মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং
১২:৩৬ পি.এম
অস্ট্রেলীয় মডেল, ফ্যাশন ডিজাইনার ও ইনফ্লুয়েন্সার সাহারা রে মাত্র ৩৪ বছর বয়সে প্রয়াত হয়েছেন। গত রবিবার (১৮ অক্টোবর) যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসের একটি হাসপাতালে তার মৃত্যু ঘটে। মার্কিন বিনোদনবিষয়ক সংবাদমাধ্যম টিএমজেড গতকাল সোমবার তার মৃত্যুর খবর প্রকাশ করে।
সাহারার পরিবার সংবাদমাধ্যমটিকে জানিয়েছে, মৃত্যুর সময় তার পাশে ছিলেন পরিবারের সদস্যরা। পরিবারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ‘শেষ মুহূর্তে পরিবারের সবাই তার পাশে ছিলেন। সবাই তাকে খুব ভালোবাসতেন।’
বছরের শুরুতে সাহারা মা হয়েছেন। তার কন্যার নাম রাখা হয়েছে স্নো। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তার সর্বশেষ পোস্টটিও ছিল ছোট্ট মেয়েকে নিয়ে। সেখানে তিনি লিখেছিলেন, ‘আমার পুরো হৃদয়জুড়ে ছোট্ট স্নো।’ সেই পোস্টের মাত্র তিন মাস পর তিনি না ফেরার দেশে চলে গেলেন।
সাহারার মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে পরিবার শুরুতে বিস্তারিত কিছু জানায়নি। তবে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ডেইলি মেইলের এক প্রতিবেদনে ঘনিষ্ঠ সূত্রের বরাতে বলা হয়েছে, ফেন্টানিল নামের একটি শক্তিশালী ব্যথানাশক ওষুধের অতিরিক্ত মাত্রা গ্রহণের কারণে তার মৃত্যু হয়েছে। গত শুক্রবার রাতে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে লস অ্যাঞ্জেলেসের হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়। রবিবার পরিবারের সদস্যরা জীবনরক্ষাকারী ব্যবস্থা সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।
তবে সাহারার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে পরিবার কিংবা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু নিশ্চিত করা হয়নি। ওষুধের অতিরিক্ত মাত্রা গ্রহণের ঘটনা দুর্ঘটনাবশত ঘটেছিল কি না, তা-ও এখনো স্পষ্ট নয়।
সাহারা জানুয়ারিতে কন্যাসন্তানের জন্ম দেন এবং মেয়ের নাম রাখেন স্নো। মা হওয়ার আনন্দ তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনুসারীদের সঙ্গে ভাগ করে নিয়েছিলেন। সন্তান জন্মের আগে ২৫ জানুয়ারি এক পোস্টে জানিয়েছিলেন, সেদিন রাতেই তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হবে। মাতৃত্বের নতুন অভিজ্ঞতা নিয়ে উচ্ছ্বাসের পাশাপাশি নিজের উদ্বেগও প্রকাশ করেছিলেন তিনি।
গত ১৯ জুলাই ইনস্টাগ্রামে মেয়ের কয়েকটি ছবি প্রকাশ করে ভালোবাসার কথা জানিয়েছিলেন সাহারা। সেটিই তার ইনস্টাগ্রাম পাতায় সর্বশেষ পোস্ট। তার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর সেই ছবিগুলো ঘিরে আবেগঘন মন্তব্য করছেন অনুসারীরা। ছোট্ট মেয়েকে নিয়ে তার শেষ বার্তাটি এখন ভক্তদের কাছে হয়ে উঠেছে স্মৃতিময় এক মুহূর্ত।
মৃত্যুর পূর্ববর্তী কয়েক বছর শারীরিক নানা জটিলতার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে সাহারাকে। ২০২৪ সালে তিনি জানিয়েছিলেন, গিয়াঁ-বারে সিনড্রোম নামের বিরল স্নায়বিক রোগে আক্রান্ত হয়েছেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ওই বছরের এপ্রিলে একটি গাড়ি দুর্ঘটনার পর থেকেই শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। মদ্যপ এক গাড়িচালক তাকে ধাক্কা দিয়েছিলেন বলেও দাবি করেছিলেন তিনি।
দুর্ঘটনার পর একপর্যায়ে ঊরুর ওপরের অংশ থেকে পায়ের পাতা পর্যন্ত অনুভূতি ও চলাচলের ক্ষমতা হারিয়ে ফেলেন সাহারা। চলাফেরার জন্য তাকে হুইলচেয়ার ও হাঁটার সহায়ক সরঞ্জামের ওপর নির্ভর করতে হতো।
শারীরিক অসুস্থতার পাশাপাশি ব্যক্তিজীবনের সংকট নিয়েও সাহারা খোলামেলা ছিলেন। ২০২১ সালের ডিসেম্বরে তিনি জানিয়েছিলেন, মাদক ও অ্যালকোহলনির্ভরতা থেকে বেরিয়ে আসতে চিকিৎসা নিচ্ছেন। এজন্য ৩০ দিনের একটি পুনর্বাসন কর্মসূচিতেও অংশ নিয়েছিলেন তিনি। মানসিক স্বাস্থ্য ও আসক্তির চিকিৎসা নেওয়ার অভিজ্ঞতা অনুসারীদের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়ার মাধ্যমে সচেতনতা তৈরির চেষ্টা করেছিলেন এই মডেল।
তবে অতীতে আসক্তির চিকিৎসা নেওয়ার সঙ্গে তার সাম্প্রতিক মৃত্যুর সরাসরি কোনো সম্পর্ক রয়েছে, এমন তথ্য আনুষ্ঠানিকভাবে জানা যায়নি।
অস্ট্রেলিয়ার পরিচিত সার্ফার টনি রের মেয়ে সাহারার শৈশবের বড় একটি সময় কেটেছে অস্ট্রেলিয়া, ক্যালিফোর্নিয়া ও হাওয়াইয়ে। বাবার সূত্রে ছোটবেলা থেকেই সমুদ্র ও সার্ফিংয়ের প্রতি আগ্রহ তৈরি হয় তার। তবে কৈশোর পেরিয়ে মডেলিং ও ফ্যাশন ডিজাইনের জগতে নিজের পরিচিতি গড়ে তোলেন তিনি।
২০১৪ সালে নিজের সাঁতারের পোশাকের ব্র্যান্ড ‘সাহারা রে সুইম’ চালু করেন। মডেলিংয়ের পাশাপাশি ফ্যাশন ব্যবসা ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সক্রিয়তার কারণে ধীরে ধীরে পরিচিতি বাড়তে থাকে তার। ২০১৬ সালে হাওয়াইয়ে জাস্টিন বিবারের সঙ্গে ছুটি কাটানোর ছবি প্রকাশ্যে আসার পর আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের নজরে আসেন সাহারা। তাদের প্রেমের সম্পর্ক নিয়ে তখন ব্যাপক আলোচনা হলেও কেউই আনুষ্ঠানিকভাবে তা নিশ্চিত করেননি। এর আগে অস্ট্রেলীয় সংগীতশিল্পী কোডি সিম্পসনের সঙ্গেও তার সম্পর্কের গুঞ্জন ছড়িয়েছিল।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলামকে লক্ষ্য করে সদ্য পদত্যাগ করা মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন বলেছেন, যদি তাঁর বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা করা হয়, তবে তিনি নিজেই আত্মসমর্পণ করে কারাগারে যাবেন। একইসঙ্গে, মাদকবিরোধী অভিযান নিয়ে সমালোচনার প্রেক্ষিতে মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া একটি পোস্টে ইশরাক এসব মন্তব্য করেন। এর আগে, একই দিন দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দেন তিনি।
ফেসবুক পোস্টে নাহিদ ইসলামকে উদ্দেশ্য করে ইশরাক লেখেন, ‘জনাব নাহিদ ইসলামকে একটু হলেও নতুন বন্দোবস্তের ধারক ভাবতাম। আমার প্রসঙ্গে সাংবাদিকের প্রশ্নের উত্তরে মাদকের মহামারি ও এর প্রতিকার সম্পর্কে শূন্য শতাংশ কথা বলে ১০০ শতাংশ আমার ফৌজদারি অপরাধ খুঁজে বের করার পরামর্শ দিলেন তিনি।’
মাদক সমস্যার সমাধান নিয়ে আলোচনা না করে তাঁর বিরুদ্ধে অপরাধ খোঁজার পরামর্শ দেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন ইশরাক। তরুণ প্রজন্মের উদ্দেশে তিনি লেখেন, ‘দুঃখিত জেন-জি, কোনো নতুন বন্দোবস্ত এদের মাধ্যমে পাচ্ছেন না।’
নাম উল্লেখ না করে আরেকজনের সমালোচনা করে ইশরাক বলেন, ওই ব্যক্তি তাঁকে ফোন করে পরবর্তী মাদকবিরোধী অভিযানে সঙ্গে নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছিলেন। তাঁর ভাষ্য, মাদকের বিস্তার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করলেও এ বিষয়ে কার্যকর পরিবর্তন আনার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দলের ভূমিকা নিয়ে তাঁর সংশয় রয়েছে।
নাহিদ ইসলামকে উদ্দেশ্য করে ইশরাক আরও লেখেন, ‘কোনো ফাঁকফোকর দিয়ে ফৌজদারি অপরাধ বের করে একটা মামলা করে দেন আমার নামে। আমি নিজে গিয়ে সারেন্ডার করে জেলে চলে যাবো। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা বলে কথা।’ তাঁর বক্তব্য, মাদক নির্মূলের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার পরিবর্তে শুধু আইনি অভিযোগের বিষয়টি সামনে আনা যথাযথ নয়।
মাদকবিরোধী অভিযান চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়ে ইশরাক লেখেন, ‘অন্য স্টাইলে প্রতিকার করতে হবে। যেমন কুকুর তেমন মুগুর।’ বড় মাদক ব্যবসায়ীদের উদ্দেশে তিনি আরও লেখেন, ‘শীঘ্রই আসিতেছে। বড় ডিলার। বিক্রেতারা অপেক্ষা কর।’
এর আগে শনিবার (১৭ অক্টোবর) রাজধানীর গেন্ডারিয়া এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযানে ইশরাকের আগ্নেয়াস্ত্র প্রদর্শনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এ নিয়ে আলোচনা-সমালোচনার মধ্যে সোমবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে প্রতিমন্ত্রীর পদ ছাড়ার ঘোষণা দেন তিনি। মাদকবিরোধী কার্যক্রম অব্যাহত রাখার কথাও জানান ইশরাক।
এদিকে, ইশরাকের পদত্যাগের প্রসঙ্গে নাহিদ ইসলাম বলেছেন, নৈতিক কারণে পদত্যাগ করা এবং ফৌজদারি অপরাধের অভিযোগের মুখে পদত্যাগ করা এক বিষয় নয়। ইশরাক যদি কোনো অপরাধ করে থাকেন, তবে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া উচিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বিশিষ্ট আলেম ও ইসলামী ব্যক্তিদের একটি প্রতিনিধিদল রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছে।
এ সাক্ষাৎ সোমবার (১৯ অক্টোবর) দুপুরে অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে ছিলেন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা মুফতি বশিরুল্লাহ।
প্রতিনিধিদলে অন্যান্য সদস্য হিসেবে উপস্থিত ছিলেন হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব মুফতি হারুন ইজহার, মাওলানা মীর ইদরিস নদভি; প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মসজিদের ইমাম ও খতিব মাওলানা রফিকুল ইসলাম; জাতীয় ইমাম খতিব কাউন্সিলের কো-অর্ডিনেটর মাওলানা ফয়সাল এবং খতমে নবুওয়াত বাংলাদেশের প্রচার সম্পাদক মাওলানা আফসার মাহমুদ।
সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতি ফ্যাসিবাদী শাসনামলে বিশিষ্ট আলেম-ওলামাদের ওপর অকথ্য নির্যাতন ও কারাগারে দুঃসহ বন্দিজীবনের স্মৃতি স্মরণ করেন। তিনি বলেন, "স্বৈরাচারের পতনের পর মহান আল্লাহ আমাদের দেশ গড়ার যে সুযোগ দিয়েছেন, আমরা যেন ঐক্যবদ্ধভাবে তা কাজে লাগাতে পারি।"
তিনি আরও বলেন, "ফ্যাসিবাদী দুঃশাসন আর যেন দেশে কখনো ফিরে না আসে এবং ধর্মের নামে কেউ যেন বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে না পারে- সে ব্যাপারে সবার সজাগ ও সতর্ক থাকতে হবে।"
রাষ্ট্রপতি উল্লেখ করেন যে, প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়া ও শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ইসলামী পণ্ডিত ও আলেম-ওলেমাদের প্রতি অত্যন্ত সম্মান প্রদর্শন করতেন। তিনি বলেন, "ইসলামের প্রতি মমতাবোধ থেকে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান সংবিধানে ‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রহিম’ সংযোজন করেন।" এছাড়া, আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতিতে অন্তর্ভুক্ত করার কথাও উল্লেখ করেন।
রাষ্ট্রপতি আরও জানান, তিনি বর্তমানে সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক ব্যক্তি। তবে ইসলামী মূল্যবোধ ও শরিয়ায় আঘাত আসে এমন কোনো কাজ যাতে কেউ না করে, তা তিনি লক্ষ্য রাখবেন।
প্রতিনিধিদলটি মধ্যপ্রাচ্যের ধনী ও উন্নত দেশ থেকে ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়াতে এবং অনুদান সহায়তা আনার ব্যাপারে তাদের আরবি ভাষা ও যোগাযোগের পারদর্শিতা এবং ব্যক্তিগত সংযোগ কাজে লাগানোর অনুরোধ করেন।
রাষ্ট্রপতি এ বিষয়ে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে অব্যাহত যোগাযোগের পরামর্শ দেন এবং সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
প্রতিনিধিদলটি রাষ্ট্রপতিকে চট্টগ্রামের হাটহাজারী দারুল উলুম মাদরাসা ও ফটিকছড়িতে আল-জামিয়াতুল ইসলামিয়া আজিজুল উলুম বাবুনগর মাদরাসা সফরের আমন্ত্রণ জানান।
রাষ্ট্রপতি সুবিধাজনক সময়ে মাদরাসাগুলোতে সফরের এবং হেফাজতের আমিরের সঙ্গে সাক্ষাৎ করার বিষয়ে তার আগ্রহ প্রকাশ করেন।
সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব ও প্রেস সচিব উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কানাডা থেকে আলাদা হওয়া উচিত কি না, তা নিয়ে সোমবার গণভোটের আয়োজন করেছে দেশটির তেলসমৃদ্ধ আলবার্টা প্রদেশ। তবে এই ভোটের ফল বাধ্যতামূলক নয়। রয়টার্স জানায়, জনমত জরিপ অনুযায়ী, অধিকাংশ ভোটার কানাডার সঙ্গে থাকার পক্ষে। তাই বিচ্ছিন্ন হওয়ার পক্ষের ভোটাররা হেরে যেতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে এই পরাজয়ে স্বাধীনতার দাবি থেমে যাবে কি না, তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে।
আলবার্টায় প্রায় ৫০ লাখ মানুষের বাস। আয়তনে প্রদেশটি যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসের চেয়ে সামান্য ছোট। তবে জনসংখ্যা টেক্সাসের মাত্র ছয় ভাগের এক ভাগ।
অর্থনৈতিক অসন্তোষ থেকে আলবার্টায় স্বাধীনতার দাবি জোরালো হয়েছে। এই আন্দোলন কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির ওপর চাপ বাড়িয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক এবং কানাডাকে ৫১তম অঙ্গরাজ্য করার বিষয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বারবার বক্তব্যের মধ্যে কার্নি দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষাকে অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হিসেবে নিয়েছেন।
আলবার্টার অনেক বিচ্ছিন্নতাবাদীর অভিযোগ, অটোয়ায় ক্ষমতাসীন লিবারেল পার্টির নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় সরকার পরিবেশনীতি দিয়ে প্রদেশটির তেলশিল্পের ওপর বাধা তৈরি করছে। তাদের মতে, কানাডার জ্বালানি খাতের প্রধান কেন্দ্র আলবার্টা দেশের অর্থনীতিতে বড় অবদান রাখলেও বিনিময়ে যথেষ্ট সুবিধা পায় না।
আলবার্টাকে কানাডা থেকে আলাদা করার পক্ষে প্রচার চালানো সংগঠন ‘পাথওয়ে টু ইনডিপেনডেন্স’-এর প্রতিষ্ঠাতা কোরি মরগান বলেন, ‘কানাডার ব্যবস্থা ভারসাম্যহীন। এই ব্যবস্থা আলবার্টার মতো উৎপাদনকারী প্রদেশের খরচে কেন্দ্রীয় অঞ্চলের জনসংখ্যা ও সরকারকে সুবিধা দেয়।’
আলবার্টায় বেড়ে ওঠা কার্নি গত সপ্তাহের বেশির ভাগ সময় প্রদেশটিকে কানাডার সঙ্গে রাখার পক্ষে প্রচার চালিয়েছেন। তিনি ভোটারদের গণভোটে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান এবং তাদের মধ্যে জাতীয় গর্ববোধ জাগিয়ে তোলার চেষ্টা করেন।
সোমবার স্থানীয় সময় রাত ৮টায় ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার কথা ছিল। ভোট শেষ হওয়ার পর ফল পাওয়ামাত্র প্রকাশ করার কথা ছিল। তবে আলবার্টার নির্বাচন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কিছু ভোটকেন্দ্র নির্ধারিত সময়ে খোলা যায়নি। এ কারণে এসব কেন্দ্রে ভোটগ্রহণের সময় বাড়ানো হবে। সব ভোটকেন্দ্রে ভোটগ্রহণ শেষ না হওয়া পর্যন্ত অনানুষ্ঠানিক ফল প্রকাশ করা হবে না। এডমন্টনের একটি ভোটকেন্দ্রে স্থানীয় সময় রাত ১০টা পর্যন্ত ভোট দেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছিল।
শুক্রবার প্রকাশিত অ্যাঙ্গাস রিডের এক জনমত জরিপে দেখা গেছে, আলবার্টার ৬৬ শতাংশ বাসিন্দা কানাডার সঙ্গে থাকার পক্ষে ভোট দিতে চান। তবে প্রতি পাঁচজনের মধ্যে তিনজন মনে করেন, প্রদেশটিতে বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলন কখনোই পুরোপুরি শেষ হবে না।
ক্যালগারিতে মাউন্ট রয়্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অধ্যাপক ডুয়েন ব্র্যাট বলেন, ‘এই বিষয়টি এখন আর হারিয়ে যাবে না। কারণ, বিচ্ছিন্নতাবাদীরা সংগঠিত হয়েছে। তারা নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ তৈরি করেছে। তাদের মধ্যে সংযোগ গড়ে উঠেছে।’
আলবার্টায় কয়েক দশক ধরেই কানাডা থেকে আলাদা হওয়ার দাবি রয়েছে। তবে এবারই প্রথম প্রদেশটির কোনো মুখ্যমন্ত্রী এ বিষয়ে ভোটারদের মতামত জানতে গণভোটের আয়োজন করেছেন। মুখ্যমন্ত্রী ড্যানিয়েল স্মিথ আলবার্টার বাসিন্দাদের কানাডার সঙ্গে থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। তবে তার নিজের দল ইউনাইটেড কনজারভেটিভ পার্টির একটি ছোট কিন্তু সোচ্চার অংশের কয়েক মাসের চাপের মুখে তিনি এই গণভোটের ঘোষণা দেন।
স্মিথ বলেছেন, গণভোটে অধিকাংশ ভোটার আলাদা হওয়ার পক্ষে মত দিলে তিনি বিচ্ছিন্ন হওয়ার বিষয়ে একটি বাধ্যতামূলক গণভোট আয়োজনের উদ্যোগ নেবেন। গত সপ্তাহে আগাম ভোটে কানাডার সঙ্গে থাকার পক্ষে ভোট দেন ক্যালগারির বাসিন্দা রস ওয়াটসন। তিনি বলেন, ‘আমার দৃষ্টিতে, আলাদা হওয়ার ধারণাটি পুরোপুরি হাস্যকর।’ তিনি আরো বলেন, ‘মানুষের যেসব অভিযোগ রয়েছে, সেগুলোর কোনো ভিত্তিই নেই বলে আমি মনে করি। তবে আমার এটাও মনে হয়, এই মানুষগুলো সম্ভবত কখনোই চুপ করবে না।’
সোমবারের এই গণভোট কানাডার ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। ফরাসিভাষী সংখ্যাগরিষ্ঠ কুইবেকের বাইরে এই প্রথম কোনো প্রদেশে কানাডা থেকে আলাদা হওয়ার বিষয়ে ভোট হচ্ছে। কুইবেকে ভাষা ও সংস্কৃতির পার্থক্য থেকে বিচ্ছিন্নতাবাদী মনোভাব তৈরি হয়েছে। তবে আলবার্টায় বিচ্ছিন্ন হওয়ার দাবি মূলত অর্থনৈতিক স্বার্থকে ঘিরে। প্রদেশটিকে কানাডার অংশ হিসেবে রাখার পক্ষে যুক্তি দিতে গিয়ে কার্নি জাতীয় গর্ববোধের ওপর জোর দিয়েছেন।
শুক্রবার আলবার্টার রেড ডিয়ারে কার্নি বলেন, ‘কানাডা বিভিন্ন প্রদেশের মধ্যে কোনো লেনদেনের বিষয় নয়। এখানে কে কতটা পেল, কে কতটা দিল, কিংবা লাভ-ক্ষতির হিসাবই সবকিছু নয়।’ আলবার্টায় বিচ্ছিন্নতাবাদী মনোভাবের পেছনে থাকা অসন্তোষ কমাতে কার্নি কিছু পরিবেশনীতি বাতিল করেছেন। পাশাপাশি একটি প্রস্তাবিত তেল পাইপলাইন নির্মাণের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। এই পাইপলাইন চালু হলে আলবার্টা থেকে এশিয়ায় তেল রপ্তানি বাড়বে।
অ্যাঙ্গাস রিডের জরিপে অংশ নেওয়া আলবার্টার বাসিন্দাদের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ বলেছেন, ভবিষ্যতে বিচ্ছিন্ন হওয়ার বিষয়ে বাধ্যতামূলক গণভোট হলে তারা এর পক্ষে ভোট দেবেন। এই ভোটারদের মধ্যে ৬০ শতাংশ বলেছেন, কানাডার কেন্দ্রীয় সরকারকে একটি বার্তা দেওয়াই তাদের মূল উদ্দেশ্য। অন্যদিকে, মাত্র ৩৭ শতাংশ বলেছেন, তাদের লক্ষ্য একটি স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা।
বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠনগুলো স্বাধীন হওয়ার পর কীভাবে দেশ পরিচালিত হবে, সে বিষয়ে পরিকল্পনা প্রকাশ করেছে। তবে স্বাধীন হলে প্রতিরক্ষা, মুদ্রা ও সীমান্ত নিয়ন্ত্রণের মতো বিষয় কীভাবে পরিচালিত হবে, তা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের এখনো সমাধান হয়নি। অধ্যাপক ডুয়েন ব্র্যাট বলেন, এখন মূল প্রশ্ন হলো, এই আন্দোলন এরপর কোন পথে এগোবে।
তিনি বলেন, ‘তারা কি ভবিষ্যতে গণভোটের পক্ষে জনসমর্থন বাড়ানোর দিকে মনোযোগ দেবে? নাকি তারা আলাদা হয়ে নিজেদের দল গঠন করবে—একটি সত্যিকারের শক্তিশালী বিচ্ছিন্নতাবাদী দল?’
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ