বৃহস্পতিবার, ৮ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০৭:১০ পি.এম
বরিশাল মহানগরীর পার্ক এবং শ্রান্তি বিনোদনের স্থানগুলোর পর এখন রাতের অন্ধকারে ব্যস্ততম রাস্তাগুলিও দখল করতে শুরু করেছে প্রভাবশালী অবৈধ দখলদাররা।
বুধবার (৭ অক্টোবর) মধ্যরাতের পরে নগরীর নবগ্রাম রোড-চৌমহনীর মেজর জলিল সড়ক এবং সংলগ্ন জাতীয় মহাসড়কের ওপর সিটি করপোরেশনের লোগো সম্বলিত ভারি ইস্পাতের অবকাঠামোর দোকানপাট স্থাপন করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে নগরবাসীর মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দিলেও, কে বা কারা এসব দোকান বসিয়েছে, তা কেউ জানাতে পারছে না।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সকালে এলাকাবাসী অন্তত ২০টি এ ধরনের দোকান দেখে হতবাক হয়ে যায়। বরিশাল সিটি করপোরেশনের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রুম্পা সিকদারের সাথে সেল ফোনে কথা বললে তিনি জানান, তিনি বিষয়টি শুনেছেন এবং সিটি করপোরেশন এর সাথে জড়িত নয়। বিকেলের দিকে সিটি করপোরেশনের নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট সরেজমিনে বিষয়টি পরিদর্শন করে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সব অবৈধ দোকানপাট সরিয়ে ফেলার নির্দেশ দিয়েছেন বলে জানা গেছে। তবে সন্ধ্যা পর্যন্ত অবৈধ দখলদাররা সেখানে বহাল তবিয়তেই ছিল।
উল্লেখ্য, অতীতে বরিশাল মহানগরীর অবৈধ দখলদাররা ক্রমেই বেপরোয়া হয়ে উঠছে। প্রতিদিন সিটি করপোরেশনের ভ্রাম্যমাণ আদালত নগরীর বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করে জরিমানা আদায় করলেও, খুব অল্প সময়ের মধ্যে সবকিছু আগের অবস্থায় ফিরে আসছে। এমনকি ভ্রাম্যমাণ আদালত বিচার সম্পন্ন করে শাস্তি প্রদান করলেও, তা মান্য না করার ক্ষেত্রে নানা অজুহাত এবং চাপ প্রয়োগের ঘটনা ঘটছে।
ওয়াকিবাহাল মহলের মতে, এসব ঘটনার পেছনে নগরীর একাধিক প্রভাবশালী মহলের আশির্বাদ কাজ করছে।
সিটি করপোরেশনের লোগো ব্যবহার করে নবগ্রাম রোড-চৌমহনীর রাস্তাসহ জাতীয় মহাসড়ক দখলের পাশাপাশি পাশের লেকের পাড় দখলের মহোৎসবের সাথে ক্ষমতাশীন দলের নাম বারবার উঠে আসছে। কোটি টাকা ব্যয় করে সম্প্রতি এ লেকটির মাঝে আলোক-শব্দের ফোয়ারা এবং নান্দনিক আলোকমালার সৌন্দর্য ম্লান করে দিচ্ছে অবৈধ দখলদাররা। তবে নিকট অতীতের নান্দনিক সৌন্দর্যের এ নগরীকে যেসব অবৈধ দখলদাররা ক্রমাগত গ্রাস করছে, তাদের বেশিরভাগই এ নগরীতে কোনো কর প্রদান না করলেও, করদাতা নগরবাসীর নাগরিক সুবিধা প্রতিনিয়ত কেড়ে নিচ্ছে।
এমনকি তাদের প্রতিদিনের জঞ্জাল পরিষ্কারে করদাতা নগরবাসীর বিপুল করের টাকা ব্যয় করতে হচ্ছে নগর ভবনকে। কিন্তু কোনো প্রতিকার নেই। উল্টো প্রতিনিয়ত এ নগরবাসীর নাগরিক সুবিধা ক্রমশ লোপ পাচ্ছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর দপ্তর থেকে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরে হামাসের আক্রমণের সরকারি নথি ও রেকর্ড বিকৃত করার চেষ্টা করা হয়েছিল, এমন গুরুতর অভিযোগ করেছেন সাবেক সামরিক সচিব মেজর জেনারেল অভি গিল। তিনি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে এটিকে অপরাধমূলক আচরণ বলে অভিহিত করেছেন।
ইসরায়েলি গণমাধ্যম 'ইসরায়েল হায়োম' ও 'চ্যানেল ১২'-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে অভি গিল জানান, ৭ই অক্টোবর সকালে হামাসের হামলার পর নেতানিয়াহুর সঙ্গে তাঁর কথোপকথনের সময় বদলে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রীর চিফ অফ স্টাফ তজাচি ব্রেভারম্যান। রেকর্ড অনুযায়ী, সেদিন সকালে নেতানিয়াহুর কাছে প্রথম ফোন কলটি গিয়েছিল ৬:৪০ মিনিটে, তবে তা বাড়িয়ে ৬:২৯ করার নির্দেশ দেওয়া হয়। অভিযোগ উঠেছে, হামলার শুরু থেকেই নেতানিয়াহু সতর্ক ছিলেন এবং প্রয়োজনীয় নির্দেশ দিচ্ছিলেন—এমন একটি চিত্র দাঁড় করাতেই এই সময় পরিবর্তন করা হয়েছিল।
অভি গিল আরও উল্লেখ করেন, হামলার ঘটনার দুই সপ্তাহ পরেই তিনি সরকারি নথির অননুমোদিত সংগ্রহ ও সম্ভাব্য পরিবর্তনের বিষয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছিলেন এবং তৎকালীন অ্যাটর্নি জেনারেলকে বিষয়টিতে হস্তক্ষেপের জন্য অনুরোধ জানিয়েছিলেন। এতদিন নীরব থাকলেও ঘটনা তদন্তে রাষ্ট্রীয় তদন্ত কমিশন গঠন না হওয়ায় তিনি সত্য প্রকাশের সিদ্ধান্ত নেন।
অন্যদিকে, নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক দল 'লিকুদ' এই সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে এটিকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মিথ্যা প্রচার বলে দাবি করেছে। দলটির পক্ষ থেকে বলা হয়, ৭ই অক্টোবরের হামলার বিষয়ে নেতানিয়াহুকে আগে থেকে কোনো আগাম সতর্কবার্তা দেওয়া হয়নি। সূত্র: দ্য টাইমস অফ ইসরায়েল।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) ১৩ শিক্ষার্থী প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদকের জন্য মনোনীত হয়েছেন, যা একাডেমিক সাফল্যের স্বীকৃতি হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) প্রকাশিত চূড়ান্ত তালিকায় দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের মোট ৪৬৯ শিক্ষার্থীর নাম অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৩ শিক্ষার্থীর মধ্যে ২০১৯ সালের ছয়জন, ২০২০ সালের ছয়জন এবং ২০২১ সালের একজন শিক্ষার্থী রয়েছেন। ২০১৯ সালের মনোনীত শিক্ষার্থীরা হলেন—ভেটেরিনারি অনুষদের নাজনীন সুলতানা, কৃষি অনুষদের প্রত্যাশা বিশ্বাস, পশুপালন অনুষদের শারমীন ইসলাম, কৃষি অর্থনীতি ও গ্রামীণ সমাজবিজ্ঞান অনুষদের শান্তা ইসলাম, কৃষি প্রকৌশল ও প্রযুক্তি অনুষদের শাহাবুদ্দিন আহমেদ এবং মাৎস্যবিজ্ঞান অনুষদের নাফিসা তাসনীম বিনতি।
২০২০ সালের জন্য মনোনীত শিক্ষার্থীরা হলেন—ভেটেরিনারি অনুষদের ইসমাইল হোসেন, কৃষি অনুষদের মোসা. আয়েশা সিদ্দিকা, পশুপালন অনুষদের মো. আরিফুল ইসলাম, কৃষি অর্থনীতি ও সমাজবিজ্ঞান অনুষদের ইসরাত জাহান, কৃষি প্রকৌশল ও প্রযুক্তি অনুষদের চিত্রা রাণী পাল এবং মাৎস্যবিজ্ঞান অনুষদের জিন্নাত রেহানা ঋতু।
এছাড়া, ২০২১ সালের জন্য ভেটেরিনারি অনুষদের ফারহানা বিনতে ফেরদৌস মনোনীত হয়েছেন। ইউজিসি জানায়, বিশ্ববিদ্যালয়গুলো থেকে প্রাপ্ত মনোনীত প্রার্থীদের আবেদন যাচাই-বাছাই এবং সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে খসড়া তালিকা পুনরায় যাচাইয়ের পর ৪৬৯ শিক্ষার্থীর চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে।
প্রকাশিত তালিকা নিয়ে যদি কোনো প্রার্থী বা সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের আপত্তি থাকে, তবে প্রয়োজনীয় প্রমাণকসহ আগামী ৩১ অক্টোবরের মধ্যে ইউজিসিতে লিখিতভাবে জানাতে হবে।
বিদ্যমান নীতিমালা অনুযায়ী, মনোনীত প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে ২২ ক্যারেট মানের সাড়ে চার গ্রাম স্বর্ণ ও ১০ গ্রাম রৌপ্য দিয়ে তৈরি একটি পদক এবং সম্মাননাপত্র প্রদান করা হবে।
বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে মেধাবী শিক্ষার্থীদের একাডেমিক সাফল্যের স্বীকৃতি প্রদান এবং উচ্চশিক্ষা ও গবেষণায় উৎসাহিত করার উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদক দেওয়া হয়ে থাকে। ইউজিসি ২০০৫ সাল থেকে এই পদক প্রদান করে আসছে।
বাকৃবির ১৩ শিক্ষার্থীর এই স্বীকৃতি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষাঙ্গনে মেধা ও একাডেমিক সাফল্যের ধারাবাহিকতার একটি উল্লেখযোগ্য অর্জন হিসেবে গণ্য হচ্ছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) প্রয়াত শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ হত্যার দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) বিকালে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অফিসে আবরারের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে তিনি এই আশ্বাস প্রদান করেন। আবরার ফাহাদ ছিলেন বুয়েটের শেরেবাংলা হলের আবাসিক ছাত্র এবং তড়িৎ কৌশল বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী।
২০১৯ সালের ৬ অক্টোবর রাতে ভারত-বাংলাদেশের অসম চুক্তি ও পানি বণ্টন নিয়ে ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দেওয়ার পর তাকে নির্মমভাবে নির্যাতন করে হত্যা করা হয়। এই ঘটনায় তখনকার বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতাকর্মীর জড়িত থাকার অভিযোগ ওঠে। হত্যার মামলায় তাদের সাজা প্রদান করা হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) ১৬ জন গবেষক বিশ্বসেরা ২ শতাংশ বিজ্ঞান গবেষকের তালিকায় স্থান পেয়েছেন। এই তালিকা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় এবং নেদারল্যান্ডসভিত্তিক বিজ্ঞানবিষয়ক প্রকাশনা সংস্থা এলসেভিয়ারের যৌথ জরিপের ফলস্বরূপ প্রকাশিত হয়েছে।
তালিকার প্রস্তুতির প্রক্রিয়ায় গবেষকদের প্রকাশিত গবেষণাপত্র, সাইটেশন, এইচ-ইনডেক্স, গবেষণার ধারাবাহিকতা এবং সহলেখকদের প্রভাবসহ বিভিন্ন সূচককে বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।
রাবির তালিকাভুক্ত গবেষকদের মধ্যে রয়েছেন ফলিত রসায়ন ও রসায়ন প্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক মো. ইব্রাহিম হোসাইন মন্ডল, ফলিত গণিত বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আলী আকবর, ম্যাটেরিয়াল সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক মির্জা হুমায়ুন কবির রুবেল, গণিত বিভাগের অধ্যাপক আব্দুল কুদ্দুস, পপুলেশন সায়েন্স অ্যান্ড হিউম্যান রিসোর্স ডেভেলপমেন্ট বিভাগের অধ্যাপক মশিউর রহমান, কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রভাষক ড. আবু সালেহ মুছা মিয়া এবং ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক জাকের হোসাইন।
তালিকায় আরও রয়েছেন রাবির সাবেক উপাচার্য ও পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক সালেহ হাসান নকীব, ফার্মেসি বিভাগের অধ্যাপক মো. আব্দুল আলিম আল-বারি, ফিশারিজ বিভাগের অধ্যাপক মো. ইয়ামিন হোসাইন, ফার্মেসি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মহিতোষ বিশ্বাস, মো. আতিকুর রহমান, রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক হাসান আহমাদ, পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের ইমেরিটাস প্রফেসর এ কে এম আজহারুল ইসলাম, মোহাম্মদ আনোয়ার হোসাইন এবং ইইই বিভাগের অধ্যাপক আতোয়ার রহমান।
রাবির ১৬ গবেষকের এই স্বীকৃতিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. ফরিদুল ইসলাম উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন। তিনি মন্তব্য করেন, ‘এটা আমাদের জন্য খুবই ইতিবাচক দিক। শুধু ইতিবাচকই নয়, এটা আমাদের জন্য সৌভাগ্যের ব্যাপার যে এত গুণী ও স্কলার ব্যক্তি এই বিশ্ববিদ্যালয়ে আছেন। আমরা চেষ্টা করব সামনে গবেষণার ক্ষেত্রে এসব ব্যক্তিকে আরও বেশি উদ্ভাবনী কাজে আর্থিকভাবে সহায়তা করতে।’
তিনি আরও বলেন, ‘পাশাপাশি তাঁদের দেখে যেন আমাদের তরুণ বিজ্ঞানীরা অনুপ্রাণিত হন, সেই ব্যবস্থাও আমরা করব। এই বিজ্ঞানীরা আসলে প্রচারবিমুখ। একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৬ জন এই র্যাংকের বিজ্ঞানী থাকা সত্যিই আমাদের জন্য সৌভাগ্যের। তাঁদের জন্য শুভকামনা রইল।’
বিশ্বসেরা গবেষকদের তালিকায় রাবির ১৬ গবেষকের স্থান পাওয়াকে বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণাক্ষেত্রে একটি উল্লেখযোগ্য অর্জন হিসেবে দেখছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। উপাচার্য জানান, ভবিষ্যতে এসব গবেষককে আরও বেশি সহায়তা দেওয়ার পাশাপাশি তরুণ গবেষকদের গবেষণায় উৎসাহিত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ