০৮:৩৯ পি.এম
বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে মিশর ও ইরানের ম্যাচকে ঘিরে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। আগামী শুক্রবার সিয়াটলে অনুষ্ঠিত হতে চলা এই ম্যাচে দর্শকদের রংধনু রঙের পতাকা নিয়ে স্টেডিয়ামে ঢোকার অনুমতি দিয়েছে বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ সংস্থা (ফিফা)।
তবে এ বিষয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে, কারণ যে দুই দেশ মাঠে নামছে সেখানে সমকামিতা আইনত অপরাধ। অন্যদিকে, ম্যাচের সময়েই সিয়াটলে চলছে ‘প্রাইড’ উদযাপন। ফলে স্থানীয় উৎসব এবং দুই দেশের সামাজিক অবস্থানের মধ্যে এক অস্বস্তিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে।
গত বছরের ডিসেম্বরে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে ড্রয়ের সময় এই দুই দেশ একই গ্রুপে পড়ার পরই এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পরে বিষয়টি নিয়ে আপত্তি জানিয়েছে মিশর ও ইরান।
আরও পড়ুন: পাবনায় মরদেহ চুরির আতঙ্কে কবরস্থানে রাতভর পাহারা দিচ্ছেন স্বজনরা
মিশরের ফুটবল সংস্থা জানিয়েছে, এই ধরনের অনুষ্ঠান তাদের সাংস্কৃতিক এবং ধর্মীয় মূল্যবোধের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। উল্লেখ্য, মিশর ও ইরান— উভয় দেশেই সমকামী মানুষদের বিরুদ্ধে কঠোর আইন রয়েছে।
ফিফা এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ২০২৬ সালের বিশ্বকাপ এমন একটি প্রতিযোগিতা যেখানে সব ধরনের মানুষকে স্বাগত জানানো হবে। যৌন পরিচয় বা লিঙ্গ পরিচয় নিয়ে কোন প্রশ্ন নেই, সকল সমর্থকই ম্যাচ দেখতে এবং বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশ নিতে পারবেন।
সংস্থার ঘোষণায় আরও বলা হয়েছে, মানবাধিকার, বৈচিত্র্য বা যৌন ও লিঙ্গ পরিচয়ের সমর্থনে ব্যবহৃত রংধনু পতাকা সহ অন্যান্য পতাকা স্টেডিয়ামের ভিতরে প্রদর্শনের অনুমতি থাকবে। তবে সেগুলি অবশ্যই বিশ্বকাপের স্টেডিয়াম আচরণবিধি অনুযায়ী ব্যবহার করতে হবে।
অন্যদিকে, পতাকা বা ব্যানারের আকার নিয়ে কিছু নির্দিষ্ট নিয়ম রয়েছে। পাশাপাশি, স্টেডিয়ামে এমন কোন সামগ্রী আনা যাবে না, যা রাজনৈতিক বার্তা বহন করে বা আচরণবিধির পরিপন্থী বলে মনে করা হয়।
আরও পড়ুন: ফিফা নির্বাচনে ইনফান্তিনোর প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে তাশিমার প্রার্থিতা ঘোষণা
এই ম্যাচকে ঘিরে অনেক জায়গায় ‘প্রাইড ম্যাচ’ বলছেন, তবে ফিফা স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, এর সাথে তাদের কোন সম্পর্ক নেই। সংস্থার দাবি, সিয়াটলে যে প্রাইড উদযাপন হচ্ছে তা স্থানীয় বিশ্বকাপ আয়োজক কমিটির উদ্যোগে হয়েছে, ফিফার নয়।
ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো বলেছেন, ‘আমি পরিষ্কার করে বলতে চাই, বিশ্বকাপে কোন ‘প্রাইড ম্যাচ’ নেই। সিয়াটলে একটি বিশ্বকাপের ম্যাচ হবে। একই দিন শহরের বিভিন্ন জায়গায় অন্য সংস্থার আয়োজিত কিছু অনুষ্ঠানও চলবে। কিন্তু সেই অনুষ্ঠানগুলোর সাথে ম্যাচের কোনো সম্পর্ক নেই।’
এই মন্তব্যের মাধ্যমে ফিফা বোঝাতে চেয়েছে, বিশ্বকাপের ম্যাচ এবং স্থানীয় উৎসবকে একত্রিত করে দেখা ঠিক হবে না।
তবে স্থানীয় আয়োজকেরা এই উদযাপন বন্ধ করার কোন প্রশ্নই দেখছেন না। তাদের মতে, এটি বহু দশকের ঐতিহ্য এবং বিশ্বকাপের জন্য তা বদলানো হবে না। সিয়াটলের স্থানীয় বিশ্বকাপ আয়োজক কমিটির সদস্য হেডা ম্যাকলেনডন বলেছেন, ‘এই প্রাইড উদযাপন ৫০ বছরেরও বেশি সময় ধরে একই সপ্তাহান্তে হচ্ছে। এ বছরও হবে, আবার বিশ্বকাপ শেষ হওয়ার পরেও চলতে থাকবে।’ তিনি আরও বলেন, এই অনুষ্ঠানকে তারা গ্রহণযোগ্যতা, বৈচিত্র্য এবং সকলের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের একটি গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ হিসেবে দেখেন।
আরও পড়ুন: টেকনাফে পাহাড় থেকে উদ্ধার ৫৬ জিম্মি থানায় হস্তান্তর
বিশ্বকাপে এই ধরনের বিতর্ক নতুন নয়। ২০২২ সালে কাতার বিশ্বকাপেও ‘ওয়ান লাভ’ বাহুবন্ধনী পরে মাঠে নামার পরিকল্পনা ঘিরে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। সে সময় ফিফা জানিয়েছিল, নিয়ম ভাঙলে ফুটবলারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। ফলে বিশ্বকাপে সামাজিক এবং সাংস্কৃতিক বিষয় নিয়ে আলোচনা নতুন কিছু নয়। তবে মিশর ও ইরানের ম্যাচকে ঘিরে সেই বিতর্ক আবারও সামনে এসেছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন