সাব্বির হাসনাত, রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি
শনিবার, ১২ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৩:১৫ পি.এম
রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ এবং বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক)-এর যৌথ উদ্যোগে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নিয়ে পাঁচ দিনব্যাপী ‘Entrepreneurship Development Training’ (উদ্যোক্তা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ) শুরু হয়েছে। রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক তাহ্মিনা আখতারের দিকনির্দেশনা ও তত্ত্বাবধানে শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টায় এ প্রশিক্ষণ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়। শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্যোক্তা হওয়ার আগ্রহ সৃষ্টি, ব্যবসায়িক উদ্যোগ গ্রহণের জন্য প্রয়োজনীয় জ্ঞান ও দক্ষতা বৃদ্ধি এবং আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির লক্ষ্যে এ প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়েছে।
পাঁচ দিনব্যাপী এ প্রশিক্ষণে শিক্ষার্থীদের উদ্যোক্তা উন্নয়ন, ব্যবসায়িক উদ্যোগ গ্রহণের প্রক্রিয়া, সম্ভাবনাময় ব্যবসায়িক ধারণা, ব্যবসা পরিচালনার কৌশল এবং উদ্যোক্তা হিসেবে নিজেদের প্রস্তুত করার বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হবে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের বাস্তবমুখী ব্যবসায়িক পরিকল্পনা ও উদ্যোগ গ্রহণে উৎসাহিত করা হবে। প্রশিক্ষণ কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আব্দুস সোবাহান এবং ট্রেজারার অধ্যাপক ড. মো. জাহাঙ্গীর হোসেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশনের (বিসিক) পরিচালক (বিটিআই) ও জিএম (পরিকল্পনা ও গবেষণা) ড. মো. ফরহাদ আহমেদ। প্রশিক্ষনের কোর্স পরিচালক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মো. তানজিম হোসেন।
এছাড়াও রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ এর শিক্ষার্থী উদ্যোক্তা উন্নয়ন প্রশিক্ষন কমিটির আহবায়ক ও সমাজবিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান জান্নাতুল মাওয়া মুন সহ উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন বিভাগের চেয়ারম্যানবৃন্দ ও শিক্ষকবৃন্দ। বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশনের (বিসিক) প্রশিক্ষকরা পাঁচ দিনব্যাপী এ প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের উদ্যোক্তা উন্নয়নবিষয়ক বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণ প্রদান করবেন। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আশা করছে, এ প্রশিক্ষণের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্যোক্তা হওয়ার মানসিকতা ও দক্ষতা বিকশিত হবে এবং ভবিষ্যতে তারা নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির পাশাপাশি দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার চৌমুহনী পৌরসভার দুটি আবাসিক হোটেলে অভিযান চালিয়ে অসামাজিক কাজে জড়িত থাকার অভিযোগে ৬ জন পুরুষ ও ১২ জন নারীকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশ।
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেন নোয়াখালীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম এন্ড অপস্) পেয়ার আহমেদ। এর আগে, শুক্রবার বিকেলে চৌমুহনী বাজারের ডালিয়া মার্কেটের রাজ আবাসিক হোটেল ও রিলাক্স আবাসিক হোটেলে পৃথক অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
ডিবি পুলিশ জানায়, পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় ও ডিবির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার সার্বিক তত্ত্বাবধানে বিকেল ৫টার দিকে এসআই মো. ওসমান গনির নেতৃত্বে একটি দল রাজ আবাসিক হোটেলে অভিযান চালায়। এ সময় অসামাজিক কাজে জড়িত থাকার অভিযোগে আরমান হোসেন (২২), নাছির উদ্দিন (৩২), মিজানুর রহমান (২২), মোজাম্মেল হোসেন (২০), রাকিব হোসেন (১৯) ও ৭ জন নারীকে গ্রেপ্তার করা হয়। এর আগে, একই দিন বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে একই এলাকার রিলাক্স আবাসিক হোটেলে এসআই মো. আনোয়ার হোসাইনের নেতৃত্বে অভিযান চালানো হয়। সেখান থেকে ইমাম হোসেন (৫০) ও ৫ জন নারীকে গ্রেপ্তার করা হয়।
নোয়াখালীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম এন্ড অপস্) পেয়ার আহমেদ আরও বলেন, গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ শেষে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পায়রা নদীর অব্যাহত ভাঙনের কারণে পটুয়াখালীর দুমকী উপজেলার আঙ্গারিয়া ইউনিয়নের বাহেরচর গ্রাম বর্তমানে অস্তিত্ব সংকটে রয়েছে। গত এক সপ্তাহে ভাঙনের ফলে নতুন করে ২০টি পরিবার তাদের ভিটেমাটি হারিয়ে সড়কের পাশে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছে।
এই পরিবারগুলো মানবেতর জীবনযাপন করছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভাঙনের কারণে ইতিমধ্যে দেড় শতাধিক পরিবার নিঃস্ব হয়ে গেছে। অনেকেই এলাকা ছেড়ে অন্যত্র চলে গেছেন। কিছু পরিবার ৮-১০ বার নতুন করে ঘর তৈরি করলেও নদীগর্ভে ভিটেমাটি হারানোর কারণে শেষ পর্যন্ত সড়কের পাশে আশ্রয় নিতে হয়েছে।
সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে দুমকী উপজেলার আঙ্গারিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কাম সাইক্লোন সেল্টার, সিকদার বাড়ি জামে মসজিদ এবং মোল্লা বাড়ি। যদি ভাঙন অব্যাহত থাকে, তবে অচিরেই দুটি বাড়ি এবং একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় বিলীন হয়ে যাবে।
সম্প্রতি সরেজমিনে ভাঙন এলাকা পরিদর্শন করার সময়, ওই এলাকার বাসিন্দা নিটুলী রানীর সঙ্গে কথা হয়। তিনি জানান, এ পর্যন্ত তিনি সাতবার ভিটেমাটি হারিয়েছেন। সম্প্রতি তার শেষ আশ্রয়টুকু নদীগর্ভে চলে যাওয়ায় তিনি সরকারি সড়কের পাশে আশ্রয় নিয়েছেন।
যাওয়ার জায়গা নেই’ উল্লেখ করে আরেক বাসিন্দা জাকির খান (৫০) বলেন, 'কত মানুষ আইল, কত কতা কইলাম, কামের কাম কিছুই হইল না। আমনেগো লগে কতা কইয়া হইবো কি? কেউতো আমাগো দিকে চাইলো না।'
রিপন মাল (৩৭)-এর ভাষ্য, ‘বাপ দাদাদের আমল থেকে এই গ্রামটি ভাঙছে। এই বয়সে পাঁচ-ছয়বার বসতঘর পাল্টাইছি। শেষ পর্যন্ত বাজারে গিয়া বাসা ভাড়া করে থাকছি।’
স্থানীয়দের মতে, এ পর্যন্ত তাদের সাড়ে ৩০০ একর জমি নদীগর্ভে চলে গেছে। ১৯৭৭-৭৮ সালে নদীর অপর প্রান্তে বাকেরগঞ্জের সঙ্গে নতুন চরে ৬০টি পরিবারের জন্য ৯০ একর জমি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। তবে বাকেরগঞ্জের লোকজন জবরদখল করে রাখায় তাদের কোনো পরিবার জমি পায়নি।
ভুক্তভোগী বাদল চৌকিদার জানান, বারবার নদীভাঙনে তাদের সহায়সম্বল এখন কিছুই নেই। বাধ্য হয়ে সড়কের পাশে বসবাস করতে হচ্ছে। তিনি প্রশাসনের কাছে তাদের পুনর্বাসনের দাবি জানান।
আংগারিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য শাহীন গাজী বলেন, ‘পায়রার অব্যাহত ভাঙনে আমাদের ওয়ার্ডটি বিলুপ্তির পথে। ভাঙনরোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।’
আংগারিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. জিল্লুর রহমান বলেন, ‘বাহেরচর গ্রামটি অস্তিত্ব রক্ষা এবং ভুক্তভোগীদের সাহায্যের জন্য প্রশাসনের কার্যকর ভূমিকা রাখার অনুরোধ করছি।’
দুমকী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আব্দুল্লাহ খায়রুল ইসলাম চৌধুরী জানান, ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে উপজেলা পরিষদ থেকে ত্রাণ সহায়তা দেওয়া হবে।ইউএনও বলেন, ‘ভাঙনরোধে পানি উন্নয়ন বোর্ডের সঙ্গে আলোচনা করে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ