ঢাকা শনিবার, ২৪শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৮ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৩ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শনিবার, ২৪শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৮ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

মধ্যপ্রাচ্যে জ্বলে উঠছে বিশ্বযুদ্ধের স্ফুলিঙ্গ! ৩য় বিশ্বযুদ্ধের কাউন্ট ডাউন কি শুরু?


মধ্যপ্রাচ্যে জ্বলে উঠছে বিশ্বযুদ্ধের স্ফুলিঙ্গ! ৩য়  বিশ্বযুদ্ধের কাউন্ট ডাউন কি শুরু?

ইতিহাস সাক্ষী—বিশ্বযুদ্ধ কখনো ঘোষণা দিয়ে শুরু হয় না। একটি ভুল সিদ্ধান্ত, একটি নিয়ন্ত্রণহীন হামলা কিংবা একটি ব্যর্থ কূটনৈতিক উদ্যোগই অনেক সময় আঞ্চলিক সংঘাতকে বৈশ্বিক বিপর্যয়ে রূপ দেয়। আজ মধ্যপ্রাচ্যে ইরান, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রকে ঘিরে যে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে, তা সেই ঐতিহাসিক বাস্তবতার কথাই আবার মনে করিয়ে দিচ্ছে। তবে কি বিশ্ব ধ্বংসের মহাপ্রলয়ের কাউন্ট ডাউন ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গেছে?


বিশেষ করে গত ৪৮ ঘন্টায় মধ্যপ্রাচ্যের উত্তপ্ত ও বারুদ সম পরিস্থিতি , ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বে মার্কিন বাহিনী ও মধ্যপ্রাচ্য থাকা তাদের সামরিক শক্তি বৃদ্ধির জন্য ইসরাইলে ইতিমধ্যে যুদ্ধের রসদ মজুদ করা ইরান ধ্বংসের হুমকি দেয়া যেমন ভয়াবহ যুদ্ধের ইঙ্গিত দিচ্ছে পক্ষান্তরে ইরানও তেমনি তাদের মিত্র শক্তি গোষ্ঠীগুলোকে ভয়াবহ ও সর্বাত্মক যুদ্ধের জন্য প্রস্তুতি নিতে বলেছে। আর এমন মরণঘাতী বা মহাপ্রলয় সংঘটিত হলে বিশ্বের অপর দুই পরাশক্তি চীন ও রাশিয়া এবং উত্তর কোরিয়া যদি তাদের স্বার্থ রক্ষায় মধ্যপ্রাচ্যে নিজেদের পরাশক্তির স্বার্থ রক্ষায় ইরানের সাথে যুক্ত হয় তাহলে বিশ্ব হয়ত দেখতে যাচ্ছে আরেকটি অকল্পনীয় ভয়াবহ বিশ্বযুদ্ধের ধ্বংস লীলা যা ইতিহাসে হয়তো তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ হিসেবে লেখা হবে।

বর্তমান সংঘাত এখনো একটি আঞ্চলিক সংকট। তবে আন্তর্জাতিক রাজনীতির বাস্তবতা হলো, যদি এই সংঘাতে একাধিক পরাশক্তি সরাসরি সামরিকভাবে জড়িয়ে পড়ে, তাহলে পরিস্থিতি আরও বিপজ্জনক মোড় নিতে পারে। বিশেষ করে যদি সংঘাত এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যেখানে ইরানের পক্ষে বা বিপক্ষে বিশ্বের বড় সামরিক শক্তিগুলো প্রত্যক্ষভাবে অংশ নেয়, তাহলে তা নিয়ন্ত্রণ করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়বে।

এখানেই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নটি উঠে আসে। যদি কোনো পরিস্থিতিতে চীন, রাশিয়া কিংবা উত্তর কোরিয়া প্রত্যক্ষ সামরিকভাবে ইরানের পক্ষে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে এবং এর বিপরীতে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা সরাসরি মোকাবিলায় নামে, তাহলে সেই সংঘাত একটি বৃহত্তর আন্তর্জাতিক যুদ্ধে রূপ নেওয়ার ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাবে। তবে নিশ্চিত বা অবশ্যম্ভাবী না হলেও এটি একটি সম্ভাব্য চুড়ান্ত পরিস্থিতি । বর্তমান তথ্যের ভিত্তিতে এমন যুদ্ধ শুরু হওয়া নিশ্চিত বলা যায় না, যদিও নিরাপত্তা বিশ্লেষকেরা এই ধরনের ঝুঁকি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই সতর্ক করে আসছেন।

আজকের বিশ্ব ১৯৪৫ সালের পৃথিবী নয়। এখন পারমাণবিক অস্ত্র, হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র, সাইবার যুদ্ধ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তানির্ভর সামরিক প্রযুক্তি এবং মহাকাশভিত্তিক নজরদারি—সবকিছুই যুদ্ধের চরিত্র বদলে দিয়েছে। ফলে একটি সীমিত সংঘাতও দ্রুত বহুমাত্রিক সংকটে পরিণত হতে পারে।

সবচেয়ে বড় উদ্বেগ হলো, আধুনিক যুদ্ধের কোনো প্রকৃত বিজয়ী থাকে না। যদি পরাশক্তিগুলো সরাসরি মুখোমুখি অবস্থানে চলে যায়, তাহলে ক্ষয়ক্ষতি শুধু যুদ্ধরত দেশগুলোর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না; বিশ্ব অর্থনীতি, জ্বালানি সরবরাহ, খাদ্য নিরাপত্তা, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং কোটি কোটি সাধারণ মানুষের জীবন গভীরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

বিশেষ করে উন্নয়নশীল দেশও এর বাইরে থাকবে না। জ্বালানি মূল্যবৃদ্ধি, বৈদেশিক বাণিজ্যে চাপ, মূল্যস্ফীতি এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অস্থিরতা আমাদের অর্থনীতি ও সাধারণ মানুষের জীবনে সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে।

অতএব, বর্তমান পরিস্থিতিকে হালকাভাবে দেখার সুযোগ নেই। একই সঙ্গে এটিকে অবধারিত তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ বলাও বাস্তবসম্মত মনে না হলেও আশঙ্কা উড়িয়ে দেয়া যাচ্ছে না। বিশ্ব এখন এমন এক সংকটময় সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে, যেখানে সংযম, কূটনীতি এবং দায়িত্বশীল রাজনৈতিক সিদ্ধান্তই মানবসভ্যতাকে আরও বড় বিপর্যয় থেকে রক্ষা করতে পারে। তা না হলে একটু সামান্য সামরিক ভুল সিদ্ধান্ত বিশ্বে মহাপ্রলয় ঘটানোর জন্য যথেষ্ট।

ইতিহাসের শিক্ষা একটাই—যুদ্ধ শুরু করা সহজ, কিন্তু তার শেষ কোথায় হবে, তা কেউ নিশ্চিত করে বলতে পারে না। তাই আজ মধ্যপ্রাচ্যের প্রতিটি ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের সঙ্গে শুধু একটি অঞ্চলের নয়, পুরো বিশ্বের ভবিষ্যতের উদ্বেগও জড়িয়ে আছে। এমন বিশ্ব ধ্বংসের ধ্বংস-লীলা দেখার জন্য কি বিশ্ববাসী প্রস্তুত? - মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় আজকের দিনে এমন আশঙ্কা করা অমূলক নয়।
লেখকঃ সাংবাদিক, রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও কলামিস্ট  

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বিশ্বকাপ ফাইনালে উপস্থিত থাকবেন ট্রাম্প, বিজয়ীদের হাতে তুলে দেবেন ট্রফি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ১৮ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০২:৫৬ এম


বিশ্বকাপ ফাইনালে উপস্থিত থাকবেন ট্রাম্প, বিজয়ীদের হাতে তুলে দেবেন ট্রফি

ফিফা বিশ্বকাপের ফাইনাল ম্যাচে আগামী রোববার (১৯ জুলাই) নিউজার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে স্পেন মুখোমুখি হতে যাচ্ছে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার। হাইভোল্টেজ এই ম্যাচে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প উপস্থিত থাকবেন। বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) স্থানীয় সময়, হোয়াইট হাউজ এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। খবর রয়টার্সের।

হোয়াইট হাউজের প্রেস সচিব ক্যারোলিন লেভিট জানিয়েছেন, শুক্রবার (১৭ জুলাই) নিউইয়র্কের ম্যানহাটনে ট্রাম্প টাওয়ারে আয়োজিত ফিফার এক সংবর্ধনায় যোগদান করবেন ট্রাম্প। এর পর তিনি রোববার নিউজার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ফাইনাল ম্যাচে উপস্থিত থাকবেন।

ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো এর আগে গত মাসে বলেছেন, ফাইনাল ম্যাচ শেষে তিনি এবং ট্রাম্প একসঙ্গে বিজয়ী দলের হাতে ট্রফি তুলে দেবেন। ইনফান্তিনো বলেন, ‘আমরা প্রেসিডেন্টের সঙ্গে ফাইনাল উপভোগ করব এবং অবশ্যই বিজয়ী দলের হাতে ট্রফি তুলে দেব।’

বিশ্বকাপ ফুটবলের ফাইনালে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধানদের উপস্থিত থাকার ঐতিহ্য পুরোনো। কাতারে ২০২২ এবং রাশিয়ায় ২০১৮ সালের বিশ্বকাপেও রাষ্ট্রপ্রধানরা ট্রফি প্রদান অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেছিলেন। যদিও এবারের বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত অনুষ্ঠিত ১০২টি ম্যাচের কোনোটিতেই ট্রাম্প বা ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স উপস্থিত ছিলেন না। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকো যৌথভাবে এবারের বিশ্বকাপের আয়োজন করেছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের পুরুষ জাতীয় দলের কয়েকটি ম্যাচে ট্রাম্প প্রশাসনের মন্ত্রিসভার সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন।

লেভিট বলেন, ‘প্রেসিডেন্টের এই উপস্থিতির মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি দর্শকপ্রিয়, সবচেয়ে নিরাপদ এবং সবচেয়ে সফল বিশ্বকাপের সমাপ্তি ঘটবে।’ এর আগে ১৯৯৪ সালে যুক্তরাষ্ট্র একবারই পুরুষের ফুটবল বিশ্বকাপ আয়োজন করেছিল।

প্রেসিডেন্ট হিসেবে ট্রাম্প বিভিন্ন সময় বড় বড় ক্রীড়া আসরে নিয়মিত উপস্থিত থেকেছেন। এর মধ্যে রয়েছে সুপার বোল, ইউএস ওপেন টেনিস, রাইডার কাপ, ডেটোনা ৫০০ এবং ইউএফসি’য়ের বিভিন্ন ইভেন্ট। গত বছর তিনি নিউইয়র্কের ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেনে ইউএফসি প্রতিযোগিতা এবং এনবিএ ফাইনালের একটি ম্যাচও উপভোগ করেন। এছাড়া গত গ্রীষ্মে ক্লাব বিশ্বকাপের ফাইনালেও তিনি মেটলাইফ স্টেডিয়ামে উপস্থিত ছিলেন এবং ইংলিশ ক্লাব চেলসি ট্রফি জয়ের পর মঞ্চে তাদের সঙ্গে ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ফাইনালের আগে মেসির প্রশংসায় পঞ্চমুখ শাকিরা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

শনিবার, ১৮ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৩:০৫ এম


ফাইনালের আগে মেসির প্রশংসায় পঞ্চমুখ শাকিরা

স্পেনের বিপক্ষে বিশ্বকাপ ফাইনালের মহারণের আগে কলম্বিয়ান পপ তারকা শাকিরা লিওনেল মেসিকে ভালোবাসামাখা একটি বিশেষ শ্রদ্ধাঞ্জলি প্রদান করেছেন। সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে নাটকীয় ২-১ ব্যবধানের রোমাঞ্চকর জয়ে ফাইনাল নিশ্চিত করেছে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। ম্যাচের প্রথমার্ধে পিছিয়ে পড়ার পর দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়ায় আলবিসেলেস্তেরা। প্রথমে এনজো ফার্নান্দেজ সমতা ফিরিয়ে আনে এবং অতিরিক্ত সময়ে লাউতারো মার্টিনেজের দুর্দান্ত গোলে আর্জেন্টিনার বিজয় নিশ্চিত হয়।

অন্যদিকে, টুর্নামেন্টের গোল্ডেন বুট জয়ের দৌড়ে ফ্রান্সের অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপ্পের সাথে মেসিও শীর্ষ তালিকায় রয়েছেন, যিনি ৩৯ বছর বয়সি। জনপ্রিয় এই কলম্বিয়ান গায়িকা, যিনি তার বিখ্যাত সব ফিফা বিশ্বকাপ থিম সংয়ের জন্য ফুটবলভক্তদের মাঝে বিশেষভাবে পরিচিত, তিনি তার ইনস্টাগ্রাম হ্যান্ডেলে মেসির একটি ছবি পোস্ট করেছেন। তাতে তিনি ৩৯ বছর বয়সেও মেসির অসাধারণ পারফরম্যান্স, আত্মত্যাগ ও অধ্যবসায়ের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। শাকিরা লিখেছেন, ‘লিও মেসি যা করে চলেছেন তা সত্যিই অবিশ্বাস্য ও অসাধারণ! এটি একজন মানুষের কঠোর পরিশ্রম, প্রতিশ্রুতি এবং শৃঙ্খলার এক অনন্য উদাহরণ, যা সময়ের সাথে সাথে সব প্রতিকূলতাকে জয় করতে শেখায়। তিনি প্রমাণ করেছেন যে কোনো মানুষকে বয়স বা অন্যের মন্তব্য দিয়ে বিচার করা যায় না।’

মেসির এই অদম্য যাত্রার নেপথ্য কারিগর হিসেবে তার স্ত্রী আন্তোনেলা রোকুজ্জোকেও কৃতিত্ব দিতে ভোলেননি শাকিরা। আন্তোনেলাকে মেসির শক্তির বড় উৎস উল্লেখ করে তিনি যোগ করেন, ‘আমি নিশ্চিত যে, পাশে আন্তোনেলা রোকুজ্জোর মতো একজন নারী থাকার কারণেই মেসি নিজেকে প্রতিবার নতুন করে প্রমাণ করার শক্তি ও অনুপ্রেরণা পান!’

শাকিরার এই আবেগঘন বার্তা নজর এড়ায়নি রোকুজ্জোর। তিনি সামাজিক মাধ্যমে শাকিরাকে ধন্যবাদ জানিয়ে তার সেই ইনস্টাগ্রাম স্টোরিটি নিজের প্রোফাইলেও রি-শেয়ার করেছেন। শৈশবের প্রেম পর্ব চুকিয়ে ২০১৭ সালে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হওয়া মেসি ও আন্তোনেলা দম্পতির ঘরে রয়েছে তিন ছেলে সন্তান।

এদিকে, সাম্প্রতিক সময়ে টুর্নামেন্টের রেফারিদের পক্ষপাতিত্ব এবং ফুটবলের নীতি নির্ধারকদের কাছ থেকে বাড়তি সুবিধা পাওয়ার মতো অভিযোগ তুলে যারা বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের সমালোচনা করেছেন, তাদের মোক্ষম জবাব দিয়েছেন লিওনেল মেসি নিজেই। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে জয়ের পর মেসি বলেন, ‘আমরা গত চার বছর ধরে বিশ্বের সেরা দল হিসেবে খেলে আসছি, এটি আপনার পছন্দ হোক আর নাই হোক কিংবা মানুষ যা-ই বলুক না কেন।’

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কিশোর-কিশোরীদের সোশ্যাল মিডিয়া নিষিদ্ধের উদ্যোগ, ইউরোপ-আমেরিকায় ফিরছে পড়াশোনার পরিবেশ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শনিবার, ১৮ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৩:১৫ এম


কিশোর-কিশোরীদের সোশ্যাল মিডিয়া নিষিদ্ধের উদ্যোগ, ইউরোপ-আমেরিকায় ফিরছে পড়াশোনার পরিবেশ

বিশ্বজুড়ে কিশোর-কিশোরীদের মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং শিক্ষার পরিবেশ উন্নত করতে দেশে দেশে আইন করে সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারের ওপর নিষেধাজ্ঞা ও কড়াকড়ি আরোপের হিড়িক পড়েছে। বিভিন্ন দেশের মধ্যে অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, যুক্তরাজ্য, কানাডা, স্পেনসহ ইউরোপ ও আমেরিকার বিভিন্ন দেশ ইতিমধ্যেই বয়স কিংবা ক্লাস ভেদে সোশ্যাল মিডিয়া নিষিদ্ধ বা ‘কারফিউ’ জারির পথে অগ্রসর হয়েছে। ইন্টারনেটের নেতিবাচক প্রভাব থেকে নতুন প্রজন্মকে রক্ষা করতে এবং তাদের স্বাভাবিক ঘুম ও পড়াশোনায় মনোযোগ ফিরিয়ে আনতেই সরকারগুলো এই কঠোর অবস্থান নিচ্ছে। তবে এই নিষেধাজ্ঞার সুফলের পাশাপাশি, প্রযুক্তির ফাঁকফোকর গলে এর কার্যকারিতা ও ভিপিএন (VPN) ব্যবহার নিয়ে বিশ্বজুড়ে তীব্র বিতর্কও চলছে।

কেন এই কঠোর নিষেধাজ্ঞা? বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) এবং বিভিন্ন দেশের সমাজবিজ্ঞানীদের গবেষণায় দেখা গেছে, অতিরিক্ত সোশ্যাল মিডিয়া স্ক্রলিংয়ের কারণে কিশোর-কিশোরীদের মাঝে বিষণ্ণতা, অনিদ্রা, সাইবার বুলিং এবং পড়াশোনায় মনোযোগহীনতা আশঙ্কাজনক হারে বেড়ে গেছে। বিশেষ করে ‘ইনফিনিট স্ক্রল’ (টানা স্ক্রল করার ফিচার) এবং ‘অটো-প্লে’ ভিডিওর মতো আসক্তিমূলক ফিচারের ফাঁদে পড়ে কিশোর বয়সীরা রাতের পর রাত জেগে থাকছে। এই পরিস্থিতিকে একটি ‘মানসিক স্বাস্থ্য মহামারি’ হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। মূলত এই আসক্তি থেকে তরুণদের বের করে এনে মাঠের খেলাধুলা, পড়াশোনা এবং পারিবারিক বন্ধনে ফিরিয়ে আনাই এই আইনগুলোর মূল লক্ষ্য।

পড়াশোনা ও মনোযোগে ইতিবাচক প্রভাব ইউনেস্কো (UNESCO) এবং বিভিন্ন শিক্ষা গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, যেসব স্কুল বা অঞ্চলে সোশ্যাল মিডিয়া ও স্মার্টফোন ব্যবহারে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে, সেখানে শিক্ষার্থীদের একাগ্রতা বা মনোযোগের গ্রাফ ঊর্ধ্বমুখী। বিশেষ করে শ্রেণিকক্ষে ডিজিটাল ডিভাইসের অনুপস্থিতি পরীক্ষার ফল ভালো করতে সরাসরি ভূমিকা রাখছে। নেদারল্যান্ডস, নিউজিল্যান্ড ও ফ্রান্সের স্কুলগুলোতে মোবাইল ফোন নিষিদ্ধ করার পর ক্লাসরুমের শৃঙ্খলা ও শিক্ষার্থীদের পারস্পরিক যোগাযোগ আগের চেয়ে বহুলাংশে বৃদ্ধি পেয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়া ব্লক করার চেয়ে রাতের বেলা ব্যবহারের ওপর নিয়ন্ত্রণ রাখার ফলে শিক্ষার্থীরা পড়াশোনার পর পর্যাপ্ত ঘুমাতে পারছে, যা তাদের পরদিনের ক্লাসে পারফরম্যান্স অনেক বাড়িয়ে দিয়েছে।

বিশ্বজুড়ে নিষেধাজ্ঞার মানচিত্র ও বর্তমান পরিস্থিতি বিভিন্ন দেশে বয়স ও ক্লাস ভেদে যেসব পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, তা নিচে তুলে ধরা হলো: অস্ট্রেলিয়া: বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে অস্ট্রেলিয়া ১৬ বছরের কম বয়সের জন্য সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ করে আইন পাস করেছে। এর প্রভাবে প্রাথমিকভাবে পারিবারিক যোগাযোগ বৃদ্ধি ও রাতে স্ক্রিন টাইম কমার লক্ষণ দেখা গেছে।

যুক্তরাজ্য: অতি সম্প্রতি ২০২৬ সালের জুলাই মাসে যুক্তরাজ্য সরকার ১৬ ও ১৭ বছর বয়সীদের জন্য রাত ১২টা থেকে ভোর ৬টা পর্যন্ত সোশ্যাল মিডিয়া ‘কারফিউ’ বা সান্ধ্য আইন জারির ঘোষণা দিয়েছে। সরকারের এক মাসব্যাপী গবেষণায় দেখা গেছে, রাতের এই কারফিউ কিশোর-কিশোরীদের ঘুমের মান উন্নত করতে সবচেয়ে বেশি কার্যকরী।

কানাডা ও নেদারল্যান্ডস: কানাডার ওন্টারিও ও ব্রিটিশ কলম্বিয়াসহ বেশ কয়েকটি বড় প্রদেশ এবং নেদারল্যান্ডস ইতিমধ্যেই স্কুলগুলোতে সোশ্যাল মিডিয়া এবং ব্যক্তিগত ফোন ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করেছে।

স্পেন ও ফ্রান্স: ইউরোপের দেশ স্পেন সম্প্রতি ১৪ বছরের কম বয়সীদের জন্য সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারে সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা আরোপের জন্য আইন প্রণয়নের কাজ শুরু করেছে। আর ফ্রান্স সরাসরি স্কুল প্রাঙ্গণে শিক্ষার্থীদের ফোন ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করে পড়াশোনার পরিবেশ ফিরিয়ে এনেছে।

যুক্তরাষ্ট্র: আমেরিকার ফ্লোরিডা এবং ইউটাহসহ বেশ কয়েকটি অঙ্গরাজ্যে ১৪ থেকে ১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য অভিভাবকের অনুমতি ছাড়া সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট খোলা নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

এশিয়ার দেশগুলোতে কী পরিস্থিতি ও ভবিষ্যৎ আভাস? পশ্চিমা বিশ্বের এই ‘ডিজিটাল লকডাউন’ বা সোশ্যাল মিডিয়া নিষেধাজ্ঞার ঢেউ এশিয়ায়ও আছড়ে পড়তে শুরু করেছে।

চীন ও দক্ষিণ কোরিয়া: চীন ইতিমধ্যেই অপ্রাপ্তবয়স্কদের জন্য 'অ্যান্টি-অ্যাডিকশন' বা আসক্তি-বিরোধী সিস্টেম চালু করেছে, যেখানে নির্দিষ্ট সময়ের পর গেম বা সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাপ স্বয়ংক্রিয়ভাবে লক হয়ে যায়। দক্ষিণ কোরিয়াও সাইবার বুলিং ঠেকাতে কঠোর আইন ও বয়স যাচাই প্রক্রিয়া জোরদার করেছে।

বাংলাদেশ ও দক্ষিণ এশিয়া: বাংলাদেশ, ভারতসহ দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে এখনো প্রাতিষ্ঠানিক বা রাষ্ট্রীয়ভাবে সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারের নির্দিষ্ট বয়সসীমা বেঁধে দিয়ে আইন কার্যকর করা হয়নি। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, এই অঞ্চলে কিশোর অপরাধ (যেমন গ্যাং কালচার), সাইবার ক্রাইম এবং পড়াশোনা থেকে শিক্ষার্থীদের দূরে সরে যাওয়ার পেছনে সোশ্যাল মিডিয়ার বড় ভূমিকা রয়েছে। ফলस्वরূপ ২০২৬ বা তার পরবর্তী সময়ে এশিয়ার দেশগুলোতেও স্কুল পর্যায়ে ফোন নিষিদ্ধ করা কিংবা নির্দিষ্ট বয়সের নিচে সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট খোলার ক্ষেত্রে কঠোর রাষ্ট্রীয় নীতিমালা বা ডিজিটাল অভিভাবকত্ব আইনের জোরালো তাগিদ তৈরি হচ্ছে।

নিষেধাজ্ঞা বনাম কার্যকারিতার এই লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত আইন কতটা সফল হবে, তা নির্ভর করছে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর বয়স যাচাইয়ের নিখুঁত প্রযুক্তি এবং পরিবারের সচেতনতার ওপর।

তথ্যসূত্র: বিবিসি নিউজ, রয়টার্স এবং বিভিন্ন গণমাধ্যম

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

প্রতিবন্ধীদের স্বাবলম্বী করতে সরকার কাজ করছে: সংস্কৃতিমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শনিবার, ১৮ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৩:১৯ এম


প্রতিবন্ধীদের স্বাবলম্বী করতে সরকার কাজ করছে: সংস্কৃতিমন্ত্রী

সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী বলেছেন, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য যথাযথ সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা সম্ভব হলে তারাও দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে সক্ষম হবে। প্রতিবন্ধীরা সমাজের সমান অধিকারসম্পন্ন মানুষ। তাদেরকে পরিবার বা সমাজের বোঝা হিসেবে নয়, বরং দক্ষ জনশক্তি হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা ও সহায়তা নিশ্চিত করা হলে তারাও দেশের অগ্রগতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে।

শুক্রবার মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলার মধুমতি সেতু সংলগ্ন জাঙ্গালিয়া গ্রামের অটিস্টিক প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়ে আয়োজিত বার্ষিক ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বললেন।

নিতাই রায় চৌধুরী আরও বলেন, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সমাজের মূলধারায় সম্পৃক্ত করতে সরকার বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। তাদের স্বাবলম্বী করে গড়ে তুলতে করা হচ্ছে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি, প্রশিক্ষণ এবং বিভিন্ন ধরনের সহায়তা কার্যক্রম অব্যাহত রাখা হয়েছে, যাতে তারা পরিবারের ওপর নির্ভর না করে আত্মনির্ভরশীল জীবন গড়ে তুলতে সক্ষম হন। প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠীর কল্যাণে সরকারের আন্তরিকতার অংশ হিসেবে চলতি অর্থবছরের বাজেটে এ খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি করা হয়েছে। একই সঙ্গে অটিস্টিক প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়ের সার্বিক উন্নয়নে প্রয়োজনীয় পদের পদক্ষেপ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।

অনুষ্ঠানে বিদ্যালয়ের ক্রীড়া শিক্ষক মো. সুজন মিয়ার সঞ্চালনায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মহম্মদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বেদবতী মিস্ত্রি, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিলের আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যক্ষ (অব.) মোহাম্মদ মতিউর রহমান, উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক অধ্যক্ষ মৈমুর আলী মৃধা, মহম্মদপুর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শামীম আহমেদ, কাজী সালিমা হক মহিলা কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ এস. এম. ইউনুস আলী, উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব ড. এম. এম. রইস উদ্দিন, বিএনপি নেতা নজরুল ইসলাম, ধোয়াইল আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. রফিকুল ইসলাম, উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক তরিকুল ইসলামসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।

অনুষ্ঠানের শেষে বার্ষিক ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতায় বিজয়ী শিক্ষার্থীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করেন সংস্কৃতিমন্ত্রী। এছাড়া বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দকৃত ফগার মেশিন, স্প্রে মেশিন ও সেলাই মেশিন উপকারভোগীদের হাতে তুলে দেন তিনি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৩ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৪
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৪৮
মাগরিব ০৫:২৫
ইশা ০৬:৩৭
সূর্যোদয় : ০৬:০০ সূর্যাস্ত : ০৫:২৫
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%