১১:৫৪ পি.এম
ফ্রান্সের শহর ইভিয়ান-লে-বাঁয়ে ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর সঙ্গে এক যৌথ ব্রিফিংয়ে উপস্থিত ছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ‘ইরানের সঙ্গে যুদ্ধাবসান ও শান্তি ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে’ বহুল প্রতীক্ষিত চুক্তি ‘পুরোপুরি সই হয়ে গেছে’। তবে এই চুক্তিতে তেহরান আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষর করেছে কিনা, সে বিষয়ে ট্রাম্প স্পষ্ট কিছু জানাননি।
এদিকে, ইরানের পক্ষ থেকেও এই বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানা যায়নি। খবর রয়টার্স।
আরও পড়ুন: ‘জামায়াত সমর্থন না পেলে ৯১ সালে বিএনপির রাজনীতি শেষ হয়ে যেতে পারতো’
জি-৭ সম্মেলনে যোগ দিতে ১৫ জুন সোমবার ফ্রান্সে পৌঁছানোর পর, ট্রাম্প এই দাবি করেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর সঙ্গে এক যৌথ ব্রিফিংয়ে।
ব্রিফিংয়ে ট্রাম্প উল্লেখ করেন, ‘তেহরানের সঙ্গে একমত হতে পেরে চুক্তি ‘পুরোপুরি সই হয়ে গেছে’ এবং হরমুজ প্রণালির একটি অংশ ইতোমধ্যে খুলে দেওয়া হয়েছে। আগামী শুক্রবারের মধ্যে এই প্রণালি পুরোপুরি উন্মুক্ত হয়ে যাবে।’
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের বরাত নিয়ে জানা যায়, ট্রাম্প এই চুক্তি সম্পন্ন হওয়ার খবর জানানোর পর, উভয় পক্ষই ইঙ্গিত দিয়েছিল যে— শুক্রবার (১৯ জুন) সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় একটি আনুষ্ঠানিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই চুক্তিতে চূড়ান্ত স্বাক্ষর করা হবে।
এই প্রসঙ্গে ট্রাম্প মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজকে বলেন, ‘শুক্রবার সই অনুষ্ঠানে আমি অংশ নিতেও পারি, নাও পারি। তবে ওই দিনের পর কোনো এক সময় ইরান-সংক্রান্ত চুক্তির পূর্ণাঙ্গ পাঠ প্রকাশ করা হবে।’
আরও পড়ুন: স্পেনে মুসলিমদের নতুন বসতি: আত্মপরিচয় খুঁজে পাচ্ছেন হেনরিয়েটা সোভাতি
ট্রাম্প পরিষ্কার জানিয়েছেন, ‘ইরান কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্রের মালিক হতে পারবে না এবং তেহরান তাদের দেওয়া প্রতিশ্রুতি পুরোপুরি পূরণ না করা পর্যন্ত কোনো মার্কিন নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা হবে না।’
দুই পক্ষের কর্মকর্তাদের প্রদত্ত তথ্যানুযায়ী, এই চুক্তির প্রাথমিক লক্ষ্য হরমুজ প্রণালিকে পুনরায় চালু করা এবং চলমান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আরও ৬০ দিনের জন্য বাড়িয়ে দেওয়া। এই ৬০ দিনের মধ্যে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির ভবিষ্যৎসহ বিভিন্ন বিতর্কিত ইস্যু নিয়ে চূড়ান্ত আলোচনা হবে।
এদিকে, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, উপসাগরীয় অঞ্চলের যুদ্ধ বন্ধের লক্ষ্যে তৈরি এই সমঝোতা স্মারকে ইতোমধ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার ও প্রধান আলোচক বাঘের গালিবাফ স্বাক্ষর করেছেন। আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে চুক্তির বিস্তারিত শর্ত প্রকাশ করা হতে পারে।
মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স জানিয়েছেন, ইরান যদি চুক্তির সব শর্ত মেনে চলে এবং পারমাণবিক উপকরণ ত্যাগ করে, তবে তারা উপসাগরীয় আরব দেশগুলোর অর্থায়নে গঠিত ৩০০ বিলিয়ন ডলারের একটি পুনর্গঠন তহবিলের সুবিধা পাবে।
আরও পড়ুন: ঢাকায় ৪০ টাকায় লাউ, অথচ এক টাকায় চারটি: সিন্ডিকেট নিয়ে ক্ষোভ ডাকসু ভিপির
বিশ্লেষকদের মতে, এই চুক্তির ভবিষ্যৎ অনেকটাই নির্ভর করছে লেবানন পরিস্থিতির ওপর। গত ফেব্রুয়ারি থেকে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরুর পাশাপাশি, ইসরায়েল লেবাননে ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধেও অভিযান চালিয়ে আসছে। ইরানের পক্ষ থেকে সাফ জানানো হয়েছে, প্রাথমিক চুক্তির শর্ত অনুযায়ী লেবাননসহ সব ফ্রন্টে যুদ্ধ বন্ধ থাকতে হবে। নিরাপত্তা সূত্রগুলো জানিয়েছে, চুক্তির খবর আসার পর দক্ষিণ লেবাননে সংঘর্ষের তীব্রতা কিছুটা কমলেও, তা পুরোপুরি বন্ধ হয়নি।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী জাহাজ মালিকদের সতর্ক করে জানিয়েছে, ইরানের বন্দরগুলোর ওপর আরোপিত অবরোধ এখনো পুরোপুরি প্রত্যাহার করা হয়নি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন