০৪:৫০ পি.এম
গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিক থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে সংঘাত শুরুর পর প্রথমবারের মতো ইরান সিরিয়ায় হামলা করেছে।
শুক্রবার (১৭ জুলাই) সিরিয়ার আল-তানফ অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ অভিযান বাহিনীর কমান্ড সেন্টারে আকস্মিক হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)।
আইআরজিসির জনসংযোগ বিভাগ ‘অপারেশন নাসর-২’-এর ১৯ নম্বর বিবৃতিতে জানায়, ইরানের ইরানশাহরের বাম্পুর এলাকায় নিহত সেনাদের প্রতিশোধ হিসেবে আইআরজিসির অ্যারোস্পেস ফোর্সের সদস্যরা অভিযানের ১১তম ধাপে সিরিয়ার আল-তানফ অঞ্চলে শত্রুপক্ষের বিশেষ অভিযান কমান্ড সেন্টারে আকস্মিক হামলা পরিচালনা করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: মির্জা আব্বাস হাসপাতালে ভূমিমন্ত্রী মিনুকে দেখতে গেছেন
বিবৃতিতে দাবি করা হয়েছে, হামলায় আল-তানফে অবস্থিত মার্কিন বাহিনীর একটি রাডার ব্যবস্থা ধ্বংস হয়েছে এবং তাদের বিশেষ অভিযানে ব্যবহৃত কয়েকটি হেলিকপ্টার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া, হামলায় বিপুল সংখ্যক মার্কিন সেনা নিহত হয়েছে বলেও আইআরজিসি দাবি করেছে।
তবে আইআরজিসির এসব দাবির পক্ষে কোনো স্বাধীন বা নিরপেক্ষ সূত্র থেকে তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এছাড়া, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকেও এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
এ এক বিবৃতিতে আইআরজিসি আরও দাবি করেছে, হরমুজ প্রণালির ওপর তাদের যোদ্ধাদের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের হামলা অব্যাহত থাকলে এই অঞ্চল দিয়ে এক ফোঁটা তেল বা গ্যাসও রফতানি হতে দেয়া হবে না, এই বিষয়ে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
এর আগে যুক্তরাষ্ট্র টানা ষষ্ঠ রাতের মতো ইরানের বিভিন্ন স্থানে বিমান হামলা চালিয়েছে। হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে দেশটির দক্ষিণাঞ্চলের বেশ কয়েকটি সেতুসহ গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো। এতে অন্তত ৭ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত এবং ৯ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
আরও পড়ুন: ইস্তাম্বুলে ৭ দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের জরুরি বৈঠক, আলোচনা মধ্যপ্রাচ্যের সংকট নিয়ে
মার্কিন সেনাবাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এক বিবৃতিতে জানান, বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় রাত সাড়ে ৯টার (পূর্বাঞ্চলীয় সময় দুপুর ২টা) দিকে এই বিমান হামলা শুরু হয়। এই হামলার লক্ষ্য ইরানের সামরিক সক্ষমতাকে আরও দুর্বল করে দেয়া।
সেন্টকমের ভাষ্য অনুযায়ী, ‘ফাইটার জেট, ড্রোন এবং একাধিক যুদ্ধজাহাজ নিয়ে মার্কিন বাহিনী নির্ভূল অস্ত্রে আঘাত হেনেছে, যা ইরানের উপকূলীয় নজরদারি, বিমান প্রতিরক্ষা কেন্দ্র, সামরিক রসদ অবকাঠামো এবং সামুদ্রিক সক্ষমতার মতো কয়েক ডজন সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে।’
হামলার তথ্য নিশ্চিত করে ইরানি গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, কেশম দ্বীপ, বন্দর আব্বাস, চাবাহার, ইরানশাহর এবং বন্দর-ই খামির এলাকায় একাধিক বিস্ফোরণ ও হামলার ঘটনা ঘটেছে।
ফার্স নিউজ এজেন্সির তথ্য অনুযায়ী, হরমোজগান প্রদেশের বন্দর-ই খামির সড়ক সেতুতে মার্কিন হামলায় অন্তত সাতজন নিহত এবং নয়জন আহত হয়েছেন। এই গুরুত্বপূর্ণ সড়ক সেতুটি বন্দর আব্বাসকে দেশের অভ্যন্তরের অন্যান্য শহরের সঙ্গে সংযুক্ত করেছিল।
আরও পড়ুন: নেতানিয়াহুর হেবরন ও পশ্চিম তীরে কঠোর লকডাউন ঘোষণা
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন