মঙ্গলবার, ১ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
১২:০৭ পি.এম
যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক সরকারের প্রতি সমর্থন অব্যাহত রেখেছে এবং যে কোনো সহায়তার জন্য প্রস্তুত থাকার কথা জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্টের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক ব্যুরোর ভারপ্রাপ্ত পরিচালক সারাহ আলড্রিচ।
গত শুক্রবার (২৮ আগস্ট) ওয়াশিংটন ডিসির বাংলাদেশ দূতাবাসে অনুষ্ঠিত একটি স্মরণসভায় তিনি এ মন্তব্য করেন, যা জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ২০২৪ সালের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজন করা হয়।
বাংলাদেশ দূতাবাসের প্রেস উইং থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
স্মরণসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সারাহ আলড্রিচ, যিনি জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শিক্ষার্থী-জনতার আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করেন।
তিনি উল্লেখ করেন, "জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। বর্তমানে একটি নির্বাচিত সরকার দেশ পরিচালনা করছে। যুক্তরাষ্ট্র মনে করে বাংলাদেশ সঠিক পথে আছে।"
সারাহ আলড্রিচ বলেন, গণঅভ্যুত্থানের পরবর্তী বিভিন্ন জটিলতা অতিক্রম করে অন্তর্বর্তী সরকার অল্প সময়ের মধ্যে একটি সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন সম্পন্ন করেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের মধ্যে রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক সম্পর্কের উন্নতি ঘটেছে। যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের সঙ্গে কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদার করতে আগ্রহী। তিনি আবারও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক সরকারের পাশে আছে এবং যে কোনো সহায়তার জন্য প্রস্তুত।
সারাহ আলড্রিচ জুলাইয়ের চেতনায় দেশকে কৃষি, অর্থনীতি এবং রাজনৈতিক ধারায় এগিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান উন্নতি ও সমৃদ্ধির জন্যও শুভকামনা জানান।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আটলান্টিক কাউন্সিলের সিনিয়র ফেলো মাইকেল কুগেলম্যান। তিনি মন্তব্য করেন, বাংলাদেশের তরুণ জেন-জিরা গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে যে পরিবর্তনের সূচনা করেছেন, তা বিশ্বের অনেক দেশে ছড়িয়ে পড়েছে। এই কারণে বাংলাদেশের জুলাই গণঅভ্যুত্থান অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
অনুষ্ঠানের শুরুতে ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসান ঘটিয়ে বাংলাদেশকে গণতান্ত্রিক ধারায় ফিরিয়ে আনা, সমাজ ও রাষ্ট্রীয় কাঠামোতে গুণগত পরিবর্তন এবং বৈষম্য দূরীকরণের লক্ষ্যে জীবনদানকারী শহীদদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।
অনুষ্ঠানে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত, কূটনীতিক, স্টেট ডিপার্টমেন্ট ও অন্যান্য মার্কিন সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা, প্রবাসী বাংলাদেশি এবং দূতাবাসের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।
এ সময় জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ওপর নির্মিত তথ্যচিত্র ‘জুলাইকন্যা’ প্রদর্শন করা হয়, যা জুলাই আন্দোলনে নারীদের অবদানের চিত্র তুলে ধরে। জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস-২০২৬ উপলক্ষে রাষ্ট্রদূত তারেক মো. আরিফুল ইসলাম গণঅভ্যুত্থানে সকল শহীদের প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন দূতাবাসের কাউন্সেলর (পলিটিক্যাল-২) নাজনীন সুলতানা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নেপালের ভয়াবহ পাহাড়ি ঢলে নিখোঁজ হয়েছেন ৬০ বছর বয়সী এক মার্কিন নারী। তার পরিবারের সদস্যরা এখন সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন দপ্তরে তার খোঁজে হন্যে হয়ে ঘুরছেন।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, কৈলাস মানসরোবর যাত্রা শেষে ‘ইশা স্যাক্রেড ওয়াকস’-এর একটি দলের সঙ্গে ফিরছিলেন মেরি সোরেনসেন নামের ওই তীর্থযাত্রী। গত ২৬ আগস্ট সকাল ৯টার দিকে তাকে শেষবার দেখা যায় তিব্বতের জিরং ইমিগ্রেশন সেন্টারে। সেখান থেকে তার যুক্তরাষ্ট্রে ফেরার পরিকল্পনা ছিল কাঠমান্ডু ও দিল্লি হয়ে।
কিন্তু ইমিগ্রেশন সেন্টারে পৌঁছানোর কয়েক মিনিটের মধ্যে ঘটে ভয়াবহ বিপর্যয়। পাহাড়ের ওপর হিমবাহ ধসে বিশাল এক পাহাড়ি ঢল আছড়ে পড়ে নদী উপত্যকায়। এই ঘটনায় জিরং সীমান্ত চৌকিসহ আশপাশের সব অবকাঠামো মুহূর্তের মধ্যে ধ্বংস হয়ে যায়। পুরো এলাকার বিদ্যুৎ ও টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।
বন্যার খবর পেয়ে মেরির ছেলে রাইলি ওয়াইল্ডম্যান এবং পুত্রবধূ লরেন বারবার তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেন। তবে তাদের প্রচেষ্টা ব্যর্থ হলে তারা সংবাদমাধ্যম, উদ্ধারকারী দল ও প্রশাসনের কাছে সাহায্য চান। সংবাদমাধ্যমের কাছে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রাইলি উভয় সীমান্তের উদ্ধারকর্মী ও কূটনীতিকদের কাছে তার মাকে খুঁজে বের করার আকুতি জানান।
বিপর্যস্ত ওই অঞ্চলে এখনো ইন্টারনেট ও মোবাইল নেটওয়ার্ক বন্ধ রয়েছে। তাই জিরং, তিমুরে, স্যাব্রুবেসি বা রাসুওয়া এলাকার কাছাকাছি যারা কাজ করছেন, তাদের কাছে জরুরি তালিকা ও আশ্রয়কেন্দ্রের রেকর্ডগুলো খতিয়ে দেখার জন্য নিখুঁত অনুরোধ জানিয়েছে নিখোঁজ মেরির পরিবার।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ইঙ্গিত ছিল, সেটাই হল। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে পর পর দুই টেস্টে হারের পর পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) একটি বড় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। তৃতীয় টেস্টের পূর্বে সিরিজের মাঝেই টেস্ট স্কোয়াডে ব্যাপক পরিবর্তন আনা হয়েছে। পারফরম্যান্স এবং দলগত প্রয়োজনীয়তা বিবেচনা করে একসঙ্গে সাতজন ক্রিকেটারকে বাদ দিয়েছে পিসিবি। পাশাপাশি, কোচ সরফরাজ আহমেদ ও উমর গুলকেও ছাঁটাই করা হয়েছে।
দল থেকে বাদ পড়াদের তালিকায় রয়েছে মোহাম্মদ রিজওয়ান, ইমাম-উল-হক, সালমান আলী আগা, আলী ওসমান, আমির জামাল, মুহাম্মদ ওয়াইস জাফর এবং খুররাম শাহজাদ।
ছাঁটাই হওয়া সাতজনের জায়গায় সমসংখ্যক নতুন খেলোয়াড়কে স্কোয়াডে ডাকা হয়েছে। নতুনদের মধ্যে পাঁচজনের টেস্ট ক্রিকেটে অভিষেক হয়নি। অন্যদিকে, বাকি দুজন আগে জাতীয় দলের হয়ে টেস্ট খেলেছেন।
দলে ফিরেছেন ওপেনার সায়েম আইয়ুব ও আবদুল্লাহ ফাজল, যাঁরা যথাক্রমে আটটি ও দুটি টেস্ট খেলেছেন। বাঁহাতি স্পিন-অলরাউন্ডার আরাফাত মিনহাজের পাকিস্তানের হয়ে তিনটি ওয়ানডে এবং চারটি টি-টোয়েন্টি খেলার অভিজ্ঞতা রয়েছে।
স্কোয়াডে সুযোগ পাওয়া অন্যান্য চার অনভিষিক্ত খেলোয়াড় হলেন—বাঁহাতি পেসার মোহাম্মদ ইমরান জুনিয়র, কায়েদ-ই-আজম ট্রফির (২০২৫-২৬) সেরা খেলোয়াড় ও উইকেটরক্ষক-ব্যাটার সাদ বেগ, ডানহাতি পেস-অলরাউন্ডার মোহাম্মদ ইমরান (ইমরান রান্ধাওয়া) এবং রেজাউল্লাহ।
ইংল্যান্ডের বিপক্ষে চলতি সিরিজের তৃতীয় টেস্টের আগেই নতুন সদস্যরা বার্মিংহামে দলের সঙ্গে যোগ দেবেন।
কেবল খেলোয়াড়দের পরিবর্তন নয়, টিম ম্যানেজমেন্টেও পরিবর্তন এনেছে পিসিবি। কোচিং স্টাফের দায়িত্ব থেকে সরফরাজ আহমেদ ও উমর গুলকে অব্যাহতি দিয়ে তাঁদের জায়গায় মাইক হেসন ও অ্যাশলে নোফকে নিয়োগ করা হয়েছে।
বার্মিংহাম টেস্টের জন্য পাকিস্তান স্কোয়াড:
বাবর আজম (অধিনায়ক), আবদুল্লাহ ফাজল, আরাফাত মিনহাজ, আজান ওয়াইস, মোহাম্মদ আব্বাস, মোহাম্মদ আলী, মুহাম্মদ ইমরান, মোহাম্মদ ইমরান জুনিয়র, মুহাম্মদ গাজী ঘোরি (উইকেটরক্ষক), রেজাউল্লাহ, সাদ বেগ (উইকেটরক্ষক), সায়েম আইয়ুব, সাজিদ খান, সৌদ শাকিল, শান মাসুদ এবং উবাইদ শাহ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (শেবাচিম) জালিয়াতি, হুমকি, অবৈধ দখলদারি ও বেপরোয়া চাঁদাবাজির মাধ্যমে ত্রাসের রাজত্ব গড়ে তোলার অভিযোগ উঠেছে বিতর্কিত ও মাদকাসক্ত দেলোয়ার হোসেন ওরফে দেলুর বিরুদ্ধে। এক সময় রাজপথের টোকাই হিসেবে জীবন শুরু করা এই ব্যক্তি ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে বর্তমানে পুরো হাসপাতালকে জিম্মি করে রেখেছেন। তার এসব বেপরোয়া অপকর্মের কারণে সরকারি ঐতিহ্যবাহী এই চিকিৎসালয়ের সেবা কার্যক্রম ভেঙে পড়েছে এবং চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন সাধারণ কর্মচারীরা।
দালালি থেকে আউটসোর্সিং ‘নেতা’
অনুসন্ধানে জানা যায়, দেলোয়ারের মূল পেশা ছিল শেবাচিমকে ঘিরে রোগী ভাগিয়ে বিভিন্ন ডায়াগনস্টিক সেন্টার থেকে মোটা অঙ্কের কমিশন হাতিয়ে নেওয়া। প্রকাশ্যে দালালি করার সময় একাধিকবার র্যাবের অভিযানে হাতেনাতে গ্রেপ্তার হন তিনি। সে সময় র্যাবের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক বিবৃতিও দেওয়া হয়েছিল, যার প্রমাণ এখনও বিভিন্ন গণমাধ্যম ও ডিজিটাল নথিতে বিদ্যমান। কিন্তু কারাগার থেকে বের হয়ে তিনি থামেননি। পরবর্তীতে তৎকালীন সহকারী পরিচালক ডা. মোনায়েম সাদের সাথে সখ্য গড়ে তুলে অবৈধ উপায়ে আউটসোর্সিংয়ের চাকরি বাগিয়ে নেন। এরপর ডা. মোনায়েম সাদকে বন্ধু পরিচয় দিয়ে এবং একটি আউটসোর্সিং কমিটি গঠন করে নিজে তার সভাপতি বনে যান।
রাজনৈতিক আশ্রয় ও পরিচয় পরিবর্তন
রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে রূপ বদলাতে সিদ্ধহস্ত দেলোয়ার বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বরিশাল সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র সাদেক আবদুল্লাহর ঘনিষ্ঠ সহযোগী তাজুলের ছায়াসঙ্গী হিসেবে কাজ করতেন। তাজুল আড়ালে থেকে দেলোয়ারকে ব্যবহার করে নিজের স্বার্থ হাসিল করতেন। ক্ষমতার চাকা ঘোরার পর দেলোয়ার নিজেকে বিএনপি নেতা দাবি করছেন এবং স্বঘোষিত ‘আউটসোর্সিং কর্মচারী নেতা’ সেজে বহাল তবিয়তে রয়েছেন।
সাধারণ কর্মচারীদের ওপর শোষণ ও চাঁদাবাজি
অভিযোগ রয়েছে, সাধারণ কর্মচারীদের আটকে থাকা পাওনা বেতন আদায় ও প্রশাসনিক কাজে ঢাকা যাওয়ার যাতায়াত খরচের বাহানা দিয়ে তিনি নিয়মিত মোটা অঙ্কের টাকা চাঁদা তুলছেন। দেলোয়ারের ভীতি ও নির্যাতনের কারণে কর্মচারীরা মুখ ফুটে প্রতিবাদ করার সাহস পাচ্ছেন না।
সম্প্রতি বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে তার অপকর্মের খবর প্রকাশ হলে তিনি নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন এবং অতীতে র্যাবের গ্রেপ্তারকে ‘রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র’ বলে প্রচার চালান। অথচ নথিবদ্ধ সরকারি তথ্য অনুযায়ী, তিনি দালালির অপরাধে হাতেনাতে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন।
মাদকাসক্তি, মারধর ও ক্যান্টিন দখলের চেষ্টা
স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, দেলোয়ার চরম মাদকাসক্ত। তাকে সুস্থ করতে দু’বার মাদক নিরাময় কেন্দ্রে (রিহ্যাব) পাঠানো হলেও তার আচরণে কোনো ইতিবাচক পরিবর্তন আসেনি; বরং রিহ্যাব থেকে ফিরে তিনি হাসপাতালকেন্দ্রিক অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে আরও আগ্রাসী হয়ে ওঠেন।
এর আগে শেবাচিম কম্পাউন্ডে একটি অ্যাম্বুলেন্স আটকে দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে অ্যাম্বুলেন্স চালককে বেধড়ক মারধর করা হয়। এছাড়া হাসপাতালের ৫ম তলার সুপরিচিত ‘ডক্টরস ক্যান্টিন’ দীর্ঘদিন ধরে পরিচালনা করে আসা মজেদ ও তার ছেলে আরিফুর রহমানকে তাড়িয়ে দিয়ে অবৈধভাবে দখলের চেষ্টা চালান দেলোয়ার। তাতে ব্যর্থ হয়ে তাদের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজসহ প্রাণনাশের হুমকি দেন। বরিশাল মেডিকেল রোড এলাকার বিতর্কিত ‘আবাসিক হোটেল বিসমিল্লাহ’ কেন্দ্রিক নানা অসামাজিক ও অবৈধ কর্মকাণ্ডেও তার প্রত্যক্ষ ইন্ধন রয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ ও প্রতিকারের দাবি
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক চিকিৎসক জানান, "র্যাবের হাতে গ্রেপ্তার হওয়া দালালেরা রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় আউটসোর্সিংয়ের সুযোগ নিয়ে এখন নিজেদের স্টাফ পরিচয় দেয়। এতে দালালদের দাপট বহুগুণ বেড়ে গেছে। দেলোয়ারের অতীতের এই কালো ইতিহাস আমাদের জানা ছিল না।"
হাসপাতালের প্রশাসনিক স্বচ্ছতার জন্য সুপরিচিত বর্তমান পরিচালকের অজান্তে দেলোয়ার কীভাবে আউটসোর্সিংয়ের চুক্তি বাগিয়ে কর্মচারীদের জিম্মি করলেন, তা নিয়ে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে কর্মচারী ও সেবাগ্রহীতাদের মাঝে। ঐতিহ্যবাহী এই হাসপাতালের স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে এবং সাধারণ মানুষকে মুক্তি দিতে এই মাদকাসক্ত ও বেপরোয়া দালালের বিরুদ্ধে দ্রুত কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার জোরালো দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ডেলিভারি ওয়ার্ডে দীর্ঘ দিন ধরে দায়িত্ব পালনকারী এক ওয়ার্ড বয়ের বিরুদ্ধে রোগী ও স্বজনদের কাছ থেকে অর্থ আদায়, সরকারি ওষুধ ও চিকিৎসা সামগ্রী নিয়ে অনিয়মসহ নানা অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন হাসপাতালের ওয়ার্ড বয় শাহীন মিয়া।
ভুক্তভোগী ও স্থানীয় কয়েকটি সূত্রের দাবি, দীর্ঘ দিন একই ইউনিটে দায়িত্ব পালনের সুযোগে ডেলিভারি ওয়ার্ডে শাহীনের একটি শক্তিশালী প্রভাববলয় তৈরি হয়েছে। প্রসূতি রোগীদের ট্রলিতে নেওয়া, সিট বরাদ্দসহ বিভিন্ন সেবার ক্ষেত্রে রোগীর স্বজনদের কাছ থেকে অনৈতিক ভাবে অর্থ নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
অভিযোগ রয়েছে, দাবিকৃত অর্থ দিতে অনীহা প্রকাশ করলে রোগীর স্বজনদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করা হয়। এমনকি সেবা পেতে হয়রানি কিংবা বিলম্বের আশঙ্কায় অনেক পরিবার প্রতিবাদ না করে অর্থ দিতে বাধ্য হন বলেও দাবি করেছেন কয়েকজন ভুক্তভোগী। সরকারি ওষুধ ও চিকিৎসা সামগ্রী নিয়েও অভিযোগ শুধু রোগী ও স্বজনদের কাছ থেকে অর্থ আদায় নয়, হাসপাতালের সরকারি সরবরাহের ওষুধ ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সামগ্রী নিয়েও শাহীনের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগকারীদের দাবি, রোগীদের জন্য বরাদ্দকৃত কিছু ওষুধ ও চিকিৎসা সামগ্রী রোগীর নামে ইস্যু করিয়ে তা রোগীকে না দিয়ে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়। পরবর্তীতে সেগুলো বাইরে বিক্রির অভিযোগও রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। বাইরের লোকজন দিয়ে ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগ শাহীনের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে, নিজের প্রভাব ধরে রাখতে হাসপাতালের বাইরের একটি প্রভাবশালী মহলের সঙ্গে তার যোগাযোগ রয়েছে। ভুক্তভোগীদের কেউ কেউ দাবি করেছেন, অনিয়মের প্রতিবাদ করলে তাদের ভয়ভীতি দেখানো কিংবা নানা ভাবে হয়রানির আশঙ্কা তৈরি করা হয়।
ডেলিভারি ওয়ার্ডে স্বজনকে নিয়ে আসা এক ভুক্তভোগী বলেন, “সরকারি হাসপাতালে সেবা পাওয়ার আশায় এসে ছিলাম। কিন্তু বিভিন্ন পর্যায়ে টাকা দাবি করা হয়েছে। টাকা না দিলে কাজ এগোয় না এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছে।
তদন্তের দাবি: ডেলিভারি ওয়ার্ডের মতো গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর ইউনিটে একজন কর্মচারীর বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগ ওঠায় বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন রোগী ও স্বজনরা। তাদের দাবি, অভিযোগ গুলো নিরপেক্ষ ভাবে তদন্ত করে সত্যতা যাচাই করা হোক এবং অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিররুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হোক বলে সচেতন মহল মনে করছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ