ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

কুমিল্লায় সিএনজিকে ধাক্কা দিয়ে পুকুরে পড়ল লরি, নিহত ২


কুমিল্লায় সিএনজিকে ধাক্কা দিয়ে পুকুরে পড়ল লরি, নিহত ২

কুমিল্লার চান্দিনায় একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশাকে পেছন থেকে লরির ধাক্কায় দুর্ঘটনার কারণে উভয় যানবাহন মহাসড়কের পাশের পুকুরে পড়ে গেছে। এ ঘটনা ঘটেছে বুধবার (৮ জুলাই) দুপুরের দিকে। দুর্ঘটনায় অটোরিকশার চালক এবং এক কিশোর যাত্রী নিহত হয়েছে। এছাড়াও, আহত হয়েছেন আরও একজন যাত্রী।

দুর্ঘটনাটি ঘটেছিল ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের চান্দিনা উপজেলা এলাকার নূরীতলায় যখন বৃষ্টির মধ্যে মাধাইয়া থেকে ছেড়ে আসা সিএনজিচালিত অটোরিকশাটি সেখানে পৌঁছেছিল। তখন পেছন থেকে একটি চট্টগ্রামগামী লরি ধাক্কা দেয়। এ ধাক্কায় অটোরিকশাটি ছিটকে পড়ে যায় এবং লরিটিও নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মহাসড়কের পাশের একটি পুকুরে পড়ে যায়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নিহতদের মধ্যে কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার নিমসার পাঁচকিত্তা গ্রামের আব্দুল মান্নানের ছেলে হানিফ মিয়া (৩৫) এবং দেবীদ্বার উপজেলার দাঁড়িয়াপুর গ্রামের মনির হোসেনের ছেলে লাবিব হোসেন (১৫) রয়েছে। আহত ব্যক্তির নাম সজীব হোসেন (২৪), তিনিও দাঁড়িয়াপুর গ্রামের সিরাজুল ইসলামের ছেলে। তিনি নিহত লাবিবের মামাতো ভাই।

আরও পড়ুন: ইসলামের জন্য ক্ষমতা ছাড়তে পারি, ক্ষমতার জন্য ইসলাম নয়: ফয়জুল করীম

দুর্ঘটনা ঘটার পর স্থানীয়রা দ্রুত উদ্ধার অভিযান শুরু করে এবং আহতদের চান্দিনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর, তাদের অবস্থার অবনতি হলে কুমিল্লার বিভিন্ন হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। চূড়ান্ত চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুজনের মৃত্যু ঘটে।

হাইওয়ে পুলিশ ইলিয়টগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাকির হোসেন সিকদার জানান, দুর্ঘটনার ঘটনার পর, স্থানীয়দের সহযোগিতায় আহতদের হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। দুর্ঘটনার কারণ এবং অন্যান্য বিষয় নিয়ে তদন্ত চলছে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নরসিংদীতে মাটির ঘরের দেয়াল ধসে শিশুর মৃত্যু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ৮ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৯:৩৯ পি.এম


নরসিংদীতে মাটির ঘরের দেয়াল ধসে শিশুর মৃত্যু

নরসিংদীর রায়পুরায় টানা অতিবৃষ্টির ফলে মাটির ঘরের দেয়াল ধসে তানঝুমা আক্তার (৮) নামে একটি শিশুর মৃত্যু ঘটেছে। বুধবার (৮ জুলাই) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার মরজাল ইউনিয়নের মরজাল মাইজপাড়া গ্রামে এই দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত তানঝুমা আপেল মিয়ার মেয়ে এবং ওই এলাকার স্থানীয় মাইজপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী।

এ বিষয়ে নিশ্চিত করেছেন রায়পুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মজিবুর রহমান।

প্রাথমিক তদন্ত অনুযায়ী, পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, দুপুরের দিকে স্কুল ছুটি শেষে তানঝুমা বাড়ি ফিরছিল। তখন হঠাৎ করে বাড়ির পাশে অবস্থিত চালবিহীন পরিত্যক্ত একটি মাটির ঘরের দেয়াল টানা ভারী বর্ষণের কারণে নিমিষে ধসে পড়ে। এই ঘটনাতেই ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

মরজাল ইউনিয়ন পরিষদের সংরক্ষিত সদস্য আছমা বেগম জানিয়েছেন, মাটির ঘরের দেয়াল ধসে শিশুটির মৃত্যু হয়েছে। এই কারণে নিহতের পরিবারে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

তিনি আরও বলেছেন, নিহত শিশুর বাবা বর্তমানে কক্সবাজারে রয়েছেন এবং তিনি বাড়িতে ফিরলেই তানঝুমার দাফন সম্পন্ন করা হবে।

রায়পুরা থানার পুলিশ ওসি মো: মজিবুর রহমান জানিয়েছেন, খবর পেয়ে তিনি পুলিশকে ঘটনাস্থলে পাঠিয়েছেন। সেখানে পুলিশের দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করছে এবং পরিবারের সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে কাজ করবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধঝুঁকির প্রেক্ষিতে বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস কমাল আইএমএফ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বুধবার, ৮ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৯:৪১ পি.এম


মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধঝুঁকির প্রেক্ষিতে বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস কমাল আইএমএফ

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধঝুঁকির পরিস্থিতিতে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস অর্থাৎ ২০২৬ সালের বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) আবারও কমিয়েছে।

বুধবার আইএমএফের সর্বশেষ পূর্বাভাস অনুসারে, চলতি বছরে অর্থনীতির যে প্রবৃদ্ধি হবে তা ৩ দশমিক ০ শতাংশ হবে, যা এপ্রিল মাসে প্রকাশিত পূর্বাভাসের ৩ দশমিক ১ শতাংশের থেকে কিছুটা কম। উল্লেখযোগ্য যে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সাম্প্রতিক পাল্টাপাল্টি হামলার শুরু হওয়ার আগেই এই পূর্বাভাস তৈরি করা হয়েছিল।

এটি চলতি বছরে আইএমএফের পক্ষ থেকে বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাসের দ্বিতীয়বারের মতো হ্রাস। নতুন পূর্বাভাস বলছে, ২০২৬ সালের প্রবৃদ্ধি ২০২৫ সালের তুলনায় কিছুটা কম হবে।

অন্যদিকে, বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতি এই বছরে ৪ দশমিক ৭ শতাংশে পৌঁছাতে পারে, যা আগের পূর্বাভাসের তুলনায় বেশি।

আইএমএফ জানায়, এআই-ভিত্তিক প্রযুক্তির চাহিদা বৃদ্ধির ফলে সৃষ্ট অর্থনৈতিক গতি মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের নেতিবাচক প্রভাবগুলোকে কিছুটা প্রশমিত করবে, তাই বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধির ধীরগতি তুলনামূলকভাবে সীমাবদ্ধ থাকবে।

সংস্থাটি ২০২৭ সালে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ধারা ৩ দশমিক ৪ শতাংশে উন্নীত হবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে।

আইএমএফের গবেষণা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ডেনিজ ইগান ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেছেন, আগামী দুই বছরের জন্য সংস্থার সম্মিলিত পূর্বাভাস মোটামুটি অপরিবর্তিত রয়েছে এবং তিনি সম্ভাব্য পুনরুদ্ধারকে ‘ভি-আকৃতির পুনরুদ্ধার’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

তিনি আরো বলেন, ইরান যুদ্ধের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব, সরবরাহব্যবস্থায় দীর্ঘস্থায়ী বিঘ্ন এবং উচ্চ মূল্যস্ফীতি এর ফলে চলতি বছরে বিশ্ব অর্থনীতির তুলনামূলকভাবে ক্ষতি হতে পারে।

আইএমএফ জানিয়েছে, যুদ্ধের প্রভাব ভিন্ন দেশের উপর ভিন্নভাবে পড়ছে।

সংস্থাটির মতে, সংঘাতের বাইরে থাকা জ্বালানি রপ্তানিকারক দেশগুলো পুনরায় বাণিজ্যিক সুবিধা পাচ্ছে। এদিকে, প্রযুক্তিনির্ভর প্রবৃদ্ধির সাথে যুক্ত অর্থনীতিগুলো, জ্বালানি আমদানির ওপর নির্ভরশীল থাকার পরেও সম্প্রতি তুলনামূলকভাবে শক্তিশালী প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে সক্ষম।

কিন্তু যেসব দেশ জ্বালানি আমদানির ওপর নির্ভরশীল এবং প্রযুক্তি মূল্যশৃঙ্খলে সীমিতভাবে যুক্ত, সেসব দেশের অর্থনৈতিক কার্যক্রম দুর্বল হয়ে পড়ছে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার কারণে তেহরান কার্যত হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল বিঘ্নিত করে। এর ফলে পুরো মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের ছড়িয়ে পড়ার পাশাপাশি বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের ওপর বড় আকারের বিঘ্ন সৃষ্টি হয়।

বিশ্বের অপরিহার্য জ্বালানি পরিবহনপথে চলাচল বিঘ্নিত হওয়ার কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম দ্রুত বেড়ে যায়, যা বিভিন্ন দেশের অর্থনীতির উপর চাপ তৈরি করে।

পরবর্তী সময়ে যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানের মধ্যে একটি অস্থায়ী সমঝোতার ফলে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়, যার ফলে তেল ও গ্যাস পরিবহন আংশিকভাবে স্বাভাবিক হয়ে আসে। তবে বর্তমানে আবারও উত্তেজনা বৃদ্ধি পাচ্ছে।

ইরানের সাম্প্রতিক হামলার আগে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইগান আশা প্রকাশ করেছেন যে ২০২৭ সালের মধ্যে হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল আবার স্বাভাবিক হবে।

আইএমএফ বলেছে, যুদ্ধের ধাক্কা বিশ্ব অর্থনীতি সামগ্রিকভাবে আশঙ্কার তুলনায় ভালোভাবে সামাল দিলেও দেশভেদে পরিস্থিতির পার্থক্য খুব স্পষ্ট।

যুদ্ধ শুরুর পর উদীয়মান এশিয়ার দেশগুলোতে খুচরা পর্যায়ে জ্বালানির দাম ৩০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে গেছে, যেখানে লাতিন আমেরিকায় তা বেড়েছে ১৫ শতাংশ।

মার্কিন অর্থনীতি এ বছর ২ দশমিক ৩ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করবে বলে ধারণা করা হলেও, মধ্যপ্রাচ্য ও মধ্য এশিয়ার প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস ১ দশমিক ২ শতাংশ পয়েন্ট কমিয়ে ০ দশমিক ৭ শতাংশে নামানো হয়েছে।

আইএমএফ জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালীতে দীর্ঘমেয়াদি বিঘ্নের সম্ভাবনা বিবেচনায় নিয়ে এই সংশোধন করা হয়েছে। তবে ভবিষ্যতে এ অঞ্চলে তুলনামূলক দ্রুত পুনরুদ্ধারের আশা করা হচ্ছে।

এদিকে, ইউরো অঞ্চলের প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস কমিয়ে ০ দশমিক ৯ শতাংশ করা হয়েছে। ফ্রান্সের প্রবৃদ্ধি ০ দশমিক ৬ শতাংশ, যা আগের পূর্বাভাসের তুলনায় ০ দশমিক ৩ শতাংশ পয়েন্ট কম।

বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি চীনের প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস সামান্য বাড়িয়ে ৪ দশমিক ৬ শতাংশ করা হয়েছে।

তবে আইএমএফ সতর্ক করেছে যে, যুদ্ধের পূর্ণ অর্থনৈতিক প্রভাব এখনও সম্পূর্ণভাবে দৃশ্যমান হয়নি। কৌশলগত জ্বালানি মজুতের থেকে সরবরাহ দেওয়ায় কিছুটা স্বস্তি এলেও, সামনে আরও দুর্বলতা দেখা দিতে পারে।

সংস্থাটি আরও সতর্ক করে বলেছে, মধ্যপ্রাচ্যে পুনরায় বড় ধরনের সংঘাত শুরু হলে পণ্যমূল্যের অস্থিরতা দীর্ঘায়িত হতে পারে, সরবরাহব্যবস্থাও বিঘ্নিত হতে পারে, মূল্যস্ফীতি বাড়তে পারে এবং বৈশ্বিক আর্থিক পরিস্থিতির ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হতে পারে।

এছাড়া, বিশ্ব বাণিজ্যের ক্রমবর্ধমান বিভাজন আরো ত্বরান্বিত হতে পারে, যা মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধির ঝুঁকি তৈরি করবে। তবে কিছু ইতিবাচক দিকও রয়েছে বলে আইএমএফ উল্লেখ করেছে।

বিশ্বব্যাপী প্রযুক্তি সরবরাহ শৃঙ্খলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হওয়া তাইওয়ান, দক্ষিণ কোরিয়া, থাইল্যান্ড ও মালয়েশিয়া— এই চারটি এআই-সম্পর্কিত হার্ডওয়্যারের প্রধান রপ্তানিকারক দেশ যুদ্ধজনিত ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও তুলনামূলক শক্তিশালী প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে।

ইগান আরও বলেন, চলতি বছরে মূল্যস্ফীতি কিছুটা বাড়লেও এটি মূল্যস্ফীতি হ্রাসের দীর্ঘমেয়াদি প্রবণতার সমাপ্তি নয়, বরং এটি একটি সাময়িক বিরতি মাত্র।

সূত্র: এএফপি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সংকটে খুলনার চিংড়ি চাষিরা, রফতানি বাড়লেও কমছে আয়

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বুধবার, ৮ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৯:৪২ পি.এম


সংকটে খুলনার চিংড়ি চাষিরা, রফতানি বাড়লেও কমছে আয়

দেশের প্রধান চিংড়ি উৎপাদন অঞ্চল খুলনায় নানা সংকটের কারণে উৎপাদনে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। মানসম্মত ও ভাইরাসমুক্ত পোনার সংকট, খরা, অতিবৃষ্টি, লবণ পানির স্বল্পতা, রোগবালাইসহ নানা কারণে চিংড়ি চাষে দিন দিন আগ্রহ হারাচ্ছেন চাষিরা। উৎপাদন বাড়াতে না পারায় রফতানি আয়েও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

মৎস্য অধিদফতরের তথ্যমতে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে খুলনা, বাগেরহাট ও সাতক্ষীরা জেলায় মোট ১ লাখ ১৫ হাজার ২৩৪ দশমিক ৮০ মেট্রিক টন চিংড়ি উৎপাদন হয়েছে। আগের অর্থবছরে উৎপাদনের পরিমাণ ছিল ১ লাখ ১৫ হাজার ২৩৯ দশমিক ৬২ মেট্রিক টন। সুতরাং, এক বছরের ব্যবধানে উৎপাদন সামান্য কমেছে। তবে একই সময়ে চিংড়ি ঘেরের সংখ্যা ২ লাখ ৬ হাজার ২৭৮টি থেকে বেড়ে ২ লাখ ২৬ হাজার ২৪০টি হওয়া সত্ত্বেও উৎপাদনে তেমন বাড়তি প্রভাব পড়েনি।

জেলাভিত্তিক হিসাবে সর্বশেষ অর্থবছরে খুলনায় ৩০ হাজার ৬৯০ মেট্রিক টন, বাগেরহাটে ৪৪ হাজার ৫২৪ দশমিক ৩৪ মেট্রিক টন এবং সাতক্ষীরায় ৪০ হাজার ২০ দশমিক ৪৬ মেট্রিক টন চিংড়ি উৎপাদিত হয়েছে।

খুলনার বটিয়াঘাটা উপজেলার চিংড়ি চাষি কৌশিক বাগচি বলেন, 'একসময় চিংড়ি চাষ করে ভালো লাভ হতো। এখন মানসম্মত ও ভাইরাসমুক্ত পোনা পাওয়া সবচেয়ে বড় সমস্যা। অনেক সময় লাখ লাখ টাকার পোনা ছাড়ার কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই রোগে মারা যায়। তখন ঋণের টাকা শোধ করাও কঠিন হয়ে পড়ে। আমরা চাই সরকার মানসম্মত পোনা নিশ্চিত করুক এবং ক্ষতিগ্রস্ত চাষিদের জন্য বিশেষ সহায়তার ব্যবস্থা করুক।'

একই উপজেলার চাষি মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, 'আগে মৌসুম অনুযায়ী লবণ পানি পাওয়া যেত। এখন জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে কখনও দীর্ঘ খরা, আবার কখনও অতিবৃষ্টি হচ্ছে। এর ফলে ঘেরের পানির লবণাক্ততা নির্দিষ্ট রাখা যায় না। উৎপাদন খরচ বেড়েছে, কিন্তু বাজারে সেই অনুপাতে দাম পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে অনেকেই চিংড়ি চাষ ছেড়ে অন্য পেশায় চলে যাচ্ছেন।'

আরেক চাষি শেখ সাইফুল ইসলাম বলেন, 'আমাদের নিয়মিত প্রশিক্ষণের প্রয়োজন। আধুনিক পদ্ধতিতে কীভাবে রোগ নিয়ন্ত্রণ করতে হবে অথবা উৎপাদন বাড়াতে হবে, সে বিষয়ে অনেক চাষিরই ধারণা নেই। সহজ শর্তে ব্যাংক ঋণ, মানসম্মত খাদ্য ও পোনা নিশ্চিত করা গেলে উৎপাদন অনেক বাড়ানো সম্ভব।'

উৎপাদনে স্থবিরতা থাকলেও রফতানির পরিমাণ কিছুটা বেড়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে খুলনা অঞ্চল থেকে ৩৫ হাজার ৯৭০ দশমিক ৩৯০ মেট্রিক টন চিংড়ি রফতানি হয়েছে, যা আগের অর্থবছরের ৩৪ হাজার ৮৭৬ দশমিক ৩৬৫ মেট্রিক টন থেকে প্রায় ১ হাজার ৯৪ মেট্রিক টন বেশি। তবে রফতানির পরিমাণ বাড়লেও আয় কমেছে।

সর্বশেষ অর্থবছরে রফতানি থেকে আয় হয়েছে প্রায় ৩০০ কোটি ৭৩ লাখ টাকার সমপরিমাণ, যেখানে আগের অর্থবছরে আয় ছিল প্রায় ৩১০ কোটি ৯৩ লাখ টাকা। অর্থাৎ, রফতানির পরিমাণ বাড়লেও আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কমে যাওয়ায় আয় কমেছে।

বাংলাদেশ ফ্রোজেন ফুড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সিনিয়র সহ-সভাপতি তারিকুল ইসলাম জহির বলেন, 'বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের চিংড়ির এখনও ভালো চাহিদা রয়েছে। কিন্তু উৎপাদন বাড়ানো না গেলে ভবিষ্যতে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা কঠিন হবে। বর্তমানে ইকুয়েডর, ভারত ও ভিয়েতনাম আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে কম খরচে বেশি উৎপাদন করছে। আমাদেরও মানসম্মত পোনা উৎপাদন, ট্রেসেবিলিটি নিশ্চিত করা, আন্তর্জাতিক মানের চাষাবাদ এবং রফতানিকারকদের জন্য প্রয়োজনীয় নীতিগত সহায়তা বাড়াতে হবে। তা না হলে রফতানি বাজার ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়বে।'

খুলনা মৎস্য অধিদফতরের উপপরিচালক বিপুল কুমার বসাক বলেন, 'চিংড়ি শিল্পকে টেকসই করতে সরকার বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। চাষিদের আধুনিক প্রযুক্তিভিত্তিক প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে, ঘের ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন, রোগ নিয়ন্ত্রণ, মানসম্মত পোনা উৎপাদন এবং পরিবেশবান্ধব চাষাবাদে গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। পাশাপাশি মাঠ পর্যায়ে কারিগরি সহায়তা আরও বাড়ানো হচ্ছে। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে আগামী কয়েক বছরের মধ্যে উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে বলে আমরা আশাবাদী।'

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বজ্রপাতপ্রবণ এলাকায় মাল্টিপারপাস আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ করবে সরকার: ত্রাণমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বুধবার, ৮ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৯:৪৭ পি.এম


বজ্রপাতপ্রবণ এলাকায় মাল্টিপারপাস আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ করবে সরকার: ত্রাণমন্ত্রী

বাংলাদেশের অধিক বজ্রপাতপ্রবণ এলাকায় বজ্র নিরোধক ব্যবস্থা সম্বলিত মাল্টিপারপাস আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু এ কথা জানিয়েছেন।

আজ জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত মহিলা আসন-৩০-এর সরকারি দলের সদস্য আরিফা সুলতানার কার্যপ্রণালি বিধির ৭১-এর আওতায় উত্থাপিত জরুরি জন-গুরুত্বসম্পন্ন বিষয়ে মনোযোগ আকর্ষণ নোটিশের জবাবে তিনি এই তথ্যে আলোকপাত করেন।

মন্ত্রী বলেছেন, বাংলাদেশে বজ্রপাত একটি ক্রমবর্ধমান প্রাকৃতিক দুর্যোগে পরিণত হয়েছে এবং সরকার ইতোমধ্যে বজ্রপাতকে জাতীয় দুর্যোগ হিসেবে ঘোষণা করেছে। প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতি কমাতে সচেতনতা বৃদ্ধি, প্রকল্প গ্রহণ এবং আর্থিক সহায়তাসহ বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

তিনি জানান, প্রতিবছর মার্চ থেকে জুন পর্যন্ত দেশব্যাপী বজ্রপাত বিষয়ক জনসচেতনতামূলক প্রচার চালানো হয়।

জেলা প্রশাসন, উপজেলা প্রশাসন ও ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে লিফলেট বিতরণ এবং শিক্ষা, ধর্মীয় ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানে সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

আসাদুল হাবিব দুলু আরও জানান, দেশের অধিক বজ্রপাতপ্রবণ ১৫টি জেলায় ‘বজ্রপাতের ফলে প্রাণহানি রোধে বজ্র নিরোধক ব্যবস্থা গ্রহণ’, ‘কৃষক ছাউনি’ এবং ‘বজ্র নিরোধক দণ্ড স্থাপন’ শীর্ষক প্রকল্প প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এর আওতায় চলনবিল অঞ্চলের বগুড়া, পাবনা, রাজশাহী, সিরাজগঞ্জ এবং হাওর এলাকাগুলো অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, হাওর এলাকায় ধান কাটার সময় কৃষক এবং বর্ষাকালে মাছ ধরতে গিয়ে জেলেরা বজ্রপাতে নিহত হচ্ছেন। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র ও বন্যা আশ্রয়কেন্দ্রের আদলে বজ্রপাতের জন্যও মাল্টিপারপাস আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ করা হবে। এসব আশ্রয়কেন্দ্রে বজ্র নিরোধক দণ্ড ও সতর্কীকরণ অ্যালার্ম থাকবে। আকাশে বজ্রঝড়ের আশঙ্কা দেখা দিলে কৃষক ও জেলেরা সেখানে নিরাপদ আশ্রয় নিতে পারবেন।

মন্ত্রী বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। বিশেষ করে উত্তরাঞ্চল ও হাওর অঞ্চলে এর প্রকোপ বেশি। চলনবিলসহ দেশের সব অধিক ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় জনগণের জীবন-জীবিকা সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় প্রকল্প অনুমোদন সাপেক্ষে পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়নে সরকার কাজ করছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এসব প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে বজ্রপাতজনিত প্রাণহানি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে।

তিনি জানান, বজ্রপাতে নিহত ব্যক্তির পরিবারকে তাৎক্ষণিক আর্থিক সহায়তার পরিমাণ ২৫ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫০ হাজার টাকা করা হয়েছে। পাশাপাশি বজ্রপাতে গবাদিপশুর মৃত্যু হলে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য আর্থিক ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা রয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫১
মাগরিব ০৫:২৮
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৮ সূর্যাস্ত : ০৫:২৮
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%