প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
পাবনার বেড়া উপজেলায় যমুনা নদীর অব্যাহত ভাঙনে নদীপাড়ের বাসিন্দারা চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন।
বিদ্যুৎ উপকেন্দ্র (সাবস্টেশন), একটি জামে মসজিদ, অসংখ্য বসতবাড়ি এবং শত শত বিঘা ফসলি জমি ভাঙনের মুখে পড়েছে। ভাঙন রোধে দ্রুত জিওব্যাগ ফেলে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
সরেজমিনে যমুনা নদীর ভাঙন দেখার সময় বিভিন্ন ইউনিয়নের এলাকায় এর তাণ্ডব লক্ষ্য করা যায়, তবে কল্যাণপুর চর সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেখানে ভাঙন দিনদিন ভয়াবহ আকার ধারণ করছে। ভাঙণের জায়গাটি স্থানীয় মসজিদ থেকে প্রায় ২০০ ফুট এবং বিদ্যুৎ উপকেন্দ্র (সাবস্টেশন) থেকে প্রায় ৪০০ মিটার দূরে হলেও সাবমেরিন ক্যাবল মাত্র ৫০ ফুট দূরে অবস্থিত। ক্যাবলটি ভাঙনের কবলে পড়লে স্থানীয় হাজারো মানুষ বিদ্যুৎ সেবা থেকে বঞ্চিত হতে পারে। প্রায় এক মাস আগে শুরু হওয়া এই ভাঙন বর্তমানে পুরো এলাকার মানুষের জন্য আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
নদীর তীর ধসে পড়ানোর কারণে মসজিদ, বিদ্যুৎ উপকেন্দ্র (সাবস্টেশন), ফসলি জমি এবং বসতবাড়ি ঝুঁকির মুখে এসেছে। ভাঙনের অগ্রগতি অব্যাহত থাকায় এলাকাবাসীর মধ্যে চরম উদ্বেগ বিরাজ করছে। তাদের আতঙ্ক, কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে অদূর ভবিষ্যতে স্থানীয় মসজিদ ও বিদ্যুৎ সাব-স্টেশন যমুনা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাবে। তাই ভাঙন রোধে জরুরি ভিত্তিতে পদক্ষেপ নিতে হবে।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, চলমান ভাঙনে গত এক মাসে প্রায় ২০০ বিঘা ফসলি জমি যমুনা নদীগর্ভে চলে গেছে। এর ফলে অনেক কৃষক তাদের জমি হারিয়ে অসহায় হয়ে পড়েছেন। একদিকে মূল্যবান কৃষিজমি হারানো, অন্যদিকে নদীতীরবর্তী বসতবাড়ি, মসজিদ এবং বিদ্যুৎ সাব-স্টেশন ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।
ভাঙনের প্রতিক্ষণে স্থানীয়দের মধ্যে উৎকণ্ঠা বাড়ছে। তারা আশঙ্কা করছেন, যদি দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়া হয়, তাহলে বর্ষার বাকি সময়েও অনেক বিস্তীর্ণ এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাবে। ভাঙন রোধের জন্য জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি তাদের।
কল্যাণপুর চরের বাসিন্দা মো. তাইজল ইসলাম বলেন, গত এক মাসে যমুনা নদীর ভাঙনের কারণে আমার ৪ বিঘা আবাদি জমি নদীগর্ভে চলে গেছে। এর আগেও কিছু জমি হারিয়েছি। এখন চাষাবাদ করার মতো কোনো জমি অবশিষ্ট নেই। আমি পরিবার নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছি।
তাইজল ইসলামের মতো আরও অনেক কৃষক একই দুর্ভোগে পড়েছেন। স্থানীয়দের মতে, যমুনার অব্যাহত ভাঙনে মো. শুকুর আলী, মো. কামাল হোসেন, মো. ইসমাইল হোসেন এবং হযরত আলীসহ অসংখ্য কৃষকের উল্লেখযোগ্য পরিমাণ আবাদি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। বছরের পর বছর নদীভাঙনের শিকার হয়ে অনেকেই ভূমিহীন হয়ে পড়েছেন। কৃষিকাজই ছিল তাদের পরিবারের জীবিকার মূল উৎস, কিন্তু একের পর এক জমি হারানোর ফলে তারা গুরুতর আর্থিক সংকট ও অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন। ভাঙনের কারণে ফসল উৎপাদনের সুযোগ হারানোর ফলে অনেক পরিবার জীবিকা নির্বাহ নিয়ে উদ্বেগে রয়েছে।
পুরানভারেঙ্গা ইউনিয়নের ইউপি সদস্য রেজাউল করিম বলেন, গত এক মাসে শুধুমাত্র কল্যাণপুর চর এলাকায় প্রায় ১০০ বিঘা ফসলি জমি নদীগর্ভে চলে গেছে। এর পাশাপাশি ভাঙনকবলিত স্থান থেকে মাত্র ৫০ ফুট দূরে একটি বিদ্যুৎ উপকেন্দ্র (সাবস্টেশন) এবং একটি মসজিদ রয়েছে, যা স্থানীয়দের উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। যদি ভাঙন অব্যাহত থাকে, তাহলে এই গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোও নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। কৃষিজমি হারানোর পাশাপাশি বসতভিটা, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান এবং বিদ্যুৎ অবকাঠামো ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে, ফলে পুরো এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে।
নেওলাইপাড়া গ্রামের বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম বলেন, যমুনার ভাঙন দিনদিন ভয়াবহ আকার ধারণ করায় আমরা চরম আতঙ্কে রয়েছি। রাতে ঠিকভাবে গভীরভাবে ঘুমাতে পারছি না। সবসময় মনে হয়, কখন নদীর পাড় ভেঙে আমাদের বাড়ি চলে যাবে। আমরা চাই, ক্ষয়ক্ষতি আরও বাড়ার আগেই সরকার দ্রুত নদী রক্ষা কাজ শুরু করুক, যাতে মানুষের জানমাল ও বসতভিটা রক্ষার ব্যবস্থা করা যায়।
বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) বেড়া শাখার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জাহিদুল ইসলাম বলেন, যমুনা নদীর ভাঙনপ্রবণ এলাকা সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। ভাঙনের ঝুঁকি বিবেচনায় কল্যাণপুর চরসহ ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় নদীভাঙন প্রতিরোধে দুটি প্যাকেজের আওতায় প্রায় ১২ হাজার জিওব্যাগ ফেলা হয়েছে। পরিস্থিতি অনুযায়ী প্রয়োজন হলে ভাঙনরোধ কার্যক্রম আরও জোরদার করতে অতিরিক্ত প্যাকেজ গ্রহণ এবং জিওব্যাগ ফেলার ব্যবস্থা করা হবে। এছাড়া পাড়ের বাসিন্দাদের সতর্ক থাকতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন