০৪:২২ পি.এম
রাজধানীর ওয়ারীর নারিন্দা এলাকা থেকে এক যুবককে অপহরণের ঘটনা ঘটেছে। ওই যুবককে নির্যাতন করে টাকা হাতিয়ে নেয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। আহত যুবক সুভাষ দেউরী (২৭) নামের ব্যক্তি বর্তমানে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন।
সোমবার (২৯ জুন) রাত ৮টার সময় ওয়ারী স্বামীবাগ এলাকা থেকে সুভাষকে অপহরণ করা হয়। পরদিন মঙ্গলবার (৩০ জুন) সকালে তিনি নিজেই একটি কৌশল অবলম্বন করে মুক্ত হয়ে আসেন এবং তারপর তার রুমমেট তাকে ঢাকা মেডিকেলে ভর্তি করান।
সুভাষ বলেন, তিনি পুরান ঢাকার সেন্ট্রাল ল’ কলেজের ১ম বর্ষের ছাত্র। এছাড়া তিনি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের মন্দিরের সহকারী পুরোহিত হিসেবে কাজ করছেন। তার বাড়ি মাগুরার শ্রীপুর উপজেলায়। বাবার নাম শ্যামল দেউরী। তিনি বাসা থেকে বের হওয়ার সময় রিকশা নিয়ে স্বামীবাগ যান। কিন্তু ঠিক তার পরের ঘটনা তিনি ভালোভাবে মনে করতে পারছেন না।
আরও পড়ুন: সৌদি আরব থেকে ৯ মাসে ২ হাজার মরদেহ, নারী কর্মীরা সন্তানের বাবার পরিচয় জানেন না
সুভাষ বলেন, আমার মাইগ্রেনের সমস্যার কারণে আমার কিছু বিষয় বেশি সময় মনে থাকে না। সোমবার রাতে যখন তিনি বাসা থেকে বের হন, তখন তিনি রিকশা নিয়ে স্বামীবাগে যান। এরপর কী ঘটেছে সেই সম্পর্কে তিনি পরবর্তীতে কিছু জানেন না।
তিনি জানান, এক সময় তাকেসহ ৭-৮ জন যুবক একটি মেস বাসার ভেতরে আটক করে। সেখানে তিনি দেখতে পান, যুবকদের মধ্যে কেউ কেউ মাদকসেবন করছে। তাঁরা তাকে মারধর করে এবং মোবাইল ও মানিব্যাগ হাতিয়ে নেয়। মোবাইলের মেসেজ দেখে তারা তার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ১ লাখ ৩৬ হাজার টাকা রয়েছে জানার পর, ৩০ হাজার টাকা দিতে বলে। তবে সেজন্য সুভাষের কাছে ব্যাংকের অ্যাপ বা চেক বই ছিল না। তারা পরে তার রুমমেটকে ফোন করিয়ে বিকাশের মাধ্যমে ৬ হাজার টাকা নেয় এবং তার বোনকে ফোন করিয়ে আরও ২০ হাজার টাকা আদায় করে।
এদিকে, তিনি বলেন, তিনি অপরাধীদের কাছে তার পরিচয় দেননি কিন্তু তারা তার গলায় থাকা হিন্দু ধর্মের মালা দেখে বুঝে যায় তিনি একজন হিন্দু। তবে তিনি জানিয়েছেন যে তিনি মন্দিরের পুরোহিত, এটা তাদের জানাননি। পরে সারারাত ধরে তারা তাকে নির্যাতন করে এবং সবসময় তার কাছে টাকা আদায় করার চেষ্টা করে থাকে। এক পর্যায়ে তিনি পালানোর পরিকল্পনা করেন এবং তাদের বলেন তাকে ছাদে নিয়ে যেতে। কিন্তু ছাদকামনা পথে কিভাবে তিনি নিচে পড়ে গেছেন, সে সম্পর্কে তিনি নিশ্চিত নয়। পরে তাকে রিকশায় তুলে এনে নারিন্দায় তার বাসার সামনে নিয়ে যায়। সেখান থেকে রুমমেটকে খবর দেয়ার পর, রুমমেট তাকে ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে আসে।
তাকে হাসপাতালে ভর্তি করার পর দেখা যায়, তার কপালে কাটা জখম এবং বাম পায়ে গুড়ালি ভেঙে গেছে। ডান পায়ের গোড়ালিতেও আঘাত রয়েছে।
আরও পড়ুন: দুধের উৎপাদন খরচ ৪৪.৮০ টাকা, বিক্রি ১০০-১১০ টাকায়
ওয়ারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মফিজুর রহমান জানান, ভুক্তভোগী সুভাষ দেউরী জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের মন্দিরের সহকারী পুরোহিত এবং তিনি সোমবার রাতে স্বামীবাগের ইসকন মন্দিরে গিয়েছিলেন। সেখানে প্রবেশের পর কয়েকজন যুবক তাকে একটি বাসায় নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ করেছিল। পরে, আজ ভোরে তিনি ওই বাসা থেকে লাফ দিয়ে পালিয়ে আসেন। লাফিয়ে পড়ার কারণে তার স্বাস্থ্যের সমস্যা দেখা দিয়েছে।
ওসি আরও জানান, ঘটনাস্থলটি গেন্ডারিয়া থানার আওতার মধ্যে পড়লেও বিষয়টি নিয়ে ওয়ারী থানা পুলিশ তদন্ত করছে। ভুক্তভোগীর আগে থেকেই কিছু স্মৃতিজনিত সমস্যা রয়েছে, ফলে তিনি ঘটনার বিস্তারিত জানাতে পারছেন না। তবে বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করা হচ্ছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন