প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
জার্মানির মতোই হয়তো গোলোৎসব দেখার জন্য আটালান্টায় হাজির হয়েছিলেন স্পেনের দর্শক-সমর্থকরা। অথবা বোকাবাক্সে চোখ রেখেছিলেন স্বশরীরে আটলান্টা স্টেডিয়ামে উপস্থিত হতে না পারা দর্শকরা।
কেননা এবারের বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে স্পেনের প্রতিপক্ষ হিসেবে ছিল অভিষিক্ত কেপ ভার্ডেকে।
এছাড়া বিশ্বমঞ্চে অনভিজ্ঞ কেপ ভার্ডের ফিফা র্যাংকিং ৬৭তম। এর বিপরীতে ২০১০ সালে বিশ্বকাপজয়ী স্পেনের বর্তমান অবস্থান ২। ইতিহাস ও শক্তি-সামর্থ্য বিবেচনায় তাই ছিল এটি একটি অসম লড়াইয়ের চিত্র।
তবে মাঠের খেলায় সেই অসম লড়াইয়ের কোনো চিহ্ন দেখা গেল না।
পরিসংখ্যান অবশ্য অসম লড়াইয়েরই ইঙ্গিত দেবে। কিন্তু ২৭টি শট নেওয়ার পরেও 'সোনার হরিণের' দেখা পায়নি স্পেন। ডিফেন্ডিং ইউরো জয়ীদের সামনে দাঁড়িয়ে 'চীনের মহাপ্রাচীর' হয়ে এসেছিলেন কেপ ভার্ডের গোলরক্ষক ভোজিনিয়া।
৪০ বছর বয়সী গোলরক্ষক অন্তত ৭টি সেভ করেছেন। তার দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের সঙ্গে বাস পার্কিং কৌশলও কেপ ভার্ডের জন্য বেশ কার্যকরী হয়েছে। স্পেনকে বিশ্বকাপ অভিষেকে রুখে দিয়েছে তারা। কেপ ভার্ড কোনো বল নিজেদের জালে জড়াতে দেয়নি। ফলে গোলশূন্য ড্রতে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হয় স্পেন।
কেপ ভার্ডের গোলরক্ষক ভোজিনিয়ার দারুণ পারফরম্যান্স দিয়েই জয়ের সমান ড্র এনে দিয়েছেন। ছবি : রয়টার্স
শুরু থেকেই বল পজিশন ধরে রেখে খেলতে থাকে স্পেন। ৩৬ মিনিটে গোলের দারুণ সুযোগ পায় তারা। পেদ্রির শট কর্নারের বিনিময়ে প্রতিহত করেন কেপ ভার্ডের গোলরক্ষক ভোজিনিয়া। তবে কুকুরেলা অফসাইড হওয়ায় কর্নারটি বাতিল হয়।
তবে ৩৮ মিনিটে গোল পেয়েই গিয়েছিল স্পেন। কিন্তু ক্রসবারের কারণে ফেরান তোরেসকে হতাশ হতে হলো। ফিরতি সুযোগ পেয়েছিলেন মিকেল ওয়ারজাবাল। কিন্তু দুর্দান্ত এক ক্ষিপ্রতায় ক্রসবারের উপর দিয়ে থেলে দেন ভোজিনিয়া। ৪৫ মিনিটে আরেকটি দুর্দান্ত সেভ দেন কেপ ভার্ডের গোলরক্ষক।
বক্সের ভেতর থেকে বাঁ পায়ে শট নিয়েছিলেন তোরেস। কিন্তু ডান দিকে ঝাঁপিয়ে পড়ার ফলে তিনি শটটি ধরে ফেলেন। যোগ করা সময়ে ৪০ বছর বয়সী গোলরক্ষক নিজের অভিজ্ঞতা ও দক্ষতার প্রমাণ দিয়ে যান। বিরতিতে যাওয়ার পূর্বে পেদ্রির নেওয়া কর্নারে দারুণ এক হেড নিয়ে স্কোরের সুযোগ পায় আমেরিক লাপোর্তে। কিন্তু সেই হেডকে জমা রাখতে পারেননি ভোজিনিয়া। প্রথমার্ধ শেষে গোলশূন্য ড্রয়ে রুখে দেন ২০১০ বিশ্বকাপজয়ী স্পেনকে।
৫৬ মিনিটে ফাবিয়ান রুইজ সুবর্ণ সুযোগ নিয়ে হেড নিতে ব্যর্থ হন। ফলে বল চলে যায় ভোজিনিয়ার কাছে। ৭৩ মিনিটে স্পেনের আরেকটি আক্রমণও সেই গোলরক্ষক নসাৎ করেন। গোল পেতে সংখ্যাধিক্য পরিবর্তন করেন কোচ লুইস দে লা ফয়েন্তে।
কিন্তু কোনো লাভ হয়নি স্পেনের। স্পেনের কপাল আজ খারাপ ছিল। ৮৭ মিনিটে দারুণ এক শট নিয়েছিলেন ওয়ারজাবাল। প্রতিপক্ষের এক খেলোয়াড়ের শরীরে না লাগলে বলটি জালেই জড়ানোর কথা ছিল। উল্টো ৯০ মিনিটে কর্নার থেকে গোলের সুযোগ পেয়েছিল কেপ ভার্ডে। তবে হেডে পাওয়ার অভাবের কারণে এটি ধরতে কোনো অসুবিধা হয়নি স্পেনের গোলরক্ষক উনাই সিমোনের। ফলে বিশ্বকাপে কেপ ভার্ডের অভিষেক হয়ে গেল অবিশ্বাস্য।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন