ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

কেন ব্যালন ডি’অর জিততে পিছিয়ে থাকেন গোলকিপাররা


কেন ব্যালন ডি’অর জিততে পিছিয়ে থাকেন গোলকিপাররা

ফুটবলে গোল করার মাধ্যমে একজন খেলোয়াড় নায়ক হয়ে ওঠেন, আর গোল হজম হলে গোলকিপার কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে যান। একটি অবিশ্বাস্য সেভ দলকে জয় এনে দিতে পারে, আবার গোলকিপারের বিচক্ষণ সিদ্ধান্ত প্রতিপক্ষের আক্রমণকে নস্যাৎ করতে পারে। তবুও, ফুটবলের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ ব্যক্তিগত পুরস্কার ব্যালন ডি’অরে গোলকিপারদের সাফল্য অত্যন্ত সীমিত।

১৯৬৩ সালে সোভিয়েত ইউনিয়নের কিংবদন্তি লেভ ইয়াশিনের পর থেকে আর কোনো গোলকিপার এই পুরস্কার জিততে পারেননি। এর পেছনে রয়েছে পারফরম্যান্স মূল্যায়নের সীমাবদ্ধতা, দর্শকদের গোলের প্রতি আকর্ষণ এবং গোলকিপারদের অবদান পরিমাপের জটিলতা।

১৯৬৩ সালে ব্যালন ডি’অর জিতে ইতিহাস গড়েন লেভ ইয়াশিন। তিনি ফুটবল ইতিহাসে একমাত্র গোলকিপার, যিনি পুরুষদের ব্যালন ডি’অর অর্জন করেছেন। ছয় দশকেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও আর কোনো গোলকিপার তাঁর কীর্তির পুনরাবৃত্তি করতে পারেননি।

আরও পড়ুন: শেষ মুহূর্তের রোমাঞ্চে ব্র্যাককে হারিয়ে সোনারগাঁওয়ের টানা দ্বিতীয় জয়

কিছু কিংবদন্তি কাছাকাছি পৌঁছেছিলেন। ১৯৭৩ সালে ইতালির দিনো জফ ব্যালন ডি’অরে দ্বিতীয় স্থান অধিকার করেন। ২০০২ সালে জার্মানির অলিভার কান তৃতীয় হন। ২০০৬ সালে ইতালির বিশ্বকাপজয়ী দলের গোলকিপার জিয়ানলুইজি বুফন দ্বিতীয় হন। ২০১৪ সালে জার্মানির বিশ্বকাপজয়ী দলের ম্যানুয়েল নয়্যারও ব্যালন ডি’অরে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেন।

এই তালিকাই প্রমাণ করে, গোলকিপারদের পারফরম্যান্স বিশ্বসেরার স্বীকৃতি পাওয়ার মতো হলেও চূড়ান্ত পুরস্কারটি তাদের অধরাই থেকে গেছে।

২০০২ বিশ্বকাপ ছিল অলিভার কানের ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা অধ্যায়। পুরো টুর্নামেন্টে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের স্বীকৃতি হিসেবে গোল্ডেন বল জিতেন জার্মান অধিনায়ক। বিশ্বকাপে সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কারজয়ী একমাত্র গোলকিপারও তিনিই।

তবে ব্রাজিলের বিপক্ষে ফাইনালে রিভালদোর শট তিনি ঠিকমতো নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারেননি। ফিরতি বলে গোল করেন রোনালদো। সেই ভুলই যেন আড়াল করে দেয় টুর্নামেন্টজুড়ে তাঁর অসাধারণ পারফরম্যান্সের বড় অংশ।

আরও পড়ুন: কেপটাউনে অস্ট্রেলিয়ার দাপট, ৩৩০ রান করে ১ রানের লিড

কান শেষ পর্যন্ত ২০০২ সালের ব্যালন ডি’অরে তৃতীয় হন। ফাইনালের ফল অন্য রকম হলে তাঁর ব্যক্তিগত স্বীকৃতির হিসাবও ভিন্ন হতে পারত। তবে এমন সম্ভাবনা নিশ্চিত করে বলা যায় না। বরং ঘটনাটি দেখিয়ে দেয়, গোলকিপারের একটি ভুল কীভাবে দীর্ঘ সময়ের ভালো পারফরম্যান্সকে ছাপিয়ে যেতে পারে।

আক্রমণভাগের খেলোয়াড়দের অবদান পরিমাপের সবচেয়ে সহজ উপায় হলো গোল ও অ্যাসিস্ট। একটি গোল কিংবা শেষ মুহূর্তের জয়সূচক শট মুহূর্তেই একজন ফুটবলারকে আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে আসে।

কিন্তু গোলকিপারের কাজ শুধু শট ঠেকানো নয়। কখন সামনে এগিয়ে আসতে হবে, কীভাবে নিজের অবস্থান ঠিক রাখতে হবে, কখন বল বিপদমুক্ত করতে হবে এবং রক্ষণভাগের সঙ্গে কীভাবে যোগাযোগ রাখতে হবে এসব সিদ্ধান্তও ম্যাচের ফল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

আধুনিক ফুটবলে প্রত্যাশিত গোল বা এক্সপেক্টেড গোলের পাশাপাশি শট-পরবর্তী প্রত্যাশিত গোলের মতো পরিসংখ্যান ব্যবহার করা হয়। এসব বিশ্লেষণের মাধ্যমে গোলকিপারের সেভের কার্যকারিতা ও কঠিন শট ঠেকানোর সক্ষমতা সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়।

আরও পড়ুন: ডুলির লক্ষ্য, সব ম্যাচে জয় নিশ্চিত করা

তবে সব অবদান পরিসংখ্যানে ধরা পড়ে না। প্রতিপক্ষের থ্রু পাস আগেই বুঝে বলের কাছে পৌঁছে যাওয়া কিংবা বিপজ্জনক আক্রমণ শুরু হওয়ার আগেই সঠিক অবস্থান নেওয়ার কারণে কোনো সেভ নাও করতে হতে পারে। তবুও সেই সিদ্ধান্ত প্রতিপক্ষের গোলের সুযোগ নষ্ট করে দিতে পারে।

এ ধরনের অবদান দর্শকের চোখে সব সময় পড়ে না। গোল বা অ্যাসিস্টের মতো সহজে সংখ্যায় প্রকাশ করাও কঠিন।

গোলকিপারের প্রভাব শুধু গোলপোস্টের সামনে সীমাবদ্ধ নয়। একজন নির্ভরযোগ্য গোলকিপার পুরো রক্ষণভাগকে আত্মবিশ্বাসী করে তুলতে পারেন। ডিফেন্ডাররা জানেন, তাদের পেছনে একজন দক্ষ খেলোয়াড় আছেন, যিনি বিপদ সামাল দিতে পারবেন। ফলে তাঁরা আরও আগ্রাসীভাবে খেলতে পারেন।

একইভাবে, গোলকিপার নিয়মিত কঠিন শট ঠেকাতে পারলে দলের অন্য খেলোয়াড়দের মধ্যেও আত্মবিশ্বাস বাড়ে। প্রতিপক্ষ একের পর এক সুযোগ তৈরি করেও গোল করতে ব্যর্থ হলে তাদের ওপর মানসিক চাপ তৈরি হতে পারে।

আরও পড়ুন: ১০৪ বছর পর ইতালিয়ান লিগে উচ্চারিত মুসোলিনির নাম

নটিংহাম ফরেস্টের সাবেক গোলকিপার পিটার শিলটনের গুরুত্ব বুঝেছিলেন কিংবদন্তি কোচ ব্রায়ান ক্লফ। ভালো গোলকিপার একটি মৌসুমে দলকে ১৫ থেকে ২০ পয়েন্ট পর্যন্ত এনে দিতে পারেন এমন ধারণার মাধ্যমে গোলকিপারের প্রভাব বোঝানোর চেষ্টা করা হয়। তবে এটি সর্বজনস্বীকৃত কোনো পরিসংখ্যানগত নিয়ম নয়; বরং একজন গোলকিপার কীভাবে পুরো দলের পারফরম্যান্সে প্রভাব ফেলতে পারেন, তার একটি ব্যাখ্যা।

একজন ফরোয়ার্ড ম্যাচের অধিকাংশ সময় নিষ্প্রভ থেকেও শেষ মুহূর্তে গোল করে নায়ক হয়ে উঠতে পারেন। বিপরীতে, একজন গোলকিপার ৮৯ মিনিট অসাধারণ পারফরম্যান্স দেখানোর পরও শেষ মুহূর্তে একটি ভুল করলে সমালোচনার মুখে পড়তে পারেন।

এর কারণ, গোলকিপারের ভুলের ফল প্রায়ই সরাসরি স্কোরলাইনে দেখা যায়। একটি ভুলে গোল হজম হতে পারে, হারতে পারে দল। অথচ একই ম্যাচে তার একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সেভের মূল্যায়ন তুলনামূলকভাবে কম হতে পারে।

ব্যালন ডি’অরের মতো পুরস্কারে খেলোয়াড়ের পারফরম্যান্সের পাশাপাশি আলোচনায় থাকা, স্মরণীয় মুহূর্ত তৈরি করা এবং মৌসুমজুড়ে প্রভাব বিস্তার করাও গুরুত্বপূর্ণ। গোলকিপারদের অবদান যেহেতু অনেক সময় প্রতিরোধমূলক ও অদৃশ্য, তাই তাঁদের পক্ষে এমন স্বীকৃতি পাওয়া তুলনামূলক কঠিন হয়ে পড়ে।

আরও পড়ুন: কোয়ার্টার ফাইনালে বাংলাদেশ, এক দিনে দুই জয়

গোলকিপারদের পারফরম্যান্সের স্বীকৃতি দিতে ২০১৯ সাল থেকে চালু হয়েছে ইয়াশিন ট্রফি। কিংবদন্তি লেভ ইয়াশিনের নামে দেওয়া এই পুরস্কার গোলকিপারদের জন্য আলাদা স্বীকৃতি নিশ্চিত করেছে।

তবে আলাদা পুরস্কার থাকলেও মূল ব্যালন ডি’অরের প্রতিযোগিতায় গোলকিপারদের পিছিয়ে পড়ার প্রশ্নটি থেকেই যায়। তাঁদের পারফরম্যান্সকে শুধু ক্লিন শিট বা গোলশূন্য ম্যাচের সংখ্যা দিয়ে বিচার করা যথেষ্ট নয়। বরং কতগুলো কঠিন গোল ঠেকিয়েছেন, বিপজ্জনক পরিস্থিতি কীভাবে সামলেছেন, মাঠের কোন জায়গা নিয়ন্ত্রণ করেছেন এবং দলের খেলার ধরনে কতটা প্রভাব রেখেছেন এসব বিষয়ও সমান গুরুত্ব পাওয়া প্রয়োজন।

ফুটবলে গোল করা যেমন দক্ষতার পরিচয়, গোল ঠেকানোও তেমনি গুরুত্বপূর্ণ শিল্প। কিন্তু গোলের উচ্ছ্বাস যত সহজে মানুষের মনে জায়গা করে নেয়, গোল ঠেকানোর অবদান ততটা আলোচনায় আসে না।

ব্যালন ডি’অরে গোলকিপারদের দীর্ঘদিনের অনুপস্থিতি তাই শুধু ব্যক্তিগত পুরস্কারের হিসাব নয়; বরং ফুটবলে পারফরম্যান্স মূল্যায়নের দৃষ্টিভঙ্গিরও প্রতিফলন। গোলকিপারদের অবদানকে অন্য পজিশনের খেলোয়াড়দের সমান গুরুত্ব দিয়ে বিচার করা না গেলে লেভ ইয়াশিনের পর আরেকজন গোলকিপারের হাতে ব্যালন ডি’অর ওঠার অপেক্ষা আরও দীর্ঘ হতে পারে।

আরও পড়ুন: এবিজি ইউনিভার্সিটি কাপ ক্রিকেটে ফারইস্টকে হারিয়ে সোনারগাঁওয়ের টানা দুই জয়

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রাশিয়ার হুমকিতে ১০ লাখ স্থলমাইন কিনবে ফিনল্যান্ড

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০২:০৮ পি.এম


রাশিয়ার হুমকিতে ১০ লাখ স্থলমাইন কিনবে ফিনল্যান্ড

ফিনল্যান্ড ১০ লাখ স্থলমাইন সংগ্রহের উদ্দেশ্যে পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। দেশটি এসব মাইন ক্রয়ের জন্য ১০ কোটি ইউরো ব্যয়ের পরিকল্পনা করছে। জাতিসংঘের একটি চুক্তি থেকে নিজেদের প্রত্যাহার করার পর ফিনল্যান্ড এবং এই অঞ্চলের অন্যান্য দেশ এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

হেলসিংকির এই পরিকল্পনা ইউক্রেনের সমর্থকদের বিরুদ্ধে মস্কোর ক্রমাগত ‘হাইব্রিড যুদ্ধ’ চালানোর অভিযোগের প্রেক্ষাপটে এসেছে। গত বছর ফিনল্যান্ড অটোয়া কনভেনশন থেকে বেরিয়ে আসে, যা সামরিক উসকানির বিরুদ্ধে ছিল।

এছাড়া, ইউক্রেনের ঘনিষ্ঠ মিত্র দেশগুলো যেমন এস্তোনিয়া, লাটভিয়া, লিথুয়ানিয়া ও পোল্যান্ডও মস্কোর সম্ভাব্য হুমকির কথা উল্লেখ করে এই চুক্তি থেকে সরে এসেছে।

ফিনল্যান্ডের সেনাবাহিনী কমান্ডের কর্নেল রিকু মিক্কোনেন জানিয়েছেন, কর্মকর্তারা বর্তমানে এই চুক্তির বিষয়ে সরবরাহকারীদের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করছেন।

হেলসিংকি দেশীয় নির্মাতাদের মাধ্যমে মাইনগুলো সরবরাহ করার পরিকল্পনা করছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৭ সালের শেষ নাগাদ চুক্তি স্বাক্ষরিত হবে এবং ২০২৮ সালের মধ্যে উৎপাদন শুরু হবে।

মিক্কোনেন এসটিটিকে বলেন, যদি ফিনল্যান্ডের কোম্পানিগুলো দেশেই এই অ্যান্টি-পার্সোনেল মাইনগুলো তৈরি করে, তবে তা বিভিন্ন দিক থেকে লাভজনক হবে। তিনি আরও জানান, ফিনল্যান্ডের প্রায় আধা ডজন কোম্পানির এই কাজ করার সক্ষমতা রয়েছে।

তবে, বিদেশ থেকে মাইন কেনার সম্ভাবনাকে পুরোপুরি নাকচ করা যাচ্ছে না, বলে তিনি উল্লেখ করেন। ফিনল্যান্ড ২০১২ সালে অটোয়া কনভেনশনে যোগ দিয়েছিল, যা অ্যান্টি-পার্সোনেল স্থলমাইন নির্মূলের জন্য একটি মানবিক চুক্তি।

ফিনল্যান্ড জানায়, নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতির কারণে তারা ২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে এই চুক্তি থেকে বেরিয়ে যাবে। চলতি বছরের জানুয়ারি মাস থেকে তারা আর এই চুক্তির শর্ত মেনে চলতে বাধ্য নয়।

ফিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী পেতেরি ওরপো প্রতিবেশী রাশিয়াকে একটি দীর্ঘমেয়াদি হুমকি হিসেবে অভিহিত করেছেন। ফিনল্যান্ডের রাশিয়ার সঙ্গে প্রায় ১ হাজার ৩৪০ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত রয়েছে। ২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসনের পর থেকে ফিনল্যান্ড তাদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার করেছে।

এছাড়া, পূর্ব দিক থেকে অভিবাসীদের জোরপূর্বক ফিনল্যান্ডে ঠেলে দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। সোমবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী এলিনা ভালতোনেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন যেন যুদ্ধ শেষ না হওয়া পর্যন্ত রুশ নাগরিকদের জন্য পর্যটক ভিসা ইস্যু বন্ধ রাখা হয়।

তিনি বলেন, "রাশিয়া যতদিন তাদের আগ্রাসন চালিয়ে যাবে, ততদিন রুশ নাগরিকদের পর্যটক ভিসা দেওয়া উচিত নয়।" ভালতোনেন উল্লেখ করেন, ২০২৫ সালে শেনজেনভুক্ত দেশগুলো রুশ নাগরিকদের প্রায় পাঁচ লাখ পর্যটক ভিসা দিয়েছে। ফিনল্যান্ড ২০২২ সালেই এ ধরনের ভিসা দেওয়া বন্ধ করে দিয়েছে এবং ইউরোপীয় জোটের বাকি দেশগুলোরও একই পথ অনুসরণ করা উচিত বলে মনে করেন তিনি। সূত্র : আল জাজিরা

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সীমান্তে ইয়াবার পাহাড়, ১৩ কোটি ৮০ লাখ টাকার ইয়াবাসহ ৪ জন আটক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০২:০৮ পি.এম


সীমান্তে ইয়াবার পাহাড়, ১৩ কোটি ৮০ লাখ টাকার ইয়াবাসহ ৪ জন আটক

সীমান্তে ইয়াবার একটি বিশাল চালান ধরা পড়েছে। উদ্ধার করা ইয়াবার স্তূপ দেখলে মনে হবে নীল প্যাকেটের পাহাড়ের মতো। কক্সবাজারের টেকনাফ ও উখিয়া সীমান্তে ৬৪ বিজিবির দুটি আলাদা অভিযানে ৪ লাখ ৬০ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে। এসব ইয়াবার আনুমানিক বাজারমূল্য ১৩ কোটি ৮০ লাখ টাকা। এ সময় চারজনকে আটক করা হয়েছে।

বিজিবি সূত্র জানায়, টেকনাফের হোয়াইক্যং চেকপোস্টে তল্লাশির সময় একটি ডাবল কেবিন পিকআপের পেছনের সিট কভারের নিচে বিশেষ কৌশলে লুকিয়ে রাখা ১ লাখ ২০ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। এই ঘটনায় পিকআপটির চালককে আটক করেন বিজিবি সদস্যরা।

অন্যদিকে, একই রাতে উখিয়ার পালংখালী সীমান্তে পৃথক অভিযানে মিয়ানমার থেকে আসা তিনজনকে আটক করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে আরও ৩ লাখ ৪০ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। ইয়াবা পরিবহনে ব্যবহৃত একটি পিকআপ ও একটি মোবাইল ফোনও জব্দ করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সীমান্ত দিয়ে মাদক পাচার প্রতিরোধে বিজিবির চলমান অভিযানের অংশ হিসেবে এসব অভিযান পরিচালনা করা হয়।

৬৪ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. জহিরুল ইসলাম অভিযানের তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

স্থানীয় নির্বাচনে দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গেলে দলছুটের হুঁশিয়ারি আইনমন্ত্রীর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০২:১০ পি.এম


স্থানীয় নির্বাচনে দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গেলে দলছুটের হুঁশিয়ারি আইনমন্ত্রীর

স্থানীয় নির্বাচনে দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গেলে দলছুট করা হবে, এই ঘোষণা করেছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি জানিয়েছেন, আগামী ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে দল যাকে মনোনয়ন দেবে, তার পেছনে কাজ করতে হবে।

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) সকালে ঝিনাইদহের শৈলকুপায় উপজেলা বিএনপির নেতাকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময়ের সময় তিনি এই কথা বলেন। শৈলকুপা উপজেলা বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত মতবিনিময়সভার আয়োজন করা হয়েছিল।

আইনমন্ত্রী বলেছেন, ‘প্রধানমন্ত্রী স্থানীয় নির্বাচন নিয়ে একটি ফর্মুলা দেবেন, কিভাবে কাজ করতে হবে। যারা দলের মধ্যে মুনাফিকি করবেন, তাদের ক্ষমা করবেন না তারেক রহমান।’

তিনি আরও বলেন, ‘প্রত্যেকটা ইউনিয়নের একটি রিপোর্ট প্রধানমন্ত্রীর কম্পিউটার সিস্টেমে থাকবে। প্রত্যেকটি ইউনিয়নের তথ্য প্রধানমন্ত্রীর কাছে থাকবে। মনে রাখবেন, আগামী স্থানীয় নির্বাচনে দল চাচ্ছে উইনিং ক্যান্ডিডেট। দলের বড় নেতা মনোনয়ন পেয়ে যদি ভোটে পরাজয়ের শঙ্কা থাকে, তাহলে যত বড় নেতাই হোক, তাকে দল সুযোগ দেবে না।’

আইনমন্ত্রী আরো উল্লেখ করেন, ‘আমার দল যদি না জেতে তাহলে আমার মতো বড় নেতা দিয়ে কী হবে? আজকে বিএনপি যদি ক্ষমতায় না আসত, তাহলে আমি যত বড় নেতাই হই না কেন, আমি যত ভালো মানুষই হই না কেন, তাতে কিছু যাবে আসবে না।’

ইউনিয়ন নির্বাচনে বিএনপি কেমন প্রার্থী দেবে, সে সম্পর্কে ইঙ্গিত দিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘দল আমার কাছে সবচেয়ে বড় আমানত। আপনার পছন্দের প্রার্থীকে প্রার্থী হিসেবে দিলেন, কিন্তু সে যদি না জেতে তাহলে হবে না। আমরা সব নজরে রাখছি। যদি দেখি আপনি দলের সঙ্গে বেঈমানি করছেন, দলের ঊর্ধ্বে উঠে বিকল্প কিছু করছেন, তাহলে কিন্তু আমারও অধিকার আছে আপনাকে ধরার।’

মতবিনিময়সভায় উপজেলা বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

চুয়াডাঙ্গায় মহানবমী উদযাপন শান্তিপূর্ণ পরিবেশে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০২:১১ পি.এম


চুয়াডাঙ্গায় মহানবমী উদযাপন শান্তিপূর্ণ পরিবেশে

চুয়াডাঙ্গা, ২০ অক্টোবর, ২০২৬ : শারদীয় দুর্গোৎসব জেলায় উৎসবমুখর ও আনন্দঘন পরিবেশে উদযাপিত হচ্ছে। আজ মহানবমীতে মন্ডপগুলোতে পূজা অর্চনা চলছে। দিন যতই এগোচ্ছে, মণ্ডপগুলোতে ভক্ত-দর্শনার্থীদের ভিড় ততই বৃদ্ধি পাচ্ছে।

গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার জেলার বিভিন্ন পূজা মন্ডপ পরিদর্শন করেন উৎসবের সার্বিক পরিস্থিতি দেখতে। দামুড়হুদার দর্শনা পুরাতন বাজার সর্বজনীন শ্রী শ্রী দুর্গামাতা মন্দিরসহ একাধিক পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেন চুয়াডাঙ্গার জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহার এবং দামুড়হুদা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লাভলী ইয়াসমিন।

এসময় তারা পূজা উদযাপন কমিটি, পুরোহিত ও ভক্তদের সঙ্গে আলোচনা করেন। পুলিশ ও আনসার সদস্যদের সতর্কতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের নির্দেশনা প্রদান করেন।

জেলা প্রশাসক জানান, "শারদীয় দুর্গোৎসব বাঙালির ঐতিহ্য ও সম্প্রীতির প্রতীক।" সনাতন ধর্মাবলম্বীরা যেন শান্তিপূর্ণভাবে পূজা উদযাপন করতে পারেন, সে জন্য প্রশাসন সব ধরনের সহযোগিতা প্রদান করছে।

এদিকে রাত ৮টার দিকে চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেন পুলিশ সুপার মেহেদী শাহরিয়ার এবং পুলিশ নারী কল্যাণ সমিতির (পুনাক) সভানেত্রী হাবিবা নুসরাত হক মৌ। তারা পূজার সার্বিক আইনশৃঙ্খলার খোঁজ খবর নেন এবং সনাতন ধর্মাবলম্বী ভক্তদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।

আগামীকাল বুধবার মহাদশমীর মধ্যে দিয়ে শারদীয় দুর্গোৎসব শেষ হচ্ছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৫
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%