০৭:৩৫ এম
জুলাই মাসের গণঅভ্যুত্থানের সফলতাকে যারা কুক্ষীগত করার অপচেষ্টা চালিয়েছে, তারা দেশ ও গণতন্ত্রের শত্রু বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের মুহাম্মদ রহমাতুল্লাহ।
তিনি মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) বরিশালের বানারীপাড়া উপজেলার চাখার ইউনিয়নের বড়চাউলাকাঠী গ্রামের সন্তান এবং ছাত্রদল নেতা জুলাই শহীদ তাহিদুল ইসলামের কবর জিয়ারত শেষে এসব কথা বলেন।
রহমাতুল্লাহ জানান, ছাত্র-জনতার জুলাই গণঅভ্যুত্থান ছিল প্রকৃত গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা এবং মানুষের ভোটের অধিকার নিশ্চিত করার আন্দোলন। এই আন্দোলনে দলের বিপরীতে, মতভেদ নির্বিশেষে, সর্বস্তরের মানুষ অংশগ্রহণ করেছিল।
আরও পড়ুন: চরখিরাটীতে সেরা পাঠকদের বই ও গাছের চারা দিল বসুন্ধরা শুভসংঘ
গণঅভ্যুত্থানের সফলতার পরে একটি গোষ্ঠী এর অর্জনকে কুক্ষীগত করে নিজেদের একক অবদান হিসেবে প্রচার করার প্রচেষ্টা করেছিল।
তিনি আরও বলেন, তাদের লক্ষ্য ছিল যে, জনগণের ভোটের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠা না হতে পারে। কিন্তু সেই অপচেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। বর্তমানে বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। যারা গণঅভ্যুত্থানের অর্জনকে ছিনতাই করতে চেয়েছিল, তারা এখন প্রতিষ্ঠিত গণতন্ত্রকে ধ্বংস করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে।
বিএনপির এই নেতা জানান, ক্ষমতার লোভ থেকেই একটি মহল জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে কুক্ষীগত করার চেষ্টা করেছিল। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে তাদের মধ্যে ক্ষমতার আকাঙ্ক্ষা বিষয়টি প্রবল হয়ে উঠেছিল। সেই সুযোগে তারা জুলাইয়ের অর্জনকে নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করতে চেষ্টা করেছে দেশের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলোকে দলীয়করণে।
তিনি আরো বলেন, জুলাই মাসের ছাত্র-জনতার রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে যে সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, সেই সরকার শহীদ, আহত ও পঙ্গুত্ববরণকারীদের এবং তাদের পরিবারের পাশে থাকার জন্য দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। জুলাইয়ের মূল আকাঙ্ক্ষা হচ্ছে গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা বজায় রাখা, জনগণের ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠা করা এবং মানুষের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করা।
আরও পড়ুন: পচানালার দূষণে মশার অভয়ারণ্য, শিক্ষার্থীরা ডেঙ্গু আতঙ্কে
কবর জিয়ারতের শেষে রহমাতুল্লাহ শহীদ তাহিদুল ইসলামের পরিবার সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং তাদের খোঁজখবর নেন। এ সময় তিনি শহীদ পরিবারগুলোর পাশে সর্বাত্মকভাবে থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। একই সঙ্গে বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষ থেকে শহীদ পরিবারের প্রতি গভীর সহমর্মিতা জানান।
এ সময় বরিশাল জেলা ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আসিফ আল মামুন, যুগ্ম আহ্বায়ক সৈয়দ মাহমুদ হোসেন, জেলা ওলামা দলের সহ-সভাপতি মাওলানা মাসুম বিল্লাহ, মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক মিলম চৌধুরী, ছাত্রদল নেতা ওবায়দুল ইসলাম উজ্জ্বল, হাজিক দাঈয়ান ইশতী, জুলাই কন্যা লাবণ্য রহমানসহ স্থানীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট ঢাকার ফার্মগেট এলাকায় ছাত্র-জনতার আন্দোলনে অংশ নিয়ে পুলিশের গুলিতে মর্মান্তিকভাবে নিহত হন ছাত্রদল নেতা শহীদ তাহিদুল ইসলাম।
আরও পড়ুন: সাংবাদিক আলিফ হত্যা: পূর্বধলায় মানববন্ধন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে স্মারকলিপি
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন