০২:১৪ এম
নোয়াখালী জেলার সেনবাগ উপজেলার মাদকের বিরোধকে কেন্দ্র করে ১৬ বছর বয়সী দশম শ্রেণির ছাত্র আরাফাত হোসেন ফাহিমকে কুপিয়ে হত্যা করেছেন মাদককারবারিরা। এই ঘটনায় আরও তিনজন আহত হয়েছেন, ফলে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
ঘটনাটি ঘটেছে বুধবার (১০ জুন) রাত ৮টায় নবীপুর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের দেবিসিংহপুর গ্রামের হাজেরা দিঘী সংলগ্ন বেলাল মাস্টারের বাড়ির সামনে। নিহত আরাফাত হোসেন ফাহিম বেগমগঞ্জ উপজেলার চৌমুহনী পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের হাজীপুর এলাকার আবুল কালাম হাজী বাড়ির মো. শাহজাহানের ছেলে। তিনি স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্র হিসেবে পরিচিত ছিলেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মো. হারুন (৩৫) নামে একজনকে আটক করেছে। হারুন একই গ্রামের জোড়া বাড়ির জয়নাল আবেদীনের ছেলে।
প্রত্যক্ষদর্শী দেলোয়ার হোসেন নোবেল জানান, দেবিসিংহপুর গ্রামের হাজেরা দিঘীর পেছনের একটি পোলের ওপর বেশ কিছুদিন ধরে হারুন, জাহাঙ্গীর, আবুল খায়ের এবং মমিনের নেতৃত্বে মাদকের ব্যবসা চলছিল। প্রায় পাঁচ-ছয় দিন আগে মান্না নামে এক মাদকসেবীকে স্থানীয় বেলাল মাস্টার বাড়ির আলী হায়দার ফাহিম (১৮), তার ভাই রিফাত (২০) এবং সাকিবসহ আরও কয়েকজন আটক করেন। এই জিজ্ঞাসাবাদে মাদকসেবী হারুনের সম্পৃক্ততার কথা জানালে স্থানীয় তরুণরা মাদক বিক্রি ও সেবনের প্রতিবাদ করতে থাকে, ফলে ওই এলাকায় পাহারা বসানো হয়। এতে কয়েকদিনের জন্য মাদকের আড্ডা বন্ধ হয়ে গিয়েছিল।
আরও পড়ুন: পার্বতীপুরে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক মনোরঞ্জন রায়কে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ
নোবেল আরও জানান, বুধবার রাত ৮টার দিকে আলী হায়দার ফাহিম, রিফাত, সাকিবসহ কয়েকজন বাড়ির পাশে বায়তুন আমান মসজিদ সংলগ্ন এলাকায় ছিলেন। সেই সময় হারুনের নেতৃত্বে কয়েকজন তাঁদের ওপর হামলা করে। হামলার সময় আলী হায়দার ফাহিমের বুকে ছুরিকাঘাত করা হয়, রিফাতের হাতের রগ কেটে দেওয়া হয় এবং সাকিবের ডান হাতে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর জখম করা হয়।
নোবেল বলেন, নিহত আরাফাত হোসেন ফাহিমের নানার বাড়ি দেবিসিংহপুর গ্রামের বেলাল মাস্টার বাড়িতে। তাঁর খালার বাড়িটি পাশেই অবস্থিত। বুধবার সন্ধ্যায় তিনি নিজের বাড়ি থেকে নানার বাড়িতে বেড়াতে আসেন। পরে নানার বাড়ি থেকে খালার বাড়ি যাওয়ার পথে হাজেরা দিঘী এলাকায় হারুন, জাহাঙ্গীর, আবুল খায়ের, মমিনসহ ৭-৮ জন তাঁকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে। এতে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হয়। পরে স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করে নোয়াখালী ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
সেনবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুর রহিম সরকার বলেন, মাদক সংক্রান্ত বিরোধের কারণে এই ঘটনার সূত্রপাত ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। খবর পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। ঘটনার মূলহোতা হারুনকে আটক করা হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে একটি রক্তাক্ত ছোরা উদ্ধার করা হয়েছে এবং পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
আরও পড়ুন: কক্সবাজারে পুলিশের বিশেষ অভিযানে ১৫ জন আসামী গ্রেফতার
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন