ঢাকা শনিবার, ২৪শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৮ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৩ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শনিবার, ২৪শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৮ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

কাঁঠালিয়ায় কাজ না করেই টিআর প্রকল্পের টাকা আত্মসাতের অভিযোগ, সংবাদ প্রকাশের পর পিআইও বলেন-‘এই টাকার ভাগ রেজওয়ানুর স্যারকে দিতে হয়’


কাঁঠালিয়ায় কাজ না করেই টিআর প্রকল্পের টাকা আত্মসাতের অভিযোগ, সংবাদ প্রকাশের পর পিআইও বলেন-‘এই টাকার ভাগ রেজওয়ানুর স্যারকে দিতে হয়’

ঝালকাঠির কাঁঠালিয়া উপজেলায় টিআর (টেস্ট রিলিফ) প্রকল্পের কাজ বাস্তবায়ন না করেই সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় কাঁঠালিয়া উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মো. জোবায়ের হোসেনের সহযোগিতার অভিযোগও উঠেছে।

জানা গেছে, কাঁঠালিয়া উপজেলায় দুটি প্রেসক্লাব রয়েছে। সাংবাদিকদের মধ্যে সমন্বয় বজায় রাখতে সাবেক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জহিরুল ইসলাম দুটি প্রেসক্লাবের জন্য পৃথকভাবে টিআর প্রকল্পের বরাদ্দ দেন। একটি প্রেসক্লাবের সভাপতি মাসুদুল আলম এবং অপরটির সভাপতি মো. বাদল হাওলাদার।

মাসুদুল আলমের সভাপতিত্বাধীন প্রেসক্লাবের নামে টিআর প্রকল্পের বরাদ্দ দেওয়া হয় এবং ওই প্রকল্পের কাজও হয়েছে বলে জানা যায়। অপর প্রেসক্লাবের সভাপতি মো. বাদল হাওলাদার বরাদ্দ চাইলে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. জোবায়ের হোসেন তাকে জানান, একই নামে বরাদ্দ দেওয়া সম্ভব নয়। তাই অন্য একটি সংগঠনের নাম দিতে হবে। ওই সংগঠনের নামে বরাদ্দ হলেও কাজ প্রেসক্লাবের জন্য করা হবে বলে তাকে জানানো হয়।

আরও পড়ুন: কলিমাজানি নদীর সেতুর কাজ পাঁচ বছরেও শেষ হয়নি

পরবর্তীতে মো. বাদল হাওলাদার একটি সংগঠনের নাম পিআইওর কাছে জমা দেন। তবে অভিযোগ অনুযায়ী, যে সংগঠনের নামে বরাদ্দ দেওয়া হয়, সেই সংগঠনের অন্য সদস্যরা বিষয়টি সম্পর্কে অবগত ছিলেন না। বিষয়টি জানতে পেরে তারা উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করেন।

অভিযোগ রয়েছে, এ সময় প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. জোবায়ের হোসেন মো. বাদল হাওলাদারকে ডেকে জানতে চান, প্রেসক্লাবের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হলেও কাজ কেন করা হয়নি। তখন প্রেসক্লাব সংস্কারের জন্য ২০ হাজার টাকা ব্যয় করা হবে বলে জানানো হয়। কিন্তু দীর্ঘ ছয় মাস অতিবাহিত হলেও সংস্কারকাজের কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখা যায়নি।

অভিযোগকারীদের দাবি, প্রকল্পের বরাদ্দকৃত অর্থ যথাযথভাবে কাজে ব্যয় করা হয়নি। কাজ বাস্তবায়ন না করেই সরকারি অর্থ আত্মসাত করা হয়েছে। এ ঘটনায় উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. জোবায়ের হোসেনের সহযোগিতা রয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।

ইউএনওর বক্তব্য

আরও পড়ুন: ছুটিতে দর্শনার্থীদের পদচারণায় মুখর কাউখালীর ডলফিন চত্বর

এ বিষয়ে কাঁঠালিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা ও মো. বাদল হাওলাদারকে ডেকে মুখোমুখি কথা বলা হবে। প্রেসক্লাবের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল কি না এবং প্রকল্পের কাজ বাস্তবে হয়েছে কি না, তা সংশ্লিষ্টদের উপস্থিতিতে যাচাই করা হবে।

পিআইওর বক্তব্য

অভিযোগের বিষয়ে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. জোবায়ের হোসেনের ব্যবহৃত মুঠোফোনে যোগাযোগ করে বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি বলেন, তার বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশ করায় তার মান-সম্মান নষ্ট হচ্ছে।

একপর্যায়ে প্রকল্পের অর্থের ভাগ-বাটোয়ারা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আপনি যে আমার বিরুদ্ধে নিউজ লিখেছেন, এতে আমার মান-সম্মান নষ্ট হচ্ছে। আপনার কি মনে হয়, এই যে প্রকল্প বলেন—কাজের বিষয়ে বলেন না কেন? রেজওয়ানুর রহমান আমাদের মহাপরিচালক (দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর), তাকেও পারসেন্টেজ দিতে হয়। শুধু তা-ই না, উপজেলা-জেলা সবাইকে কমবেশি দিতে হয়। আপনার যদি আরও কোনো কথা থাকে, স্বপ্নে এসে কথা বলব।”

আরও পড়ুন: আলেমদের নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্যকারীদের উদ্দেশে রফিকুল ইসলাম মাদানির বিস্ফোরক পোস্ট!

তবে পিআইওর এ বক্তব্যের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। তিনি কোন প্রকল্পের অর্থের বিষয়ে এবং কোন প্রেক্ষাপটে এ বক্তব্য দিয়েছেন, সেটিও স্পষ্ট নয়। তার বক্তব্যে সরকারি প্রকল্পের অর্থ থেকে বিভিন্ন পর্যায়ে ‘পারসেন্টেজ’ দেওয়ার যে দাবি উঠে এসেছে, তা তদন্তের দাবি রাখে।

জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তার বক্তব্য

অন্যদিকে, ঝালকাঠি জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা, যিনি বর্তমানে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন, বিষয়টি সম্পর্কে বলেন, “আমি বিষয়টি জানি না। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

অভিযোগকারীদের দাবি, প্রকল্পের বরাদ্দপত্র, প্রকল্পের নথি, বিল-ভাউচার ও অর্থ উত্তোলনের তথ্য যাচাইয়ের পাশাপাশি প্রকল্পের স্থান সরেজমিনে পরিদর্শন করা হলে প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসবে। তারা অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

আরও পড়ুন: বরিশালে পানি উন্নয়ন বোর্ডের সিবিএ আওয়ামী লীগপন্থী নেতা তুহিনের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, সুদের কারবার নির্যাতনে দিশেহারা অসহায় মানুষ

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর
এসএসসির ফলাফল

শতভাগ জিপিএ ৫ পেয়ে দেশসেরা নরসিংদীর নাছিমা কাদির মোল্লা হাই স্কুল অ্যান্ড হোমস

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ১০ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০১:০৬ পি.এম


শতভাগ জিপিএ ৫ পেয়ে দেশসেরা নরসিংদীর নাছিমা কাদির মোল্লা হাই স্কুল অ্যান্ড হোমস

এসএসসির ফলাফলে ধারাবাহিকভাবে দেশসেরা ফলাফল করেছে নরসিংদীর নাছিমা কাদির মোল্লা হাই স্কুল অ্যান্ড হোমস।

এ বছর ৩৮২ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে শতভাগ পাসসহ ৩৮২ জনই জিপিএ ৫ পেয়েছে।

আজ সোমবার (১০ আগস্ট) বেলা ১২টায় অনলাইনে এসএসসির ফলাফল ঘোষণার পর এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন স্কুলের প্রধান শিক্ষক মো. ইমন হোসেন।

প্রতিষ্ঠানের ধারাবাহিক সাফল্যে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা আবদুল কাদির মোল্লা ও মিসেস নাছিমা মোল্লা।

এর আগে ২০২২, ২০১৭, ২০১৫ ও ২০২৫ সালে শতভাগ পাসসহ শতভাগ জিপিএ-৫ পেয়ে দেশ সেরা ফলাফল অর্জন করেছিল এই প্রতিষ্ঠানটি।

বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, নাছিমা কাদির মোল্লা হাই স্কুল অ্যান্ড হোমস ২০০৮ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে পিইসি, জেএসসি ও এসএসসিতে টানা শতভাগ পাসসহ ফলাফলের ভিত্তিতে প্রায় প্রতি বছরই বোর্ডে দেশ সেরার স্থান দখল করে আসছে।

এরই ধারাবাহিকতায় এবার এসএসসি পরীক্ষায় বিজ্ঞান বিভাগ থেকে ৩৭৬ জন ও ব্যবসায় শিক্ষা শাখা ৬ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে শতভাগ পাসসহ ৩৮২ শিক্ষার্থীর সবাই জিপিএ ৫ পেয়েছে।

এর আগে গতবছর ৩২০ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে ৩২০ জনই জিপিএ ৫ পেয়েছিল।

২০২৪ সালে ২৯৪ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে ২৯৩ জন জিপিএ ৫ পেয়েছিল।

গত ২০২৩ সালে ২৭৮ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে শতভাগ পাসসহ ২৭০ জন জিপিএ ৫ পেয়েছিল।

২০২২ সালে ২৬৬ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে শতভাগ পাসসহ ২৬৬ জনই জিপিএ ৫ পেয়েছিল।

এ ছাড়া ২০২১ সালে ২৪৭ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে শতভাগ পাসসহ ২৩৭ জন জিপিএ ৫ পেয়েছিল।

২০২০ সালে ২১৪ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে শতভাগ পাসসহ ২০০ জন জিপিএ ৫ পেয়েছিল।

২০১৯ সালে ১৭১ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে শতভাগ পাসসহ ১৬৮ জন জিপিএ ৫ পেয়েছিল।

২০১৮ সালে ১৩৯ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে শতভাগ পাসসহ ১৩৭ জন জিপিএ ৫ পেয়েছিল এবং ২০১৭ সালের এসএসসি পরীক্ষায় ১৬৪ জন শিক্ষার্থী অংশ নিয়ে সবাই জিপিএ ৫ পেয়েছিল।

বিজ্ঞান বিভাগের জিপিএ ৫ পাওয়া মুশফিকুর হাসান সিয়াম শাহজাদি সিদ্দিকী জানায়, ‘দেশের নানা প্রতিকূলতার কারণে পড়ালেখার অনেক ব্যাঘাত ঘটেছিল।

শিক্ষকদের কঠোর পরিশ্রমে আমরা তা কাভার করতে পেরেছি।

আজকে আমাদের দেশ সেরা ফলাফলে সব দুঃখ কষ্ট মুছে যাবে।

বিজ্ঞান বিভাগের জিপিএ ৫ পাওয়া আরেক শিক্ষার্থী বলেন, এই ফলাফলের জন্য আমাদের বিদ্যালয়ের চেয়ারম্যান স্যারের নির্দেশনায় শিক্ষকদের অক্লান্ত পরিশ্রম, সঠিক দিক-নির্দেশনা, নিয়মিত ক্লাস, বিশেষ ক্লাস, গাইড টিচারের মাধ্যমে নিয়মিত হোম ভিজিট, টিউটেরিয়াল ও মাসিক পরিক্ষার কারণেই এই ভাল ফলাফল সম্ভব হয়েছে।

নাছিমা কাদির মোল্লা হাই স্কুল অ্যান্ড হোমসের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও থার্মেক্স গ্রুপের চেয়ারম্যান আবদুল কাদির মোল্লা বলেন, আমাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি বরাবরই ভাল ফলাফল করছে।

এবার শতভাগ পাসসহ শতভাগ জিপিএ ৫ পেয়ে দেশ সেরা ফলাফলের ধারাবাহিকতা অব্যাহত রেখেছে।

সারা দেশের সার্বিক ফলাফল বিশ্লেষণ করলে আশা করছি আমরা দেশসেরা অবস্থানে থাকব।

মুলত নরসিংদীর মত মফস্বল শহরে মানসম্মত শিক্ষা প্রদানের অঙ্গীকার নিয়েই আমি ও আমার সহধর্মীনী নাসিমা বেগম স্কুলটি প্রতিষ্ঠা করেছিলাম।

আমি সবসময় চেয়েছি সুশিক্ষার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা মানব সম্পদে পরিণত হউক।

যাতে আমাদের সমাজে সার্টিফিকেটধারি শিক্ষিত বেকার তৈরী না হয়।

তিনি আরো বলেন, একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের চারটি স্তম্ভ।

পরিচালনা পর্ষদ, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবক।

আমাদের ভালো ফলাফলের মূল কারণ- আমরা একে অপরের কাছ থেকে কখনো বিচ্ছিন্ন হতে দেই না।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. ইমন হোসেন বলেন, ‘একটি বিদ্যালয়ের ভাল ফলাফলের মূল মন্ত্র হচ্ছে বিদ্যালয়ের পরিচালনা পর্ষদ, শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে সমন্বয়।

আর আমাদের মূলমন্ত্র হচ্ছে আবদুল কাদির মোল্লা।

স্যারের ইনোভেটিভ চিন্তা-চেতনা, সময়োপযোগী সঠিক দিক নির্দেশনায় আমাদের এই ফলাফল অব্যাহত আছে।

এছাড়া আমাদের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা এতো কঠোর পরিশ্রম করেন যেখানে ভালো ফলাফল করতে বাধ্য।

আমরা শুধু একাডেমিক ফলাফলে নয়, কো-এক্টিভিটি কারিকোলামেও দেশ সেরা অর্জন করে আসছি।

নরসিংদীতে মানসম্মত শিক্ষা দানের অঙ্গীকার নিয়ে ২০০৮ সালে শহরের ভেলানগর এলাকায় থার্মেক্স গ্রুপের চেয়ারম্যান আবদুল কাদির মোল্লা নরসিংদীতে তার এবং তার স্ত্রী মিসেস নাসিমা বেগমের নামে যৌথভাবে নাছিমা কাদির মোল্লা হাইস্কুল অ্যান্ড হোমস প্রতিষ্ঠা করেন।

বর্তমানে ১৭৪ জন তরুণ ও মেধাবী শিক্ষক-শিক্ষিকার সার্বিক তত্ত্বাবধানে স্কুলটি কঠোর শৃঙ্খলার মধ্যে দিয়ে পরিচালিত হয়ে আসছে।

বর্তমান স্কুলটির শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় ৫ হাজার ২০০ জন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রাজধানীতে গত ২৪ ঘণ্টায় গ্রেপ্তার ৪৮২ জন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ১০ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০১:০৯ পি.এম


রাজধানীতে গত ২৪ ঘণ্টায় গ্রেপ্তার ৪৮২ জন

ঢাকায় পুলিশের নিয়মিত অভিযানে গত ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ৪৮২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। একই সময়ের মধ্যে ৪৮টি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

এই সময়ে সর্বোচ্চ সংখ্যক গ্রেপ্তার হয়েছে মিরপুর এলাকায়।

সোমবার (১০ আগস্ট) ডিএমপির অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (এডিসি) নিয়াজ মেহেদী এ তথ্য জানিয়েছেন। তিনি আরও জানান, গ্রেপ্তারদের মধ্যে রমনা বিভাগের ৩৪ জন, লালবাগ বিভাগের ২৪ জন, ওয়ারী বিভাগের ৬৪ জন, মতিঝিল বিভাগের ৮৭ জন, তেজগাঁও বিভাগের ৬৭ জন, মিরপুর বিভাগের ১১৪ জন, গুলশান বিভাগের ৩৩ জন, উত্তরা বিভাগের ৫০ জন, গোয়েন্দা বিভাগের ৮ জন এবং সিটিটিসি বিভাগের ১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

এই সময় গ্রেপ্তারকৃতদের কাছ থেকে মাদক বিক্রির নগদ ২ লাখ ৯০ হাজার টাকা, ২ লাখ ৩০ হাজার টাকা মূল্যের ৪টি মিউজিক সিস্টেম, ৫টি মোবাইল ফোন, ১টি চাকু, ১টি সিএনজি চালিত অটোরিকশা, ১৫৭টি সিম, ৩টি মোটরসাইকেল, ১টি পিস্তল, ১টি ম্যাগাজিন, ১টি রিভলভার, ৬ রাউন্ড গুলি, ১২টি হাসুয়া, ১টি বেসবল ব্যাট, ১টি ডাসা, ১টি ছোরা, ১টি কাটার, ৭৬৯৯ ইয়াবা, ৬৫ কেজি ৫০০ গ্রাম গাঁজা, ৯টি ইনজেকশন এবং ২২ লিটার ৫০০ মিলি বিদেশি মদ জব্দ করা হয়েছে।

রাজধানীর বিভিন্ন থানা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করা হয় এবং বিভিন্ন আলামত ও মাদকদ্রব্য উদ্ধারসহ তাদের গ্রেপতার করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মাধবপুরে দাখিলে কমলপুর হযরত শাহজালাল (রহ.) আলিম মাদ্রাসার সাফল্য, পাসের হার ৭৮.৩৮%

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মোঃ শরীফ উদ্দিন

সোমবার, ১০ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০১:১০ পি.এম


মাধবপুরে দাখিলে কমলপুর হযরত শাহজালাল (রহ.) আলিম মাদ্রাসার সাফল্য, পাসের হার ৭৮.৩৮%

হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার কমলপুর হযরত শাহজালাল (রহ.) আলিম মাদ্রাসা থেকে ২০২৬ সালের দাখিল পরীক্ষায় সন্তোষজনক ফলাফল অর্জন করেছে শিক্ষার্থীরা। এ বছর প্রতিষ্ঠানটির ৩৭ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ২৯ জন উত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৭৮.৩৮ শতাংশ। এর মধ্যে চারজন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ (A+) অর্জন করেছে।
মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এ বছর মোট ৩৭ জন শিক্ষার্থী দাখিল পরীক্ষায় অংশ নেয়। তাদের মধ্যে ২৯ জন উত্তীর্ণ এবং ৮ জন অকৃতকার্য হয়েছে।
জিপিএ-৫ (A+) অর্জনকারী শিক্ষার্থীরা হলেন—
১. মোছাঃ ফাতেমা আক্তার — রোল: ৩০৮২০৬
২. মোছাঃ খাদিজা আক্তার — রোল: ৩০৮২২৭
৩. মোছাঃ তাহিয়া আক্তার পলি — রোল: ৩০৮২২৯
৪. মোছাঃ তানিয়া আক্তার — রোল: ৩০৮২৬১
মাদ্রাসার ফলাফলের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, A গ্রেড পেয়েছে ১৪ জন, A- গ্রেড ৭ জন, B গ্রেড ২ জন এবং C গ্রেড পেয়েছে ২ জন শিক্ষার্থী। এছাড়া ৮ জন পরীক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়েছে।
চমৎকার এই ফলাফলে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন কমলপুর হযরত শাহজালাল (রহ.) আলিম মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মোঃ আনিসুর রহমান আদিল। তিনি বলেন, শিক্ষকদের আন্তরিক প্রচেষ্টা, শিক্ষার্থীদের কঠোর পরিশ্রম এবং অভিভাবকদের সহযোগিতার কারণেই এ সাফল্য এসেছে। তিনি উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানান এবং ভবিষ্যতে আরও ভালো ফলাফলের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
মাদ্রাসার শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে এ ফলাফলকে ঘিরে আনন্দ ও সন্তোষ বিরাজ করছে। স্থানীয়রা বলছেন, প্রত্যন্ত এলাকার এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের এমন ফলাফল নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

এমপিওভুক্তির ক্ষেত্রে নিয়োগের পর নতুন শর্তে বঞ্চিত করা যাবে না : হাইকোর্ট

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

সোমবার, ১০ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০১:২৭ পি.এম


এমপিওভুক্তির ক্ষেত্রে নিয়োগের পর নতুন শর্তে বঞ্চিত করা যাবে না : হাইকোর্ট

বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়োগের ক্ষেত্রে নিয়োগকালীন বিধিমালা উপেক্ষা করে নতুন কোনো শর্ত বা বিধি অতীত থেকে বলবৎ দেখিয়ে শিক্ষক-কর্মচারীদের আইনগত অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হবে না, মর্মে রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট।

এমপিও সংক্রান্ত চার শিক্ষকের করা এক রিটের পরিপ্রেক্ষিতে জারি করা রুল যথাযথ ঘোষণা করে দেওয়া রায়ে এমন যুগান্তকারী পর্যবেক্ষণ দিয়েছেন হাইকোর্ট।

মো. আবু হানিফ ও অন্যান্য বনাম রাষ্ট্র এবং অন্যান্য শীর্ষক মামলায় হাইকোর্ট এমন পর্যবেক্ষণ দিয়েছেন।

গত ৩০ জুন বিচারপতি শশাঙ্ক শেখর সরকার এবং বিচারপতি উর্মি রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চের দেওয়া ওই রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি সোমবার (১০ আগস্ট) প্রকাশিত হয়েছে। ওই মামলার মূল রায়টি লিখেছেন বেঞ্চের কনিষ্ঠ বিচারপতি উর্মী রহমান।

রায় প্রদানের সময় আদালতে রিট আবেদনের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মো. আতাউর রহমান।

রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ ওয়ালিউল ইসলাম অলি ও মোহাম্মদ রাশেদুল হাসান।

মামলার নথি পর্যালোচনায় দেখা যায়, ২০১৫ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির আলোকে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন প্রবিধান (রেগুলেশন ২০১৫) অনুসরণ করে নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার রোজি মোজাম্মেল মহিলা কলেজে অর্থনীতি, মনোবিজ্ঞান, ইংরেজি ও সমাজকল্যাণ বিভাগে প্রভাষক (তৃতীয় শিক্ষক) পদে ২০১৫ সালের ২৯ ডিসেম্বর নিয়োগ পান মো. আবু হানিফসহ চারজন শিক্ষক। নিয়োগের পরদিন ৩০ ডিসেম্বর তারা প্রভাষক পদে যোগদান করেন।

পরবর্তী সময়ে ২০২০ সালের ১৯ এপ্রিল কলেজটি এমপিওভুক্ত হয়।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২০১৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর তারিখের এনটিআরসিএ পরিপত্রের পূর্বে বিজ্ঞপ্তিপ্রাপ্ত এবং ২০১৬ সালের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে নিয়োগপ্রাপ্ত তৃতীয় শিক্ষকদের এমপিওভুক্তির সুযোগ দেওয়া হয়। সেই মোতাবেক মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) কর্তৃক প্রকাশিত ৭২৬ জন শিক্ষকের তালিকায় তাদের নামও অন্তর্ভুক্ত ছিল। কিন্তু চূড়ান্ত পর্যায়ে অনলাইন প্রক্রিয়ায় তাদের এমপিও আবেদন এই অজুহাতে নামঞ্জুর করা হয় যে, তাদের ‘NTRCA সনদ নেই’। পরে ওই সিদ্ধান্তের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করেই চার শিক্ষক উচ্চ আদালতে রিট আবেদন করেন।

রায়ের পর্যবেক্ষণে আদালত বলেন, নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষের প্রশাসনিক প্রয়োজনে চাকরির বিধিমালা পরিবর্তন বা পরিমার্জনের এখতিয়ার রয়েছে, তবে তা কোনোভাবেই এর আগে চাকরিতে যোগদানকারী কর্মচারীর অর্জিত অধিকারকে ক্ষুণ্ন করতে পারে না।

রায়ে নিয়োগকালীন প্রবিধানের প্রাধান্য পাওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করে আদালত বলেছেন, ২০১৫ সালে যখন এই চার শিক্ষককে নিয়োগ দেওয়া হয়, তখন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধিমালায় এনটিআরসিএ সনদের কোনো শর্ত ছিল না। ডিগ্রি (পাস) পর্যায়ের কলেজ শিক্ষকদের জন্য এই সনদের বাধ্যবাধকতা ২০১৯ সালের প্রবিধানে প্রথম জারি করা হয়।

আদালত আরো বলেছেন, রাষ্ট্রপক্ষ তৃতীয় শিক্ষক পদটি জনবল কাঠামোতে নেই বলে দাবি করলেও সরকার নিজেই একাধিক পরিপত্রের মাধ্যমে তৃতীয় শিক্ষকদের এমপিও সুবিধার আওতায় আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ফলে এই দাবির কোনো আইনি ভিত্তি নেই।

আদালত বলেন, এমপিও মঞ্জুর করা সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্তের বিষয় হলেও, তা যদি যুক্তিসঙ্গত আইনি ভিত্তি ছাড়া খেয়ালখুশিমতো বা স্বেচ্ছাচারী উপায়ে করা হয়, তবে তা সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী বিচার্য বিষয় হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হতে পারে।

চূড়ান্ত রায়ে হাইকোর্ট এনটিআরসিএ সনদ না থাকার অজুহাতে চার প্রভাষকের এমপিও আবেদন প্রত্যাখ্যানের অনলাইন সিদ্ধান্তকে বাতিল করে ২০২৪ সালের নভেম্বর মাস থেকে রিটকারী চারজনের নাম মান্থলি পে অর্ডার (এমপিও) তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার নির্দেশ দেন।

রায়ে আদেশের অনুলিপি প্রাপ্তির ৬০ দিনের মধ্যে ২০২৪ সালের নভেম্বর থেকে প্রযোজ্য সব বকেয়াসহ আর্থিক সুবিধাদি চার রিটকারীকে পরিশোধ করার জন্য মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিবসহ বিবাদীদের প্রতি নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৩ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৪
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৪৮
মাগরিব ০৫:২৫
ইশা ০৬:৩৭
সূর্যোদয় : ০৬:০০ সূর্যাস্ত : ০৫:২৫
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%