১২:৪১ এম
আরও পড়ুন: ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে যেমন সনাতন ধর্মাবলম্বীরা পাশে ছিলেন, তেমনি ২০২৪ সালের আন্দোলনেও তাঁরা পাশে ছিলেন : প্রতিমন্ত্রী সোহেল মনজুর
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী উদযাপনে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করা হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ফান্দাউক দরবার শরীফের পীরগণ ও আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াতের নেতৃবৃন্দ।
রোববার (২৩ আগস্ট) ঐতিহ্যবাহী ফান্দাউক দরবার শরীফে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ আঞ্জুমানে ইসলামী ছাত্রমহলের বার্ষিক কেন্দ্রীয় সম্মেলনে এসব কথা বলেন বক্তারা।
সম্মেলনে ফান্দাউক দরবার শরীফের পীর সৈয়দ আবু বকর বলেন, “নাসিরনগরে ইনশাআল্লাহ ঈদে মিলাদুন্নবী পালন হবে। যারা এতে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করবে, তাদের প্রতিহত করতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, কোনো এলাকায় জশনে জুলুস করতে বাধা দেওয়া হলে সুন্নিদের এলাকাতেও অন্য পক্ষের কোনো কর্মসূচি করতে দেওয়া হবে না। তবে ধর্মীয় কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে সংঘাত এড়িয়ে শান্তিপূর্ণভাবে নিজেদের ধর্মীয় অধিকার প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
এ সময় আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াতের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সচিব পীর মুফতি গিয়াস উদ্দিন আত-তাহেরী বক্তব্য দেন। তিনি বাংলাদেশ আঞ্জুমানে ইসলামী ছাত্রমহলের সদস্যদের বিভিন্ন বিষয়ে পরামর্শ ও দিকনির্দেশনা দেন। পাশাপাশি ধর্মীয় জ্ঞান অর্জন, সংগঠনের আদর্শে অবিচল থাকা এবং ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।
মুফতি তাহেরী তাঁর বক্তব্যে বিভিন্ন মত ও আকিদার বিষয়ে সচেতন থাকার আহ্বান জানিয়ে ‘বাতিল ফেরকা’ হিসেবে অভিহিত মতাদর্শের বিরুদ্ধে সজাগ থাকার কথা বলেন। একই সঙ্গে তিনি পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবীর পক্ষে কোরআন ও হাদিসের বিভিন্ন দলিল উপস্থাপন করে এর ধর্মীয় ভিত্তি ব্যাখ্যা করেন।
বক্তারা বলেন, ঈদে মিলাদুন্নবীর উপলক্ষে জশনে জুলুস আয়োজনকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের বিরোধ বা আইনশৃঙ্খলার অবনতি কাম্য নয়। ধর্মীয় অনুষ্ঠান পালনের ক্ষেত্রে পারস্পরিক সম্মান, সহনশীলতা ও সামাজিক সম্প্রীতি বজায় রাখার ওপরও তারা গুরুত্বারোপ করেন।
সম্মেলনে ফান্দাউক দরবার শরীফের পীর-মাশায়েখ, বাংলাদেশ আঞ্জুমানে ইসলামী ছাত্রমহলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ, আলেম-উলামা ও বিপুলসংখ্যক ধর্মপ্রাণ মুসল্লি উপস্থিত ছিলেন।
সম্মেলন শেষে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবীর ( উপলক্ষে জসনে জুলুস ও আনন্দ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। পরে দোয়া ও মোনাজাতের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) পদ্মা ব্যাংক পিএলসির সাবেক ৮ কর্মকর্তাসহ মোট ১০ জনের বিরুদ্ধে মামলার ব্যবস্থা নিয়েছে।
অভিযোগ করা হয়েছে, জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করে এক ব্যক্তির নামে ১ কোটি ৯৫ লাখ টাকা ঋণ মঞ্জুর এবং আত্মসাতের অভিযোগ। এই মামলা আজ দুদকের প্রধান কার্যালয় থেকে দায়ের করা হয়েছে।
দুদকের জনসংযোগ বিভাগের উপপরিচালক মো. আকতারুল ইসলাম জানিয়েছেন, মামলাটির আসামিদের মধ্যে রয়েছেন পদ্মা ব্যাংক পিএলসির সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও আব্দুল মোতালেব পাটওয়ারী, সাবেক শাখা ব্যবস্থাপক (এসভিপি) জর্জ কর্নেলিয়াস গমেজ, সাবেক ক্রেডিট ইনচার্জ মো. রাসেল মিয়া, সাবেক ম্যানেজার অপারেশন (এফভিপি) এম আতিফ খালেদ, সাবেক ফার্স্ট অ্যাসিস্ট্যান্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট আমেনা বেগম, সাবেক শাখা ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ শামছুল হাসান ভূঞা, সাবেক ম্যানেজার অপারেশন মাহবুব আহমদ এবং সাবেক ক্রেডিট ইনচার্জ মো. কাওসার হোসেন। এই মামলায় এম এইচ এন্টারপ্রাইজের প্রোপ্রাইটর মো. মমিনুর রহমান ও মো. অজিত উল্লাহকেও আসামি করা হয়েছে।
দুদক জানায়, অভিযোগকারীর নামে ১ কোটি ৯৫ লাখ টাকা ঋণ মঞ্জুরের অভিযোগটি অনুসন্ধানের জন্য কমিশন সিদ্ধান্ত নিয়েছে। অভিযোগের অনুসন্ধান করতে তদন্তকারী কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে এবং পরিচালককে (ব্যাংক) তদারককারী কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়েছে।
অনুসন্ধান টিমের দাখিল করা প্রতিবেদন এবং সংশ্লিষ্ট রেকর্ডপত্র পর্যালোচনা করে কমিশন অভিযোগের বিষয়ে সন্তুষ্ট হয়ে ১০ জনের বিরুদ্ধে একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করেছে। দুদকের মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪০৯, ১০৯, ৪২০, ৪৬৭, ৪৬৮ ও ৪৭১ ধারার পাশাপাশি দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারা ও মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২-এর ৪(২) ধারার উল্লেখ রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বিশ্ব
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের মধ্যেই ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় ফার্স প্রদেশে একটি গ্যাসক্ষেত্রে ৭ দশমিক ৫ ট্রিলিয়ন ঘনফুটের বেশি প্রাকৃতিক গ্যাসের সন্ধান পাওয়া গেছে। এ তথ্য জানিয়েছেন দেশটির তেলমন্ত্রী মোহসেন পাকনেজাদ।
রোববার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন আইআরআইবিকে এক সাক্ষাৎকারে তিনি উল্লেখ করেন, গ্যাসক্ষেত্রটির উত্তোলনযোগ্য গ্যাসের পরিমাণ প্রায় ৫ দশমিক ৭ ট্রিলিয়ন ঘনফুট। ৭২ থেকে ৭৩ শতাংশ রিকভারি রেটের ভিত্তিতে এ পরিমাণ হিসাব করা হয়েছে। রিকভারি রেট বলতে কোনো গ্যাস বা তেলক্ষেত্র থেকে বাণিজ্যিকভাবে উত্তোলনযোগ্য অংশ বোঝায়।
যুদ্ধ, নিষেধাজ্ঞা এবং যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধের কারণে ইরানের জ্বালানি খাত যখন চাপে রয়েছে, তখন এই আবিষ্কার দেশটির বিশাল গ্যাস মজুদ আরো বাড়িয়েছে। তবে নতুন গ্যাসক্ষেত্রটির বাণিজ্যিক মূল্য নির্ভর করবে এর উন্নয়নে প্রয়োজনীয় বিনিয়োগ ও প্রযুক্তি নিশ্চিতের ওপর।
গ্যাস এক্সপোর্টিং কান্ট্রিজ ফোরামের তথ্য অনুযায়ী, ইরানের প্রমাণিত গ্যাসের মজুদ প্রায় ৩৪ ট্রিলিয়ন ঘনমিটার। এই দিক দিয়ে রাশিয়ার পর ইরান বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম প্রমাণিত গ্যাস মজুদের অধিকারী দেশ।
তবে বিপুল মজুদ থাকা সত্ত্বেও ইরানের জ্বালানি খাত নানা সংকটে রয়েছে। দেশটিতে নিয়মিত গ্যাসের ঘাটতি, বিদ্যুৎ বিভ্রাট এবং শিল্প উৎপাদনে বিঘ্ন ঘটছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে যৌথ হামলা শুরু করার পর পরিস্থিতি আরও সংকটপূর্ণ হয়ে ওঠে। তেহরান জুলাইয়ে জানিয়েছিল যে, জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলার কারণে দেশটির দৈনিক গ্যাস উৎপাদন প্রায় ২৩ কোটি ঘনমিটার কমে গেছে।
সূত্র: মিডল ইস্ট আই, ইন্ডিয়া টুডে
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ভারত থেকে আমদানি করা বিদ্যুতের জন্য অতিরিক্ত একটি চার্জ দাবি করা হয়েছে দেশটির পক্ষ থেকে।
এই নয়া চার্জ প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের বিপরীতে ০.০০৫ ভারতীয় রুপি হারে চাওয়া হয়েছে।
এভাবে নতুন এই চার্জ যুক্ত হলে ভারত থেকে বিদ্যুৎ আমদানিতে বাংলাদেশের ব্যয় কিছুটা বেড়ে যাবে।
এদিকে চার্জের বিষয়টি নিয়ে দুই দেশের মধ্যে একটি চুক্তি তৈরির ক্ষেত্রে দেরি হলে, ভারত থেকে বিদ্যুৎ আমদানি করতে সমস্যা হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
নতুন করে চুক্তি করতে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় অর্থ মন্ত্রণালয়ের মতামত চেয়েছে।
এ বিষয়ে গত ১৮ আগস্ট অর্থ বিভাগের কাছে একটি চিঠি দিয়েছে বিদ্যুৎ বিভাগ।
সেই চিঠিতে বলা হয়েছে, ভারতের রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান এনটিপিসি বিদ্যুতের ব্যাপারে নিগম লিমিটেড (এনভিভিএন) এবং বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবি) মধ্যে একটি সেটেলমেন্ট নোডাল এজেন্সি (এসএনএ) চুক্তি করতে হবে।
যদি চুক্তি করতে দেরি হয়, তবে এনভিভিএনের মাধ্যমে ১ হাজার ১৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানির ক্ষেত্রে জটিলতা তৈরি হতে পারে।
চিঠিতে জানানো হয়েছে, ভারতের কেন্দ্রীয় বিদ্যুৎ নিয়ন্ত্রক সংস্থা (সিইআরসি) আন্তঃসীমান্ত বিদ্যুৎ–বাণিজ্যের জন্য প্রতি ইউনিটে প্রথমে ০.০১ ভারতীয় রুপি চার্জ নেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিল।
পরে পিডিবির আবেদনের উপর ভিত্তি করে তা কমিয়ে ০.০০৫ রুপি করা হয়েছে।
বিদ্যুৎ বিভাগ এবং পিডিবির সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, এসএনএ চার্জ কোনো বিদ্যুতের দাম নয়; এটি আন্তর্দেশীয় বিদ্যুৎ–বাণিজ্যের গ্রিড অপারেশন এবং আন্তর্দেশীয় বিদ্যুৎ লেনদেন নিষ্পত্তির জন্য খরচ।
এর ফলে খুব বেশি খরচ বাড়বে না। আর এনভিভিএনের সঙ্গে চুক্তি করার মাধ্যমে লেনদেন সহজ হয়ে যাবে এবং এরপর কোনো বিদ্যুৎ কেন্দ্রের সঙ্গে আলাদাভাবে বিল শোধের বিষয় থাকবে না।
বিদ্যুৎ বিভাগের চিঠিতে আরও উল্লেখ রয়েছে যে, প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে বিদ্যুৎ–বাণিজ্যকে সহজতর করতে গ্রিড-সংক্রান্ত চার্জ নিষ্পত্তির জন্য ভারতের সিইআরসি এই এসএনএ ব্যবস্থা শুরু করেছে।
ভারত থেকে নেপাল এবং ভুটানেও বিদ্যুৎ বাণিজ্যের ক্ষেত্রেও একই হারে এসএনএ চার্জ নেওয়া হচ্ছে।
পিডিবি সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, আন্তঃসীমান্ত বিদ্যুৎ সরবরাহের ক্ষেত্রে কোন সময়ে কত বিদ্যুৎ যাবে, তার শিডিউল, মিটার থেকে ব্যবহারের তথ্য নেওয়া, সরবরাহ ও ব্যবহারের হিসাব মেলানো এবং গ্রিড পরিচালনার মতো কাজের খরচ মেটাতেই ভারত এই চার্জ দাবি করেছে।
বর্তমানে একাধিক চুক্তির আওতায় ভারত থেকে মোট দুই হাজার ৬৫৬ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানির সুযোগ রয়েছে, যেখানে এনভিভিএনের মাধ্যমে সরকারি পর্যায়ে এনটিপিসির কেন্দ্র থেকে ২৫০ মেগাওয়াট, দামোদর ভ্যালি করপোরেশন (ডিভিসি) থেকে ৩০০ মেগাওয়াট এবং ত্রিপুরা স্টেট ইলেকট্রিসিটি করপোরেশন থেকে ১৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানির ব্যবস্থা রয়েছে।
এ ছাড়া পিটিসি ইন্ডিয়ার মাধ্যমে বেসরকারি খাত থেকে সেম্বকর্প এনার্জি ইন্ডিয়ার একটি কেন্দ্র থেকে ২০০ মেগাওয়াট এবং সেম্বকর্প থেকে সরাসরি আরও ২৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানির চুক্তি রয়েছে।
সব মিলিয়ে ১ হাজার ১৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুতের জন্য এনভিভিএন এবং পিডিবির মধ্যে এসএনএ চুক্তি করতে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তবে এর বাইরে ভারতের ঝাড়খন্ডের গোড্ডায় নির্মিত আদানির বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে ১ হাজার ৪৯৬ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানির চুক্তি আছে।
পিডিবির কর্মকর্তাদের মতে, আদানির সঙ্গে বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তির মধ্যেই এই চার্জের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
তাহলে এ বিদ্যুতের জন্য আলাদা করে এসএনএ চুক্তির প্রয়োজন হবে না।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ