ২০২০ সাল থেকে অবস্থা আরও খারাপ হয়ে গেছে। যেসব ব্যক্তি শিক্ষায় নেই, কর্মসংস্থানে নেই, প্রশিক্ষণে নেই, তাদের মধ্যে ৪১%। এদের মধ্যে নারীদের সংখ্যা ৬২%। বেকারত্বের সংখ্যা ২০২০ সাল থেকে ক্রমাগত বৃদ্ধি পেয়েছে।
আরও পড়ুন: সৌদি আরব থেকে ৯ মাসে ২ হাজার মরদেহ, নারী কর্মীরা সন্তানের বাবার পরিচয় জানেন না
আমাদের সুযোগ ছিল যে, প্রতি চারজনের মাঝে একজন যুবক। কিন্তু পতিত সরকার সেই সুযোগটি গ্রহণ করতে পারেনি। একটি দেশের সঙ্গে কতটা গাদ্দারি করলে জনশক্তিতে জনগণের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয়। শিক্ষাব্যবস্থা ধ্বংস হয়ে গেছে। স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ ছিল ০.৭%। যে শিক্ষার্থী ১২টি শ্রেণি সম্পন্ন করেছে, তার স্থান পাঁচ ধাপ নিচে।
তিনি যোগ করেন, আপনার বিশ্ববিদ্যালয়ে কিন্তু এটি পড়ানো হয় না যে, মরহুম বেগম খালেদা জিয়ার সময় দারিদ্র্য কমে গিয়েছিল। পরবর্তী সময়ে, দারিদ্র্য বিমোচনের হার বেড়ে গিয়েছিল। কিন্তু আমি আশা করি যে, ২০৩৫ সালের মধ্যে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, সামাজিক ব্যয় বৃদ্ধি ও দক্ষতা বৃদ্ধির মাধ্যমে জনমিতিক বোঝাকে জনমিতিক লভ্যাংশে পরিণত করা সম্ভব হবে।
তিনি স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়ন নিয়েও বলেন, উপজেলা হাসপাতালগুলোতে শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ২০ টি শয্যা و মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার সময় ৩০ টি শয্যায় উন্নীত করা হয়েছিল। এরপর আর বৃদ্ধি হয়নি। আমরা এসে এটি ১০১ শয্যায় উন্নীত করেছি। আমাদের একটি দর্শন রয়েছে সবার আগে বাংলাদেশ; অর্থাৎ সকলকে সঙ্গে নিয়ে বাংলাদেশ। আমাদের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জানিয়েছেন, তিনি "আই হ্যাভ এ প্ল্যান"।
সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. মোশারফ হোসেন, সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. বখতিয়ার উদ্দীন এবং রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) খন্দকার নাজমুল হাসান উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পপুলেশন সায়েন্স বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ড. কে. এম. মুস্তাফিজুর রহমান। এছাড়া বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা এতে অংশগ্রহণ করেন।
আরও পড়ুন: দুধের উৎপাদন খরচ ৪৪.৮০ টাকা, বিক্রি ১০০-১১০ টাকায়
আলোচনা শেষে বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস উপলক্ষ্যে আয়োজিত বিতর্ক ও কুইজ প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন