০৬:৩২ পি.এম
রাশিয়ার নিরাপত্তা পরিষদের উপ-প্রধান দিমিত্রি মেদভেদেভ জানান, হরমুজ প্রণালীর চেয়েও ইরানের হাতে শক্তিশালী কৌশলগত হাতিয়ার রয়েছে। তিনি মন্তব্য করেন, তেহরানের জন্য এই হরমুজ প্রণালী 'পারমাণবিক অস্ত্রের চেয়ে কোনো অংশে কম গুরুত্বপূর্ণ নয়'।
এছাড়া, তিনি উল্লেখ করেছেন, বাব আল-মান্দেব প্রণালীটি আরও শক্তিশালী একটি কৌশলগত হাতিয়ার হিসেবে কাজ করে। আঞ্চলিক উত্তেজনা বৃদ্ধি পেলে এটি মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেল সরবরাহ ব্যবস্থা সম্পূর্ণভাবে ব্যাহত করতে সক্ষম।
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের বিশেষ দূত হিসেবে তেহরানে অবস্থান করছেন মেদভেদেভ, যিনি ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতার সম্মানে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে যোগ দিতে সেখানে গিয়েছেন। তিনি ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের কাছে পুতিনের শোকবার্তা পৌঁছে দিয়েছেন এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের উন্নয়ন নিয়ে আলোচনা করেছেন।
আরও পড়ুন: সবজি কিনতে গেলে মনে হয় মাংস কিনছি, গরু-ইলিশের কথা মানুষ ভুলে যাবে: আসিফ মাহমুদ
রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা 'রিয়া নভোস্তি'-র প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ইস্যুতে মস্কো ও তেহরানের মধ্যে সহযোগিতা 'সামগ্রিক কৌশলগত অংশীদারিত্ব চুক্তি'-র কাঠামোর আওতায় অব্যাহত রয়েছে। মেদভেদেভ তেহরানকে একটি 'প্রাণবন্ত ও দ্রুত বিকাশমান শহর' হিসেবেও বর্ণনা করেছেন এবং এই সফরের ফলে তার ওপর ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে বলে জানিয়েছেন।
মেদভেদেভ সাম্প্রতিক সংঘাতের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে বলেন, ইরানের ওপর হামলার সময়ে দেশটি 'অত্যন্ত মর্যাদার সঙ্গে অন্যতম কঠিন একটি পরীক্ষা অতিক্রম করেছে'। তিনি ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের হামলাকে অযৌক্তিক বলে নিন্দা করেছেন।
এমনকি মেদভেদেভ জানান, মস্কো ইরানের পারমাণবিক সমস্যার শান্তিপূর্ণ সমাধানের পক্ষে সমর্থন অব্যাহত রেখেছে। তবে স্বীকার করেছেন যে, তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানো কঠিন হবে। দিমিত্রি মেদভেদেভের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের সব কর্মকর্তা ইরানের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার পক্ষে নন। যদিও ইতোমধ্যে অর্জিত সমঝোতাগুলো ভবিষ্যৎ আলোচনার ভিত্তি হিসেবে কাজ করতে পারে।
পুতিনের বিশেষ দূত বলেন, কোনো আলোচনা না হওয়ার চেয়ে আলোচনা হওয়া সবসময়ই ভালো। তিনি বিশ্বাস করেন যে, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার আলোচনা শেষ পর্যন্ত সফল হবে। তিনি সতর্ক করেছেন যে, আলোচনা চলাকালীন গতিপথ ভিন্ন দিকেও মোড় নিতে পারে।
আরও পড়ুন: এনসিপির নতুন কমিটিতে ৩ নেতার পদাবনতি, কারণ অজানা
তিনি সফরের সময় প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ানের সঙ্গে নিষেধাজ্ঞার কবলে পড়া দেশগুলোর একটি প্ল্যাটফর্ম গঠনের ধারণা নিয়ে আলোচনা করেছেন। মেদভেদেভের মতে, রাশিয়া, ইরান, চীন এবং আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার সম্মুখীন অন্যান্য দেশ অর্থনৈতিক বিধিনিষেধের বিরুদ্ধে সম্মিলিত পদক্ষেপ গ্রহণের লক্ষ্যে একটি যৌথ কাঠামো গড়ে তোলার বিষয়টি বিবেচনা করতে পারে।
মেদভেদেভ সমুদ্রপথের বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন এবং বলেন, হরমুজ প্রণালী ইরানের জন্য কৌশলগত অস্ত্রের সমতুল্য এক প্রতিরোধমূলক হাতিয়ারে পরিণত হয়েছে। অন্যদিকে, বাব আল-মান্দেব প্রণালী আরও শক্তিশালী কৌশলগত প্রভাব বিস্তারের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠতে পারে।
তিনি সতর্ক করেন, যদি কোনো বৃহত্তর আঞ্চলিক সংঘাতের পরিস্থিতি তৈরি হয়, তবে বাব আল-মান্দেব প্রণালীতে বিঘ্ন ঘটার ফলে মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেল রপ্তানি পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যেতে পারে। এই বিষয়টি আঞ্চলিক নিরাপত্তার যেকোনো হিসাব-নিকাশে অবশ্যই বিবেচনায় রাখা উচিত।
সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি
আরও পড়ুন: ‘বেহেশতের গ্যারান্টি দিতে পারব না, তবে উন্নয়নের গ্যারান্টি দিতে চাই’
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন