বৃহস্পতিবার, ২ই জুলাই, ২০২৬ ইং
০১:০৪ পি.এম
ঢাকা, ২ জুলাই, ২০২৬ : রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় বৃহস্পতিবার ভোরে ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভের পরিবেশ কেঁপে উঠেছে। এই হামলায় অন্তত আট জন প্রাণ হারিয়েছেন এবং আহত হয়েছেন আরও বেশ কয়েকজন।
এর আগে, প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি সতর্ক ইঙ্গিত করে বলেছিলেন, মস্কো ‘বড় ধরনের হামলার’ প্রস্তুতি নিচ্ছে।
চার বছরেরও অধিক সময় ধরে চলা এই যুদ্ধে রাশিয়া নিয়মিতভাবে কিয়েভসহ দেশের বিভিন্ন শহরে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর এটিই ইউরোপের সবচেয়ে প্রাণঘাতী সংঘাত হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
কিয়েভ থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ তথ্য জানিয়েছে।
ইউক্রেনের বিমান বাহিনী রাজধানীমুখী ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের সতর্কবার্তা প্রকাশের পর এ হামলা সম্পন্ন হয়। এর আগে, বুধবার গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে আসন্ন রুশ হামলার আশঙ্কা প্রকাশ করে আয়ারল্যান্ডের ডাবলিন সফর সংক্ষিপ্ত করে দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত নেন জেলেনস্কি।
কিয়েভের মধ্য ও পূর্বাঞ্চলে অবস্থানরত এএফপির সাংবাদিকরা বেশ কিছু সংখ্যা বিস্ফোরণের আওয়াজ শোনেন। এ সময় শিশু ও পোষা প্রাণী নিয়ে অসংখ্য বাসিন্দাকে মেট্রো স্টেশনের আশ্রয়কেন্দ্রে গিয়ে ছুটতে দেখা গেছে।
শহরের সামরিক প্রশাসনের প্রধান তিমুর তকাচেঙ্কো হামলা সম্পর্কে বলেন, আটজনের মৃত্যু ঘটেছে এবং শিশুসহ অন্তত ২৫ জন আহত হয়েছেন। তিনি বেসামরিক মানুষের উপর এবং আবাসিক এলাকায় ইচ্ছাকৃত হামলার তীব্র নিন্দা করেন।
আঞ্চলিক গভর্নর মিকোলা কালাশনিক জানান, হামলায় বৃহত্তর কিয়েভ অঞ্চলের পাঁচটি জেলা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
তিনি টেলিগ্রামের মাধ্যমে জানিয়ে দেন, ‘রাতের মধ্যে শত্রুপক্ষ আবারও কিয়েভ অঞ্চলে হামলা চালিয়েছে। এতে হামলাকারী ড্রোন, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে।’
তিনি আরও জানান, বুচা জেলায় একটি গুদাম ও একটি আবাসস্থলে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে জরুরি সেবাকর্মীরা কাজ করছেন। এছাড়া অঞ্চলের অন্যান্য এলাকা যেমন বাড়িঘর, একটি ছাত্রাবাস ও বিভিন্ন যানবাহন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
এর কিছু ঘণ্টা আগে বিমান হামলার সতর্কতা জারির সময় কিয়েভের কেন্দ্রস্থলে একটি বিস্ফোরণ প্রত্যক্ষ করেন এএফপির একজন সাংবাদিক। এরপর সেখানে ধোঁয়া ও আগুনের কুণ্ডলী দেখা যায়। ঘটনাস্থলে দ্রুত দমকলকর্মী ও অ্যাম্বুলেন্স পৌঁছায়।
প্রথম বিস্ফোরণের প্রায় ৫০ মিনিট পর একই এলাকার কাছাকাছি দ্বিতীয় এক বিস্ফোরণ ঘটেছিল। এতে বাতাসে ধ্বংসাবশেষ ছিটকে পড়ে।
ভোরের পর ইউক্রেনের জরুরি সেবা বিভাগের প্রকাশিত ছবিতে একটি আবাসিক ভবনের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির চিত্র ফুটে উঠেছে। ভবনের একটি বড় অংশ ধসে পড়েছে।
আশ্রয়কেন্দ্রে রাত কাটানোর দুর্ভোগের কথাও কিছু বাসিন্দা তুলে ধরেছেন।
৩২ বছর বয়সী চিকিৎসক কাতেরিনা কুচেরিয়াভা এএফপিকে বলেন, ‘এটা খুব কঠিন। আমার সন্তান পুরোপুরি নীরব ও অন্ধকারে ঘুমাতে অভ্যস্ত।’
তিনি যোগ করেন, ‘আমি তাকে কোলে করে নিচে নিয়ে আসি। সে জেগে গেছে। এখন সে আর ঘুমাচ্ছে না। আমরা আবার ঘুম পাড়ানোর চেষ্টা করছি। কিন্তু বারবার তার মনোযোগ অন্যদিকে চলে যাচ্ছে। এখানে আলো জ্বলছে, কুকুর ঘেউ ঘেউ করছে, আশপাশে অন্যান্য শিশুরাও রয়েছে।’
-‘আশ্রয়কেন্দ্র ব্যবহার করুন’-
জেলেনস্কি বুধবার বলেন, গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী রাশিয়া বড় ধরনের হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে। এ কারণে তিনি ডাবলিন সফর সংক্ষিপ্ত করে দেশে ফিরছেন।
এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘আমি দেশের মানুষকে বিশেষভাবে সতর্ক থাকার আহ্বান জানাচ্ছি। নিজেদের, নিজেদের সন্তানদের ও অবশ্যই পরিবারের সদস্যদের সুরক্ষিত রাখুন। আশ্রয়কেন্দ্র ব্যবহার করুন ও ইউক্রেনে বিমান হামলার সতর্কবার্তা মেনে চলুন। এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’
তিনি বলেন, রুশ প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিন ‘কিছুদিন ধরে ইউক্রেনের বিরুদ্ধে এই বড় ধরনের হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।’
সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে রাশিয়ার অভ্যন্তরে ইউক্রেনও দূরপাল্লার ড্রোন হামলায় শক্তি বাড়িয়েছে।
এসব হামলার লক্ষ্যমাত্রা ছিল জ্বালানি অবকাঠামো ও সামরিক স্থাপনা।
রুশ কর্মকর্তারা সীমান্তবর্তী অঞ্চলে বারবার ইউক্রেনীয় হামলার ঘটনা জানিয়েছেন। অন্যদিকে, মস্কোর দাবি, সাম্প্রতিক কয়েক দিনে তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ইউক্রেনের শত শত ড্রোন ভূপাতিত করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ (সিএসআইএস) বুধবার প্রকাশিত এক গবেষণায় জানিয়েছেন, রাশিয়ার আগ্রাসনের ফলে ইউক্রেন যুদ্ধে ২০ লক্ষাধিক সামরিক হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে মস্কোর বাহিনী।
এদিকে সংঘাতের অবসানে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতার চেষ্টা এখন পর্যন্ত সফল হয়নি।
জেলেনস্কি বুধবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে বলেন, ‘রাশিয়ার নেতা যুদ্ধ বন্ধ করতে সম্পূর্ণভাবে অস্বীকৃতি জানাচ্ছেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘সম্ভাব্য সব আনুষ্ঠানিক ও অনানুষ্ঠানিক যোগাযোগের মাধ্যমে, এমনকি তার ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের মাধ্যমেও আমরা এই বার্তা পৌঁছে দিয়েছি যে যুদ্ধের অবসান ঘটতে পারে এবং হওয়া উচিত। ইউক্রেন বৈঠক ও অর্থবহ আলোচনার জন্য প্রস্তুত।’
পুতিনের প্রতি ইঙ্গিত করে জেলেনস্কি বলেন, তিনি ইউক্রেনের বিরুদ্ধে এবং অন্য প্রতিবেশী দেশ ও পুরো ইউরোপের বিরুদ্ধে আরও আগ্রাসনের পথই বেছে নিচ্ছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশের তিস্তা নদী প্রকল্পে চীন তাদের সামর্থ্য অনুযায়ী সহায়তা প্রদান করবে বলে জানিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন।
তিনি বৃহস্পতিবার ঢাকায় চীনা দূতাবাসে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাম্প্রতিক চীন সফরের বিষয়ে এ কথা বলেন। রাষ্ট্রদূত আরও বলেন, তিস্তা প্রকল্পে চীন কাজ করতে প্রস্তুত রয়েছে। বাংলাদেশের অনুরোধ অনুযায়ী তিস্তা প্রকল্পে চীন কার্যকরী ভূমিকা নেবে। তিস্তা প্রকল্পে চীনের অবস্থান অটুট রয়েছে। চীন তাদের সামর্থ্যের মধ্যে থেকে এই প্রকল্পে বাংলাদেশকে সহায়তা অব্যাহত থাকবে, এ ছাড়া অন্য কোনো ইস্যু আমাদের ভাবনার মধ্যে নেই।
বিস্তারিত আসছে…
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
তরুণ বয়সে তিনি এক কিশোরীকে ভালোবাসতেন। কিন্তু যখন তিনি প্রেমের প্রস্তাব দেন, তখন ওই কিশোরী তা প্রত্যাখ্যান করে। সেই প্রত্যাখ্যানের কারণে কষ্ট পেয়ে দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে লোকালয়ের বাইরে গভীর জঙ্গলে একাকী বাস করছেন এক যুবক।
ঘটনাটি ঘটে ঝালকাঠি সদর উপজেলার শ্রীমন্তকাঠি গ্রামের মধ্যে।
স্থানীয়ভাবে তদন্ত করার জন্য গেলে দেখা যায়, গ্রামের কৃষক ছোট্ট বড়ালের ছেলে পলাশ বড়াল জীবনের ব্যর্থতার জন্য জঙ্গলজীবন গ্রহণ করেছেন। গাছগাছালিতে ঘেরা নিজেদের নিঝুম জঙ্গলে তিনি সুপারি গাছ ও কাদামাটি দিয়ে নির্মাণ করেছেন একটি ছোট্ট ঘর। এই ঘরেই তিনি দিন কাটান। ঘরের পাশে কেটেছেন একটি ছোট পুকুর। এভাবে দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে তিনি নিঃসঙ্গ জীবন অতিবাহিত করছেন।
এলাকার বাসিন্দাদের তথ্য অনুযায়ী, তরুণ বয়সে পাশের গ্রামের এক কিশোরীকে পলাশ ভালোবাসতেন। কিন্তু প্রেমের প্রস্তাব দিলে ওই কিশোরী তা প্রত্যাখ্যান করেন। ওই দিন থেকেই অতীতের কষ্ট ভুলতে জঙ্গলে একাকী জীবন শুরু করেন। তার পরিবার বরং তাকে স্বাভাবিক জীবনে ফেরাতে বিয়ের আয়োজন করে, কিন্তু জঙ্গলজীবনের কারণে বিয়ের এক বছরের মধ্যেই পলাশের স্ত্রী তাকে ছেড়ে চলে যান। এরপর থেকেই তিনি আবার সেই জঙ্গলে একাকী কাটাচ্ছেন।
কিন্তু পলাশ বড়াল নিজেই জানান, তিনি এখনও মানুষকে ভালোবাসেন। নিজের এই অবস্থার জন্য কাউকে দোষারোপ না করে বরং তিনি তার ভাগ্যকে দায়ী করছেন। তিনি বলেন, ‘আমি কাউকে দোষ দিই না, আমার ভাগ্যই এমন।’
বর্তমানে পলাশের বয়স ৩৮ বছর। তিনি তিন ভাই ও এক বোনের মধ্যে তৃতীয়। এলাকায় তার পরিচিতি এখন মানসিক ভারসাম্যহীন হিসাবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পাবনার বেড়া উপজেলায় যমুনা নদীর অব্যাহত ভাঙনে নদীপাড়ের বাসিন্দারা চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন।
বিদ্যুৎ উপকেন্দ্র (সাবস্টেশন), একটি জামে মসজিদ, অসংখ্য বসতবাড়ি এবং শত শত বিঘা ফসলি জমি ভাঙনের মুখে পড়েছে। ভাঙন রোধে দ্রুত জিওব্যাগ ফেলে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
সরেজমিনে যমুনা নদীর ভাঙন দেখার সময় বিভিন্ন ইউনিয়নের এলাকায় এর তাণ্ডব লক্ষ্য করা যায়, তবে কল্যাণপুর চর সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেখানে ভাঙন দিনদিন ভয়াবহ আকার ধারণ করছে। ভাঙণের জায়গাটি স্থানীয় মসজিদ থেকে প্রায় ২০০ ফুট এবং বিদ্যুৎ উপকেন্দ্র (সাবস্টেশন) থেকে প্রায় ৪০০ মিটার দূরে হলেও সাবমেরিন ক্যাবল মাত্র ৫০ ফুট দূরে অবস্থিত। ক্যাবলটি ভাঙনের কবলে পড়লে স্থানীয় হাজারো মানুষ বিদ্যুৎ সেবা থেকে বঞ্চিত হতে পারে। প্রায় এক মাস আগে শুরু হওয়া এই ভাঙন বর্তমানে পুরো এলাকার মানুষের জন্য আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
নদীর তীর ধসে পড়ানোর কারণে মসজিদ, বিদ্যুৎ উপকেন্দ্র (সাবস্টেশন), ফসলি জমি এবং বসতবাড়ি ঝুঁকির মুখে এসেছে। ভাঙনের অগ্রগতি অব্যাহত থাকায় এলাকাবাসীর মধ্যে চরম উদ্বেগ বিরাজ করছে। তাদের আতঙ্ক, কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে অদূর ভবিষ্যতে স্থানীয় মসজিদ ও বিদ্যুৎ সাব-স্টেশন যমুনা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাবে। তাই ভাঙন রোধে জরুরি ভিত্তিতে পদক্ষেপ নিতে হবে।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, চলমান ভাঙনে গত এক মাসে প্রায় ২০০ বিঘা ফসলি জমি যমুনা নদীগর্ভে চলে গেছে। এর ফলে অনেক কৃষক তাদের জমি হারিয়ে অসহায় হয়ে পড়েছেন। একদিকে মূল্যবান কৃষিজমি হারানো, অন্যদিকে নদীতীরবর্তী বসতবাড়ি, মসজিদ এবং বিদ্যুৎ সাব-স্টেশন ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।
ভাঙনের প্রতিক্ষণে স্থানীয়দের মধ্যে উৎকণ্ঠা বাড়ছে। তারা আশঙ্কা করছেন, যদি দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়া হয়, তাহলে বর্ষার বাকি সময়েও অনেক বিস্তীর্ণ এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাবে। ভাঙন রোধের জন্য জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি তাদের।
কল্যাণপুর চরের বাসিন্দা মো. তাইজল ইসলাম বলেন, গত এক মাসে যমুনা নদীর ভাঙনের কারণে আমার ৪ বিঘা আবাদি জমি নদীগর্ভে চলে গেছে। এর আগেও কিছু জমি হারিয়েছি। এখন চাষাবাদ করার মতো কোনো জমি অবশিষ্ট নেই। আমি পরিবার নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছি।
তাইজল ইসলামের মতো আরও অনেক কৃষক একই দুর্ভোগে পড়েছেন। স্থানীয়দের মতে, যমুনার অব্যাহত ভাঙনে মো. শুকুর আলী, মো. কামাল হোসেন, মো. ইসমাইল হোসেন এবং হযরত আলীসহ অসংখ্য কৃষকের উল্লেখযোগ্য পরিমাণ আবাদি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। বছরের পর বছর নদীভাঙনের শিকার হয়ে অনেকেই ভূমিহীন হয়ে পড়েছেন। কৃষিকাজই ছিল তাদের পরিবারের জীবিকার মূল উৎস, কিন্তু একের পর এক জমি হারানোর ফলে তারা গুরুতর আর্থিক সংকট ও অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন। ভাঙনের কারণে ফসল উৎপাদনের সুযোগ হারানোর ফলে অনেক পরিবার জীবিকা নির্বাহ নিয়ে উদ্বেগে রয়েছে।
পুরানভারেঙ্গা ইউনিয়নের ইউপি সদস্য রেজাউল করিম বলেন, গত এক মাসে শুধুমাত্র কল্যাণপুর চর এলাকায় প্রায় ১০০ বিঘা ফসলি জমি নদীগর্ভে চলে গেছে। এর পাশাপাশি ভাঙনকবলিত স্থান থেকে মাত্র ৫০ ফুট দূরে একটি বিদ্যুৎ উপকেন্দ্র (সাবস্টেশন) এবং একটি মসজিদ রয়েছে, যা স্থানীয়দের উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। যদি ভাঙন অব্যাহত থাকে, তাহলে এই গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোও নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। কৃষিজমি হারানোর পাশাপাশি বসতভিটা, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান এবং বিদ্যুৎ অবকাঠামো ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে, ফলে পুরো এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে।
নেওলাইপাড়া গ্রামের বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম বলেন, যমুনার ভাঙন দিনদিন ভয়াবহ আকার ধারণ করায় আমরা চরম আতঙ্কে রয়েছি। রাতে ঠিকভাবে গভীরভাবে ঘুমাতে পারছি না। সবসময় মনে হয়, কখন নদীর পাড় ভেঙে আমাদের বাড়ি চলে যাবে। আমরা চাই, ক্ষয়ক্ষতি আরও বাড়ার আগেই সরকার দ্রুত নদী রক্ষা কাজ শুরু করুক, যাতে মানুষের জানমাল ও বসতভিটা রক্ষার ব্যবস্থা করা যায়।
বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) বেড়া শাখার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জাহিদুল ইসলাম বলেন, যমুনা নদীর ভাঙনপ্রবণ এলাকা সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। ভাঙনের ঝুঁকি বিবেচনায় কল্যাণপুর চরসহ ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় নদীভাঙন প্রতিরোধে দুটি প্যাকেজের আওতায় প্রায় ১২ হাজার জিওব্যাগ ফেলা হয়েছে। পরিস্থিতি অনুযায়ী প্রয়োজন হলে ভাঙনরোধ কার্যক্রম আরও জোরদার করতে অতিরিক্ত প্যাকেজ গ্রহণ এবং জিওব্যাগ ফেলার ব্যবস্থা করা হবে। এছাড়া পাড়ের বাসিন্দাদের সতর্ক থাকতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
গোপালগঞ্জের কাশিয়ানীতে বাসের ধাক্কায় নিহত হয়েছেন আলাউদ্দিন (২৮) নামে এক যুবক। বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সকালে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের কাশিয়ানী উপজেলার মাজড়া এলাকায় এটি ঘটে।
নিহত যুবক আলাউদ্দিন কাশিয়ানী উপজেলার সাজাইল ইউনিয়নের ভাট্টাইধোপা গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ খানের ছেলে।
ভাঙ্গা হাইওয়ে থানার ওসি মো. হেলাল উদ্দিন জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার সকালে মাজড়া এলাকায় ঢাকা-খুলনা মহাসড়কটি পার হচ্ছিলেন যুবক আলাউদ্দিন। এই সময় দ্রুতগতিতে আসা একটি যাত্রীবাহী বাস তাকে চাপা দেয়, ফলে ঘটনাস্থলে তিনি নিহত হন। ঘটনার পর চালক ও হেলপার পালিয়ে গেলেও পুলিশ ঘাতক বাসটিকে আটক করেছে।
এ বিষয়ে তিনি আরো জানান, পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করেছে। পরে আইনিপ্রক্রিয়া সম্পন্ন করে মরদেহটি পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ