প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
পায়রা নদীর অব্যাহত ভাঙনের কারণে পটুয়াখালীর দুমকী উপজেলার আঙ্গারিয়া ইউনিয়নের বাহেরচর গ্রাম বর্তমানে অস্তিত্ব সংকটে রয়েছে। গত এক সপ্তাহে ভাঙনের ফলে নতুন করে ২০টি পরিবার তাদের ভিটেমাটি হারিয়ে সড়কের পাশে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছে।
এই পরিবারগুলো মানবেতর জীবনযাপন করছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভাঙনের কারণে ইতিমধ্যে দেড় শতাধিক পরিবার নিঃস্ব হয়ে গেছে। অনেকেই এলাকা ছেড়ে অন্যত্র চলে গেছেন। কিছু পরিবার ৮-১০ বার নতুন করে ঘর তৈরি করলেও নদীগর্ভে ভিটেমাটি হারানোর কারণে শেষ পর্যন্ত সড়কের পাশে আশ্রয় নিতে হয়েছে।
সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে দুমকী উপজেলার আঙ্গারিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কাম সাইক্লোন সেল্টার, সিকদার বাড়ি জামে মসজিদ এবং মোল্লা বাড়ি। যদি ভাঙন অব্যাহত থাকে, তবে অচিরেই দুটি বাড়ি এবং একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় বিলীন হয়ে যাবে।
সম্প্রতি সরেজমিনে ভাঙন এলাকা পরিদর্শন করার সময়, ওই এলাকার বাসিন্দা নিটুলী রানীর সঙ্গে কথা হয়। তিনি জানান, এ পর্যন্ত তিনি সাতবার ভিটেমাটি হারিয়েছেন। সম্প্রতি তার শেষ আশ্রয়টুকু নদীগর্ভে চলে যাওয়ায় তিনি সরকারি সড়কের পাশে আশ্রয় নিয়েছেন।
যাওয়ার জায়গা নেই’ উল্লেখ করে আরেক বাসিন্দা জাকির খান (৫০) বলেন, 'কত মানুষ আইল, কত কতা কইলাম, কামের কাম কিছুই হইল না। আমনেগো লগে কতা কইয়া হইবো কি? কেউতো আমাগো দিকে চাইলো না।'
রিপন মাল (৩৭)-এর ভাষ্য, ‘বাপ দাদাদের আমল থেকে এই গ্রামটি ভাঙছে। এই বয়সে পাঁচ-ছয়বার বসতঘর পাল্টাইছি। শেষ পর্যন্ত বাজারে গিয়া বাসা ভাড়া করে থাকছি।’
স্থানীয়দের মতে, এ পর্যন্ত তাদের সাড়ে ৩০০ একর জমি নদীগর্ভে চলে গেছে। ১৯৭৭-৭৮ সালে নদীর অপর প্রান্তে বাকেরগঞ্জের সঙ্গে নতুন চরে ৬০টি পরিবারের জন্য ৯০ একর জমি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। তবে বাকেরগঞ্জের লোকজন জবরদখল করে রাখায় তাদের কোনো পরিবার জমি পায়নি।
ভুক্তভোগী বাদল চৌকিদার জানান, বারবার নদীভাঙনে তাদের সহায়সম্বল এখন কিছুই নেই। বাধ্য হয়ে সড়কের পাশে বসবাস করতে হচ্ছে। তিনি প্রশাসনের কাছে তাদের পুনর্বাসনের দাবি জানান।
আংগারিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য শাহীন গাজী বলেন, ‘পায়রার অব্যাহত ভাঙনে আমাদের ওয়ার্ডটি বিলুপ্তির পথে। ভাঙনরোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।’
আংগারিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. জিল্লুর রহমান বলেন, ‘বাহেরচর গ্রামটি অস্তিত্ব রক্ষা এবং ভুক্তভোগীদের সাহায্যের জন্য প্রশাসনের কার্যকর ভূমিকা রাখার অনুরোধ করছি।’
দুমকী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আব্দুল্লাহ খায়রুল ইসলাম চৌধুরী জানান, ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে উপজেলা পরিষদ থেকে ত্রাণ সহায়তা দেওয়া হবে।ইউএনও বলেন, ‘ভাঙনরোধে পানি উন্নয়ন বোর্ডের সঙ্গে আলোচনা করে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন