০১:৩১ পি.এম
আদালত প্রাঙ্গণ থেকে পারোয়ানাভুক্ত আসামি গাঁজা রফিক রহস্যজনকভাবে সটকে পড়ার ঘটনা এবং এরপর নগরীর শহীদ মিনার সার্কিট হাউজে একটি গোপন স্থানে দাঁড়িয়ে গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের সাথে তার গোপনে কথা বলার বিষয়টি বরিশাল নগরজুড়ে চরম চাঞ্চল্য ও সমালোচনার সৃষ্টি করেছে। অনুসন্ধানে উঠে এসেছে যে, একাধিক গ্রেফতারি পরোয়ানা এবং দ্রুত বিচার আইনের মামলার অন্তর্ভুক্ত আসামি, চিহ্নিত মাদক কারবারি ও অপরাধী ‘গাঁজা রফিক’ অনুসন্ধানী টিমের কর্মকর্তাদের পেছনে লাগিয়ে তুলে একটি নীল নকশা বাস্তবায়নে তৎপরতা চালাচ্ছে। সম্প্রতি তালাশ বিডির অনুসন্ধানী টিমের সেই গোপন বৈঠকের দৃশ্য ধরা পড়েছে।
অনুসন্ধানী সূত্রের মাধ্যমে জানা গেছে যে, গত ৬ই আগস্ট বরিশাল মহানগর ৩য় যুগ্ম জেলা জজ আদালতে একাধিক মামলার গ্রেফতারি পরোয়ানাভুক্ত আসামি ‘গাঁজা রফিক’ আত্মসমর্পণ করতে আসেন। তবে দশা অজানা কোনো কারণে রফিক আদালতে আত্মসমর্পণ না করে আদালত প্রাঙ্গণ থেকে তড়িঘড়ি মোটরসাইকেলে স্থান ত্যাগ করে।
বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হলে তালাশ বিডির একটি অনুসন্ধানী টিম তার পিছু নিয়ে নজর রাখা শুরু করে। একপর্যায়ে দেখা যায়, নগরীর শহীদ মিনার সার্কিট হাউজের একটি গোপন সংলগ্ন এলাকায় বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের (বিএমপি) ডিবি পুলিশের একটি টিমের সঙ্গে গোপনে দীর্ঘক্ষণ কথা বলছে গাঁজা রফিক। তবে সাংবাদিকদের উপস্থিতি টের পেয়ে যায় সে এবং পরে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
আরও পড়ুন: মুসলিম পরিচয়ে প্রেম-বিয়ের আসরে জানা গেল হিন্দু, অতঃপর নাজমা খাতুনের আত্মহত্যা
ডিবি পুলিশের এক সদস্যের কাছে এই আলোচনার বিষয়ে জানার চেষ্টা করলে তিনি প্রাথমিকভাবে তথ্য এড়িয়ে যেতে চান। তিনি বলেন, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সঙ্গে কী কথা হয়েছে তা তাঁর জানা নেই। তবে পরে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অবস্থায় তিনি স্বীকার করেন যে, রফিক ঠিকই তালাশ বিডির সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার মাছুদুর রহমান আসলাম সম্পর্কে কথাবার্তা বলছিল।
অনুসন্ধানে আরো বেরিয়েছে যে, সংশ্লিষ্ট ডিবির ওই কর্মকর্তা এর আগে কোতোয়ালি থানায় দীর্ঘদিন সাব-ইনস্পেক্টর (এসআই) হিসেবে কর্মরত সময় থেকেই আসামি গাঁজা রফিকের সঙ্গে তার গভীর সখ্য গড়ে উঠেছে। অভিযোগ উঠেছে যে, সাংবাদিককে জব্দ করতে এবং অনৈতিক সুবিধা পেতে কাজেই ওই কর্মকর্তার শরণাপন্ন হয় রফিক। এখন সচেতন মহলের প্রশ্ন—পুলিশের সেই কর্মকর্তা কি একজন চিহ্নিত অপরাধীর অন্যায় আবদারকে প্রশ্রয় দিয়ে বাহিনীর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করবেন, নাকি তাঁকে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্ত স্থাপন করবেন?
সম্প্রতি গাঁজা রফিকের বিরুদ্ধে দ্রুত বিচার আইনে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেছেন কোতোয়ালি থানার এসআই রাজিব দাস সনেট। এরপরেই রফিকের স্ত্রী এবং চিহ্নিত মাদক কারবারি অনু বেগম সাংবাদিক মাছুদুর রহমান আসলামকে মুঠোফোনে মামলা তুলে নেওয়ার হুমকি দেয়। মামলা না তুললে তাকে অবৈধ অস্ত্র ও মাদক দিয়ে ফাঁসানোর হুমকি প্রদান করা হয়। উল্লেখ্য, অনু বেগম কিছুদিন আগেই বিপুল পরিমাণ মাদকসহ কোতোয়ালি মডেল থানার সেকেন্ড অফিসার নাসিম খানের হাতে গ্রেফতার হয়েছিল।
হুমকি সংক্রান্ত একটি অডিও কল রেকর্ড সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে নগরজুড়ে ব্যাপক ক্ষোভ সৃষ্টি ফলে। বর্তমানে জামিনে বের হয়ে অনু বেগম নগরীর ১৩ নম্বর ওয়ার্ডে পুনরায় অবাধে মাদক কারবার পরিচালনা করছে বলে অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, গোপনে পুলিশের কিছু অসাধু সদস্যকে মাসোহারা দিয়ে এই মাদক সাম্রাজ্য পরিচালনা করা হচ্ছে। এর আগে আসামি গাঁজা রফিক নিজেও একইভাবে সাংবাদিক মাছুদুরকে মুঠোফোনের মাধ্যমে হুমকি দিয়েছিল।
আরও পড়ুন: চট্টগ্রাম হবে সব ধর্মের মানুষের নিরাপদ ও সম্প্রীতির নগরী: মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন
একাধিক পরোয়ানা থাকা সত্ত্বেও কোতোয়ালি থানায় মাদক মামলা থাকা সত্ত্বেও প্রকাশ্যে হুমকি দেওয়ার পরও কোতোয়ালি থানা পুলিশ কিংবা ডিবি পুলিশ আসামিদের বিরুদ্ধে কোনো দৃশ্যমান আইনি ব্যবস্থা না গ্রহণ করায় বর্তমানে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন পেশাদার অনুসন্ধানী সাংবাদিক মাছুদুর রহমান আসলাম এবং তার পরিবার।
এ বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে তালাশ বিডির সম্পাদক রনি সিকদার বলেন, মাছুদুর রহমান আসলাম দীর্ঘ ১১ বছর ধরে বরিশালে অত্যন্ত সুনামের সঙ্গে বস্তুনিষ্ঠ ও আপসহীন সাংবাদিকতা করে আসছেন। তিনি ধূমপানও করেন না। আদালতের গ্রেফতারি পরোয়ানা থাকা সত্ত্বেও পুলিশ চিহ্নিত আসামি গাঁজা রফিককে গ্রেফতার না করতে পারা বিএমপি পুলিশের একটি ব্যর্থতা মনে করছে রিফিউজি কলোনির বাসিন্দারা। আসামিকে প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ানোর সুযোগ দেওয়া অত্যন্ত উদ্বেগজনক ও খতিয়ে দেখার মতো বিষয়। এছাড়া শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘নাক কাটা রুবেল’ এবং তার বাহিনীর সদস্যরা এখনও অধরা রয়েছে। আমরা বিএমপির নবনিযুক্ত পুলিশ কমিশনারকে আকুল আহ্বান জানাচ্ছি—অবিলম্বে সচল এসব চিহ্নিত সন্ত্রাসী ও মাদক কারবারীদের গ্রেফতার করে নগরবাসীর মনে স্বস্তি ফিরিয়ে দিন। অন্যথায় বরিশাল নগরীতে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে তার দায়ভার নিতে হবে।
এদিকে, পুরো ঘটনার সুরাহা করতে এবং রহস্য উন্মোচনে তালাশ বিডির সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার মাছুদুর রহমান আসলাম খুব শিগগিরই ওই ডিবি কর্মকর্তার মুখোমুখি হবেন এবং অপরাধীর সঙ্গে এমন সখ্যতার প্রকৃত কারণ জানার চেষ্টা করবেন বলে জানা গেছে।
আরও পড়ুন: কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজের ‘বাঁধন’-এর ২৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন