ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

সিলেটে অনলাইন জুয়া, মোবাইলসহ গ্রেফতার পাঁচজন


সিলেটে অনলাইন জুয়া, মোবাইলসহ গ্রেফতার পাঁচজন

সিলেটের গোয়াইনঘাটে অভিযান চালিয়ে অনলাইন জুয়া চক্রের পাঁচ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব)-৯। এসময় তাদের কাছ থেকে অনলাইন জুয়া পরিচালনার কাজে ব্যবহৃত পাঁচটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে।

সোমবার (২৯ জুন) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে গোয়াইনঘাট উপজেলার সারিঘাট পুরাতন বাজার এলাকার একটি চায়ের দোকানে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়।

মঙ্গলবার (৩০ জুন) র‍্যাব-৯ এর মিডিয়া অফিসার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কে এম শহিদুল ইসলাম সোহাগ স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

আরও পড়ুন: ঈশ্বরদীতে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধের দাবিতে মানববন্ধন

গ্রেফতাররা হলেন: জুবায়ের আহমেদ, সাগর মালাকার, মফিজুর রহমান, শাহীন আহমেদ ও আজিজুল হক। তাদের সবার বাড়ি সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলায়।

র‍্যাব জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সিলেটের গোয়াইনঘাটে সারিঘাট এলাকার পুরাতন বাজারের একটি চায়ের দোকানে অভিযান চালানো হয়। এসময় র‍্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে কয়েকজন পালানোর চেষ্টা করলে ওই স্থান থেকে পাঁচজন আটক করা হয় র‍্যাব-৯ এর দ্বারা। পরে তাদের কাছ থেকে অনলাইন জুয়া খেলার কাজে ব্যবহৃত তিনটি স্মার্টফোন ও দুটি বাটন মোবাইল জব্দ করা হয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতাররা জানান, তারা ‘77abc, Night Teer, 1111bet’ সহ বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে মানুষকে ২০০ টাকা বিনিয়োগে ৩ হাজার টাকা লাভের প্রলোভন দেখিয়ে জুয়ায় যুক্ত করতেন এবং কমিশন গ্রহণ করতেন। জব্দ করা মোবাইল ফোনগুলোতে অনলাইন জুয়া পরিচালনার বিভিন্ন আলামত পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে র‍্যাব।

এ বিষয়ে র‍্যাব-৯ এর মিডিয়া অফিসার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কে এম শহিদুল ইসলাম সোহাগ জানান, এ ঘটনায় গ্রেফতারদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া শেষে আসামি ও জব্দকৃত আলামত গোয়াইনঘাট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। এর পাশাপাশি অনলাইন জুয়াসহ অন্যান্য অপরাধ দমনে গোয়েন্দা নজরদারি ও বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও তিনি জানান।

আরও পড়ুন: জামিনে মুক্ত হয়ে শ্বশুরবাড়িতে পুলিশকন্যা তাসনিয়া রানা তামান্না

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

উত্তর কোরিয়া ইস্যুতে সহযোগিতা জোরদারে দক্ষিণ কোরিয়া-ইউক্রেন বৈঠক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৩০শে জুন, ২০২৬ ইং

০৪:২৫ পি.এম


উত্তর কোরিয়া ইস্যুতে সহযোগিতা জোরদারে দক্ষিণ কোরিয়া-ইউক্রেন বৈঠক

 

রাশিয়ার হয়ে যুদ্ধ করতে গিয়ে ইউক্রেনের হাতে আটক হওয়া দুই উত্তর কোরীয় সেনার ভবিষ্যৎ নিয়ে দক্ষিণ কোরিয়া এবং ইউক্রেন আলোচনা করেছে। দক্ষিণ কোরিয়ার সরকার জানিয়েছে, এ বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে ‘গঠনমূলক’ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

দক্ষিণ কোরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী চো হিউন এবং ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রি সিবিহা সিউলে বৈঠক করেন। গত বছরের জানুয়ারিতে রাশিয়ার কুর্স্ক অঞ্চলে যুদ্ধের সময় ওই দুই সেনাকে ইউক্রেনীয় বাহিনী আটক করে।

উত্তর কোরিয়া এবং রাশিয়া তাদের ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য আহ্বান জানালেও মানবাধিকার সংস্থা এবং বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, দেশে ফিরে গেলে তারা কঠোর শাস্তির মুখে পড়তে পারেন। এই কারণে ওই দুই সেনা দক্ষিণ কোরিয়ায় যেতে আগ্রহী হয়েছেন, যা কার্যত উত্তর কোরিয়া থেকে পালিয়ে যাওয়ার সমান।

দক্ষিণ কোরিয়ার দাবি, ওই সেনারা কোরীয় উপদ্বীপের নাগরিক হওয়ায় তাদের দক্ষিণ কোরিয়ায় নেওয়া যেতে পারে। কারণ, দক্ষিণ কোরিয়া পুরো কোরীয় উপদ্বীপকে একটি দেশ হিসেবে মনে করে। যদিও উত্তর এবং দক্ষিণ কোরিয়া ১৯৫০-৫৩ সালের যুদ্ধের পরও আনুষ্ঠানিকভাবে শান্তি চুক্তি না হওয়ায় তারা এখনও প্রযুক্তিগতভাবে যুদ্ধাবস্থায় রয়েছে।

বৈঠকের পর দক্ষিণ কোরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, দুই দেশ আন্তর্জাতিক আইন এবং মানবিক নীতির ভিত্তিতে বিষয়টি সমাধানে একসঙ্গে কাজ করবে।

এছাড়া আটক দুই উত্তর কোরীয় সেনার ভবিষ্যৎ নির্ধারণে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে প্রকাশিত একটি পোস্টে ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রি সিবিহা জানান, তিনি এবং দক্ষিণ কোরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী চো হিউন আটক দুই উত্তর কোরীয় সেনার বিষয়টি বিস্তারিত আলোচনা করেছেন। জানা গেছে, উত্তর কোরিয়ার কর্তৃপক্ষ তাদের সেনাদের নির্দেশ দিয়েছিল যে, রাশিয়ার হয়ে যুদ্ধ করতে গিয়ে আটক হওয়ার চেয়ে আত্মহত্যা করাই ভাল।

ইউক্রেনের হাতে আটক দুই উত্তর কোরীয় সেনার একজন চলতি বছরের শুরুতে এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘আমাকে যদি দক্ষিণ কোরিয়ায় নেওয়া না হয়, তাহলে আমি মারা যাব।’ উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্যমতে, দেশটির নেতা কিম জং উন ইউক্রেন যুদ্ধে নিহত উত্তর কোরীয় সেনাদের সাহসিকতার প্রশংসা করেছেন।

তিনি বলেন, তারা মৃত্যুকে উপেক্ষা করে লড়াই করেছেন এবং আত্মত্যাগের উদাহরণ স্থাপন করেছেন। গত মার্চে চো হিউন জানিয়েছেন, ইউক্রেন সরকার আশ্বাস দিয়েছে যে আটক দুই সেনাকে তাদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে উত্তর কোরিয়ায় ফেরত পাঠানো হবে না।

বিশ্লেষকদের মতে, ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়াকে ক্ষেপণাস্ত্র, অস্ত্র এবং হাজারো সেনা পাঠানোর বিনিময়ে উত্তর কোরিয়া রাশিয়ার কাছ থেকে অর্থ, সামরিক প্রযুক্তি, খাদ্য এবং জ্বালানি সহায়তা পেয়েছে। ২০২৪ সালে রাশিয়া ও উত্তর কোরিয়া একটি পারস্পরিক প্রতিরক্ষা সমঝোতা স্বাক্ষর করেছে। চুক্তি অনুযায়ী, দুই দেশের যেকোনো একটিতে আক্রান্ত হলে অন্য দেশ দ্রুত সামরিক সহায়তা প্রদান করবে।

এদিকে, ইউক্রেনের সামরিক গোয়েন্দা সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ সালের অভিযানে কুরস্ক ওব্লাস্ট অঞ্চলে রুশ বাহিনীর সঙ্গে যুদ্ধ করতে গিয়ে ৭ হাজারের বেশি উত্তর কোরীয় সেনা নিহত বা আহত হয়েছে। সিবিহা আরো জানান, তিনি এবং চো রাশিয়া ও উত্তর কোরিয়ার ক্রমবর্ধমান সামরিক সহযোগিতা থেকে উদ্ভূত নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ নিয়েও আলোচনা করেছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তি প্রক্রিয়া এখনও নড়বড়ে কেন?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৩০শে জুন, ২০২৬ ইং

০৪:২৫ পি.এম


যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তি প্রক্রিয়া এখনও নড়বড়ে কেন?

যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানের মধ্যে সাম্প্রতিক সময়ে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী, স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে আয়োজিত আলোচনা এক চরম নাটকীয়তা এবং উত্তেজনার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। গত ১৪ জুন পাকিস্তানি মধ্যস্থতাকারীদের দীর্ঘ প্রচেষ্টার মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে একটি ১৪ দফার সমঝোতা স্মারক ঘোষণা করা হয়। পরবর্তীতে, ১৭ জুন ভার্সাইয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ১৮ জুন তেহরানে ইরানি প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এই সমঝোতাটিতে স্বাক্ষর করেন। তবে, এই ঐতিহাসিক শান্তি প্রক্রিয়ার শুরুতেই নানা পক্ষের প্রতিবন্ধকতা ও আঞ্চলিক সংঘাতের মুখোমুখি হতে হয়েছে, যা পুরো প্রক্রিয়াকে ভেস্তে দেওয়ার আশঙ্কা তৈরি করেছে।

স্থায়ী শান্তি চুক্তি রূপায়নের লক্ষ্যে সুইজারল্যান্ডের বার্গেনস্টকে ১৯ জুন থেকে দুই পক্ষের মধ্যে সরাসরি বৈঠক হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু লেবাননে ইসরায়েল-হিজবুল্লাহর মধ্যে তীব্র সংঘাত ঘটার কারণে সমঝোতা স্মারকের প্রথম শর্তটি লঙ্ঘিত হয়। এখানে বলা হয়েছিল যে, লেবাননসহ সব ধরনের সামরিক অভিযান বন্ধ রাখতে হবে। এর প্রতিক্রিয়া হিসেবে ইরান আলোচনা বয়কটের ঘোষণা দেয় এবং হরমুজ প্রণালী বন্ধের হুমকি দেয়। ফলে মার্কিন প্রতিনিধি দলের প্রধান, ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স তার নির্ধারিত সুইজারল্যান্ড সফর বাতিল করেন। তবে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হলে, ২০ জুন ইরানের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল সুইজারল্যান্ডে পৌঁছালে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সও বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনারের সাথে যোগ দিতে সেখানে রওনা হন।

গত ২১ জুন সকালে, লেক লুসার্ন সামিট নামে পরিচিত এই আলোচনা শুরু হয়। বৈঠকে, জেডি ভ্যান্স মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে একটি ইতিবাচক সূচনা বক্তব্য দেন এবং ইরানের সাথে সম্পর্কের একটি নতুন অধ্যায় শুরু করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। তিনি জানান, ইরান যদি আঞ্চলিক অস্থিরতা তৈরি করা এবং পরমাণু অস্ত্রের আকাঙ্ক্ষা ত্যাগ করে, তবে যুক্তরাষ্ট্র তাদের সাথে সম্পর্কের আমূল পরিবর্তন করতে প্রস্তুত। কিন্তু এই ইতিবাচক আবহাওয়া দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। বৈঠক শুরুর মাত্র ৮০ মিনিট পর একটি বড় ধরনের ধাক্কা আসে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইরানকে চরম হুঁশিয়ারি দিয়ে বসেন। তিনি হরমুজ প্রণালী বন্ধের হুমকির প্রেক্ষিতে ক্ষুব্ধ হয়ে বলেন, হরমুজ প্রণালী খোলা না রাখলে ইরানি আলোচনাকারীরা আর কখনো নিজের দেশে ফিরতে পারবে না। এমনকি তাদের ফেরার মতো কোনো দেশও থাকবে না।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এই আপত্তিকর ও হুমকিস্বরূপ মন্তব্যের পর বৈঠকে চরম উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। ইরানি প্রতিনিধি দল তাদের ব্যক্তিগত নিরাপত্তার হুমকি মনে করে মধ্যস্থতাকারীদের কাছে তীব্র প্রতিবাদ জানায় এবং বৈঠক থেকে সাময়িক ওয়াকআউট করে। পরবর্তীতে, পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আসে এবং আলোচনা মধ্যরাত পর্যন্ত গড়ায়। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এই আলোচনাকে অত্যন্ত জটিল ও বিশৃঙ্খল হিসেবে বর্ণনা করেছেন, তবে নিশ্চিত করেছেন যে, ইরানি দল স্থায়ীভাবে আলোচনা বর্জন করেনি এবং গভীর রাত পর্যন্ত দুই পক্ষের মধ্যে দরকষাকষি চলেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শান্তি প্রক্রিয়ার ভেতরে ও বাইরে বিভিন্ন স্বার্থান্বেষী মহলের কারণে এই ঐতিহাসিক উদ্যোগটি এখন একটি বড় ধরনের অনিশ্চয়তার মুখে দাঁড়িয়ে আছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নকআউট থেকে বিদায়, সিদ্ধান্ত নিয়ে আক্ষেপ নেই কুমানের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৩০শে জুন, ২০২৬ ইং

০৪:২৬ পি.এম


নকআউট থেকে বিদায়, সিদ্ধান্ত নিয়ে আক্ষেপ নেই কুমানের

চলমান ফুটবল বিশ্বকাপের শেষ বত্রিশ থেকে টাইব্রেকারে বিদায় নেওয়ার পরেও নিজের রক্ষণাত্মক কৌশল নিয়ে অনুতপ্ত নন নেদারল্যান্ডসের কোচ রোনাল্ড কুমান। বরঞ্চ তাঁর দাবি, মরক্কোর মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে এমন পরিকল্পনা দলের জন্য ছিল সবচেয়ে কার্যকর এবং একই পরিস্থিতি পুনরায় এলে তিনি আবারও একই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন।

মরক্কোর বিপক্ষে নির্ধারিত ও অতিরিক্ত সময় ১-১ গোলে সমাপ্ত হওয়ার পর টাইব্রেকারে ৩-২ ব্যবধানে পরাজিত হয়ে টুর্নামেন্ট থেকে বাদ পড়ে নেদারল্যান্ডস। ম্যাচটিতে ডাচদের ঐতিহ্যবাহী আক্রমণাত্মক ফুটবল থেকে সরে এসে পাঁচ ডিফেন্ডার নিয়ে রক্ষণভিত্তিক পরিকল্পনা গ্রহণ করেন কুমান। এই সিদ্ধান্তের জন্য ম্যাচ শেষে ব্যাপক সমালোচনার শিকার হন তিনি। কিন্তু সংবাদ সম্মেলনে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে কুমান বলেন, এই কৌশলের কারণে তাঁর দল পূর্ববর্তী ম্যাচগুলোর তুলনায় কম ভুল করেছে।

কুমানের ভাষ্যে, "এই কৌশলে আমরা আগের ম্যাচের তুলনায় কম বল হারিয়েছি"। তিনি এটিকে ইতিবাচক একটি দিক হিসেবে বিবেচনা করেন এবং স্বীকার করেন যে, আক্রমণে কিছুটা কম কার্যকর ছিলেন। সমালোচকদের উদ্দেশে কুমান বলেন, কৌশল নিয়ে ভিন্নমত থাকতে পারে, তবে সুইডেন ও তিউনিসিয়ার বিপক্ষে ম্যাচের তুলনায় মরক্কোর মতো শক্তিশালী দলের বিপক্ষে বলের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখার ক্ষেত্রে তাঁর পরিকল্পনা সফল ছিল।

তিনি আরো বলেন, "যদি আবার একই পরিস্থিতি আসে, আমি কোনো দ্বিধা ছাড়াই একই কৌশল গ্রহণ করব।" নিজের ভবিষ্যৎ সম্পর্কিত কোনো মন্তব্য করতে চাননি ডাচ কোচ। তাঁর মতে, ম্যাচের শেষ মুহূর্তে যদি মরক্কো সমতা ফিরিয়ে আনতে না পারতো, তবে সবাই তাঁর পরিকল্পনাকে সফল বলত।

কুমান বলেন, "যদি মরক্কো শেষ মুহূর্তে গোল না করত, তাহলে হয়তো আমি আজ প্রশংসিত হতাম। কিন্তু এখন পাঁচ ডিফেন্ডার খেলানোর জন্য সমালোচনা হচ্ছে। তবুও আমি বিশ্বাস করি, সিদ্ধান্তটি সঠিক ছিল।" তিনি আরো জানান, ম্যাচের আগে এই পরিকল্পনা নিয়ে খেলোয়াড়দের সঙ্গে আলোচনা করা হয়েছিল এবং তাঁরাও এতে সম্মতি দিয়েছিলেন।

সমালোচনার জবাবে কুমান বলেন, "আপনারা সমালোচনা করতেই পারেন, সেটি আপনাদের অধিকার। কিন্তু আপনারা ম্যাচ দেখেন সাইডলাইন থেকে, আর আমি মাঠে দলের সঙ্গে বাস্তবতা বুঝে সিদ্ধান্ত নিই। কোথায় উন্নতি করতে হবে, সেটিও আমি জানি। তবে একই পরিস্থিতি এলে আমি আবারও একই সিদ্ধান্ত নেব।" রক্ষণাত্মক কৌশলকে ভয়ের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখার বিরুদ্ধে কুমান মত প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, "এটা ভয়ের বিষয় নয়। কেন আমি ভয় পাব? মাঠে আমাদের তিনজন স্ট্রাইকার ছিল। লক্ষ্য ছিল রক্ষা আরও সংগঠিত করা এবং প্রতিপক্ষকে বিশ্লেষণ করে সেভাবেই পরিকল্পনা সাজানো। কারও ভিন্ন মত থাকতে পারে, আমি সেটিকে সম্মান করি। তবে আমার দৃষ্টিভঙ্গি ভিন্ন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

এআই চিপে বিপুল বিনিয়োগ দক্ষিণ কোরিয়ার, ঝুঁকি নিয়েও সতর্ক বিশ্লেষকরা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৩০শে জুন, ২০২৬ ইং

০৪:২৭ পি.এম


এআই চিপে বিপুল বিনিয়োগ দক্ষিণ কোরিয়ার, ঝুঁকি নিয়েও সতর্ক বিশ্লেষকরা

দক্ষিণ কোরিয়ার দুই শীর্ষ চিপ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান স্যামসাং ইলেকট্রনিকস ও এসকে হাইনিক্স কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির চাহিদাকে সামনে রেখে বিশাল বিনিয়োগের ঘোষণা দিয়েছে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, ভবিষ্যতে যদি এআই চিপের চাহিদা কমে যায়, তাহলে এই বিনিয়োগ বড় ঝুঁকির কারণ হয়ে উঠতে পারে।

মঙ্গলবার (৩০ জুন) রয়টার্সে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

দুই প্রতিষ্ঠান একত্রে প্রায় ৩ হাজার ২০০ ট্রিলিয়ন ওন বা প্রায় ২ দশমিক ৭ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগের পরিকল্পনা করছে। এই বিনিয়োগের মধ্যে রয়েছে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে নতুন চিপ ক্লাস্টার নির্মাণের পরিকল্পনাও।

এদিকে দক্ষিণ কোরিয়া সরকার আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে দেশটিতে মেমোরি চিপ উৎপাদন ক্ষমতা দ্বিগুণ করতে চায়। এর জন্য ইয়ংইন সেমিকন্ডাক্টর ক্লাস্টারে কারখানা নির্মাণ ত্বরান্বিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বর্তমানে এআই প্রসেসরের জন্য ব্যবহৃত হাই-ব্যান্ডউইথ মেমোরি চিপ উৎপাদনে বিশ্বে প্রধান নেতৃস্থানীয় অবস্থানে রয়েছে স্যামসাং ও এসকে হাইনিক্স। এই চিপের চাহিদা এআই প্রযুক্তির বিস্তৃতির সাথে সাথে দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে।

তবে বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, নতুন কারখানা কার্যক্রম শুরু হতে কয়েক বছর লাগবে। এ সময়ের মধ্যে যদি এআই খাতে বিনিয়োগ কমে যায়, তাহলে বাজারে অতিরিক্ত চিপের সরবরাহের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

মর্নিংস্টারের বিশ্লেষক জিং জিয়ে ইউ মন্তব্য করেছেন, দীর্ঘ মেয়াদে অতিরিক্ত উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানো বাজারের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। কারণ এআই কোম্পানিগুলো ভবিষ্যতে একই গতিতে বিনিয়োগ করে যাবে কিনা, তা নিশ্চিত নয়।

সিউল ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক লি জং-হো বলেছেন, এত বড় বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠানের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে সহায়ক হতে পারে। তাই বাজার পরিস্থিতি বিবেচনাপূর্বক সতর্ক সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রয়োজন রয়েছে।

অতীতে চিপের বাজারে মন্দার সময় স্যামসাং ও এসকে হাইনিক্স বড় ধরনের ক্ষতির মুখোমুখি হয়েছিল। ২০২৩ সালেও এই দুই প্রতিষ্ঠান বড় অঙ্কের লোকসানের সম্মুখীন হয়েছে।

তবে প্রতিষ্ঠান দুটি জানায়, বাজারের পরিস্থিতি অনুযায়ী প্রয়োজন হলে বিনিয়োগের গতি সমন্বয় করা হবে। দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে-মিয়ং এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে সরকারের দ্রুত অনুমোদন ও অবকাঠামোগত সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

বিশ্লেষকদের মতে, এআই যুগে এটি দক্ষিণ কোরিয়ার জন্য একটি বড় সুযোগ হতে পারে। তবে এই বিশাল বিনিয়োগের সফলতা শেষ পর্যন্ত ভবিষ্যতের বৈশ্বিক এআই চিপের চাহিদার ওপর নির্ভর করছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%