ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

পরিবেশ মেলা ও জাতীয় বৃক্ষমেলার উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী


পরিবেশ মেলা ও জাতীয় বৃক্ষমেলার উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

 ‘বৃক্ষরোপণে সাজাই দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’ এ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আজ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান উদ্বোধন করেছেন বিশ্ব পরিবেশ দিবস ও পরিবেশ মেলা-২০২৬, পাশাপাশি জাতীয় বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলা-২০২৬।

এই উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হয় বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টায় রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে। অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত করা হয়। এরপর অন্যান্য ধর্মগ্রন্থ থেকেও কিছু পাঠ করা হয়। পরে বর্তমান সরকারের সাফল্য নিয়ে একটি প্রামাণ্যচিত্র পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন খাতে প্রদর্শিত হয়।

উপস্থিত অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী জাতীয় পরিবেশ পদক-২০২৫, বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে জাতীয় পুরস্কার-২০২৬ এবং বৃক্ষরোপণে জাতীয় পুরস্কার-২০২৫ তুলে দেন। এছাড়া সামাজিক বনায়নের উপকারভোগীদের মধ্যে লভ্যাংশের চেক বিতরণ করা হয়।

আরও পড়ুন: কুড়িগ্রামে দুই কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে চার খাদ্য কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুদকের মামলা

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানটির সভাপতিত্ব করেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রীর পরিবেশ, বন ও জলবায়ু বিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. মো. সাইমুম পারভেজ এবং পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন প্রতিমন্ত্রী লায়ন ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম।

অনুষ্ঠানের শেষে, বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রের প্রাঙ্গণে প্রধানমন্ত্রী একটি করে জলপাই, জারুল ও নিম গাছের চারা রোপণ করেন। পরবর্তীতে তিনি পুরাতন বাণিজ্য মেলার মাঠে আয়োজিত জাতীয় বৃক্ষমেলার বিভিন্ন স্টল পরিদর্শন করেন।

পরিবেশ সংরক্ষণ, বন সম্প্রসারণ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় জনসম্পৃক্ততা বাড়ানোর লক্ষ্যে এই মেলার আয়োজন করা হয়েছে।

রাজধানীতে পরিবেশ মেলা ও মাসব্যাপী জাতীয় বৃক্ষমেলার পাশাপাশি, সাতটি বিভাগীয় শহরে ১৫ দিনব্যাপী, ৫৬টি জেলা সদরে সাত দিনব্যাপী এবং ২৯টি উপজেলায় তিন দিনব্যাপী বৃক্ষমেলার আয়োজন করা হচ্ছে। ঢাকার জাতীয় বৃক্ষমেলায় অংশগ্রহণ করেছে ১২০টি স্টল।

আরও পড়ুন: আব্বাসউদ্দীনের ভাওয়াইয়া গান নিয়ে উৎসবের আয়োজন করবে সরকার: সংস্কৃতিমন্ত্রী

অতিরিক্তভাবে, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অধীনে একটি বিশেষ সেল প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।

এই কর্মসূচির আওতায় জিআইএস, রিমোট সেন্সিং, ন্যাশনাল ট্রি ডাটাবেজ এবং ড্রোন প্রযুক্তির মাধ্যমে ডিজিটাল পদ্ধতিতে বনায়ন কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করা হবে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে প্রায় সাড়ে তিন লাখ নতুন সবুজ কর্মসংস্থান তৈরি করা এবং ১০ হাজার নতুন নার্সারি উদ্যোক্তা গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।

বাংলাদেশে বৃক্ষরোপণকে রাষ্ট্রীয় আন্দোলনে রূপ দিয়েছেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। ১৯৭৯ সালে তাঁর উদ্যোগে দেশের প্রথম জাতীয় বননীতি প্রণয়ন করা হয়। এরপর ১৯৯৪ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া জাতীয় বৃক্ষমেলার সূচনা করেন এবং সামাজিক বনায়নের সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। বর্তমান সরকার সেই ধারাবাহিকতায় প্রযুক্তিনির্ভর ও টেকসই বনায়ন ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলার লক্ষ্যে কাজ করছে।

এর আগে, গত ১৩ জুন কক্সবাজারের চকরিয়ার মালুমঘাট সংরক্ষিত বনে একটি গর্জন গাছের চারা রোপণের মাধ্যমে দেশব্যাপী ‘৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ’ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

আরও পড়ুন: ক্যাবের সিলিন্ডার গ্যাসের দাম না বাড়ানোর দাবি, বিইআরসির গণশুনানি বৃহস্পতিবার

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ন্যাটো সম্মেলন শেষে এয়ার ফোর্স ওয়ানের পুরোনো বিমানে তুরস্ক ছাড়লেন ট্রাম্প

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ৯ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০১:৩৫ পি.এম


ন্যাটো সম্মেলন শেষে এয়ার ফোর্স ওয়ানের পুরোনো বিমানে তুরস্ক ছাড়লেন ট্রাম্প

ন্যাটো সম্মেলন শেষে তুরস্ক ত্যাগের সময় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কাতারের উপহার পাওয়া এয়ার ফোর্স ওয়ানের নতুন বিমান ব্যবহার করেননি। তিনি পুরোনো বিমানে তুরস্ক ছাড়লেন।

সম্মেলন শেষে ট্রাম্প নতুন বিমানটি আগে যুক্তরাজ্যের দিকে পাঠিয়ে দেন। সেখানে পৌঁছে, তিনি ওয়াশিংটনের উদ্দেশে যাত্রার জন্য নতুন বিমানে ওঠেন। ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে উল্লেখ করেন कि নতুন বিমানটি মিলডেনহল বিমানঘাঁটিতে পাঠানো হয়েছে। তিনি বলেন, "দায়িত্বরত সামরিক সদস্যরা যাতে এই বিমানে ভ্রমণের সুযোগ পান, সে কারণেই এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।"

বার্তা সংস্থা এএফপি আঙ্কারা থেকে খবরটি প্রকাশ করেছে। ট্রাম্প লেখেন, ‘সবাই খুবই উচ্ছ্বসিত। আমরা মনে করেছি, তারাই আগে এই বিমানটি দেখুক। পুরোনো দিনের স্মৃতির কথা ভেবে আমরা তুরস্ক থেকে সাবেক এয়ার ফোর্স ওয়ানেই ফিরব।’

নতুন বিমানটির প্রথম বিদেশ সফরের মাঝপথে এই পরিবর্তনের মাধ্যমে নিরাপত্তা সক্ষমতা নিয়ে জল্পনা শুরু হয়। বিশেষত, তুরস্কের প্রতিবেশী ইরানে যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে হামলা চালানোর পর বিষয়টি আরও আলোচনায় আসে। বুধবার রাতে নিউইয়র্ক টাইমসের একটি প্রতিবেদনে জানানো হয় যে, মার্কিন সিক্রেট সার্ভিসের অনুরোধে নিরাপত্তার সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে এই পরিবর্তন করা হয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সূত্রের বরাত দিয়ে পত্রিকাটি জানায়, নতুন বিমানের কিছু সক্ষমতা এখনো পুরোনো এয়ার ফোর্স ওয়ানে নেই। তবে নির্দিষ্ট কোনো হুমকির কারণে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। উড্ডয়নের সময় সাংবাদিকদের কেবিনের জানালার পর্দা নামিয়ে রাখতে বলা হয়। কিন্তু এর কোনো কারণ জানানো হয়নি।

এক সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প নিরাপত্তা-সংক্রান্ত প্রশ্ন এড়িয়ে যান। তবে ইরানের কথিত আগের হত্যাচেষ্টার প্রসঙ্গ তিনি উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ‘আমি প্রায়ই এ বিষয়ে কথা বলি। কারণ, একজন প্রেসিডেন্টের জীবন খুবই ঝুঁকিপূর্ণ।’

পরে এয়ার ফোর্স ওয়ানের নতুন বিমানে এক সাংবাদিককে ট্রাম্প বলেন, ‘যাদের মোকাবিলা করতে হয়, তাদের কারণে আপনারা সম্ভবত একটি ঝুঁকিপূর্ণ ফ্লাইটে আছেন।’ এই ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্যের পর তিনি ইরানকে ‘অসুস্থ মানসিকতার মানুষ’ বলে অভিহিত করেন। ইরানের পক্ষ থেকে বিশ্বাসযোগ্য কোনো হুমকির বিষয়ে তিনি অবগত কি না এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি সব সময়ই হুমকির মধ্যে থাকি। তাদের তালিকায় আমি এক নম্বরে।’

গত বছর কাতারের রাজপরিবার ট্রাম্পকে বোয়িং ৭৪৭-৮ বিমানটি উপহার দেয়। এর আগে ১৯৯০ সাল থেকে ব্যবহৃত যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের দুটি পুরোনো বিমানের অবস্থা নিয়ে ট্রাম্প অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন। নতুন বিমানটিকে দ্রুত সংস্কার করা হয় এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা সংযোজনের পর ১ জুলাই ট্রাম্পকে নিয়ে এটি প্রথম উড্ডয়ন করে।

নতুন এয়ার ফোর্স ওয়ানে আগের সাদা ও হালকা নীল রঙের পরিবর্তে নতুন লাল, সাদা ও গাঢ় নীলের নকশা ব্যবহার করা হয়েছে। বহুবার বিলম্বের পর চলতি দশকের শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র দুটি সম্পূর্ণ নতুন বোয়িং এয়ার ফোর্স ওয়ান পাওয়ার কথা রয়েছে। তবে কাতারের মতো একটি বিদেশি রাষ্ট্রের কাছ থেকে কয়েক শত কোটি ডলার মূল্যের একটি বিমান উপহার নেওয়া নিয়ে সমালোচকেরা নৈতিকতা, সাংবিধানিক বৈধতা এবং নিরাপত্তা—এই তিনটি বিষয়েই গুরুতর প্রশ্ন তুলেছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বসবাসের অযোগ্য শহরের তালিকায় তৃতীয় ঢাকা, আমূল পরিবর্তনের ডাক মেয়রপ্রার্থী মারুফের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ৯ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০১:৪০ পি.এম


বসবাসের অযোগ্য শহরের তালিকায় তৃতীয় ঢাকা, আমূল পরিবর্তনের ডাক মেয়রপ্রার্থী মারুফের

ইকোনমিস্ট ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (ইআইইউ) সর্বশেষ বৈশ্বিক জরিপে বিশ্বের সবচেয়ে বাসযোগ্য শহরের তালিকায় তলানিতে নেমে গেছে রাজধানী ঢাকা। ১৭৩টি শহরের মধ্যে ঢাকার অবস্থান ১৭১তম। অর্থাৎ, বসবাসের অযোগ্যতার দিক থেকে আমাদের এই ঐতিহ্যবাহী গৌরবময় শহরটি এখন বিশ্বে তৃতীয় স্থানে রয়েছে।

বাসযোগ্যতার এই সূচকে বাংলাদেশের রাজধানীর নিচে অবস্থান করছে কেবল যুদ্ধবিধ্বস্ত লিবিয়ার রাজধানী ত্রিপোলি এবং সিরিয়ার রাজধানী দামেস্ক। ঢাকার এই চরম অনগ্রসরতাকে দেশ ও জাতির জন্য এক বড় লজ্জা ও কলঙ্কের বিষয় বলে আখ্যায়িত করেছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সহকারী মহাসচিব এবং আসন্ন ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে পীর সাহেব চরমোনাই ঘোষিত মেয়র প্রার্থী, মাওলানা শেখ ফজলুল করীম মারুফ।

এক বিবৃতিতে মাওলানা শেখ ফজলুল করীম মারুফ বলেছেন, স্বাধীনতার পর থেকে আজ পর্যন্ত যারা ঢাকা সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন, তারা কেউই এই ব্যর্থতার দায় এড়াতে পারবেন না। মূলত দীর্ঘমেয়াদি দূরদর্শিতা ও কার্যকর পরিকল্পনার অভাবেই আজ ঢাকাবাসীকে এই চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। ঢাকাকে পুনরায় মানুষের বাসযোগ্য করে তুলতে হলে, বর্তমান সিটি করপোরেশনের পুরো শাসন ও পরিচালনা ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আনা এখন সময়ের দাবি।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, নিছক জোড়াতালি দিয়ে বা সাময়িক কোনো প্রকল্প হাতে নিয়ে ঢাকার এই দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত সমস্যার সমাধান করা সম্ভব নয়। এজন্য প্রয়োজন বাস্তবভিত্তিক মহাপরিকল্পনা এবং তা কঠোরভাবে পরিপালন করার রাজনৈতিক সদিচ্ছা। শুধু নির্বাচনী বৈতরণী পার হওয়ার জন্য ফাঁকা প্রতিশ্রুতি না দিয়ে, রাজধানীকে একটি আধুনিক ও মানবিক মেগাসিটি হিসেবে গড়ে তুলতে প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার তাগিদ দেন তিনি। অন্যথায়, ঢাকার পরিবেশ ও নাগরিক সুযোগ-সুবিধা দিন দিন আরও বেশি বসবাসের অযোগ্য ও অসহনীয় হয়ে উঠবে বলেও তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

হাইকোর্টের রায়ে সারোয়ার আলমগীরের এমপি হিসেবে শপথের বাধা নেই

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সাকিব চৌধুরী চট্টগ্রাম

বৃহস্পতিবার, ৯ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০১:৪৪ পি.এম


হাইকোর্টের রায়ে সারোয়ার আলমগীরের এমপি হিসেবে শপথের বাধা নেই

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) আসনে বিজয়ী বিএনপির প্রার্থী সারোয়ার আলমগীরের সংসদ সদস্য (এমপি) হিসেবে শপথ গ্রহণের পথ সম্পূর্ণ উন্মুক্ত হয়েছে। তাঁর মনোনয়নপত্র বাতিলের বৈধতা নিয়ে দায়ের করা রুলের চূড়ান্ত শুনানি শেষে বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) হাইকোর্ট তাঁর প্রার্থিতা বৈধ ঘোষণা করে রায় দেন।

এর ফলে তাঁর নির্বাচনী ফলাফলের গেজেট প্রকাশ এবং সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ গ্রহণে আর কোনো আইনি বাধা থাকল না।
হাইকোর্টের বিচারপতি ফাহমিদা কাদের এবং বিচারপতি মো. আসিফ হাসান-এর সমন্বয়ে গঠিত দ্বৈত বেঞ্চ বহুল আলোচিত এ মামলার চূড়ান্ত রায় ঘোষণা করেন।
গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) আসনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন সারোয়ার আলমগীর। নির্বাচনে তিনি ১ লাখ ৩৮ হাজার ৫৪৫ ভোট পেয়ে বিপুল ব্যবধানে বিজয়ী হন। তবে তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মুহাম্মদ নুরুল আমিন ঋণখেলাপির অভিযোগ এনে তাঁর মনোনয়নপত্রের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করেন। এর আগে নির্বাচন কমিশন তাঁর প্রার্থিতা বাতিল করলেও হাইকোর্টের আদেশে তিনি নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ পান।

পরবর্তীতে জামায়াত প্রার্থীর লিভ টু আপিলের পরিপ্রেক্ষিতে আপিল বিভাগ নির্দেশ দেন, হাইকোর্টে রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত সারোয়ার আলমগীরের নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশ স্থগিত থাকবে। সেই নির্দেশনা অনুযায়ী গত ২১ জুন হাইকোর্টে রুলের চূড়ান্ত শুনানি শুরু হয়। গত ২ জুলাই শুনানি শেষ হওয়ার পর ৯ জুলাই রায় ঘোষণার দিন নির্ধারণ করা হয়।

সারোয়ার আলমগীরের পক্ষে আদালতে শুনানিতে অংশ নেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আহসানুল করিম, ব্যারিস্টার এ. এম. মাহবুব উদ্দিন খোকন এবং আইনজীবী মো. আনোয়ার হোসেন। রায়ের পর তাঁদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, আদালত সারোয়ার আলমগীরের প্রার্থিতাকে বৈধ ঘোষণা করেছেন। এখন নির্বাচন কমিশন দ্রুত তাঁর বিজয়ের গেজেট প্রকাশ করবে এবং সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ গ্রহণে আর কোনো আইনি জটিলতা থাকবে না।

এদিকে হাইকোর্টের এ রায়ের খবর ফটিকছড়িতে পৌঁছানোর পরপরই সাধারণ মানুষ এবং বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীদের মধ্যে আনন্দের বন্যা বয়ে যায়। বিভিন্ন স্থানে আনন্দ মিছিল, মিষ্টি বিতরণ এবং আলহামদুলিল্লাহ ধ্বনির মধ্য দিয়ে রায়কে স্বাগত জানানো হয়।

স্থানীয়দের ভাষ্য, এই রায় ফটিকছড়ির জনগণের গণরায় ও ন্যায়বিচারের প্রতিফলন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এখন সবার দৃষ্টি নির্বাচন কমিশনের গেজেট প্রকাশ এবং সারোয়ার আলমগীরের সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ গ্রহণের আনুষ্ঠানিকতার দিকে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ফরিদপুরে কলেজছাত্র হত্যা: ১২ দিনেও ধরাছোঁয়ার বাইরে প্রধান আসামি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ৯ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০১:৪৮ পি.এম


ফরিদপুরে কলেজছাত্র হত্যা: ১২ দিনেও ধরাছোঁয়ার বাইরে প্রধান আসামি

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় কলেজছাত্র সুমন শেখ হত্যাকাণ্ডের ১২ দিন অতিবাহিত হলেও প্রধান আসামিসহ অন্যান্য আসামিদের গ্রেফতার করার ক্ষেত্রে পুলিশ সফলতা দেখাতে পারেনি। নিহতের পরিবার থেকে অভিযোগ করা হয়েছে যে, আসামিরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে কিন্তু পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করছে না; বরং মামলাটি তুলে নিতে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে হুমকি দেয়া হচ্ছে। অন্যদিকে, আসামিপক্ষের লোকজনের বসতবাড়িতে হামলা হানার পর ভাঙচুর ও লুটপাটের পাল্টা অভিযোগও উঠেছে।

নিহত সুমন শেখ, যিনি ২৪ বছর বয়সী, আলফাডাঙ্গা উপজেলার টগরবন্দ ইউনিয়নের বড়ভাগ গ্রামের আলাউদ্দিন শেখের ছেলে হিসেবে পরিচিত। তিনি গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী এম এ খালেক ডিগ্রি কলেজের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। সুমন দুই ভাই এবং দুই বোনের মধ্যে সবচেয়ে ছোট ছিলেন।

জানা গেছে, পূর্ব শত্রুতার কারণে গত ২৬ জুন সন্ধ্যায় মোটরসাইকেলের মাধ্যমে গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী যাওয়ার সময় বড়ভাগ গ্রামের উকিল শেখের বাড়ির সামনে সুমন হামলার শিকার হন। ওই এলাকার হোসাইন শেখ ও তার সহযোগীরা সুমনের গতিরোধ করে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর জখম করে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাতেই তার মৃত্যু ঘটে।

এই ঘটনার পরদিন নিহত সুমনের বড় ভাই শামীম শেখ বাদী হয়ে হোসাইন শেখকে প্রধান আসামি করে ১৭ জনের নাম উল্লেখ করে এবং ২০-২৫ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে আলফাডাঙ্গা থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।

নিহতের বোন সরজানা বেগম বলেন, ‘হত্যাকারী হোসাইন এলাকায় মাদকের ব্যবসা করতো। আমার ভাই তাকে মাদক ব্যবসায় বাধা দেয়ায় ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে হোসাইন। আমার ভাইকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করে। মামলা দায়েরের পর এখন মোবাইলে হুমকি-ধামকি দেয়া হচ্ছে মামলা তুলে নিতে। আমরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।’

ছেলের মৃত্যুর ১২ দিন পার হলেও স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেননি বাবা আলাউদ্দিন শেখ এবং মা শেফালী বেগম। ছেলের ছবি হাতে নিয়ে দেখছেন এবং কান্না করছেন। কৃষক আলাউদ্দিন শেখ অভাব-অনটনের মধ্য দিয়েও সন্তানের লেখাপড়ার পেছনে কঠোর পরিশ্রম করে যাচ্ছিলেন। ছেলে সুমনও উচ্চশিক্ষা লাভ করে বাবার কষ্ট দূর করতে চেয়েছিলেন। সামনেই তার ডিগ্রি প্রথম বর্ষের চূড়ান্ত পরীক্ষা ছিল এবং সে ফরম পূরণও করেছিল। কিন্তু পরীক্ষার হলের পরিবর্তে তাকে চিরনিদ্রায় যেতে হয়েছে।

নিহতের বাবা আলাউদ্দিন শেখ অভিযোগ করেন, ‘আমার ছেলেকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে হোসাইনসহ তার সহযোগীরা। ১২ দিন পার হলেও আমার ছেলের হত্যাকারীদের গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। আমি দ্রুত গ্রেফতারের দাবি জানাচ্ছি।’

মা শেফালী বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘আমার বুকের মানিককে ওরা আমার কাছ থেকে কেড়ে নিছে। আমার ছেলের হত্যাকারীরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে, পুলিশ তাদের ধরছে না। আমার ছেলের কত স্বপ্ন ছিল আমাদের নিয়ে, সেই স্বপ্নগুলো কিংবা স্বপ্নই রয়ে গেল। আমার সুমন চলে গেছে ১২ দিন হলো, এখনও আসামিদের ধরতে পারেনি পুলিশ। আমি ছেলে হত্যার বিচার চাই।’

এদিকে আসামিপক্ষের লোকজনের বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগে স্বজনরা অভিযোগ করেছেন। গত কয়েক দিন ধরে ৯টি বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন তারা।

আসামিপক্ষের প্রতিবাদে বলা হয়েছে, তাদের ৯টি বসতবাড়িতে হামলা এবং ভাঙচুর করা হয়েছে। দুর্বৃত্তরা ঘরের সব মালামাল লুট করে নিয়ে গেছে। বাড়িতে থাকা নারীদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে। ঘরে থাকা নগদ টাকা, স্বর্ণালংকারসহ আসবাবপত্র লুট করে নেয়া হয়েছে। ভয়ের কারণে তারা বাড়ি ছেড়ে অন্যত্র পালিয়ে রয়েছেন।

আরেক গৃহবধূ বলেন, ‘মামলা হয়েছে, যদি আমার স্বজনরা হত্যাকাণ্ডে জড়িত প্রমাণিত হয়, তবে আদালত তাদের বিচার করবে। কিন্তু এভাবে বাড়িঘরে হামলা চালিয়ে লুটপাট, এটা কী হচ্ছে! আমাদের সবকিছু নিয়ে গেছে। ঘরে অসুস্থ প্রবীণ সদস্য রয়েছেন, হামলার দিন তারা ভয়ে আরও অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। তাদের অন্যত্র সরিয়ে নেয়া হয়েছে। নারীদের গলা এবং কান থেকে স্বর্ণ ছিনিয়ে নেয়া হয়েছে। আমাদের কোথায় যেতে হবে, কোথায় অভিযোগ দেব?’

এদিকে, আসামিপক্ষের লোকজনের বাড়িতে ভাঙচুরের এবং লুটপাটের এই ঘটনাগুলো অস্বীকার করেছেন মামলার বাদী ও নিহত সুমনের বড় ভাই শামীম শেখ। তিনি বলেন, ‘আসামিপক্ষ নিজেরাই তাদের বসতবাড়ি ভাঙচুর করে মালামাল সরিয়ে নিয়ে আমাদের ওপর দোষ চাপাচ্ছে। আমাদের কোনো লোকজন হামলা-ভাঙচুর-লুটপাটের সাথে জড়িত নয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘একটি এলাকায় হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটলে কিছু সুবিধাবাদী মানুষ থাকে যারা এ ধরনের লুটপাট করে। আসামিপক্ষের লোকজনই বসতবাড়ি ভাঙচুর করেছে এবং মালামাল লুটপাট করেছে। আমাদের কাছে এর ভিডিও প্রমাণ আছে।’

সহকারী পুলিশ সুপার (মধুখালী সার্কেল) মো. আজম খান জানান, তারা মামলাটিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখছেন। আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এর মধ্যে এজাহারনামীয় ৮ নম্বর আসামিকে গ্রেফতার করে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ভাঙচুর ও লুটপাট ঠেকাতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। যদি ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে তবে অভিযোগ দিলে ব্যবস্থা নেয়া হবে। হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নিরপরাধ মানুষ যাতে হয়রানির শিকার না হন, সে বিষয়েও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এবং মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তাকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%