এস এম সাহান, ফরিদপুর জেলা প্রতিনিধি
০৭:০২ পি.এম
বিদেশে চাকরি দেওয়ার প্রলোভনে অর্থ নেওয়ার পর মুক্তিপণ দাবি করে অপহরণ এবং নয় দিন শিকলবন্দি করে রাখার অভিযোগে ফরিদপুরে একটি অপহরণকারী চক্রের মূলহোতা সহ তিন সদস্যকে গ্রেফতার করেছে র্যাব-১০।
এই সময় মো. নিলয় শিকদার (৩৫) নামে এক ব্যক্তিকে জীবিত উদ্ধার করা হয় যিনি শিকলবন্দি অবস্থায় ছিলেন। এ ব্যাপারে র্যাব জানায়, গত ৬ আগস্ট নিলয় শিকদারকে অপহরণ করে পরিবারের কাছে ৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়েছিল। টাকা না দিলে হত্যার হুমকিও দেওয়া হয়। নিলয়ের পরিবার, ভিকটিমকে জীবিত ফিরে পাওয়ার আশায়, বিভিন্ন বিকাশ নম্বরে মোট ৪ লাখ ৫১ হাজার টাকা পাঠালেও তাকে মুক্তির আশ্বাস দেওয়া হয়নি। বরং, অপহরণকারীরা আরও ৫ লাখ টাকা দাবি করে।
র্যাবের প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা যায়, নিলয়ের কাছ থেকে কয়েক দফায় ৫ লাখ টাকা নেওয়া হয়েছিল বিদেশে চাকরি দেওয়ার কথা বলে। তবে তাদের প্রতিশ্রুতির বিপরীত তাকে অপহরণ করা হয়। এই ঘটনায় নিলয়ের শ্বশুর বাদী হয়ে ঝালকাঠির কাঠালিয়া থানায় একটি অপহরণ মামলা করেন। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার অধিযাচন পত্রের ভিত্তিতে র্যাব-১০ গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করে।
এর ধারাবাহিকতায় গত ১৫ আগস্ট রাত ১১টা ৫০ মিনিটের দিকে ফরিদপুর কোতোয়ালি থানাধীন চরকমলাপুর এলাকার একটি আবাসিক ভবনে অভিযান চালায় র্যাব-১০-এর সিপিসি-৩ এর একটি দল। সেখান থেকে পায়ে শিকল ও তালা লাগানো অবস্থায় নিলয় শিকদারকে উদ্ধার করা হয়।
এ সময় অপহরণকারী চক্রের মূলহোতা মো. ফেরদৌস উর রহমান (৪২) এবং মহুয়া আহমেদ (৩২) গ্রেফতার হন। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ১৬ আগস্ট রাত আনুমানিক ৩টা ৪০ মিনিটে ফরিদপুর কোতোয়ালি থানাধীন মুন্সীডাঙ্গী এলাকার নিজ বাড়ি থেকে এস এম মনোয়ার (৩৬) নামে আরও একজনকে গ্রেফতার করা হয়।
র্যাবের দাবি, অপহরণের পর নিলয়কে একটি কক্ষে আটকে রেখে পায়ে শিকল পরিয়ে গ্রিলের সঙ্গে তালাবদ্ধ করে রাখা হয়েছিল। তাকে মারধর করা হতো এবং দিনে মাত্র একবেলা খাবার দেওয়া হতো। নির্যাতনের সময় চিৎকার যাতে বাইরে শোনা না যায়, সে জন্য উচ্চশব্দে সাউন্ডবক্স বাজানো হতো বলে প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা যায়।
অভিযানে গ্রেফতার ব্যক্তিদের কাছ থেকে দুটি লোহার শিকল, চাবিসহ দুটি তালা, দুটি স্টিলের পাইপ, একটি চাকু, ছয়টি মোবাইল ফোন ও কিছু নগদ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। র্যাব-১০-এর পক্ষ থেকে বিদেশে যাওয়ার ক্ষেত্রে দালালচক্রের প্রলোভনে না পড়ে বৈধ ও নির্ভরযোগ্য মাধ্যমে যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। পাশাপাশি অপহরণ ও মানবপাচারসহ প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ডের তথ্য পেলে নিকটস্থ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বা র্যাবকে অবহিত করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
শারীরিক অসুস্থতা সত্ত্বেও সাবেক রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন নিকট ভবিষ্যতে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়ার কোনো পরিকল্পনা নেই বলেও জানিয়েছেন। বর্তমানে পাওয়ার অবশ হয়ে যাওয়ার পাশাপাশি নানা শারীরিক জটিলতার কারণে তাঁর স্বাভাবিক চলাফেরা ও হাঁটাচলায় খুব সমস্যা হচ্ছে।
রোববার (১৬ আগস্ট) একটি গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে সাবেক রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন বলেন, 'এখন আমার হাঁটাচলা করতে খুব কষ্ট হয়। পা অবশ হয়ে যাওয়ার কারণে কেবল সীমিত পরিসরে চলাফেরা করতে পারছি।' তিনি উল্লেখ করেন, এই শারীরিক অবস্থায় আপাতত দেশের বাইরে কোথাও যাওয়ার চিন্তাভাবনা করছেন না।
নিজেকে বেশ অসুস্থ দাবি করে সাবেক রাষ্ট্রপতি জানান, বর্তমানে তিনি নিয়মিত সম্মিলিত সামরিক হাসপাতাল (সিএমএইচ) থেকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিচ্ছেন। এ ছাড়া বড় কোনো শারীরিক সমস্যা দেখা দিলে গুলশানের বাসায় অবস্থানকালীন নিজস্ব বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ ও সেবা গ্রহণ করছেন। তবে প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য তাঁকে সিএমএইচে যেতে হয়। উল্লেখযোগ্য হলো, বঙ্গভবন ছাড়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত তিনি একবার সিএমএইচে গিয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন।
বিদেশে গিয়ে চিকিৎসা নেওয়ার সম্ভাবনা প্রসঙ্গে মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন জানান, বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে তাঁর দায়িত্বরত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের পরামর্শের ওপর নির্ভর করে। চিকিৎসকেরা যদি প্রয়োজন মনে করেন এবং বিদেশে যাওয়ার পরামর্শ দেন, তবেই পরবর্তী সময়ে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।
উল্লেখ্য, মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের পর সংবিধান অনুযায়ী ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। এদিকে দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে তফসিল ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। আগামী ২০ আগস্ট রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট অনুষ্ঠিত হবে। ইতিমধ্যে ইসি দুই প্রার্থীর মনোনয়নপত্রও বৈধ ঘোষণা করেছে। আগামী ১৮ আগস্ট মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ময়মনসিংহ, ১৬ আগস্ট, ২০২৬ : আগামী দুই থেকে তিন বছরের মধ্যে দেশের প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থায় দৃশ্যমান ও গুণগত পরিবর্তন আনা সম্ভব হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রাথমিক শিক্ষার পরিবর্তনে যে স্বপ্ন ও দায়িত্ব দিয়েছেন, তা বাস্তবায়নে সরকার সুপরিকল্পিতভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
আজ ময়মনসিংহে নেপ মিলনায়তনে বিভাগীয় উপ-পরিচালকের কার্যালয়, প্রাথমিক শিক্ষা, ময়মনসিংহ বিভাগ আয়োজিত ‘প্রাথমিক শিক্ষায় শ্রেণি কার্যক্রম পরিচালনা, মনিটরিং, জবাবদিহিতা ও স্থানীয় প্রশাসনের প্রতি পরিবর্তিত প্রত্যাশা’ শীর্ষক এক প্রশিক্ষণ কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী জানান, সরকারের প্রথম ১৮০ দিনের পরিকল্পনা, পাইলটিং ও বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে প্রাথমিক শিক্ষা পরিবার উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। কারিকুলাম উন্নয়ন, নতুন শিক্ষক নীতিমালা, মূল্যবোধভিত্তিক, সাংস্কৃতিক, ক্রীড়া ও প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।
শিক্ষা ব্যবস্থার নতুন পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে ববি হাজ্জাজ বলেন, ‘আগামী কারিকুলামে ইংরেজি লিখিত পরীক্ষার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের যোগাযোগ দক্ষতা বাড়াতে ‘স্পিকিং টেস্ট’ চালু করা হবে। এছাড়া প্রতিটি শিক্ষার্থীর তথ্য ব্যবস্থাপনায় একটি সমন্বিত আইটি ইকোসিস্টেম গড়ে তুলে ‘ইউনিক আইডি’ দেওয়া হবে এবং স্কুল ভবনের ভেতরেই প্রয়োজনীয় ওয়াশ ব্লক স্থাপনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।’
বিদ্যালয়মুখী করার উদ্যোগ সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘কোনো শিশু যেন শ্রেণিকক্ষের বাইরে না থাকে—প্রধানমন্ত্রীর এ নির্দেশনা বাস্তবায়নে প্রতিটি প্রাথমিক শিক্ষার্থীর জন্য পুষ্টিকর মিড-ডে মিল, বিনামূল্যে ইউনিফর্ম, জুতা ও ব্যাগ নিশ্চিতের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অবকাঠামো উন্নয়নের লক্ষ্য কেবল ভবন নির্মাণ নয়, বরং প্রতিটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে মানসম্মত ও নিরাপদ পরিবেশে রূপান্তর করে গড়ে তোলা হবে।’
বিদ্যালয়ের প্রতি স্থানীয়দের মালিকানা বোধ গড়ে তোলার তাগিদ দিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য অভিভাবক, শিক্ষক ও স্থানীয় জনগণকে সম্পৃক্ত করে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে সবার নিজের প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলা।’
ময়মনসিংহ বিভাগীয় উপ-পরিচালকের সভাপতিত্বে কর্মশালায় বিশেষ অতিথি হিসেবে জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমির (নেপ) মহাপরিচালক ফরিদ আহমেদ এবং প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের পলিসি অ্যান্ড অপারেশনস বিভাগের পরিচালক উপস্থিত ছিলেন।
এছাড়া ময়মনসিংহ বিভাগের সব জেলার পিটিআই সুপার, জেলা ও উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাগণ অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ১৬ আগস্ট, ২০২৬ : দেশের ফার্মাসিউটিক্যাল শিল্পকে পরবর্তী ধাপে এগিয়ে নিয়ে যেতে এবং বায়োসিমিলার ও ভ্যাকসিন উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের লক্ষ্যে দ্রুত একটি ‘জাতীয় কৌশল’ প্রণয়ন করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত।
তিনি জানান, সরকার জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতি গড়ে তুলতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং এই খাতের উন্নয়ন ও উচ্চমানের কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের নীতিগত সহায়তা দেওয়া হবে।
আজ রোববার সকালে রাজধানীর একটি হোটেলে অনুষ্ঠিত ‘জেনেরিক থেকে বায়োসিমিলার ও ভ্যাকসিন : বায়ো-ইকোনমির পথে বাংলাদেশের বায়োফার্মাসিউটিক্যাল খাতের উন্নয়ন’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে তিনি প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠানের আয়োজক ছিল বায়োটিইডি সোমরু বায়োসায়েন্স এবং সহযোগী হিসেবে ছিল জেনএক্স।
স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. মুহিত বলেন, আমাদের ফার্মাসিউটিক্যাল খাত একটি দীর্ঘ ঐতিহাসিক ধারাবাহিকতায় গড়ে উঠেছে এবং এখন সময় এসেছে এটিকে বায়োসিমিলার, ভ্যাকসিন ও বায়োটেকনোলজির মতো উচ্চপর্যায়ের ধাপে রূপান্তরিত করার। এটিকে কেবল স্বাস্থ্য সুরক্ষার দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা যাবে না, বরং জাতীয় অর্থনীতির একটি বড় চালিকাশক্তি বা বায়ো-ইকোনমির লেন্স দিয়েও দেখতে হবে।
তিনি আরও বলেন, আগামী ৩-৫ বছরের মধ্যে সঠিক মান ও আন্তর্জাতিক স্কেল বজায় রেখে বায়োফার্মাসিউটিক্যাল ও ভ্যাকসিন গবেষণার জন্য প্রাথমিক অবকাঠামো তৈরি করতে হবে। নতুন এই রূপান্তরে প্রায় ১০ হাজার প্রশিক্ষিত দক্ষ মানবসম্পদ প্রয়োজন হবে। সরকার সাধারণ কর্মসংস্থানের পাশাপাশি বিজ্ঞান ও গবেষণাকেন্দ্রিক উচ্চপর্যায়ের (হাই-এন্ড) কর্মসংস্থান সৃষ্টিকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে।
তিনি উল্লেখ করেন, কনট্র্যাক্ট রিসার্চ অর্গানাইজেশন (সিআরও) প্রতিষ্ঠা ও বায়োসিমিলার নিয়ে নিজস্ব গবেষণার সক্ষমতা বৃদ্ধি করা হবে।
স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী শিল্পোদ্যোক্তা ও গবেষকদের জন্য সরকারি উদ্যোগে ‘শেয়ার্ড ফ্যাসিলিটিজ’ বা কেন্দ্রীয় ল্যাব সুবিধা তৈরির আশ্বাস দেন।
তরুণ গবেষকদের সুযোগ প্রসঙ্গে তিনি জানান, স্বাস্থ্য খাতের বাজেট থেকে গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধি, মলিকুলার বায়োলজি ল্যাব স্থাপন এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে তরুণ গবেষকদের জন্য উন্মুক্ত ও প্রতিযোগিতামূলক গবেষণা তহবিল (রিসার্চ ফান্ডিং) বাড়ানোর বাস্তবমুখী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
অনুষ্ঠানে আইসিডিডিআরবি প্রধান নির্বাহী ডা. তাহমিদ আহমেদ, বায়োটিইডির প্রধান নির্বাহী সওগাতুল ইসলাম, বিএমআরসির পরিচালক ডা. কাজী সাইফুদ্দিন বেননূর, জেনেক্স হেলথের ম্যানেজিং ডিরেক্টর ডা. মুনিয়া আমিন, ইউনিমেড ইউনি হেলথের ম্যানেজিং ডিরেক্টর মোসাদ্দেক হোসাইন এবং জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার প্রফেসর সোহেল রানা প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
প্রয়াত বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে স্লো-পয়জনিং করার দাবি করে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
রোববার (১৬ আগস্ট) সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি অডিটোরিয়ামে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ৮২তম জন্মদিন উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এ বিষয়ে মন্তব্য করেন।
রিজভী বলেন, বেহেশতের সমস্ত কিছু যেন বেগম খালেদা জিয়ার কাছে পৌঁছায়। প্রতিটি মুহূর্ত তিনি মানুষের স্বপক্ষে কথা বলতেন। ১/১১ এর সময়ে চিকিৎসার জন্য বাইরে গিয়েছিলেন ফ্যাসিস্ট হাসিনা। কিন্তু খালেদা জিয়াকে সেই সুযোগ দেওয়া হয়নি। তাকে স্লো পয়জন করা হয়েছে, এ বিষয়ে তদন্ত করা প্রয়োজন। রোগে-শোকে ভুগতে ভুগতে তার সময় পূর্ণ হলো।
তিনি উল্লেখ করেন, বেগম জিয়া ছিলেন একজন আপসহীন নেত্রী। তিনি তার রাজনৈতিক জীবনে কথা ও কাজের মধ্যে অভূতপূর্ব মিল তৈরি করেছেন। ফারাক্কার পানির জন্য জাতিসংঘে গিয়েছিলেন তিনি। কণ্ঠকে কখনো দুর্বল হতে দেননি। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে সফরের সময় প্রথম তিনি রোহিঙ্গাদের জন্য একটি ফোরাম গঠনের অনুরোধ করেছিলেন।
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা আরও বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার দুই সরকারের সময়ে নারীদের ক্ষমতায়নের জন্য যে পদক্ষেপগুলো নেওয়া হয়েছে, তা ছিল দুর্দান্ত। কিন্তু পরবর্তীতে যা হয়েছে, সব ছিল চক্রান্ত। স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্রের প্রশ্নে বেগম জিয়া কখনো আপস করেননি। যখন তার বিরুদ্ধে লাগাতার ষড়যন্ত্র হয়েছে, তখন আমরা আন্দোলনে নামতে চাইলাম, কিন্তু তিনি বলেছেন, প্রস্তুতি নাও, কিন্তু আমরা আইনি লড়াই করবো। আইনের প্রক্রিয়া থেকে তিনি কখনো বিচ্যুত হননি। উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছিল।
রিজভী আরও বলেন, লাখ লাখ মানুষের উপস্থিতিতে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে, এটি প্রমাণ করছে তিনি হচ্ছেন বেগম খালেদা জিয়া। যাকে নিয়ে ছোট পরিসরে আলোচনা সম্ভব নয়। গোটা পৃথিবীকে তিনি ছায়া দিয়ে রাখতে চেয়েছেন। জাতি কখনো তার অবদান ভুলবে না। রাষ্ট্রে এবং সমাজে গণতান্ত্রিক চর্চা অব্যাহত রাখতে পারলেই বেগম জিয়াকে যথাযথ সম্মান জানানো হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ