০৩:৫৬ পি.এম
স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানে দলীয় নিয়োগপ্রাপ্ত প্রশাসকদের নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণা, নির্বাচনে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের অযোগ্য ঘোষণার সুপারিশ বাতিল, নির্বাচন কমিশনের (ইসি) অতিরিক্ত সচিবের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ বাতিল এবং স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রচারে মন্ত্রী-এমপিদের অংশগ্রহণে নিষেধাজ্ঞা আরোপের দাবি জানিয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।
বুধবার (২৯ জুলাই) দুপুরে রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে এসব দাবি তুলে ধরেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।
এর আগে বেলা ১১টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত জামায়াতের ছয় সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) ও দুই নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে বৈঠক করে। স্থানীয় সরকার নির্বাচন সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ করার লক্ষ্যে তারা এসব দাবি জানান।
আরও পড়ুন: বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্রের দশম স্থলবাহিনী সংলাপ ঢাকা সেনানিবাসে সফলভাবে সম্পন্ন
বৈঠক শেষে মিয়া গোলাম পরওয়ার জানান, আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচন সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য করার লক্ষ্যে গুরুত্বপূর্ণ কিছু বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে মতবিনিময় করতে তারা এসেছিলেন।
তিনি বলেন, বর্তমান সরকার ক্ষমতায় এসে সিটি করপোরেশন, জেলা পরিষদসহ বিভিন্ন উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ ও সরকারি প্রতিষ্ঠানে দলীয় বিবেচনায় নিয়োগ দিয়েছেন।
এসব প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা ব্যক্তিরা তাদের দায়িত্ব ও সুযোগ-সুবিধা ব্যবহার করে নির্বাচনে প্রভাব বিস্তারের সুযোগ পেতে পারেন। এ কারণে জামায়াত এ ধরনের পদে রাজনৈতিকভাবে নিয়োগ পাওয়া ব্যক্তিদের নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণার দাবি জানিয়েছে।
মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে মন্ত্রী ও এমপিরা যেন কোনো প্রার্থীর পক্ষে নির্বাচনী প্রচারে অংশ নিতে না পারেন এ বিষয়েও নিষেধাজ্ঞার দাবি উঠেছে। যেহেতু স্থানীয় সরকার নির্বাচন দলীয় প্রতীকে হচ্ছে না, তাই মন্ত্রী-এমপিদের নির্বাচনী কার্যক্রমে অংশগ্রহণ রাজনৈতিক প্রভাব সৃষ্টি করতে পারে।
আরও পড়ুন: তত্ত্বাবধায়ক সরকার নিয়ে বিতর্ক: গণতন্ত্রের শর্ত ও রাজনৈতিক সংকটের গুরুত্ব
ইসির অতিরিক্ত সচিব হিসেবে শামসুল আলমের নিয়োগের সমালোচনা করে তিনি বলেন, রাজনৈতিকভাবে পরিচিত একজন ব্যক্তিকে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের অতিরিক্ত সচিব পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। জামায়াত এ নিয়োগ বাতিলের দাবি জানিয়েছে।
তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান। এখানে রাজনৈতিক পরিচয় থাকা কোনো ব্যক্তির নিয়োগ নির্বাচনকে নিরপেক্ষ রাখার ক্ষেত্রে বাধা সৃষ্টি করতে পারে।
এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণার সুপারিশ বাতিলের দাবি জানিয়ে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল জানান, ইসি এ বিষয়ে একটি সুপারিশ করেছে।
তবে তা এখনো সরকারের কাছে পাঠানো হয়নি বলে কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
আরও পড়ুন: শাকিলের জানাজায় এমপির বিরুদ্ধে ‘ভুয়া ভুয়া’ স্লোগান
তিনি বলেন, এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের নির্বাচনে অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে এমন বিধিনিষেধ বৈষম্যমূলক। জাতীয় নির্বাচনে যেখানে তাদের অংশগ্রহণে কোনো বাধা নেই, সেখানে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এ ধরনের নিষেধাজ্ঞা গ্রহণযোগ্য নয়।
মিয়া গোলাম পরওয়ার আরো বলেন, দেশের স্থানীয় সরকার নির্বাচনের ইতিহাসে শিক্ষকরা অংশগ্রহণ করে আসছেন। কোনো আলোচনা ছাড়াই এ ধরনের সুপারিশ করা হয়েছে বলে তারা আপত্তি জানিয়েছেন।
এ ছাড়া রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ থাকা দলের নেতা-কর্মীদের নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণার দাবিও জানিয়েছে জামায়াত। মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, কোনো নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দলের পদধারী ব্যক্তি নির্বাচনে অংশ নিলে তা নির্বাচনী পরিবেশে প্রভাব ফেলতে পারে।
আরও পড়ুন: জামায়াতের মহিলা বিভাগের প্রতিবাদ: নারী উদ্যোক্তা সাথী আক্তার গ্রেপ্তার
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন