ঢাকা রবিবার, ২৫শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৯ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৪ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
রবিবার, ২৫শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৯ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

নোয়াখালীতে মাদকের বিরোধে স্কুলছাত্রকে কুপিয়ে হত্যা, আটক ১


নোয়াখালীতে মাদকের বিরোধে স্কুলছাত্রকে কুপিয়ে হত্যা, আটক ১

নোয়াখালী জেলার সেনবাগ উপজেলার মাদকের বিরোধকে কেন্দ্র করে ১৬ বছর বয়সী দশম শ্রেণির ছাত্র আরাফাত হোসেন ফাহিমকে কুপিয়ে হত্যা করেছেন মাদককারবারিরা। এই ঘটনায় আরও তিনজন আহত হয়েছেন, ফলে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

ঘটনাটি ঘটেছে বুধবার (১০ জুন) রাত ৮টায় নবীপুর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের দেবিসিংহপুর গ্রামের হাজেরা দিঘী সংলগ্ন বেলাল মাস্টারের বাড়ির সামনে। নিহত আরাফাত হোসেন ফাহিম বেগমগঞ্জ উপজেলার চৌমুহনী পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের হাজীপুর এলাকার আবুল কালাম হাজী বাড়ির মো. শাহজাহানের ছেলে। তিনি স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্র হিসেবে পরিচিত ছিলেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মো. হারুন (৩৫) নামে একজনকে আটক করেছে। হারুন একই গ্রামের জোড়া বাড়ির জয়নাল আবেদীনের ছেলে।

প্রত্যক্ষদর্শী দেলোয়ার হোসেন নোবেল জানান, দেবিসিংহপুর গ্রামের হাজেরা দিঘীর পেছনের একটি পোলের ওপর বেশ কিছুদিন ধরে হারুন, জাহাঙ্গীর, আবুল খায়ের এবং মমিনের নেতৃত্বে মাদকের ব্যবসা চলছিল। প্রায় পাঁচ-ছয় দিন আগে মান্না নামে এক মাদকসেবীকে স্থানীয় বেলাল মাস্টার বাড়ির আলী হায়দার ফাহিম (১৮), তার ভাই রিফাত (২০) এবং সাকিবসহ আরও কয়েকজন আটক করেন। এই জিজ্ঞাসাবাদে মাদকসেবী হারুনের সম্পৃক্ততার কথা জানালে স্থানীয় তরুণরা মাদক বিক্রি ও সেবনের প্রতিবাদ করতে থাকে, ফলে ওই এলাকায় পাহারা বসানো হয়। এতে কয়েকদিনের জন্য মাদকের আড্ডা বন্ধ হয়ে গিয়েছিল।

আরও পড়ুন: পার্বতীপুরে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক মনোরঞ্জন রায়কে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ

নোবেল আরও জানান, বুধবার রাত ৮টার দিকে আলী হায়দার ফাহিম, রিফাত, সাকিবসহ কয়েকজন বাড়ির পাশে বায়তুন আমান মসজিদ সংলগ্ন এলাকায় ছিলেন। সেই সময় হারুনের নেতৃত্বে কয়েকজন তাঁদের ওপর হামলা করে। হামলার সময় আলী হায়দার ফাহিমের বুকে ছুরিকাঘাত করা হয়, রিফাতের হাতের রগ কেটে দেওয়া হয় এবং সাকিবের ডান হাতে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর জখম করা হয়।

নোবেল বলেন, নিহত আরাফাত হোসেন ফাহিমের নানার বাড়ি দেবিসিংহপুর গ্রামের বেলাল মাস্টার বাড়িতে। তাঁর খালার বাড়িটি পাশেই অবস্থিত। বুধবার সন্ধ্যায় তিনি নিজের বাড়ি থেকে নানার বাড়িতে বেড়াতে আসেন। পরে নানার বাড়ি থেকে খালার বাড়ি যাওয়ার পথে হাজেরা দিঘী এলাকায় হারুন, জাহাঙ্গীর, আবুল খায়ের, মমিনসহ ৭-৮ জন তাঁকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে। এতে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হয়। পরে স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করে নোয়াখালী ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

সেনবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুর রহিম সরকার বলেন, মাদক সংক্রান্ত বিরোধের কারণে এই ঘটনার সূত্রপাত ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। খবর পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। ঘটনার মূলহোতা হারুনকে আটক করা হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে একটি রক্তাক্ত ছোরা উদ্ধার করা হয়েছে এবং পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

আরও পড়ুন: কক্সবাজারে পুলিশের বিশেষ অভিযানে ১৫ জন আসামী গ্রেফতার

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মুন্সীগঞ্জে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতামূলক মতবিনিময় সভা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১১ই জুন, ২০২৬ ইং

০২:২২ এম


মুন্সীগঞ্জে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতামূলক মতবিনিময় সভা

মুন্সীগঞ্জ জেলা থেকে সংবাদদাতার মাধ্যমে জানা যাচ্ছে, মুন্সীগঞ্জ সদরের পঞ্চসার ইউনিয়নে ডেঙ্গু প্রতিরোধের উদ্দেশ্যে জনসচেতনতামূলক এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বুধবার সকাল ১১টায়, মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলা পরিষদের অডিটোরিয়ামে এই সভাটির আয়োজন করে পঞ্চসার ইউনিয়ন পরিষদ। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও সদর উপজেলা পরিষদের প্রশাসক মো. মাসুদুর রহমান।

মাসুদুর রহমান বলেন, ‘পঞ্চসার ইউনিয়নের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনার জন্য অতীতে তিন থেকে চারবার বিভিন্ন এনজিওকে দায়িত্ব দেওয়া হলেও তারা দীর্ঘদিন কার্যক্রম চালিয়ে যেতে পারেনি। তবে সম্প্রতি ঢাকার একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে পঞ্চসার ইউনিয়নের আধুনিক ডাম্পিং ব্যবস্থা গড়ে তোলার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।’

সভায় ডেঙ্গু প্রতিরোধের জন্য বাড়ির আঙিনা, ড্রেন এবং আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখার জন্য সবাইকে আহ্বান জানানো হয়। একইসাথে বিভিন্ন ওয়ার্ডের বাসিন্দারা ড্রেনের উচ্চতা বৃদ্ধি, জলাবদ্ধতা নিরসন এবং খাল-নালা সংস্কার ও নিয়মিত পরিষ্কারের দাবি জানান।

সভায় সভাপতিত্ব করেন পঞ্চসার ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক এস. এম. আব্দুর রহমান। এছাড়াও, বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মুন্সীগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক গোলজার হোসাইন। সভায় ইউনিয়নটির সাবেক চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমানসহ বিভিন্ন ওয়ার্ডের গণ্যমান্য ব্যক্তি, জনপ্রতিনিধি এবং সাধারণ জনগণ উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

প্রবাসীদের জন্য চালু হচ্ছে ‘প্রবাসী কার্ড’

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১১ই জুন, ২০২৬ ইং

০২:২৬ এম


প্রবাসীদের জন্য চালু হচ্ছে ‘প্রবাসী কার্ড’

প্রবাসীদের জন্য ব্যাংকিং সুবিধাসংবলিত ‘প্রবাসী কার্ড’ চালু ও ‘প্রবাসী সিটি’ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই তথ্যটি জানিয়েছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক।

বুধবার (১০ জুন) জাতীয় সংসদে কার্যপ্রণালী বিধির ৭১ বিধিতে নরসিংদী-১ আসনের সরকারি দলের সদস্য খায়রুল কবির খোকনের উত্থাপিত জরুরি জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মনোযোগ আকর্ষণ নোটিশের জবাবে তিনি বিশেষভাবে এ কথা জানান।

নুরুল হক আরও বলেন, প্রবাসীরা দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। যদিও তারা প্রত্যাশিত সেবা সবসময় পান না। বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর তাদের কল্যাণে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।

তিনি উল্লেখ করেন, নির্বাচনী ইশতেহারের আলোকে একটি ‘প্রবাসী কার্ড’ চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই কার্ড ব্যাংকের পেমেন্ট গেটওয়ের সঙ্গে যুক্ত থাকবে। ফলে প্রবাসীরা সহজেই দেশে অর্থ পাঠাতে সক্ষম হবেন এবং নির্ধারিত সীমার মধ্যে তাদের পরিবারের সদস্যরাও এই অর্থ ব্যবহার করতে পারবেন।

প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, প্রবাসীদের আবাসন সুবিধা নিশ্চিত করার জন্য ‘প্রবাসী সিটি’ গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। শুরুতে পূর্বাচলে একটি প্রকল্প শুরু করার পর তা জেলা পর্যায়ে সম্প্রসারণের চিন্তা করা হচ্ছে।

প্রবাসীদের জন্য গুলশানে ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের জমিতে আন্তর্জাতিক মানের একটি বিশেষায়িত হাসপাতাল নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে তিনি জানিয়েছেন।

নুরুল হক বলেন, ২০২৫ সালের মে থেকে ২০২৬ সালের এপ্রিল পর্যন্ত প্রবাসী কর্মীদের মেধাবী সন্তানদের শিক্ষা ভাতা হিসেবে ৫ হাজার ২২৫ জনকে ১৬ কোটি ২৫ লাখ টাকা প্রদান করা হয়েছে। একই সময়ে প্রতিবন্ধী সন্তানদের ভাতা, বীমা দাবি, বিদেশফেরত কর্মীদের ক্ষতিপূরণ, মৃত কর্মীদের লাশ পরিবহন ও দাফন ব্যয়সহ বিভিন্ন খাতে শত শত কোটি টাকার সহায়তা প্রদান করা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, বিদেশফেরত প্রায় আড়াই লাখ কর্মীকে পুনর্বাসন ও কর্মসংস্থানের জন্য প্রশিক্ষণ এবং সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। সরকারের উদ্দেশ্য হচ্ছে তাদের দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে পুনরায় বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা।

প্রবাসীদের দীর্ঘদিনের অভিযোগের প্রেক্ষিতে নুরুল হক বলেন, বিমানবন্দরে প্রবাসীদের ভালো ব্যবহার নিশ্চিত করতে ইতোমধ্যে প্রবাসী কল্যাণ কেন্দ্রের কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। ঢাকার পাশাপাশি সিলেট ও চট্টগ্রামেও এ সেবার পরিধি সম্প্রসারিত হয়েছে।

তিনি উল্লেখ করেন, বিদেশে কর্মীরা নির্যাতন বা অন্যায়ভাবে চাকরিচ্যুত হলে আইনি সহায়তা নিশ্চিত করতে ১০টি দেশের ল’ ফার্মের সঙ্গে চুক্তি করা হয়েছে। এছাড়া সৌদি আরবের জেদ্দা ও রিয়াদ এবং ওমানের মাস্কাটে নারী কর্মীদের জন্য তিনটি সেফ হোম পরিচালিত হচ্ছে।

প্রতিমন্ত্রী জানান, প্রবাসীদের তাৎক্ষণিক সেবার জন্য দেশের মধ্যে টোল-ফ্রি কল সেন্টার ১৬১৩৫ এবং বিদেশ থেকে +৮৮০৯৬১০১০২০৩০ নম্বরে যোগাযোগের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

তিনি বলেন, সরকার মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে নতুন শ্রমবাজার অনুসন্ধানে গুরুত্ব দিচ্ছে। জাপানের শ্রমবাজারে কর্মসংস্থান বাড়াতে মন্ত্রণালয়ে ‘জাপান সেল’ গঠন করা হয়েছে। একই সঙ্গে ইউরোপ ও এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলে নতুন সুযোগ তৈরির জন্য বিদেশস্থ মিশনগুলোকে সক্রিয় ভূমিকা পালনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার পুনরায় চালুর বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছেন যেন কোনো ধরনের সিন্ডিকেট সৃষ্টি না হয় এবং পুরো প্রক্রিয়া স্বচ্ছ ও উন্মুক্ত থাকে। মালয়েশিয়ার সঙ্গে বিদ্যমান সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী বাংলাদেশি রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর চূড়ান্ত নির্বাচন মালয়েশিয়া সরকারই করে থাকে।

রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর কার্যক্রম মূল্যায়নের উদ্যোগের বিষয়ে তিনি বলেন, বর্তমানে প্রায় তিন হাজার লাইসেন্স থাকলেও কঠোর যাচাই-বাছাই করা হলে ৪০০ থেকে ৫০০টির বেশি টিকে থাকার সম্ভাবনা নেই। এজন্য গ্রেডিং ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট সব সংস্থার সমন্বয়ে অভিবাসন খাতে শৃঙ্খলা স্থাপন, প্রতারণা রোধ এবং প্রবাসীদের মর্যাদা, অধিকার এবং নিরাপদ কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে সরকার বদ্ধপরিকর।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বরিশালে কেএমসি হাসপাতাল ক্লিনিকে রোগীর মৃত্যু ঘিরে স্বজন ও চিকিৎসকদের মধ্যে সংঘর্ষ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১১ই জুন, ২০২৬ ইং

০২:৩৬ এম


বরিশালে কেএমসি হাসপাতাল ক্লিনিকে রোগীর মৃত্যু ঘিরে স্বজন ও চিকিৎসকদের মধ্যে সংঘর্ষ

বরিশালে বেসরকারি হাসপাতালে রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে চিকিৎসক ও মৃতের স্বজনদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনায় অন্তত তিনজন আহত হয়েছেন।

বরিশাল নগরীর বাজার রোডের কেএমসি হাসপাতাল (ক্লিনিক) নামে পরিচিত প্রতিষ্ঠানে বুধবার (১০ জুন) বিকেল ৪টার দিকে এই ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি শান্ত করেন।

মৃত রোগী মনির খান (৩৮) বাবুগঞ্জ উপজেলার উত্তর বাহেরচর গ্রামের মৃত আব্দুল হক খানের ছেলে।

মৃতের স্বজনরা অভিযোগ করেছেন, মনির খানকে হৃদরোগে আক্রান্ত অবস্থায় বুধবার দুপুরে কেএমসি হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসকদের অবহেলার কারণে মনিরের মৃত্যু হয়েছে বলে তারা অভিযোগ করেন। ঘটনার পর ক্ষুব্ধ স্বজনরা প্রতিবাদ জানালে চিকিৎসক ও হাসপাতালের কর্মচারীরা স্বজনদের ওপর হামলা চালান। তবে স্বজনদের প্রতিরোধের মুখে হামলাকারীরা পিছু হটেন। এর পর স্বজনরা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করেন।

প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, মনির খানের মৃত‌্যুর কারণে তার স্বজনরা উত্তেজিত হয়ে ওঠেন। চিকিৎসকদের সঙ্গে তর্কাতর্কির এক পর্যায়ে হাতাহাতির ঘটনার সৃষ্টি হয়। এতে হাসপাতাল এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেন।

মৃতের স্বজন আলমগীর হোসেন স্বপন জানিয়েছেন, তিনি শুরুতে ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন না। কিন্তু স্বজনদের সঙ্গে কথা বলার পর জানা গেছে, গুরুতর অসুস্থ রোগীকে হাসপাতালে নিয়ে গেলেও চিকিৎসকরা যথাযথ গুরুত্ব দেননি। এমনকি রোগীর মৃত্যু হয়েছে, এমন তথ্যও জানানো হয়নি। প্রতিবাদ করায় স্বজনদের ওপর চিকিৎসক ও কর্মচারীরা হামলা করেছেন বলে তিনি অভিযোগ করেন।

এ বিষয়ে হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. শুভেন্দু হালদার শিবু জানিয়েছেন, 'চিকিৎসায় কোনো কমতি রাখা হয়নি। তবে রোগীর অবস্থা অনেকটা ক্রিটিক্যাল ছিলো।'

এদিকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ উদ্ভূত পরিস্থিতির জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছেন।

কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আল মামুন উল ইসলাম জানিয়েছেন, 'কেএমসি হাসপাতালে ঝামলার খবর পেয়ে পুলিশ সেখানে যায়। পরে পুলিশ কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে দুই পক্ষ ভুল স্বীকার করলে সমঝোতা হয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

‘সুপার’ এল নিনোর প্রভাবে বিশ্ব, বাড়তে পারে যে ১০ বড় সংকট

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১১ই জুন, ২০২৬ ইং

০২:৪৪ এম


‘সুপার’ এল নিনোর প্রভাবে বিশ্ব, বাড়তে পারে যে ১০ বড় সংকট

 

প্রকৃতির এক বিধ্বংসী রূপের নাম ‘এল নিনো’। জলবায়ুর এই বিশেষ পরিবর্তনটি বিশ্বজুড়ে ইতিমধ্যে বিদ্যমান বৈষম্যমূলক অর্থনীতিকে আরও সংকটের মুখে ঠেলে দিচ্ছে। সাগরের পৃষ্ঠদেশের তাপমাত্রা ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস (৩.৬ ফারেনহাইট) বা তার চেয়ে বেশি বৃদ্ধি পাওয়ায় চলতি বছর একটি শক্তিশালী বা ‘সুপার’ এল নিনো দেখা দেওয়ার প্রবল আশঙ্কা রয়েছে, যা ২০২৭ সাল পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে।

প্রশান্ত মহাসাগরের ক্রান্তীয় অঞ্চলে নিয়ত বয়ে চলা বাণিজ্য বায়ু দুর্বল হয়ে পড়ার কারণে সাগরের উপরিভাগের উষ্ণ পানি মধ্য ও পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরে ছড়িয়ে পড়ে। এটি সমুদ্রের স্বাভাবিক জলপ্রবাহকে বাধাগ্রস্ত করে এবং বিশ্বব্যাপী আবহাওয়ার ধরণকে আমূল বদলে দেয়।

এল নিনোর প্রভাব শুধু জলবায়ুর মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, এটি বিশ্বের খাদ্য সরবরাহ চেইনকে ঝুঁকিতে ফেলে দরিদ্রতম জনগোষ্ঠীর ওপর আঘাত হানে। নিচে এল নিনোর সম্ভাব্য ১০টি মারাত্মক ক্ষতিকর প্রভাব তুলে ধরেছেন যুক্তরাজ্যের সাসেক্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও আন্তর্জাতিক উন্নয়ন বিষয়ের অধ্যাপক বেঞ্জামিন সেলউইন, যার নির্মম শিকার হবে মূলত দরিদ্র কৃষক ও সাধারণ মেহনতি মানুষ:

১. তীব্র খরা

বৃষ্টির ওপর নির্ভরশীল কৃষিনির্ভর অঞ্চলগুলো খরার কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সাব-সাহারান আফ্রিকার কিছু অংশে এল নিনোর কারণে শস্যের ফলন মারাত্মকভাবে কমে যায়, যা খাদ্য আমদানির ওপর নির্ভরতা এবং খাদ্যের দাম বৃদ্ধির দিকে নিয়ে যায়। এবার এই এল নিনো এমন এক সময়ে আসছে যখন হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় বিশ্বজুড়ে ইতিমধ্যে একটি বড় সার সংকট চলছে। ফলে তীব্র ক্ষুধা ও দুর্ভিক্ষের আশঙ্কার কথা বলছেন বিশেষজ্ঞরা।

২. বিশ্ব খাদ্য সরবরাহ চেইনে বড় ধাক্কা

বিশ্বের মানুষের দৈনিক ক্যালরি চাহিদার ৬০ শতাংশেরও বেশি আসে মাত্র চারটি ফসল—গম, ধান, ভুট্টা এবং সয়াবিন থেকে। ভুট্টা এবং ধান এল নিনোর প্রতি অত্যন্ত সংবেদনশীল। খরার কারণে দক্ষিণ আফ্রিকা, ভারত, ইন্দোনেশিয়া, ভিয়েতনাম এবং ব্রাজিলের মতো প্রধান উৎপাদনকারী দেশগুলোতে এগুলোর ফলন কমে যায়। একইভাবে অস্ট্রেলিয়া, কানাডা ও চীনের মতো বড় রপ্তানিকারক দেশে গম এবং ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনায় সয়াবিন উৎপাদন ব্যাহত হয়।

৩. দাবানলের ঝুঁকি

এল নিনো কিছু অঞ্চলে দাবানলের ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। দক্ষিণ আমেরিকায় এটি বর্ষাকালের বৃষ্টিপাত কমিয়ে দেয়, যার ফলে গাছপালা ও বনাঞ্চল শুষ্ক এবং সহজেই অগ্নিগ্রাহী হয়ে ওঠে। ২০১৬ এবং ২০২৪ সালে ব্রাজিলে ভয়াবহ দাবানলে লাখ লাখ হেক্টর বনভূমি পুড়ে ছাই হয়ে গিয়েছিল, যা আগের অবস্থায় ফিরতে কয়েক দশক সময় লাগবে।

৪. অতিবৃষ্টি ও বন্যা

এল নিনোর প্রভাবে যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণাঞ্চল, দক্ষিণ আমেরিকা, হর্ন অব আফ্রিকা এবং মধ্য এশিয়ায় স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি বৃষ্টিপাত ও বন্যা দেখা দেয়। অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর পূর্ণ হওয়ার কথা থাকলেও, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে তীব্র ঝড় ও অতিবৃষ্টির কারণে মাটি পানি শোষণ করতে পারে না। ফলে পানি শুষে নেওয়ার বদলে তা ওপর দিয়ে বয়ে যায় (রান-অফ) এবং বৃষ্টির মধ্যবর্তী দীর্ঘ খরা দিনগুলোতে মাটির আর্দ্রতা দ্রুত হারিয়ে যায়।

৫. কয়লার ব্যবহার বৃদ্ধি

অতিরিক্ত গরমের কারণে বিশ্বের কিছু অংশে কয়লার ব্যবহার রেকর্ড পরিমাণে বেড়ে যেতে পারে। এল নিনোর প্রভাবে দক্ষিণ এশিয়ায় মৌসুমি বায়ু দুর্বল হয়ে পড়ে, যা দীর্ঘস্থায়ী তাপপ্রবাহের সৃষ্টি করে। ফলে এসি বা এয়ার কন্ডিশনার ব্যবহারের চাহিদা বহুগুণ বাড়ে। দক্ষিণ এশিয়ার কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ ব্যবস্থার ওপর ভারত ৭০ শতাংশ এবং চীন প্রায় ৫৫ শতাংশ নির্ভরশীল।

৬. বিদ্যুৎ বিপর্যয় বা গ্রিড বিকল

খরা বা অনাবৃষ্টির কারণে জলবিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হয়, যা বিদ্যুৎ গ্রিড বিকল হওয়ার ঝুঁকি বাড়ায়। যেমন—কলম্বিয়া তার মোট বিদ্যুতের ৬৫ শতাংশ জলবিদ্যুৎ থেকে পায়। ২০১৫-১৬ সালের এল নিনোর সময় দেশটিতে বৃষ্টিপাত কম হওয়ায় বিদ্যুতের দাম বেড়ে যায় এবং ব্ল্যাকআউট বা লোডশেডিংয়ের ঝুঁকি তৈরি হয়। ১৯৯২ সালের এল নিনোর সময় কলম্বিয়া সরকারকে বিদ্যুৎ রেশনিং করতে হয়েছিল।

৭. মাছের সংখ্যা হ্রাস

এল নিনোর কারণে প্রশান্ত মহাসাগরের কিছু অংশে নিচ থেকে ঠান্ডা ও পুষ্টিকর পানি ওপরে উঠে আসার প্রক্রিয়া বন্ধ হয়ে যায়। ফলে ফাইটোপ্ল্যঙ্কটনের মতো কণা উদ্ভিদের পুষ্টি কমে যায় এবং অ্যানচোভি ও সার্ডিনের মতো ছোট মাছ পর্যাপ্ত খাবার পায় না। বড় শিকারি মাছগুলো তখন খাবারের খোঁজে অন্যত্র চলে যায়। ক্যালিফোর্নিয়া, মেক্সিকো, পেরু, ইকুয়েডর থেকে শুরু করে পাপুয়া নিউগিনি ও মাইক্রোনেশিয়ার মৎস্য শিল্প এর ফলে বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়ে।

৮. ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা

চরম আবহাওয়া বৈশ্বিক ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়িয়ে দিতে পারে। তাপমাত্রা বাড়লে ফসলের উর্বরতা কমে যায়, ফলে কৃষকরা জমিতে বেশি সার ব্যবহার করতে বাধ্য হন। বর্তমান বৈশ্বিক সার সংকটের প্রেক্ষাপটে চীন, কিছু উপসাগরীয় দেশ এবং আলজেরিয়া নিজেদের সার রপ্তানি সীমিত করতে সুরক্ষাবাদী নীতি গ্রহণ করেছে। রাশিয়া অ্যামোনিয়াম নাইট্রেটের (সারের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান) রপ্তানি লাইসেন্স স্থগিত করেছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র তাদের ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতির অংশ হিসেবে অভ্যন্তরীণ সার উৎপাদন বাড়ানোর চেষ্টা করছে। ফলে সাধারণ একটি কৃষি উপকরণ এখন বৈশ্বিক রাজনীতির নতুন বিরোধের কারণ হয়ে উঠছে।

৯. হিট স্ট্রোক ও গরমজনিত অসুস্থতা

তীব্র গরমের প্রভাব সমাজে সবার ওপর সমানভাবে পড়ে না। যারা বাইরে শারীরিক পরিশ্রমের কাজ করেন, যেমন—কৃষি ও নির্মাণ শ্রমিক, তাদের হিট স্ট্রোক এবং দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যঝুঁকি সবচেয়ে বেশি। ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে গরমের মৌসুমে তাপমাত্রা প্রায়ই ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে যায়, যা লাখ লাখ শ্রমিকের জীবনকে ঝুঁকিতে ফেলছে।

১০. গৃহযুদ্ধ ও সামাজিক সংঘাত

ফসলের কম ফলন এবং দুর্বল অর্থনীতি প্রায়শই সামাজিক উত্তেজনা বাড়িয়ে দেয়। গবেষণায় দেখা গেছে, এল নিনোর বছরগুলোতে গ্রীষ্মমণ্ডলীয় দেশগুলোতে গৃহযুদ্ধ বা অভ্যন্তরীণ সংঘাতের সম্ভাবনা দ্বিগুণ হয়ে যায়। ১৯৫০ সালের পর থেকে বিশ্বের প্রায় ২১ শতাংশ সংঘাত এই ধরনের জলবায়ুগত পরিবর্তনের সাথে জড়িত। যেমন সুদানের দারফুরে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে খরা ও ফসলহানি সম্পদের সংকট তৈরি করেছিল, যা পরবর্তীতে গৃহযুদ্ধে রূপ নেয়।

মুক্তির উপায় কী?

যদি এই ১০টি ভয়াবহ পরিস্থিতি আপনাকে হতাশ করে, তবে এই পরিবেশগত ও সামাজিক সংকট থেকে মুক্তির দুটি উপায়ও রয়েছে:

১. নবায়নযোগ্য শক্তি: জীবাশ্ম জ্বালানি পরিহার করে নবায়নযোগ্য শক্তিতে রূপান্তর করার প্রযুক্তি ও জ্ঞান আমাদের রয়েছে। তবে বৈশ্বিক সরবরাহ চেইন, জ্বালানি এবং বাণিজ্য ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন না করলে এই সমাধানগুলোর সুফল গরিব দেশগুলো পাবে না।

২. টেকসই কৃষিব্যবস্থা: এমন প্রতিরোধী কৃষিব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব যা খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করবে। তবে রাসায়নিক-নির্ভর এবং কেবল রপ্তানিমুখী কৃষিব্যবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে বড় ধরনের রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও রূপান্তর প্রয়োজন।

সূত্র: দ্যা গার্ডিয়ান

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৪ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৪
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৪৮
মাগরিব ০৫:২৪
ইশা ০৬:৩৬
সূর্যোদয় : ০৬:০০ সূর্যাস্ত : ০৫:২৪
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%