বৃহস্পতিবার, ২৫শে জুন, ২০২৬ ইং
০৫:৩৫ পি.এম
হলদে পাখি সম্প্রসারণের লক্ষ্যে জেলার একটি মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই সভাটি বাংলাদেশ গার্ল গাইডস অ্যাসোসিয়েশন চুয়াডাঙ্গা জেলা শাখার উদ্যোগে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আয়োজন করা হয়।
সভাটি ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে হলদে পাখি সম্প্রসারণ, স্থানীয় প্রশাসন এবং শিক্ষার সাথে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হয়।
চুয়াডাঙ্গার ঝিনুক মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এবং বাংলাদেশ গার্ল গাইড অ্যাসোসিয়েশনের জেলা কমিশনার রেবেকা সুলতানার সভাপতিত্বের মধ্যে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ পরিচালক শারমিন আক্তার উপস্থিত ছিলেন। জেলা গার্ল গাইডসের সাধারণ সম্পাদক রউফুন নাহার রিনার সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় গার্ল গাইডসের কোষাধ্যক্ষ জাহানারা বেগম।
সভায় জানানো হয়, বাংলাদেশ গার্ল গাইডস অ্যাসোসিয়েশন নিরলসভাবে দেশের কন্যাশিশু ও তরুণীদের নেতৃত্ব বিকাশে কাজ করে যাচ্ছে। গাইডিং কার্যক্রমের মূল লক্ষ্য হলো মেয়েদের আত্মনির্ভরশীল, দক্ষ ও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলা। বর্তমানে চুয়াডাঙ্গা জেলার সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এই গাইডিং কার্যক্রম সম্প্রসারণের ব্যাপক সুযোগ রয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় নতুন ইউনিট গঠন, সদস্য বৃদ্ধি এবং প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণের মাধ্যমে গাইডিংকে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে এই মতবিনিময় সভার আয়োজন হয়েছে।
মতবিনিময় সভায় আগামী দিনের গুরুত্বপূর্ণ উদ্দেশ্য ও এজেন্ডা নিয়ে আলোচনা করা হয়। এর মধ্যে অন্যতম হলো জেলার গাইডিং কার্যক্রমের বর্তমান অবস্থা পর্যালোচনা করা, নতুন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে দ্রুত গাইড ইউনিট গঠন এবং সদস্য সংখ্যা বৃদ্ধি করা। এছাড়াও গাইডার ও ইউনিট লিডার তৈরির বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ, প্রশিক্ষণ ও কর্মসূচি বাস্তবায়নে পারস্পরিক সমন্বয় বৃদ্ধি এবং চুয়াডাঙ্গা জেলায় গাইডিং সম্প্রসারণে করণীয় নির্ধারণের বিষয়ে বিশদ আলোচনা করা হয়।
সভায় স্থানীয় প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তা, শিক্ষা কর্মকর্তা, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান এবং বাংলাদেশ গার্ল গাইডস অ্যাসোসিয়েশনের চুয়াডাঙ্গা জেলা শাখার নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ইউরোপের বিশাল অংশজুড়ে জেঁকে বসা রেকর্ড ভাঙা দাবদাহের কারণে স্পেনে মাত্র চার দিনে ২১২ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। ২১ জুন রবিবার থেকে বুধবারের মধ্যে দেশের বিভিন্ন স্থানে এসব মানুষের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে স্পেনের একটি সরকারি সংস্থা। এ বিষয়ে এএফপির একটি প্রতিবেদনে বিস্তারিত তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছে।
স্পেনে চলমান তীব্র দাবদাহের কারণে দৈনিক মৃত্যুর পরিসংখ্যান সংগ্রহ করে অতীতের স্বাভাবিক মৃত্যুর হারের সঙ্গে মিলিয়ে দেখতে থাকে দেশটির মৃত্যু পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা, যা মোমো নামে পরিচিত। মৃত্যুর হারে হঠাৎ বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাব্য ভিন্ন ভিন্ন কারণ খতিয়ে দেখতে সংস্থাটি বাহ্যিক বেশ কিছু বিষয়কেও বিবেচনায় নিয়ে থাকে। এর মধ্যে দেশের জাতীয় আবহাওয়া সংস্থা এইমেটের আবহাওয়ার তথ্যও আছে।
মোমোর প্রদান করা তথ্য অনুযায়ী, জলবায়ু পরিবর্তনের তীব্র ঝুঁকিতে থাকা দেশটিতে গত ২০২৫ সালের গ্রীষ্মে রেকর্ড পরিমাণ গরম পড়েছিল। ওই বছরের জুন মাসের ওই সময়ের (চার দিনে) ৯৮ জনের প্রাণহানি ঘটেছিল।
স্পেন সরকারের এই সংস্থাটি উল্লেখ করেছে, গত বছরের ১৬ মে থেকে ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে গরমজনিত কারণে মৃতের সংখ্যা ৩ হাজার ৮৩২ জনে পৌঁছেছিল। এই সংখ্যা ২০২৪ সালের একই সময়ের তুলনায় ৮৭ দশমিক ৬ শতাংশ বেশি।
চলতি সপ্তাহে স্পেনের মূল ভূখণ্ডে জুন মাসের ইতিহাসে ১৯৫০ সালের পর থেকে সর্বোচ্চ দৈনিক গড় তাপমাত্রা পরিলক্ষিত হয়েছে। সোমবার, ২২ জুন তারিখে, গড় তাপমাত্রা ছিল ২৮ দশমিক ০৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং মঙ্গলবার, ২৩ জুন তারিখে গড় তাপমাত্রা দাঁড়ায় ২৮ দশমিক ১৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসে।
এছাড়া, ওই দুই দিনে ১৯৫০ সালের পর থেকে জুন মাসের সর্বোচ্চ গড় সর্বনিম্ন তাপমাত্রার রেকর্ডও ভেঙেছে। গত সোমবার সর্বনিম্ন গড় তাপমাত্রা ছিল ২০ দশমিক ১৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং মঙ্গলবার ছিল ১৯ দশমিক ৮১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ ধরনের অত্ উপকারী উষ্ণ রাতের কারণে মানুষের ঘুমানা কঠিন হয়ে পড়ছে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি তৈরি করছে।
এই তীব্র আবহাওয়ার কারণে কান্তাব্রিয়া ও বাস্ক কান্ট্রিসহ স্পেনের উত্তর অঞ্চলগুলোতে কঠোর সতর্কতা জারি করা হয়েছে। সাধারণত এসব অঞ্চলে তীব্র গরম অনুভূত হয় না। তবে এবার তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসেরও বেশি ছাড়িয়ে গেছে। উত্তর অংশে তুলনামূলকভাবে কম মাত্রার হলুদ সতর্কতা জারি রাখা হয়েছে, কিন্তু সেখানে বৃহস্পতিবারের মধ্যে আবহাওয়া সংক্রান্ত বেশিরভাগ সতর্কবার্তা তুলে নেওয়া হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন বলেছেন, পবিত্র আশুরার শাশ্বত বাণী মানুষকে অন্যায়-অবিচার এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী হতে শেখায়। সত্য, সুন্দর ও আলোর পথ দেখায়।
আগামীকাল পবিত্র আশুরা (১০ মহররম) উপলক্ষ্যে আজ দেওয়া এক বাণীতে তিনি এ কথা বলেন।
রাষ্ট্রপ্রধান পবিত্র আশুরা উপলক্ষ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ ও সর্বশেষ নবী ও রাসুল হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর প্রাণপ্রিয় দৌহিত্র হজরত ইমাম হোসাইন (রা.)-সহ তাঁর পরিবারের সদস্য এবং কারবালা প্রান্তরে শাহাদতবরণকারী সকল শহিদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও শোক প্রকাশ করেন।
তিনি বলেন, সমগ্র মুসলিম উম্মাহর জন্য পবিত্র আশুরা একটি তাৎপর্যময় ও শোকের দিন। ইসলামের ইতিহাসে আশুরা বহু গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার স্মারক হলেও, কারবালার প্রান্তরে ইমাম হোসাইন (রা.) ও তাঁর সঙ্গীদের আত্মত্যাগ এ দিনটিকে দিয়েছে অনন্য মর্যাদা ও গভীর মানবিক আবেদন।
রাষ্ট্রপতি বলেন, সত্য ও ন্যায় প্রতিষ্ঠা এবং ইসলামের সুমহান আদর্শ সমুন্নত রাখতে তাঁদের আত্মদান মানবজাতির ইতিহাসে চিরজাগরুক হয়ে থাকবে।
পবিত্র আশুরার মহান শিক্ষা সকলের জীবনকে আলোকিত করুক, সে প্রত্যাশা রাষ্ট্রপতি ব্যক্ত করেন।
বাণীতে রাষ্ট্রপতি আরও বলেন, শান্তি ও কল্যাণের ধর্ম ইসলাম মানুষকে সত্য, ত্যাগ, আত্মশুদ্ধি ও ন্যায়ের পথে আহ্বান করে। সব ধরনের হানাহানি, হিংসা, দ্বেষ ও বিভেদ দূর করে মানুষকে সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্যের বন্ধনে আবদ্ধ করে।
তিনি পবিত্র আশুরা উপলক্ষ্যে একটি সাম্য, ন্যায়ভিত্তিক ও মানবিক সমাজ প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি মুসলিম উম্মাহর ঐক্য, সংহতি ও অব্যাহত অগ্রগতি কামনা করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে একেবারে ভিন্ন বাস্তবতায় মুখোমুখি হচ্ছে ইকুয়েডর ও জার্মানি। ইকুয়েডরের সামনে অবশ্য নকআউট পর্বে ওঠার আশাটি বাঁচিয়ে রাখতে জয়ের বিকল্প নেই। অন্যদিকে গ্রুপ ই-তে শীর্ষস্থান নিশ্চিত করার মাধ্যমে কিছুটা স্বস্তিতে মাঠে নামবে জার্মানি।
ইকুয়েডরের ভরসা তাদের তথাকথিত ‘গোল্ডেন জেনারেশন’। দলের পরিকল্পনা হবে মাঝমাঠে ময়েসেস কাইসেদো এবং রক্ষণে পিয়েরো ইনকাপিয়ে ও উইলিয়ান পাচোকে ঘিরে সাজানো। কোচ সেবাস্তিয়ান বেকাসেসে তার সবচেয়ে শক্তিশালী একাদশ নামানোর প্রস্তুতি নিচ্ছেন। লক্ষ্য একটাই—রক্ষণে দৃঢ়তা ধরে রেখে কাঙ্ক্ষিত গোল খুঁজে বের করা।
তবে সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স ইকুয়েডরের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রথম ম্যাচে তারা আইভরি কোস্টের কাছে ১-০ গোলে পরাজিত হয়েছে এবং কুরাসাওয়ের বিরুদ্ধে গোলশূন্য ড্র করেছে। সেই ম্যাচে ২৭টি শট নিয়েও তারা গোল করতে না পারা দলের আক্রমণভাগের দুর্বলতাই হচ্ছে সবচেয়ে বড় চিন্তা।
অন্যদিকে, দুর্দান্ত ছন্দে রয়েছে জার্মানি। টুর্নামেন্টের শুরুতে তারা কুরাসাওকে ৭-১ গোলে বিধ্বস্ত করার পর আইভরি কোস্টকে ২-১ গোলে পরাজিত করে নকআউট পর্ব নিশ্চিত করেছে জুলিয়ান নাগেলসম্যানের দল।
তবে এই ম্যাচে বেশ কয়েকটি পরিবর্তন আনতে যাচ্ছেন জার্মান কোচ। চোটের কারণে টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে গেছেন ডিফেন্ডার নিকো শ্লটারবেক। এছাড়া কাই হাভার্টজ, ফ্লোরিয়ান ভির্টজ ও জামাল মুসিয়ালার মতো তারকাদের বিশ্রাম দেয়া হতে পারে। আক্রমণের নেতৃত্বে দেখা যেতে পারে ডেনিজ উন্ডাভকে।
ইকুয়েডরের সম্ভাব্য একাদশ:
গালিন্দেজ; অর্ডোনেজ, পাচো, ইনকাপিয়ে; ইয়েবোয়া, ফ্রাঙ্কো, কাইসেদো, ভিতে, এস্তুপিনিয়ান; প্লাটা, ভ্যালেন্সিয়া।
জার্মানির সম্ভাব্য একাদশ:
নয়ার; আন্তন, তাহ, রুডিগার, রাউম; গোরেৎস্কা, স্টিলার; লেওলিং, আমিরি, বেইয়ার; উন্ডাভ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে কার্গো জট নিরসনের লক্ষ্যে স্থায়ী সমাধান না হওয়া পর্যন্ত সাপ্তাহিক ছুটির দিনেও কাস্টমস ও সংশ্লিষ্ট সেবা কার্যক্রম চালু রাখার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি একই সঙ্গে বিমানবন্দরের ওপর চাপ কমাতে এর বাইরে আধুনিক সুবিধাসম্পন্ন পৃথক একটি কার্গো ভিলেজ গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) অনুষ্ঠিত বৈঠকে মূল অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণের লক্ষ্যে ইইউ উত্থাপিত নন-ট্যারিফ বাধাসংক্রান্ত বিষয়াদি নিয়ে আলোচনা চলছে। বৈঠকে বিমানবন্দরের কার্গো হ্যান্ডলিং সংকট ও তা নিরসনের উপায় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে।
বর্তমানে শুক্র ও শনিবার বিভিন্ন সেবা কার্যক্রম সীমিত থাকায় বিমানবন্দরে জমে থাকা কার্গোর পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব হয়নি। ফলে স্থায়ী অবকাঠামোগত সমাধান কার্যকর না হওয়া পর্যন্ত ছুটির দিনেও কাস্টমসসহ সংশ্লিষ্ট সব সেবা সচল রাখা প্রয়োজন।
তিনি বলেন, ‘বিমানবন্দর কোনো গুদাম বা দীর্ঘমেয়াদি সংরক্ষণাগার নয়; এটি মূলত পণ্য আগমন ও বহির্গমনের একটি ট্রানজিট পয়েন্ট। কিন্তু বিভিন্ন জটিলতার কারণে কার্গো দীর্ঘ সময় বিমানবন্দরে অবস্থান করলে পুরো ব্যবস্থাপনায় চাপ সৃষ্টি হয় এবং সংকট দেখা দেয়।’
কার্গো ব্যবস্থাপনার দীর্ঘমেয়াদি সমাধান হিসেবে বিমানবন্দরের বাইরে নিরাপদ ও আধুনিক সংরক্ষণ সুবিধাসম্পন্ন একটি পৃথক কার্গো ভিলেজ গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, আগামী ১০ বছরের চাহিদা মাথায় রেখে পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে।
কার্গোর প্রকৃতি অনুযায়ী হ্যাজার্ডাস, নন-হ্যাজার্ডাস, দ্রুত সরবরাহযোগ্য (ফাস্ট-মুভিং) এবং ধীরগতির (স্লো-মুভিং) পণ্যের জন্য পৃথক ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলা হলে কার্গো পরিচালনা আরো দক্ষ, নিরাপদ ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন হবে।
সভায় জানানো হয়েছে, বর্তমানে প্রতিদিন বিমানবন্দরে যে পরিমাণ কার্গো আসছে, প্রায় সমপরিমাণ পণ্য খালাসও হচ্ছে। তবে আগে থেকে জমে থাকা বিপুল পরিমাণ কার্গো দ্রুত কমানো সম্ভব হচ্ছে না। সংশ্লিষ্টদের মতে, সাপ্তাহিক ছুটির দিনে কার্যক্রম সীমিত থাকাও এ অবস্থার অন্যতম কারণ।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, সমস্যার সমাধানে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের মধ্যে ইতিবাচক মনোভাব রয়েছে। স্বল্পমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি—উভয় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েই কাজ চলছে। আগামী সপ্তাহে আবারও বৈঠক করে প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত পর্যালোচনা এবং পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ করা হবে।
তিনি আরো বলেন, ‘বাংলাদেশে অবতরণ করা একটি উড়োজাহাজ এবং বিমানবন্দরে পণ্য খালাসের অভিজ্ঞতাই বিদেশি ক্রেতা ও বিনিয়োগকারীদের কাছে দেশের প্রথম পরিচয়। সেই অভিজ্ঞতা কোনোভাবেই নেতিবাচক হওয়া উচিত নয়। তাই এ সমস্যা দ্রুত সমাধান করা প্রয়োজন।’
বৈঠকে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম বলেন, বিমানবন্দরের কার্গো জট শুধু ব্যবসায়ীদের আর্থিক ক্ষতিই করছে না, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের ভাবমূর্তিকেও ক্ষতিগ্রস্ত করছে। তিনি সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে আগামী সাত দিনের মধ্যে দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখানোর আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, ‘বর্তমান পরিস্থিতিতে যেকোনো সময় দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। তাই দ্রুত কার্গো জট কমিয়ে বিমানবন্দরের স্বাভাবিক কার্যক্রম নিশ্চিত করতে হবে।’
আফরোজা খানম আরো বলেন, আটক ও বাজেয়াপ্ত পণ্যের দ্রুত নিষ্পত্তি এবং বিকল্প সংরক্ষণ ব্যবস্থার মাধ্যমে কার্গোর ওপর চাপ কমানো সম্ভব। ব্যবসায়ীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, সমস্যা থাকলে তা আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করতে হবে; হুমকি বা কর্মবিরতির মতো পদক্ষেপ পরিস্থিতিকে আরো জটিল করে তুলতে পারে।
সভায় অংশগ্রহণকারীরা মত দেন, বিমানবন্দরের কার্গো ব্যবস্থাপনার আধুনিকীকরণ, দ্রুত পণ্য খালাস এবং আন্তর্জাতিক মানের লজিস্টিক সেবা নিশ্চিত করা গেলে ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ বৈশ্বিক বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানি সক্ষমতা আরো শক্তিশালী হবে।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব আতাউর রহমান খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থা, কাস্টমস কর্তৃপক্ষ, কার্গো অপারেটর এবং বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ