০৭:৪০ পি.এম
ইংলিশ চ্যানেল সংলগ্ন ফ্রান্সের উত্তরাঞ্চলীয় উপকূলে সমুদ্র পারাপারের ব্যস্ততম দিনগুলোতে মানব পাচারকারী ও অবৈধ অভিবাসীদের দমনে অতিরিক্ত দাঙ্গা পুলিশ মোতায়েন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ফ্রান্স।
এই উদ্দেশ্যে ‘কম্পানি রিপাবলিকেন ডি সেকিউরিট’ (সিআরএস)-এর ৫০ জন বিশেষজ্ঞ পুলিশ সদস্য নিয়ে একটি দল গঠন করা হয়েছে। এই দলটি পাচারকারীদের নতুন কৌশল মোকাবেলা করতে প্রস্তুত। বর্তমানে মানব পাচারকারীরা অপেক্ষাকৃত বড় আকারের ডিঙ্গি নৌকা ব্যবহার করছে এবং সেগুলো ফ্রান্সের উত্তর উপকূলের আরও পশ্চিম দিক থেকে সাগরে নামাচ্ছে।
অতিরিক্ত পুলিশ সদস্যদের বিশেষ জনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী ক্ষমতা প্রদান করা হয়েছে। তারা প্রয়োজনবোধে টিয়ার গ্যাস, ডিসপারসাল গ্রেনেড, ওয়াটার ক্যানন এবং রাবার বুলেটের মতো দাঙ্গা দমন সরঞ্জাম ব্যবহার করতে পারবেন। উচ্চপর্যায়ের কোনো সহিংস পরিস্থিতির সম্মুখীন হলে আগাম সতর্কতা ছাড়াই তাৎক্ষণিক বলপ্রয়োগ করার আইনি এখতিয়ার দেওয়া হয়েছে তাদের কমান্ডারদের।
আরও পড়ুন: ইন্দোনেশিয়ায় দাবানল নেভাতে গিয়ে প্রাণ গেল ৪ জনের
দ্য গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, পাচারকারী চক্রের ক্রমবর্ধমান সহিংসতা, সমুদ্র সৈকত দিয়ে বিপুল সংখ্যক মানুষের অনুপ্রবেশের চেষ্টা এবং অস্ত্র বা পাথর ব্যবহারের মতো আক্রমণাত্মক কৌশল বানচাল করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
নতুন এই ৫০ জন কর্মকর্তা ২০২৭ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করবেন, যার মাধ্যমে এই অঞ্চলের বিশেষ দাঙ্গা পুলিশ বাহিনীর সদস্যসংখ্যা বেড়ে ১০০ জনে দাঁড়াবে। তারা বর্তমানে সেখানে নিয়োজিত ১,০৫০ জন ফরাসি জেন্ডারমে ও সাধারণ পুলিশের বাইরে কাজ করবেন। উল্লেখ্য, যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদের সঙ্গে চলতি বছরের শুরুর দিকে স্বাক্ষরিত ৬৬ কোটি ২০ লাখ পাউন্ডের চুক্তির আওতায় উক্ত ১,০৫০ জন সদস্যের অর্থায়ন করছে যুক্তরাজ্য।
বর্তমানে দায়িত্বরত ১,০৫০ জন সদস্যের মধ্যে রয়েছে ৫০ সদস্যের স্থায়ী সিআরএস দাঙ্গা ইউনিট, ৭৫ সদস্যের একটি বিশেষ মাইগ্রেশন ইউনিট এবং একটি এলিট মেরিন টিম। এই মেরিন টিমটি গত বসন্ত থেকে এখন পর্যন্ত সমুদ্রে পাচারকারীদের অন্তত ১৫টি 'ট্যাক্সি বোট' পথরোধ করেছে, যার অনেকগুলোই সৈকতে অভিবাসীদের তোলার আগেই আটকে দেওয়া সম্ভব হয়েছিল।
অতিরিক্ত ৫০ জন দাঙ্গা পুলিশ সদস্য মূলত সেই সব 'লাল চিহ্নিত' দিনে মোতায়েন থাকবেন, যেসব দিনে আবহাওয়া ও সমুদ্রের পরিস্থিতি নৌকা পারাপারের জন্য সবচেয়ে সুবিধাজনক থাকে। সাধারণত বছরে এ ধরনের আবহাওয়া বছরের মোট দিনগুলোর প্রায় এক-তৃতীয়াংশ হয়ে থাকে।
আরও পড়ুন: জাপানে বিদেশি বাসিন্দার সংখ্যা নতুন রেকর্ড ৪২ লাখ ৮১ হাজার ২৬
যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদ বলেন, "নির্বাচনের পর থেকে এখন পর্যন্ত ৫০,০০০-এরও বেশি অবৈধ পারাপারের চেষ্টা প্রতিরোধ করা সম্ভব হয়েছে এবং অভিবাসীদের আগমনের সংখ্যাও উল্লেখজনকভাবে কমেছে। চ্যানেলের উভয় পাড়ের যৌথ প্রচেষ্টা ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে।"
তিনি আরও যোগ করেন, "পুলিশের প্রতিটি প্রতিরোধই এই অবৈধ ব্যবসার পেছনে থাকা পাচারকারীদের জন্য একেকটি বড় ধাক্কা। তবে আমরা এতেই আত্মতুষ্ট হয়ে বসে থাকছি না। আমরা এসব অপরাধী চক্রের পেছনে লাগাতার তাড়া চালিয়ে যাব এবং ছোট নৌকার অবৈধ অনুপ্রবেশ বন্ধ করব।"
চলতি বছরে এখন পর্যন্ত প্রায় ২১,০০০ অভিবাসী সমুদ্রপথে যুক্তরাজ্যে পৌঁছেছে, যা গত বছরের একই সময়ের (৩৫,২৫৮ জন) তুলনায় প্রায় ৪০ শতাংশ কম। যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জুন থেকে সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত সময়কে ২০২০ সালের পর থেকে সবচেয়ে কম গ্রীষ্মকালীন অনুপ্রবেশের সময় হিসেবে চিহ্নিত করেছে।
সম্প্রতি ২৮ সেপ্টেম্বর বেলজিয়াম থেকে ছেড়ে আসা একটি ট্যাক্সি বোট মাঝসাগরে ফরাসি পুলিশ আটক করে এবং দুই নৌচালককে গ্রেপ্তার করে। এছাড়া পুলিশের ওপর হামলার অভিযোগে নৌকার আরও তিন যাত্রীকে গ্রেপ্তার করা হয়।
আরও পড়ুন: ট্রাম্পের সঙ্গে টানাপোড়েন, ইউক্রেনের ক্ষেপণাস্ত্র সংকটে উদ্বেগ
এর আগে ২২ সেপ্টেম্বর, ড্রোন প্রযুক্তি ব্যবহার করে একটি ভ্যান গাড়ি চিহ্নিত করে ফরাসি পুলিশ। গাড়িটি ছোট নৌকার সরঞ্জাম নিয়ে উপকূলের দিকে যাচ্ছিল। নিরাপত্তা বাহিনী গাড়িটি আটকে চালককে গ্রেপ্তার করে এবং ভেতরের সব সরঞ্জাম বাজেয়াপ্ত করে।
একই দিনে ফরাসি নিরাপত্তা বাহিনী সৈকতের দিকে রওনা হওয়া প্রায় ১০০ জন অভিবাসীর একটি দলকে নজরদারিতে রাখে। দলটি যে নৌকায় ওঠার প্রস্তুতি নিচ্ছিল, পুলিশ সদস্যরা তা অকেজো করে দেয়। ফলে ঝুঁকিপূর্ণ একটি গণ-যাত্রার চেষ্টা ভেস্তে যায় এবং অনেক মানুষের জীবন রক্ষা পায়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন