বৃহস্পতিবার, ২ই জুলাই, ২০২৬ ইং
০১:০৭ পি.এম
বাংলাদেশের তিস্তা নদী প্রকল্পে চীন তাদের সামর্থ্য অনুযায়ী সহায়তা প্রদান করবে বলে জানিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন।
তিনি বৃহস্পতিবার ঢাকায় চীনা দূতাবাসে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাম্প্রতিক চীন সফরের বিষয়ে এ কথা বলেন। রাষ্ট্রদূত আরও বলেন, তিস্তা প্রকল্পে চীন কাজ করতে প্রস্তুত রয়েছে। বাংলাদেশের অনুরোধ অনুযায়ী তিস্তা প্রকল্পে চীন কার্যকরী ভূমিকা নেবে। তিস্তা প্রকল্পে চীনের অবস্থান অটুট রয়েছে। চীন তাদের সামর্থ্যের মধ্যে থেকে এই প্রকল্পে বাংলাদেশকে সহায়তা অব্যাহত থাকবে, এ ছাড়া অন্য কোনো ইস্যু আমাদের ভাবনার মধ্যে নেই।
বিস্তারিত আসছে…
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
তরুণ বয়সে তিনি এক কিশোরীকে ভালোবাসতেন। কিন্তু যখন তিনি প্রেমের প্রস্তাব দেন, তখন ওই কিশোরী তা প্রত্যাখ্যান করে। সেই প্রত্যাখ্যানের কারণে কষ্ট পেয়ে দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে লোকালয়ের বাইরে গভীর জঙ্গলে একাকী বাস করছেন এক যুবক।
ঘটনাটি ঘটে ঝালকাঠি সদর উপজেলার শ্রীমন্তকাঠি গ্রামের মধ্যে।
স্থানীয়ভাবে তদন্ত করার জন্য গেলে দেখা যায়, গ্রামের কৃষক ছোট্ট বড়ালের ছেলে পলাশ বড়াল জীবনের ব্যর্থতার জন্য জঙ্গলজীবন গ্রহণ করেছেন। গাছগাছালিতে ঘেরা নিজেদের নিঝুম জঙ্গলে তিনি সুপারি গাছ ও কাদামাটি দিয়ে নির্মাণ করেছেন একটি ছোট্ট ঘর। এই ঘরেই তিনি দিন কাটান। ঘরের পাশে কেটেছেন একটি ছোট পুকুর। এভাবে দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে তিনি নিঃসঙ্গ জীবন অতিবাহিত করছেন।
এলাকার বাসিন্দাদের তথ্য অনুযায়ী, তরুণ বয়সে পাশের গ্রামের এক কিশোরীকে পলাশ ভালোবাসতেন। কিন্তু প্রেমের প্রস্তাব দিলে ওই কিশোরী তা প্রত্যাখ্যান করেন। ওই দিন থেকেই অতীতের কষ্ট ভুলতে জঙ্গলে একাকী জীবন শুরু করেন। তার পরিবার বরং তাকে স্বাভাবিক জীবনে ফেরাতে বিয়ের আয়োজন করে, কিন্তু জঙ্গলজীবনের কারণে বিয়ের এক বছরের মধ্যেই পলাশের স্ত্রী তাকে ছেড়ে চলে যান। এরপর থেকেই তিনি আবার সেই জঙ্গলে একাকী কাটাচ্ছেন।
কিন্তু পলাশ বড়াল নিজেই জানান, তিনি এখনও মানুষকে ভালোবাসেন। নিজের এই অবস্থার জন্য কাউকে দোষারোপ না করে বরং তিনি তার ভাগ্যকে দায়ী করছেন। তিনি বলেন, ‘আমি কাউকে দোষ দিই না, আমার ভাগ্যই এমন।’
বর্তমানে পলাশের বয়স ৩৮ বছর। তিনি তিন ভাই ও এক বোনের মধ্যে তৃতীয়। এলাকায় তার পরিচিতি এখন মানসিক ভারসাম্যহীন হিসাবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পাবনার বেড়া উপজেলায় যমুনা নদীর অব্যাহত ভাঙনে নদীপাড়ের বাসিন্দারা চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন।
বিদ্যুৎ উপকেন্দ্র (সাবস্টেশন), একটি জামে মসজিদ, অসংখ্য বসতবাড়ি এবং শত শত বিঘা ফসলি জমি ভাঙনের মুখে পড়েছে। ভাঙন রোধে দ্রুত জিওব্যাগ ফেলে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
সরেজমিনে যমুনা নদীর ভাঙন দেখার সময় বিভিন্ন ইউনিয়নের এলাকায় এর তাণ্ডব লক্ষ্য করা যায়, তবে কল্যাণপুর চর সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেখানে ভাঙন দিনদিন ভয়াবহ আকার ধারণ করছে। ভাঙণের জায়গাটি স্থানীয় মসজিদ থেকে প্রায় ২০০ ফুট এবং বিদ্যুৎ উপকেন্দ্র (সাবস্টেশন) থেকে প্রায় ৪০০ মিটার দূরে হলেও সাবমেরিন ক্যাবল মাত্র ৫০ ফুট দূরে অবস্থিত। ক্যাবলটি ভাঙনের কবলে পড়লে স্থানীয় হাজারো মানুষ বিদ্যুৎ সেবা থেকে বঞ্চিত হতে পারে। প্রায় এক মাস আগে শুরু হওয়া এই ভাঙন বর্তমানে পুরো এলাকার মানুষের জন্য আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
নদীর তীর ধসে পড়ানোর কারণে মসজিদ, বিদ্যুৎ উপকেন্দ্র (সাবস্টেশন), ফসলি জমি এবং বসতবাড়ি ঝুঁকির মুখে এসেছে। ভাঙনের অগ্রগতি অব্যাহত থাকায় এলাকাবাসীর মধ্যে চরম উদ্বেগ বিরাজ করছে। তাদের আতঙ্ক, কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে অদূর ভবিষ্যতে স্থানীয় মসজিদ ও বিদ্যুৎ সাব-স্টেশন যমুনা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাবে। তাই ভাঙন রোধে জরুরি ভিত্তিতে পদক্ষেপ নিতে হবে।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, চলমান ভাঙনে গত এক মাসে প্রায় ২০০ বিঘা ফসলি জমি যমুনা নদীগর্ভে চলে গেছে। এর ফলে অনেক কৃষক তাদের জমি হারিয়ে অসহায় হয়ে পড়েছেন। একদিকে মূল্যবান কৃষিজমি হারানো, অন্যদিকে নদীতীরবর্তী বসতবাড়ি, মসজিদ এবং বিদ্যুৎ সাব-স্টেশন ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।
ভাঙনের প্রতিক্ষণে স্থানীয়দের মধ্যে উৎকণ্ঠা বাড়ছে। তারা আশঙ্কা করছেন, যদি দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়া হয়, তাহলে বর্ষার বাকি সময়েও অনেক বিস্তীর্ণ এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাবে। ভাঙন রোধের জন্য জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি তাদের।
কল্যাণপুর চরের বাসিন্দা মো. তাইজল ইসলাম বলেন, গত এক মাসে যমুনা নদীর ভাঙনের কারণে আমার ৪ বিঘা আবাদি জমি নদীগর্ভে চলে গেছে। এর আগেও কিছু জমি হারিয়েছি। এখন চাষাবাদ করার মতো কোনো জমি অবশিষ্ট নেই। আমি পরিবার নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছি।
তাইজল ইসলামের মতো আরও অনেক কৃষক একই দুর্ভোগে পড়েছেন। স্থানীয়দের মতে, যমুনার অব্যাহত ভাঙনে মো. শুকুর আলী, মো. কামাল হোসেন, মো. ইসমাইল হোসেন এবং হযরত আলীসহ অসংখ্য কৃষকের উল্লেখযোগ্য পরিমাণ আবাদি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। বছরের পর বছর নদীভাঙনের শিকার হয়ে অনেকেই ভূমিহীন হয়ে পড়েছেন। কৃষিকাজই ছিল তাদের পরিবারের জীবিকার মূল উৎস, কিন্তু একের পর এক জমি হারানোর ফলে তারা গুরুতর আর্থিক সংকট ও অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন। ভাঙনের কারণে ফসল উৎপাদনের সুযোগ হারানোর ফলে অনেক পরিবার জীবিকা নির্বাহ নিয়ে উদ্বেগে রয়েছে।
পুরানভারেঙ্গা ইউনিয়নের ইউপি সদস্য রেজাউল করিম বলেন, গত এক মাসে শুধুমাত্র কল্যাণপুর চর এলাকায় প্রায় ১০০ বিঘা ফসলি জমি নদীগর্ভে চলে গেছে। এর পাশাপাশি ভাঙনকবলিত স্থান থেকে মাত্র ৫০ ফুট দূরে একটি বিদ্যুৎ উপকেন্দ্র (সাবস্টেশন) এবং একটি মসজিদ রয়েছে, যা স্থানীয়দের উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। যদি ভাঙন অব্যাহত থাকে, তাহলে এই গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোও নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। কৃষিজমি হারানোর পাশাপাশি বসতভিটা, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান এবং বিদ্যুৎ অবকাঠামো ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে, ফলে পুরো এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে।
নেওলাইপাড়া গ্রামের বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম বলেন, যমুনার ভাঙন দিনদিন ভয়াবহ আকার ধারণ করায় আমরা চরম আতঙ্কে রয়েছি। রাতে ঠিকভাবে গভীরভাবে ঘুমাতে পারছি না। সবসময় মনে হয়, কখন নদীর পাড় ভেঙে আমাদের বাড়ি চলে যাবে। আমরা চাই, ক্ষয়ক্ষতি আরও বাড়ার আগেই সরকার দ্রুত নদী রক্ষা কাজ শুরু করুক, যাতে মানুষের জানমাল ও বসতভিটা রক্ষার ব্যবস্থা করা যায়।
বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) বেড়া শাখার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জাহিদুল ইসলাম বলেন, যমুনা নদীর ভাঙনপ্রবণ এলাকা সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। ভাঙনের ঝুঁকি বিবেচনায় কল্যাণপুর চরসহ ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় নদীভাঙন প্রতিরোধে দুটি প্যাকেজের আওতায় প্রায় ১২ হাজার জিওব্যাগ ফেলা হয়েছে। পরিস্থিতি অনুযায়ী প্রয়োজন হলে ভাঙনরোধ কার্যক্রম আরও জোরদার করতে অতিরিক্ত প্যাকেজ গ্রহণ এবং জিওব্যাগ ফেলার ব্যবস্থা করা হবে। এছাড়া পাড়ের বাসিন্দাদের সতর্ক থাকতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
গোপালগঞ্জের কাশিয়ানীতে বাসের ধাক্কায় নিহত হয়েছেন আলাউদ্দিন (২৮) নামে এক যুবক। বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সকালে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের কাশিয়ানী উপজেলার মাজড়া এলাকায় এটি ঘটে।
নিহত যুবক আলাউদ্দিন কাশিয়ানী উপজেলার সাজাইল ইউনিয়নের ভাট্টাইধোপা গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ খানের ছেলে।
ভাঙ্গা হাইওয়ে থানার ওসি মো. হেলাল উদ্দিন জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার সকালে মাজড়া এলাকায় ঢাকা-খুলনা মহাসড়কটি পার হচ্ছিলেন যুবক আলাউদ্দিন। এই সময় দ্রুতগতিতে আসা একটি যাত্রীবাহী বাস তাকে চাপা দেয়, ফলে ঘটনাস্থলে তিনি নিহত হন। ঘটনার পর চালক ও হেলপার পালিয়ে গেলেও পুলিশ ঘাতক বাসটিকে আটক করেছে।
এ বিষয়ে তিনি আরো জানান, পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করেছে। পরে আইনিপ্রক্রিয়া সম্পন্ন করে মরদেহটি পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে বিখ্যাত এম্পায়ার স্টেট বিল্ডিংয়ের চূড়া থেকে স্থানীয় পুলিশ রাশিয়ার এক যুগলকে গ্রেফতার করেছে।
একটি সংবাদমাধ্যমের হেলিকপ্টার থেকে ধারণ করা ঘটনার ভিডিওতে বুধবার (০১ জুলাই) কালো রঙের পোশাক পরা দুই ব্যক্তি ঐতিহাসিক এই আকাশচুম্বী ভবনের প্রধান অ্যান্টেনার ওপর দাঁড়িয়ে একে অপরকে চুম্বন করতে দেখা যায়।
মাটি থেকে প্রায় ৪৪৩ মিটার (১ হাজার ৪৫৪ ফুট) উঁচুতে অবস্থান করার সময় ওই যুগল একটি ব্যানার উন্মোচন করেন। ব্যানারে লেখা ছিল, ‘ভালোবাসার শক্তি যখন ক্ষমতার প্রতি মানুষের ভালোবাসাকে পরাজিত করে, পৃথিবীতে শান্তি প্রতিষ্ঠিত হয়।’
১০২ তলা উঁচু এম্পায়ার স্টেট ভবনের যে অংশটি জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত, তার ওপরের অ্যান্টেনায় ওই দুজন কীভাবে পৌঁছালেন, তা স্পষ্ট নয়।
পুলিশের বডি-ক্যামেরার ফুটেজে দেখা যায়, অ্যান্টেনায় দাঁড়িয়ে থাকা ওই দুই ব্যক্তিকে নিচে নামিয়ে আনতে একজন পুলিশ কর্মকর্তাকে পাঠানো হয়। মই বেয়ে ওঠার সময় ওই পুলিশ কর্মকর্তাকে বলতে শোনা যায়, ‘আপনারা কী করছেন?’ তবে তারা কী জবাব দিয়েছিলেন, বাতাসের কারণে তা শোনা যায়নি। পরে ওই পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, ‘ঠিক আছে, আপনারা এখানে থাকতে পারবেন না।’
পরে গ্রেফতার হওয়া ওই যুগল হলেন রাশিয়ার নাগরিক ভানিয়া বেয়ারকুস ও অ্যাঞ্জেলা নিকোলাউ। তারা ২০২৪ সালে নেটফ্লিক্সে মুক্তি পাওয়া প্রামাণ্যচিত্র ‘স্কাইওয়াকার্স: আ লাভ স্টোরি’–তে উপস্থিত ছিলেন। প্রামাণ্যচিত্রে শহরের উঁচু ভবনে ওঠার ঝুঁকিপূর্ণ খেলা ‘রুফটপিং’-এর প্রতি তাদের আগ্রহ প্রকাশ পায়।
এক বিবৃতিতে ভবনের একজন মুখপাত্র ওই যুগলের ঘটনাকে ‘অবৈধ’ বলে উল্লেখ করেন। তিনি জানান, বাগ্দান উদ্যাপনের জন্য ওই যুগলের উচিত ছিল এক হাজার ডলারে ভবনের ‘হ্যাপি এভার এম্পায়ার প্রপোজাল প্যাকেজ’ কিনে তারপর বিয়ের প্রস্তাব দেওয়া।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ