প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক সরকারের প্রতি সমর্থন অব্যাহত রেখেছে এবং যে কোনো সহায়তার জন্য প্রস্তুত থাকার কথা জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্টের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক ব্যুরোর ভারপ্রাপ্ত পরিচালক সারাহ আলড্রিচ।
গত শুক্রবার (২৮ আগস্ট) ওয়াশিংটন ডিসির বাংলাদেশ দূতাবাসে অনুষ্ঠিত একটি স্মরণসভায় তিনি এ মন্তব্য করেন, যা জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ২০২৪ সালের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজন করা হয়।
বাংলাদেশ দূতাবাসের প্রেস উইং থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
স্মরণসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সারাহ আলড্রিচ, যিনি জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শিক্ষার্থী-জনতার আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করেন।
তিনি উল্লেখ করেন, "জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। বর্তমানে একটি নির্বাচিত সরকার দেশ পরিচালনা করছে। যুক্তরাষ্ট্র মনে করে বাংলাদেশ সঠিক পথে আছে।"
সারাহ আলড্রিচ বলেন, গণঅভ্যুত্থানের পরবর্তী বিভিন্ন জটিলতা অতিক্রম করে অন্তর্বর্তী সরকার অল্প সময়ের মধ্যে একটি সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন সম্পন্ন করেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের মধ্যে রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক সম্পর্কের উন্নতি ঘটেছে। যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের সঙ্গে কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদার করতে আগ্রহী। তিনি আবারও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক সরকারের পাশে আছে এবং যে কোনো সহায়তার জন্য প্রস্তুত।
সারাহ আলড্রিচ জুলাইয়ের চেতনায় দেশকে কৃষি, অর্থনীতি এবং রাজনৈতিক ধারায় এগিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান উন্নতি ও সমৃদ্ধির জন্যও শুভকামনা জানান।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আটলান্টিক কাউন্সিলের সিনিয়র ফেলো মাইকেল কুগেলম্যান। তিনি মন্তব্য করেন, বাংলাদেশের তরুণ জেন-জিরা গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে যে পরিবর্তনের সূচনা করেছেন, তা বিশ্বের অনেক দেশে ছড়িয়ে পড়েছে। এই কারণে বাংলাদেশের জুলাই গণঅভ্যুত্থান অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
অনুষ্ঠানের শুরুতে ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসান ঘটিয়ে বাংলাদেশকে গণতান্ত্রিক ধারায় ফিরিয়ে আনা, সমাজ ও রাষ্ট্রীয় কাঠামোতে গুণগত পরিবর্তন এবং বৈষম্য দূরীকরণের লক্ষ্যে জীবনদানকারী শহীদদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।
অনুষ্ঠানে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত, কূটনীতিক, স্টেট ডিপার্টমেন্ট ও অন্যান্য মার্কিন সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা, প্রবাসী বাংলাদেশি এবং দূতাবাসের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।
এ সময় জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ওপর নির্মিত তথ্যচিত্র ‘জুলাইকন্যা’ প্রদর্শন করা হয়, যা জুলাই আন্দোলনে নারীদের অবদানের চিত্র তুলে ধরে। জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস-২০২৬ উপলক্ষে রাষ্ট্রদূত তারেক মো. আরিফুল ইসলাম গণঅভ্যুত্থানে সকল শহীদের প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন দূতাবাসের কাউন্সেলর (পলিটিক্যাল-২) নাজনীন সুলতানা।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন