০৬:৫৬ পি.এম
বিএনপির সরকারের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ও প্রচারণায় সবচেয়ে বেশি ফ্যামিলি ও কৃষক কার্ডের কথা বলা হয়েছিল। ইতোমধ্যে দেশের বিভিন্ন স্থানে এই কার্ড দেওয়ার কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
এই প্রেক্ষাপটে, সরকারের প্রথম প্রস্তাবিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে এই দুই কার্ডের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে ১৫ হাজার ৫৬২ কোটি ৫০ লাখ টাকা।
আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে, জাতীয় সংসদের অধিবেশনের বাজেটে অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এই প্রস্তাব করেছেন।
আরও পড়ুন: তারেক রহমান: জামায়াত-এনসিপি আমার রাষ্ট্রীয় সম্মান সহ্য করতে পারছে না
বাজেট বক্তব্যে মন্ত্রী উল্লেখ করেন যে, কৃষি খাতে মৌলিক রূপান্তর আনতে এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর দোরগোড়ায় ১০টি সেবা পৌঁছে দিতে সরকার গত ১৪ এপ্রিল থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘কৃষক কার্ড’ কর্মসূচি চালু করেছে। দেশের আট বিভাগের ১০ জেলার ১১টি উপজেলার ১১টি ব্লকে মোট ২২ হাজার ৬৫ জন কৃষককে এই কার্ড দেওয়া হয়েছে।
একই সঙ্গে, মৎস্য চাষি, প্রাণিসম্পদ খামারি এবং লবণ চাষিদেরও এই বিশেষ কার্ডের আওতায় আনা হয়েছে।
আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ১০০ উপজেলায় ৪২ লাখ ৫ লাখ কৃষককে ‘কৃষক কার্ড’ দেওয়া হবে। পাশাপাশি, দেশের সব কৃষককে পর্যায়ক্রমে ‘কৃষক কার্ড’ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এই কার্ডের মাধ্যমে ভূমিহীন, প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষকগণ প্রতি বছর একবার দুই হাজার ৫০০ টাকা করে নগদ সহায়তার পাশাপাশি আরও ১০ ধরনের বহুমুখী সুবিধা পাবেন।
এ জন্য ২০২৬-২৭ অর্থবছরে প্রাথমিকভাবে কৃষক কার্ড বাবদ এক হাজার ৬২ কোটি ৫০ লক্ষ টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। একই সঙ্গে, শস্য, ফসল, মৎস্য ও পশুপালন খাতে সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ সুদসহ মওকুফের কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হয়েছে এবং চলতি অর্থ বছরে এক হাজার ৫৬৭ কোটি ৯৬ লক্ষ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন: আদাবরে যুবদল নেতাকে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে জখম
অন্যদিকে, সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিতকল্পে প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী, এক মাসের মধ্যে 'ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি' চালু করা হয়েছে। ২০৩০ সালের মধ্যে পর্যায়ক্রমে 'ফ্যামিলি কার্ড' কর্মসূচি সারা দেশে বিস্তৃত করা হবে। নারীর ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করতে, এই কার্ডটি সরাসরি পরিবারের 'মা' বা 'নারী প্রধান' সদস্যের নামে ইস্যু করা হচ্ছে।
এই কার্ডের মাধ্যমে মাসিক দুই হাজার ৫০০ টাকা করে ভাতা সরাসরি মোবাইল বা ব্যাংক অ্যাকাউন্টে দেওয়া হচ্ছে। এ হার বিদ্যমান সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির ভাতার হার অপেক্ষা প্রায় তিন গুণ অধিক।
২০৩০ সালের মধ্যে, এ কার্ডকে বাংলাদেশের প্রতিটি নাগরিকের জন্য একটি ‘সর্বজনীন সোশ্যাল আইডি কার্ড’ হিসেবে রূপান্তর করতে চাওয়া হচ্ছে। এখন পর্যন্ত ৬০ হাজার ৪৪ জন পরিবারের নারী প্রধানকে এই কার্ডের আওতায় আনা হয়েছে। আগামী অর্থবছরের মধ্যে ৪১ লক্ষ নারীকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার জন্য বাজেটে ১৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। একই সঙ্গে, বয়স্ক ভাতা, বিধবা ও স্বামী নিগৃহীতা ভাতা, প্রতিবন্ধীদের ভাতাও বৃদ্ধি করা হয়েছে বলে জানান আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
আরও পড়ুন: শেরপুরে বাসের চাপায় সিএনজি যাত্রী নিহত, আহত ৪
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন