প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বরিশাল মহানগরীর পার্ক এবং শ্রান্তি বিনোদনের স্থানগুলোর পর এখন রাতের অন্ধকারে ব্যস্ততম রাস্তাগুলিও দখল করতে শুরু করেছে প্রভাবশালী অবৈধ দখলদাররা।
বুধবার (৭ অক্টোবর) মধ্যরাতের পরে নগরীর নবগ্রাম রোড-চৌমহনীর মেজর জলিল সড়ক এবং সংলগ্ন জাতীয় মহাসড়কের ওপর সিটি করপোরেশনের লোগো সম্বলিত ভারি ইস্পাতের অবকাঠামোর দোকানপাট স্থাপন করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে নগরবাসীর মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দিলেও, কে বা কারা এসব দোকান বসিয়েছে, তা কেউ জানাতে পারছে না।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সকালে এলাকাবাসী অন্তত ২০টি এ ধরনের দোকান দেখে হতবাক হয়ে যায়। বরিশাল সিটি করপোরেশনের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রুম্পা সিকদারের সাথে সেল ফোনে কথা বললে তিনি জানান, তিনি বিষয়টি শুনেছেন এবং সিটি করপোরেশন এর সাথে জড়িত নয়। বিকেলের দিকে সিটি করপোরেশনের নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট সরেজমিনে বিষয়টি পরিদর্শন করে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সব অবৈধ দোকানপাট সরিয়ে ফেলার নির্দেশ দিয়েছেন বলে জানা গেছে। তবে সন্ধ্যা পর্যন্ত অবৈধ দখলদাররা সেখানে বহাল তবিয়তেই ছিল।
উল্লেখ্য, অতীতে বরিশাল মহানগরীর অবৈধ দখলদাররা ক্রমেই বেপরোয়া হয়ে উঠছে। প্রতিদিন সিটি করপোরেশনের ভ্রাম্যমাণ আদালত নগরীর বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করে জরিমানা আদায় করলেও, খুব অল্প সময়ের মধ্যে সবকিছু আগের অবস্থায় ফিরে আসছে। এমনকি ভ্রাম্যমাণ আদালত বিচার সম্পন্ন করে শাস্তি প্রদান করলেও, তা মান্য না করার ক্ষেত্রে নানা অজুহাত এবং চাপ প্রয়োগের ঘটনা ঘটছে।
ওয়াকিবাহাল মহলের মতে, এসব ঘটনার পেছনে নগরীর একাধিক প্রভাবশালী মহলের আশির্বাদ কাজ করছে।
সিটি করপোরেশনের লোগো ব্যবহার করে নবগ্রাম রোড-চৌমহনীর রাস্তাসহ জাতীয় মহাসড়ক দখলের পাশাপাশি পাশের লেকের পাড় দখলের মহোৎসবের সাথে ক্ষমতাশীন দলের নাম বারবার উঠে আসছে। কোটি টাকা ব্যয় করে সম্প্রতি এ লেকটির মাঝে আলোক-শব্দের ফোয়ারা এবং নান্দনিক আলোকমালার সৌন্দর্য ম্লান করে দিচ্ছে অবৈধ দখলদাররা। তবে নিকট অতীতের নান্দনিক সৌন্দর্যের এ নগরীকে যেসব অবৈধ দখলদাররা ক্রমাগত গ্রাস করছে, তাদের বেশিরভাগই এ নগরীতে কোনো কর প্রদান না করলেও, করদাতা নগরবাসীর নাগরিক সুবিধা প্রতিনিয়ত কেড়ে নিচ্ছে।
এমনকি তাদের প্রতিদিনের জঞ্জাল পরিষ্কারে করদাতা নগরবাসীর বিপুল করের টাকা ব্যয় করতে হচ্ছে নগর ভবনকে। কিন্তু কোনো প্রতিকার নেই। উল্টো প্রতিনিয়ত এ নগরবাসীর নাগরিক সুবিধা ক্রমশ লোপ পাচ্ছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন