১০:২৬ পি.এম
রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার কোলকোন্দ ইউনিয়ন পরিষদ সংলগ্ন এলাকায় তিস্তার নদী সংরক্ষিত ডান তীরে ভাঙন শুরু হয়েছে। এই ভাঙনের কারণে তিস্তা নদীর সংরক্ষিত বাঁধের প্রায় ২০ মিটার ব্লক নদীতে চলে গেছে। এতে করে হুমকির মুখে রয়েছে ইউনিয়ন পরিষদ ভবন, মসজিদ, সড়ক ও বসতবাড়িগুলো।
ভাঙন রোধের জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ড নদীতে জিওব্যাগ ফেললেও নদীপাড়ে আতঙ্ক উধাও হয়নি। ক্ষতিগ্রস্তরা স্থায়ী সমাধানের দাবি জানিয়ে আসছেন। এর আগে গত সপ্তাহে পার্শ্ববর্তী নোহালী ইউনিয়নে ভাঙনের ফলে ২২টি পরিবারের বসতভিটা নদী গর্ভে চলে যায়। বর্তমানে এখানেও শতাধিক পরিবার ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছেন। শনিবার সকাল ৯টায় তিস্তার পানি ডালিয়া পয়েন্টে ৫১ দশমিক ৮৭ সেন্টিমিটারে প্রবাহিত হয়েছে, যেখানে বিপৎসীমা ধরা হয় ৫২ দশমিক ১৫ সেন্টিমিটার।
জানা গেছে, উজানের ঢল কমে আসার ফলে তিস্তার পানি ধীরে ধীরে কমতে শুরু করেছে। শুক্রবার রাত থেকে শনিবার দুপুর পর্যন্ত কোলকোন্দের প্রায় ২০ মিটার অংশের ব্লক ধসে নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। এর ফলে কোলকোন্দ ইউনিয়ন পরিষদ, মসজিদ, সড়ক, বসতবাড়ি, ফসলি জমি ও শহর রক্ষার গ্রোয়েন বাঁধও ভাঙনের হুমকিতে পড়েছে।
আরও পড়ুন: গঙ্গাচড়ায় বিড়ির বাজার নিয়ে বিরোধে বিএনপি কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুর
বিষয়টি জানার পর রাতেই পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম ও রংপুর-১ আসনের এমপি রায়হান সিরাজী ঘটনাস্থল পরিদর্শনে আসেন। শনিবার সকালে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় জিওব্যাগ ফেললে বাঁধের ভাঙন কিছুটা নিয়ন্ত্রণে এসেছে। অন্যদিকে, গত সপ্তাহে তিস্তার ভাঙনে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে গঙ্গাচড়ার নোহালী ইউনিয়নের কাচারীপাড়া ও চর বাগডোহরা। ইতোমধ্যে দুই গ্রামের ২২টি পরিবারের ঘরবাড়ি, ফসলের ক্ষেত, পুকুর ও রাস্তা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। বর্তমানে দুই গ্রামের শতাধিক পরিবার আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে।
কোলকোন্দ ইউনিয়ন পরিষদ এলাকাবাসী শামীম মিয়া বলেন, নদীর তলদেশ পলিতে ভরাট হয়ে যাওয়ার কারণে তিস্তার ডান ও বাম দুই তীরে ভাঙন দেখা দিয়েছে। বর্ষাকালে নদী উজানের পানি ধারণ করতে না পারার কারণে ভাঙন তৈরি হয়েছে। এ ভাঙন বন্ধ করতে হলে নদী ড্রেজিংয়ের কোন বিকল্প নেই।
কোলকোন্দ ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান শরিফুল ইসলাম বলেন, তিস্তা নদীর ডান তীরে বাঁধ দিয়ে সুরক্ষিত করা হয়েছিল। কিন্তু হঠাৎ করে শুক্রবার রাতে ইউনিয়ন পরিষদ ভবন সংলগ্ন এলাকায় ভাঙন দেখা দিয়েছে। তিস্তায় পলি পড়ে বড় বড় চর গঠিত হচ্ছে, যার ফলে পানি কমার সাথে সাথেই এসব তীরে আঘাত আসছে। ইতোমধ্যে ভাঙন প্রতিরোধে কাজ শুরু হয়েছে।
নোহালী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আশরাফ আলী বলেন, তার ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের কাচারী পাড়া ও ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বাগডোহরা গ্রামের ২২টি পরিবারের ঘরবাড়ি নদীতে বিলীন হয়ে গেছে।
আরও পড়ুন: ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মাজারের দানবাক্স ভেঙে টাকা ও মালামাল চুরি, ক্ষতি ১ লাখ ৪৫ হাজার টাকা
রংপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য রায়হান সিরাজী বলেছেন, আমাদের দলের পক্ষ থেকে সংসদে ও রাজপথে তিস্তার মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে জোর দাবি জানানো হয়েছে। যদি দ্রুত এই মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়িত হয়, তাহলে নদী ভাঙনে প্রতি বছর মানুষকে সর্বস্ব হারাতে হবে না। আমি ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেছি এবং পানি উন্নয়ন বোর্ড ভাঙন প্রতিরোধে কাজ শুরু করেছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন